স্বল্পন্নোত দেশগুলোর রেমিট্যান্স প্রবৃদ্ধি ৭ দশমিক ৩ শতাংশ হবে, ধারণা বিশ্বব্যাংকের

২০২১ সালে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে রেমিট্যান্স প্রবৃদ্ধি ৭ দশমিক ৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৫৮৯ বিলিয়নে পৌঁছাবে বলে প্রাক্কলন করছে বিশ্বব্যাংক। প্রবৃদ্ধিতে এই প্রত্যাবর্তন পূর্বের ধারণার তুলনায় আরও শক্তিশালী এবং ২০২০ সালের প্রবাহ ছাড়িয়ে গেছে। কারণ ২০২০ সালে রেমিট্যান্স পূর্বের তুলনায় ১ দশমিক ৭ শতাংশ কমে যায় করোনা সঙ্কটের কারণে। গতকাল বিশ্বব্যাংকের প্রধান অফিস ওয়াশিংটন থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।

এতে বলা হয়েছে, টানা দ্বিতীয় বছরের জন্য নি¤œ ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে (চীন বাদে) রেমিট্যান্স প্রবাহ প্রত্যাশিত, যা বিদেশি প্রত্যক্ষ বিনিয়োগ(এফডিআর) এবং বিদেশি উন্নয়ন সহায়তার সমষ্টিকে ছাড়িয়ে যাবে।

বিশ্বব্যাংকের গ্লোবাল ডিরেক্টর(সামাজিক সুরক্ষা ও চাকরি) মাইকেল রুটকোভস্কি বলেছেন, ‘কোভিডের কারণে অনেক প্রবাসী বাড়িতে টাকা পাঠাতে পারেননি। অর্থনৈতিক সমস্যায় ভুগছেন এমন পরিবারগুলোকে সমর্থন করার জন্য সরকারি নগদ সহায়তা কর্মসূচি ব্যাপকভাবে উপকার করেছে। রেমিট্যান্স প্রবাহকে সহজ করা সরকারি নীতির একটি মূল উপাদান হওয়া উচিত মহামারি থেকে বিশ্বব্যাপী পুনরুদ্ধারে সহায়তা করার জন্য।’

বিশ্বব্যাংক জানায়, রেমিট্যান্সের শক্তিশালী প্রবৃদ্ধির অন্যতম কারণ মহামারির সময়ও অভিবাসীরা তাদের পরিবারকে সহায়তা করেছেন। অভিবাসীরা ইউরোপ এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারে সহায়তা করেছেন। গালফ কো-অপারেশন কাউন্সিল(জিসিসি) দেশ এবং রাশিয়াতে তেলের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। অর্থনৈতিক কর্মকা- বৃদ্ধির ফলে বহির্মুখী রেমিট্যান্স পুনরুদ্ধারও সহজ হয়েছে।

বেশিরভাগ অঞ্চলে রেমিট্যান্স বৃদ্ধি পেয়েছে। ল্যাটিন আমেরিকা এবং ক্যারিবিয়ানে ২১ দশমিক ৬, মধ্যপ্রাচ্য এবং উত্তর আফ্রিকায় ৯ দশমিক ৭, দক্ষিণ এশিয়ায় ৮ শতাংশ, সাব-সাহারান আফ্রিকায় ৬ দশমিক ২ শতাংশ এবং ইউরোপ ও মধ্য এশিয়ায় ৫ দশমিক ৩ শতাংশ প্রবাহ বৃদ্ধি পেয়েছে।

বিশ্ব ব্যাংক আরও বলছে, এ বছর ভারতের রেমিটেন্স পৌঁছাতে পারে ৮ হাজার ৭০০ ডলারে, তাতে প্রবৃদ্ধি হবে ৩ শতাংশ। আর পাকিস্তানের রেমিটেন্স ২০২০ সালের উচ্চগতি ধরে রেখে ৩৩ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে। সরকারের প্রণোদনায় ২০২১ সালে বাংলাদেশের রেমিটেন্স যদিও প্রাক মহামারী এবং ২০২০ সালের পর্যায়ের তুলনায় ৬ শতাংশ বেড়েছে, তারপরও গতি কমে আসার বিষয়টি চোখে পড়ার মত।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯ সালে মোট ১৮ দশমিক ৩৬ বিলিয়ন ডলার দেশে পাঠিয়েছিলেন প্রবাসীরা। পরের বছর মহামারী শুরু হলে অনেকে প্রবাসী আয়ে ধস নামার আশঙ্কা করছিলেন। তবে সব আশঙ্কা পেছনে ফেলে ২০২০ সালে রেকর্ড ২ হাজার ১৭৪ কোটি ডলার দেশে পাঠান, যা আগের বছরের তুলনায় ২০ শতাংশ বেশি। তবে চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে অক্টোবর পর্যন্ত চার মাসে দেশে আসা রেমিটেন্সের পরিমাণ আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে ২০ শতাংশ কমে গেছে। আর কেবল অক্টোবরের হিসাবে রেমিটেন্স কমেছে ২২ শতাংশ।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২০ সালের অক্টোবরে যেখানে ২১০ কোটি ডলার দেশে এসেছিল, এ বছর অক্টোবরে এসেছে ১৬৪ কোটি ৭০ লাখ ডলার। বিশ্ব ব্যাংক বলছে, ২০২১ সালের প্রথম নয় মাসে বাংলাদেশে রেমিটেন্সের গতি ধীর হয়ে আসার যে পরিসংখ্যান এসেছে, তাতে ২০২২ সালের জন্যও ঝুঁকির আভাস মিলছে। এর সবচেয়ে বড় কারণ জেনশক্তি রপ্তানি কমে যাওয়া এবং মহামারীর মধ্যে দেশে আসা প্রবাসীদের ফেরার ক্ষেত্রে ধীর গতি।

শনিবার, ২০ নভেম্বর ২০২১ , ৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৮ ১৪ রবিউস সানি ১৪৪৩

স্বল্পন্নোত দেশগুলোর রেমিট্যান্স প্রবৃদ্ধি ৭ দশমিক ৩ শতাংশ হবে, ধারণা বিশ্বব্যাংকের

image

২০২১ সালে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে রেমিট্যান্স প্রবৃদ্ধি ৭ দশমিক ৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৫৮৯ বিলিয়নে পৌঁছাবে বলে প্রাক্কলন করছে বিশ্বব্যাংক। প্রবৃদ্ধিতে এই প্রত্যাবর্তন পূর্বের ধারণার তুলনায় আরও শক্তিশালী এবং ২০২০ সালের প্রবাহ ছাড়িয়ে গেছে। কারণ ২০২০ সালে রেমিট্যান্স পূর্বের তুলনায় ১ দশমিক ৭ শতাংশ কমে যায় করোনা সঙ্কটের কারণে। গতকাল বিশ্বব্যাংকের প্রধান অফিস ওয়াশিংটন থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।

এতে বলা হয়েছে, টানা দ্বিতীয় বছরের জন্য নি¤œ ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে (চীন বাদে) রেমিট্যান্স প্রবাহ প্রত্যাশিত, যা বিদেশি প্রত্যক্ষ বিনিয়োগ(এফডিআর) এবং বিদেশি উন্নয়ন সহায়তার সমষ্টিকে ছাড়িয়ে যাবে।

বিশ্বব্যাংকের গ্লোবাল ডিরেক্টর(সামাজিক সুরক্ষা ও চাকরি) মাইকেল রুটকোভস্কি বলেছেন, ‘কোভিডের কারণে অনেক প্রবাসী বাড়িতে টাকা পাঠাতে পারেননি। অর্থনৈতিক সমস্যায় ভুগছেন এমন পরিবারগুলোকে সমর্থন করার জন্য সরকারি নগদ সহায়তা কর্মসূচি ব্যাপকভাবে উপকার করেছে। রেমিট্যান্স প্রবাহকে সহজ করা সরকারি নীতির একটি মূল উপাদান হওয়া উচিত মহামারি থেকে বিশ্বব্যাপী পুনরুদ্ধারে সহায়তা করার জন্য।’

বিশ্বব্যাংক জানায়, রেমিট্যান্সের শক্তিশালী প্রবৃদ্ধির অন্যতম কারণ মহামারির সময়ও অভিবাসীরা তাদের পরিবারকে সহায়তা করেছেন। অভিবাসীরা ইউরোপ এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারে সহায়তা করেছেন। গালফ কো-অপারেশন কাউন্সিল(জিসিসি) দেশ এবং রাশিয়াতে তেলের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। অর্থনৈতিক কর্মকা- বৃদ্ধির ফলে বহির্মুখী রেমিট্যান্স পুনরুদ্ধারও সহজ হয়েছে।

বেশিরভাগ অঞ্চলে রেমিট্যান্স বৃদ্ধি পেয়েছে। ল্যাটিন আমেরিকা এবং ক্যারিবিয়ানে ২১ দশমিক ৬, মধ্যপ্রাচ্য এবং উত্তর আফ্রিকায় ৯ দশমিক ৭, দক্ষিণ এশিয়ায় ৮ শতাংশ, সাব-সাহারান আফ্রিকায় ৬ দশমিক ২ শতাংশ এবং ইউরোপ ও মধ্য এশিয়ায় ৫ দশমিক ৩ শতাংশ প্রবাহ বৃদ্ধি পেয়েছে।

বিশ্ব ব্যাংক আরও বলছে, এ বছর ভারতের রেমিটেন্স পৌঁছাতে পারে ৮ হাজার ৭০০ ডলারে, তাতে প্রবৃদ্ধি হবে ৩ শতাংশ। আর পাকিস্তানের রেমিটেন্স ২০২০ সালের উচ্চগতি ধরে রেখে ৩৩ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে। সরকারের প্রণোদনায় ২০২১ সালে বাংলাদেশের রেমিটেন্স যদিও প্রাক মহামারী এবং ২০২০ সালের পর্যায়ের তুলনায় ৬ শতাংশ বেড়েছে, তারপরও গতি কমে আসার বিষয়টি চোখে পড়ার মত।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯ সালে মোট ১৮ দশমিক ৩৬ বিলিয়ন ডলার দেশে পাঠিয়েছিলেন প্রবাসীরা। পরের বছর মহামারী শুরু হলে অনেকে প্রবাসী আয়ে ধস নামার আশঙ্কা করছিলেন। তবে সব আশঙ্কা পেছনে ফেলে ২০২০ সালে রেকর্ড ২ হাজার ১৭৪ কোটি ডলার দেশে পাঠান, যা আগের বছরের তুলনায় ২০ শতাংশ বেশি। তবে চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে অক্টোবর পর্যন্ত চার মাসে দেশে আসা রেমিটেন্সের পরিমাণ আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে ২০ শতাংশ কমে গেছে। আর কেবল অক্টোবরের হিসাবে রেমিটেন্স কমেছে ২২ শতাংশ।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২০ সালের অক্টোবরে যেখানে ২১০ কোটি ডলার দেশে এসেছিল, এ বছর অক্টোবরে এসেছে ১৬৪ কোটি ৭০ লাখ ডলার। বিশ্ব ব্যাংক বলছে, ২০২১ সালের প্রথম নয় মাসে বাংলাদেশে রেমিটেন্সের গতি ধীর হয়ে আসার যে পরিসংখ্যান এসেছে, তাতে ২০২২ সালের জন্যও ঝুঁকির আভাস মিলছে। এর সবচেয়ে বড় কারণ জেনশক্তি রপ্তানি কমে যাওয়া এবং মহামারীর মধ্যে দেশে আসা প্রবাসীদের ফেরার ক্ষেত্রে ধীর গতি।