বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের বন্ধু লুসি হল্ট শেবাচিম হাসপাতালে ভর্তি

মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের চিকিৎসা সেবা দিয়ে অসামান্য অবদান রাখা বাংলাদেশ ও ব্রিটেনের দ্বৈত নাগরিক লুসি হেলেন ফ্রান্সিস হল্টকে বরিশাল শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে হঠাৎ তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লে দ্রুত তাকে মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়। বর্তমানে তিনি শেবাচিম হাসপাতালের পঞ্চম তলায় ২৬ নম্বর কেবিনে মেডিসিন বিভাগের চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসাধীন আছেন।

শেবাচিম হাসপাতালের পরিচালক ডা. এ.এইচ.এম সাইফুল ইসলাম শুক্রবার বিকালে জানান, লুসি হেলেন ফ্রান্সিন্স হল্টের মস্তিস্কে রক্ত সরবরাহ কম হচ্ছে। এছাড়া তিনি উচ্চ রক্তচাপ সহ বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন সমস্যায় ভুগছেন। তাকে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা সহ তার পর্যাপ্ত বিশ্রামের প্রয়োজন। ডা. এইচ.এম.সাইফুল ইসলাম বলেন, লুসি হল্টের অসুস্থতা এখন পর্যন্ত তেমন গুরুতর নয়। প্রয়োজনীয় চিকিৎসা এবং পরামর্শ মেনে চললে তিনি শীঘ্রই সুস্থ হয়ে উঠবেন।

বরিশাল অক্সফোর্ড মিশনের ফাদার জন এসপিবি বলেন, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে অক্সফোর্ড মিশনের নিজকক্ষে মাথা ঘুরে পড়ে যান লুসি হল্ট। এরপরই তাকে দ্রুত শেবাচিম হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগে ভর্তি করা হয়। পরবর্তীতে তার সিটি স্ক্যান করে মিনি ব্রেইন স্ট্রোকের বিষয়টি নিশ্চিত হন চিকিৎসকরা। রাত পৌনে ১১টার দিকে পঞ্চম তলার ২৬ নম্বর কেবিনে তাকে স্থানান্তর করা হয়। শেবাচিমের পরিচালক ডা. এসএম সাইফুল ইসলাম বলেন, লুসি হল্টকে সর্বোচ্চ প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। তিনি নিজেও নিয়মিত তার চিকিৎসার খোজ-খবর নিচ্ছেন।

৬০ বছর আগে অক্সফোর্ড মিশনের একজন কর্মী হিসাবে ব্রিটিশ নাগরিক লুসি হেলেন ফ্রান্সিস হল্ট বাংলাদেশে এসেছিলেন। মুক্তিযুদ্ধের সময় যশোরে অবস্থানকালে স্থানীয় একটি ক্লিনিকে গোপনে যুদ্ধাহতদের স্বাস্থ্যসেবা দিয়েছেন। স্বাধীনতার পরও বাংলাদেশ ছেড়ে যাননি লুসি। বরং অক্সফোর্ড মিশনে চাকুরী নেন।

১৯৩০ সালে ১৬ ডিসেম্বর যুক্তরাজ্যের সেন্ট হ্যালেন্সে জন্মগ্রহন করা লুসি ১৯৬০ সালে বাংলাদেশে আসেন। ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারী বিট্রিশ নাগরিক লুসি হল্ট বাংলাদেশের নাগরিকত্ব পান। ওইদিন বরিশালের বঙ্গবন্ধু উদ্যানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা লুসি হেলেনের হাতে ১৫ বছরের জন্য মাল্টিপল ভিসা সহ পাসপোর্ট তুলে দেন। পরবর্তীতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয় অনুষ্ঠিত আন্তমন্ত্রণালয়ের সভায় লুসিকে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। আগামী ১৬ই ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবসের দিনেই লুসি হল্ট ৯২ বছর বয়সে পদার্পন করবেন।

শনিবার, ২০ নভেম্বর ২০২১ , ৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৮ ১৪ রবিউস সানি ১৪৪৩

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের বন্ধু লুসি হল্ট শেবাচিম হাসপাতালে ভর্তি

মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের চিকিৎসা সেবা দিয়ে অসামান্য অবদান রাখা বাংলাদেশ ও ব্রিটেনের দ্বৈত নাগরিক লুসি হেলেন ফ্রান্সিস হল্টকে বরিশাল শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে হঠাৎ তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লে দ্রুত তাকে মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়। বর্তমানে তিনি শেবাচিম হাসপাতালের পঞ্চম তলায় ২৬ নম্বর কেবিনে মেডিসিন বিভাগের চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসাধীন আছেন।

শেবাচিম হাসপাতালের পরিচালক ডা. এ.এইচ.এম সাইফুল ইসলাম শুক্রবার বিকালে জানান, লুসি হেলেন ফ্রান্সিন্স হল্টের মস্তিস্কে রক্ত সরবরাহ কম হচ্ছে। এছাড়া তিনি উচ্চ রক্তচাপ সহ বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন সমস্যায় ভুগছেন। তাকে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা সহ তার পর্যাপ্ত বিশ্রামের প্রয়োজন। ডা. এইচ.এম.সাইফুল ইসলাম বলেন, লুসি হল্টের অসুস্থতা এখন পর্যন্ত তেমন গুরুতর নয়। প্রয়োজনীয় চিকিৎসা এবং পরামর্শ মেনে চললে তিনি শীঘ্রই সুস্থ হয়ে উঠবেন।

বরিশাল অক্সফোর্ড মিশনের ফাদার জন এসপিবি বলেন, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে অক্সফোর্ড মিশনের নিজকক্ষে মাথা ঘুরে পড়ে যান লুসি হল্ট। এরপরই তাকে দ্রুত শেবাচিম হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগে ভর্তি করা হয়। পরবর্তীতে তার সিটি স্ক্যান করে মিনি ব্রেইন স্ট্রোকের বিষয়টি নিশ্চিত হন চিকিৎসকরা। রাত পৌনে ১১টার দিকে পঞ্চম তলার ২৬ নম্বর কেবিনে তাকে স্থানান্তর করা হয়। শেবাচিমের পরিচালক ডা. এসএম সাইফুল ইসলাম বলেন, লুসি হল্টকে সর্বোচ্চ প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। তিনি নিজেও নিয়মিত তার চিকিৎসার খোজ-খবর নিচ্ছেন।

৬০ বছর আগে অক্সফোর্ড মিশনের একজন কর্মী হিসাবে ব্রিটিশ নাগরিক লুসি হেলেন ফ্রান্সিস হল্ট বাংলাদেশে এসেছিলেন। মুক্তিযুদ্ধের সময় যশোরে অবস্থানকালে স্থানীয় একটি ক্লিনিকে গোপনে যুদ্ধাহতদের স্বাস্থ্যসেবা দিয়েছেন। স্বাধীনতার পরও বাংলাদেশ ছেড়ে যাননি লুসি। বরং অক্সফোর্ড মিশনে চাকুরী নেন।

১৯৩০ সালে ১৬ ডিসেম্বর যুক্তরাজ্যের সেন্ট হ্যালেন্সে জন্মগ্রহন করা লুসি ১৯৬০ সালে বাংলাদেশে আসেন। ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারী বিট্রিশ নাগরিক লুসি হল্ট বাংলাদেশের নাগরিকত্ব পান। ওইদিন বরিশালের বঙ্গবন্ধু উদ্যানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা লুসি হেলেনের হাতে ১৫ বছরের জন্য মাল্টিপল ভিসা সহ পাসপোর্ট তুলে দেন। পরবর্তীতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয় অনুষ্ঠিত আন্তমন্ত্রণালয়ের সভায় লুসিকে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। আগামী ১৬ই ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবসের দিনেই লুসি হল্ট ৯২ বছর বয়সে পদার্পন করবেন।