করোনা : মৃত্যুহীন দিন দেখল বাংলাদেশ

অবশেষে মৃত্যুহীন দিন দেখল বাংলাদেশ। করোনাভাইরাসে সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় দেশে কারও মৃত্যু হয়নি। নতুন রোগী শনাক্তও কমেছে। তবে জনস্বাস্থ্যবিদরা বলছেন, নমুনা পরীক্ষা কম হওয়া, আক্রান্তদের অনেকে হাসপাতালে চিকিৎসা না নেয়াসহ নানা কারণে করোনায় মৃত্যুর ‘পূর্ণাঙ্গ’ চিত্র দিতে পারছে না স্বাস্থ্য বিভাগ।

কয়েকদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রে দৈনিক লাখের বেশি মানুষের সংক্রমণ শনাক্ত হচ্ছে, রাশিয়ায়ও সংক্রমণ চূড়ায়, ইউরোপ ও যুক্তরাজ্যেও ফের বাড়ছে করোনার প্রাদুর্ভাব। ওইসব দেশ থেকে নিয়মিত মানুষজন বাংলাদেশে আসা-যাওয়া করছেন, এতে পরিস্থিতি আবারও অবনতির আশঙ্কা করছেন জনস্বাস্থ্যবিদরা।

দেশে প্রথম করোনা সংক্রমণ শনাক্ত হয় গত বছরের ৮ মার্চ। এর দশদিন পর ১৮ মার্চ প্রথম একজনের মৃত্যুর কথা জানায় স্বাস্থ্য বিভাগ। এরপর কমবেশি (দিনে এক থেকে তিনজন) মৃত্যু হয়। তবে ৩ এপ্রিল কারও মৃত্যু ঘটেনি। ৪ এপ্রিল থেকে এই বছরের ১৯ নভেম্বর পর্যন্ত একদিনও মৃত্যুহীন ছিল না।

এ হিসেবে করোনায় টানা ৫৯৬ দিন পর মৃত্যুহীন দিনের দেখা পেল বাংলাদেশ। অর্থাৎ করোনা মহামারীর প্রায় ২০ মাস পর মৃত্যুহীন দিন পার করলো বাংলাদেশ। এরপরও স্বাস্থ্যবিধি না মানলে ও সাবধানতা অবলম্বন না করলে পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কা করছেন জনস্বাস্থ্যবিদরা।

সরকারি হিসেবে, করোনায় দেশে এ পর্যন্ত মোট ২৭ হাজার ৯৪৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে গত ৫ ও ১০ আগস্ট সর্বোচ্চ প্রাণহানি ঘটে। ওই দুইদিনই ২৬৪ জন করে মানুষের প্রাণহানির তথ্য দেয় স্বাস্থ্য বিভাগ। ওই সময় দৈনিক সংক্রমণও ১৬ হাজারের ওপরে উঠেছিল।

গতকাল স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গতকাল সকাল আটটা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় করোনাভাইরাসে কারও মৃত্যু হয়নি। তবে ওই ২৪ ঘণ্টায় নতুন ১৭৮ জনের দেহে করোনা সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে মোট শনাক্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৫ লাখ ৭৩ হাজার ৮৮৯ জনে।

জানতে চাইলে ‘কোভিড-১৯’ প্রতিরোধে সরকার গঠিত ‘জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটি’র সদস্য ডা. আবু জামিল ফয়সাল গতকাল সংবাদকে বলেন, ‘আমরা চাই না একজন মানুষেরও মৃত্যু হোক। তবে একদিনে কারও মৃত্যু হয়নি মানে করোনা সংক্রমণ শেষ হয়ে যায়নি। আমাদের দেশে নমুনা পরীক্ষা কম হচ্ছে, আক্রান্তদের চিকিৎসা ঠিকমত হচ্ছে না, আবার এখন পর্যন্ত কী পরিমাণ মানুষ করোনার টিকা পেয়েছে তার পূর্ণাঙ্গ তথ্যও দিতে পারছে না স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।’

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক পরিসংখ্যান সংস্থা ‘ওয়াল্ডওমিটার’ বিশ^ব্যাপী করোনাভাইরাসে সংক্রমণের তথ্য নিয়মিত সংরক্ষণ করছে। এই সংস্থাটির তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ, রাশিয়া ও ইউরেশিয়া অঞ্চলসহ বিশে^র বিভিন্ন দেশে করোনা সংক্রমণ বাড়ছে। সম্প্রতি চীনেও করোনার প্রাদুর্ভাব বাড়তে শুরু করেছে।

বিশ^ব্যাপী করোনা সংক্রমণের বিষয়ে জনস্বাস্থ্যবিদ আবু জামিল ফয়সাল বলেন, ‘চীনে আবারও সংক্রমণ বাড়ছে। যুক্তরাষ্ট্রে কয়েকদিন ধরে এক লাখের বেশি রোগী শনাক্ত হচ্ছে, ইউরোপ, রাশিয়া ও এর আশপাশের বিভিন্ন দেশে সংক্রমণ বাড়ছে। এসব দেশ থেকে নিয়মিত লোকজন আসছে বাংলাদেশে। আমাদের লোকজনও ওইসব দেশে যাতায়াত করছে। এতে সংক্রমণের ঝুঁকি থেকেই যাচ্ছে, যেকোন সময় পরিস্থিতি খারাপ হতে পারে।’

সংক্রমণ প্রতিরোধে সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা ও সাবধানতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়ে ডা. আবু জামিল ফয়সাল বলেন, ‘শীত মৌসুমে বিশে^র বিভিন্ন দেশে সংক্রমণ বাড়তে শুরু করেছে। আমাদের দেশেও শীত শুরু হয়েছে। সবাইকে স্বাস্থ্য সচেতন হতে হবে।’

দেশে করোনা সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউ শুরু হয় গত ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে। ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝিতে দৈনিক শনাক্তের সংখ্যা তিনশর কাছাকাছি নেমে এসেছিল; ওই সময় সংক্রমণ হার নেমে এসেছিল তিন শতাংশের কাছাকাছি। দৈনিক মৃত্যুও ৮-১০ জনে নেমে এসেছিল।

কিন্তু দ্বিতীয় ঢেউয়ে গত জুন, জুলাই ও আগস্টে নিয়মিত ভাঙতে থাকে মৃত্যু ও শনাক্তের রেকর্ড। গত ২৮ জুলাই একদিনে সর্বোচ্চ ১৬ হাজার ২৩০ জনের দেহে করোনার জীবাণু শনাক্ত হয়।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় করোনায় আক্রান্তদের মধ্যে সুস্থ হয়েছেন ১৯০ জন। এ পর্যন্ত সুস্থ হয়েছেন ১৫ লাখ ৩৮ হাজার ৬ জন।

একদিনে নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে ১৫ হাজার ১০৭টি। এ পর্যন্ত মোট নমুনা পরীক্ষা হয়েছে এক কোটি সাত লাখ ছয় হাজার ৬৬২টি।

একদিনে নমুনা পরীক্ষা বিবেচনায় করোনা সংক্রমণ শনাক্তের হার এক দশমিক ১৮ শতাংশ। আর এ পর্যন্ত মোট শনাক্তের হার ১৪ দশমিক ৭০ শতাংশ। শনাক্ত বিবেচনায় সুস্থতার হার ৯৭ দশমিক ৭২ শতাংশ এবং মৃত্যুহার এক দশমিক ৭৮ শতাংশ।

করোনার ‘ডেল্টা’ ধরনের প্রভাবে গত জুন, জুলাই ও আগস্টে নমুনা পরীক্ষা অনুপাতে রোগী শনাক্তের হার ৩২ শতাংশের ওপরে উঠেছিল।

সর্বশেষ একদিনে শনাক্ত রোগীদের মধ্যে ১২৯ জনই ঢাকা বিভাগের। এদিন ৩৯টি জেলায় কোন রোগী শনাক্ত হয়নি।

সংক্রমণ প্রতিরোধে ভালো অবস্থানে বাংলাদেশ

জনস হপকিন্স ইউনিভার্সিটির তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে গত ২৮ দিনে ১৪১ জনের মৃত্যু এবং ছয় হাজার ৫৭২ জনের দেহে করোনা সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে।

এই সময়ে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশ নেপালে ১৫৭ জনের, পাকিস্তানে ২৯৬ জনের, শ্রীলঙ্কায় ৫১২ জনের ও ভারতে ১১ হাজার ৬৪১ জনের মৃত্যু হয়েছে।

একই সময়ে অর্থাৎ গত ২৮ দিনে করোনায় সবচেয়ে বেশি সাড়ে ৩৩ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে। রাশিয়ায়ও সংক্রমণ এখন চূড়ায় রয়েছে, দেশটিতে গত ২৮ দিনে ৩২ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে এ মুহূর্তে সক্রিয় অর্থাৎ চিকিৎসাধীন ‘কোভিড-১৯’ রোগীর সংখ্যা সাত হাজার ৯৩৭ জন। গত জুলাই ও আগস্টে সক্রিয় রোগীর সংখ্যা দেড় লাখের উপরে উঠেছিল। ওই সময় ‘কোভিড-১৯’ ডেডিকেটেড হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসা ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছিল।

রবিবার, ২১ নভেম্বর ২০২১ , ৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৮ ১৫ রবিউস সানি ১৪৪৩

করোনা : মৃত্যুহীন দিন দেখল বাংলাদেশ

তবে স্বাস্থ্যবিধি না মানলে পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কা স্বাস্থ্যবিদদের

অবশেষে মৃত্যুহীন দিন দেখল বাংলাদেশ। করোনাভাইরাসে সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় দেশে কারও মৃত্যু হয়নি। নতুন রোগী শনাক্তও কমেছে। তবে জনস্বাস্থ্যবিদরা বলছেন, নমুনা পরীক্ষা কম হওয়া, আক্রান্তদের অনেকে হাসপাতালে চিকিৎসা না নেয়াসহ নানা কারণে করোনায় মৃত্যুর ‘পূর্ণাঙ্গ’ চিত্র দিতে পারছে না স্বাস্থ্য বিভাগ।

কয়েকদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রে দৈনিক লাখের বেশি মানুষের সংক্রমণ শনাক্ত হচ্ছে, রাশিয়ায়ও সংক্রমণ চূড়ায়, ইউরোপ ও যুক্তরাজ্যেও ফের বাড়ছে করোনার প্রাদুর্ভাব। ওইসব দেশ থেকে নিয়মিত মানুষজন বাংলাদেশে আসা-যাওয়া করছেন, এতে পরিস্থিতি আবারও অবনতির আশঙ্কা করছেন জনস্বাস্থ্যবিদরা।

দেশে প্রথম করোনা সংক্রমণ শনাক্ত হয় গত বছরের ৮ মার্চ। এর দশদিন পর ১৮ মার্চ প্রথম একজনের মৃত্যুর কথা জানায় স্বাস্থ্য বিভাগ। এরপর কমবেশি (দিনে এক থেকে তিনজন) মৃত্যু হয়। তবে ৩ এপ্রিল কারও মৃত্যু ঘটেনি। ৪ এপ্রিল থেকে এই বছরের ১৯ নভেম্বর পর্যন্ত একদিনও মৃত্যুহীন ছিল না।

এ হিসেবে করোনায় টানা ৫৯৬ দিন পর মৃত্যুহীন দিনের দেখা পেল বাংলাদেশ। অর্থাৎ করোনা মহামারীর প্রায় ২০ মাস পর মৃত্যুহীন দিন পার করলো বাংলাদেশ। এরপরও স্বাস্থ্যবিধি না মানলে ও সাবধানতা অবলম্বন না করলে পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কা করছেন জনস্বাস্থ্যবিদরা।

সরকারি হিসেবে, করোনায় দেশে এ পর্যন্ত মোট ২৭ হাজার ৯৪৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে গত ৫ ও ১০ আগস্ট সর্বোচ্চ প্রাণহানি ঘটে। ওই দুইদিনই ২৬৪ জন করে মানুষের প্রাণহানির তথ্য দেয় স্বাস্থ্য বিভাগ। ওই সময় দৈনিক সংক্রমণও ১৬ হাজারের ওপরে উঠেছিল।

গতকাল স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গতকাল সকাল আটটা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় করোনাভাইরাসে কারও মৃত্যু হয়নি। তবে ওই ২৪ ঘণ্টায় নতুন ১৭৮ জনের দেহে করোনা সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে মোট শনাক্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৫ লাখ ৭৩ হাজার ৮৮৯ জনে।

জানতে চাইলে ‘কোভিড-১৯’ প্রতিরোধে সরকার গঠিত ‘জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটি’র সদস্য ডা. আবু জামিল ফয়সাল গতকাল সংবাদকে বলেন, ‘আমরা চাই না একজন মানুষেরও মৃত্যু হোক। তবে একদিনে কারও মৃত্যু হয়নি মানে করোনা সংক্রমণ শেষ হয়ে যায়নি। আমাদের দেশে নমুনা পরীক্ষা কম হচ্ছে, আক্রান্তদের চিকিৎসা ঠিকমত হচ্ছে না, আবার এখন পর্যন্ত কী পরিমাণ মানুষ করোনার টিকা পেয়েছে তার পূর্ণাঙ্গ তথ্যও দিতে পারছে না স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।’

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক পরিসংখ্যান সংস্থা ‘ওয়াল্ডওমিটার’ বিশ^ব্যাপী করোনাভাইরাসে সংক্রমণের তথ্য নিয়মিত সংরক্ষণ করছে। এই সংস্থাটির তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ, রাশিয়া ও ইউরেশিয়া অঞ্চলসহ বিশে^র বিভিন্ন দেশে করোনা সংক্রমণ বাড়ছে। সম্প্রতি চীনেও করোনার প্রাদুর্ভাব বাড়তে শুরু করেছে।

বিশ^ব্যাপী করোনা সংক্রমণের বিষয়ে জনস্বাস্থ্যবিদ আবু জামিল ফয়সাল বলেন, ‘চীনে আবারও সংক্রমণ বাড়ছে। যুক্তরাষ্ট্রে কয়েকদিন ধরে এক লাখের বেশি রোগী শনাক্ত হচ্ছে, ইউরোপ, রাশিয়া ও এর আশপাশের বিভিন্ন দেশে সংক্রমণ বাড়ছে। এসব দেশ থেকে নিয়মিত লোকজন আসছে বাংলাদেশে। আমাদের লোকজনও ওইসব দেশে যাতায়াত করছে। এতে সংক্রমণের ঝুঁকি থেকেই যাচ্ছে, যেকোন সময় পরিস্থিতি খারাপ হতে পারে।’

সংক্রমণ প্রতিরোধে সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা ও সাবধানতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়ে ডা. আবু জামিল ফয়সাল বলেন, ‘শীত মৌসুমে বিশে^র বিভিন্ন দেশে সংক্রমণ বাড়তে শুরু করেছে। আমাদের দেশেও শীত শুরু হয়েছে। সবাইকে স্বাস্থ্য সচেতন হতে হবে।’

দেশে করোনা সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউ শুরু হয় গত ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে। ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝিতে দৈনিক শনাক্তের সংখ্যা তিনশর কাছাকাছি নেমে এসেছিল; ওই সময় সংক্রমণ হার নেমে এসেছিল তিন শতাংশের কাছাকাছি। দৈনিক মৃত্যুও ৮-১০ জনে নেমে এসেছিল।

কিন্তু দ্বিতীয় ঢেউয়ে গত জুন, জুলাই ও আগস্টে নিয়মিত ভাঙতে থাকে মৃত্যু ও শনাক্তের রেকর্ড। গত ২৮ জুলাই একদিনে সর্বোচ্চ ১৬ হাজার ২৩০ জনের দেহে করোনার জীবাণু শনাক্ত হয়।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় করোনায় আক্রান্তদের মধ্যে সুস্থ হয়েছেন ১৯০ জন। এ পর্যন্ত সুস্থ হয়েছেন ১৫ লাখ ৩৮ হাজার ৬ জন।

একদিনে নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে ১৫ হাজার ১০৭টি। এ পর্যন্ত মোট নমুনা পরীক্ষা হয়েছে এক কোটি সাত লাখ ছয় হাজার ৬৬২টি।

একদিনে নমুনা পরীক্ষা বিবেচনায় করোনা সংক্রমণ শনাক্তের হার এক দশমিক ১৮ শতাংশ। আর এ পর্যন্ত মোট শনাক্তের হার ১৪ দশমিক ৭০ শতাংশ। শনাক্ত বিবেচনায় সুস্থতার হার ৯৭ দশমিক ৭২ শতাংশ এবং মৃত্যুহার এক দশমিক ৭৮ শতাংশ।

করোনার ‘ডেল্টা’ ধরনের প্রভাবে গত জুন, জুলাই ও আগস্টে নমুনা পরীক্ষা অনুপাতে রোগী শনাক্তের হার ৩২ শতাংশের ওপরে উঠেছিল।

সর্বশেষ একদিনে শনাক্ত রোগীদের মধ্যে ১২৯ জনই ঢাকা বিভাগের। এদিন ৩৯টি জেলায় কোন রোগী শনাক্ত হয়নি।

সংক্রমণ প্রতিরোধে ভালো অবস্থানে বাংলাদেশ

জনস হপকিন্স ইউনিভার্সিটির তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে গত ২৮ দিনে ১৪১ জনের মৃত্যু এবং ছয় হাজার ৫৭২ জনের দেহে করোনা সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে।

এই সময়ে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশ নেপালে ১৫৭ জনের, পাকিস্তানে ২৯৬ জনের, শ্রীলঙ্কায় ৫১২ জনের ও ভারতে ১১ হাজার ৬৪১ জনের মৃত্যু হয়েছে।

একই সময়ে অর্থাৎ গত ২৮ দিনে করোনায় সবচেয়ে বেশি সাড়ে ৩৩ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে। রাশিয়ায়ও সংক্রমণ এখন চূড়ায় রয়েছে, দেশটিতে গত ২৮ দিনে ৩২ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে এ মুহূর্তে সক্রিয় অর্থাৎ চিকিৎসাধীন ‘কোভিড-১৯’ রোগীর সংখ্যা সাত হাজার ৯৩৭ জন। গত জুলাই ও আগস্টে সক্রিয় রোগীর সংখ্যা দেড় লাখের উপরে উঠেছিল। ওই সময় ‘কোভিড-১৯’ ডেডিকেটেড হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসা ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছিল।