আজ সশস্ত্র বাহিনী দিবস

দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী এখন বিশ্ব শাস্তি রক্ষায়ও অবদান রাখছে। স্বাধীন বাংলার ভূখণ্ড রক্ষায় শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করার পাশাপাশি দেশের অভ্যন্তরে যেকোন প্রয়োজনেও ভূমিকা রাখে সশস্ত্র বাহিনী। প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত জনপথ সংস্কারের পাশাপাশি জাতীয় নির্বাচন, মহামারী মোকাবিলায় ভূমিকা রাখে সশস্ত্র বাহিনী। স্বাধীনতা সংগ্রামে গঠিত সশস্ত্র বাহিনী আজ সমরাস্ত্রে অনেক শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করেছে। মাতৃভূমি রক্ষায় যে কোন দেশের সঙ্গে মোকাবিলায় রয়েছে সক্ষমতা।

আজ সশস্ত্র বাহিনী দিবস। মহান মুক্তিযুদ্ধকালেই সশস্ত্র বাহিনীর (তৎকালীন বাংলাদেশ ফোর্সেস) জন্ম হয়েছিল সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীর সমন্বয়ে এই সশস্ত্র বাহিনী আজ বিশ্ব দরবারে উঁচু অবস্থান তৈরি করেছে। এখন সতন্ত্রভাবেই বিশে^র আধুনিক দেশগুলোর সঙ্গে তাল মিলিয়ে এগিয়ে চলেছে অত্যাধুনিক সমরাস্ত্রে শক্তিশালী এ বাহিনী। প্রায় শূন্য অবস্থা থেকে শুরু বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর। সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনী সমন্বয়ে এ বাহিনী আজ নিজ নিজ অবস্থানে আধুনিক ও শক্তিশালী।

সশন্ত্র বাহিনী দিবস উপলক্ষে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আবদুল্লাহ ইবনে জায়েদ সংবাদকে বলেন, দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা থেকে শুরু করে উন্নয়ন ও শান্তি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী অনন্য ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে। সরকার ও দেশের জনগণের আস্থার প্রতীক হিসেবে সুনামের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছে সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনী। এছাড়াও জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনেও গৌরবের সাক্ষর রেখেছেন বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর শান্তিরক্ষীরা। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নির্দেশিত বৈদেশিক নীতির অনুসরণে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ১৯৮৮ সালের আগস্ট থেকে বিশ^শান্তি মিশনে যাত্রা শুরু করে। এরপর পুলিশ বাহিনী এবং পর্যায়ক্রমে নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনী শান্তি মিশনে যুক্ত হয়।

সশস্ত্র বাহিনী সূত্রে জানা যায়, ১৯৭১ সালে স্বাধীনতার যুদ্ধ চলাকালে সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনী সম্মিলিতভাবে পাকিস্তান হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে আক্রমণের সূচনা করে। ৮০র দশকে মাঝামাঝি থেকে সম্মিলিতভাবে ২১ নভেম্বরকে সশস্ত্র বাহিনী দিবস হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। এর আগে সেনাবাহিনী ২৫ মার্চ, নৌ বাহিনী ১০ ডিসেম্বর এবং বিমান বাহিনী ২৮ সেপ্টেম্বর আলাদাভাবে দিবসটি পালন করত। পরে ২১ নভেম্বরের তাৎপর্য সমুন্নত রাখেতে সম্মিলিতভাবে দিবসটি পালনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। মুক্তিযুদ্ধে বাঙালি জাতির অগ্রযাত্রা ও বিজয়ের স্মারক সেই ২১ নভেম্বর- সশস্ত্র বাহিনী দিবস।

আইএসপিআর জানিয়েছে, যথাযথ মর্যাদা ও উৎসাহ উদ্দীপনার মধ্যদিয়ে আজ ২১ নভেম্বর সশস্ত্র বাহিনী দিবস উদযাপিত হবে। দেশের সব সেনানিবাস, নৌঘাঁটি ও স্থাপনা এবং বিমানবাহিনী ঘাঁটির মসজিদসমূহে দেশের কল্যাণ ও সমৃদ্ধি এবং সশস্ত্র বাহিনীর উত্তরোত্তর উন্নতি ও অগ্রগতি কামনা করে ফজরের নামাজ শেষে বিশেষ মোনাজাতের মধ্যদিয়ে দিবসের কর্মসূচি শুরু হবে। দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি ও সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক মো. আবদুল হামিদ এবং প্রধানমন্ত্রী ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক পৃথক বাণী দিয়েছেন।

আইএসপিআর জানিয়েছে, স্বাধীনতা যুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী ২১ নভেম্বর সকালে ঢাকা সেনানিবাসের শিখা অনির্বাণে পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন। এরপর সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ, নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল মোহাম্মদ শাহীন ইকবাল এবং বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল শেখ আবদুল হান্নান নিজ নিজ বাহিনীর পক্ষ থেকে শিখা অনির্বাণে পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন। তিন বাহিনী প্রধান সশস্ত্র বাহিনী বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এবং বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন।

সশস্ত্র বাহিনী দিবস উপলক্ষে তিন বাহিনী প্রধান নিজ নিজ বাহিনীর খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা/তাদের উত্তরাধিকারীদের অনুরূপ সংবর্ধনা প্রদান করবেন। ঢাকা ছাড়াও বরিশাল, কক্সবাজার, বগুড়া, সিলেট, ঘাটাইল, চট্টগ্রাম, যশোর, রংপুর ও খুলনা সেনানিবাস/ঘাঁটিতে সংশ্লিষ্ট এরিয়া সদরদপ্তরের ব্যবস্থাপনায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে। এদিকে, দিনটি যথাযোগ্য মর্যাদায় পালনের জন্য ঢাকার বাইরে দেশের অন্যান্য সেনা গ্যারিসন, নৌজাহাজ ও স্থাপনা এবং বিমানবাহিনী ঘাঁটিতেও বিভিন্ন কর্মসূচি নেয়া হয়েছে। ঢাকা, খুলনা, চাঁদপুর, বরিশাল ও চট্টগ্রামে বিশেষভাবে সজ্জিত নৌবাহিনী জাহাজসমূহ ২১ নভেম্বর দুপুর ২টা থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত সর্বসাধারণের জন্য নিকটস্থ ঘাটে অবস্থান/নোঙ্গরকৃত অবস্থায় রাখা হবে।

রবিবার, ২১ নভেম্বর ২০২১ , ৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৮ ১৫ রবিউস সানি ১৪৪৩

আজ সশস্ত্র বাহিনী দিবস

দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী এখন বিশ্ব শাস্তি রক্ষায়ও অবদান রাখছে। স্বাধীন বাংলার ভূখণ্ড রক্ষায় শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করার পাশাপাশি দেশের অভ্যন্তরে যেকোন প্রয়োজনেও ভূমিকা রাখে সশস্ত্র বাহিনী। প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত জনপথ সংস্কারের পাশাপাশি জাতীয় নির্বাচন, মহামারী মোকাবিলায় ভূমিকা রাখে সশস্ত্র বাহিনী। স্বাধীনতা সংগ্রামে গঠিত সশস্ত্র বাহিনী আজ সমরাস্ত্রে অনেক শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করেছে। মাতৃভূমি রক্ষায় যে কোন দেশের সঙ্গে মোকাবিলায় রয়েছে সক্ষমতা।

আজ সশস্ত্র বাহিনী দিবস। মহান মুক্তিযুদ্ধকালেই সশস্ত্র বাহিনীর (তৎকালীন বাংলাদেশ ফোর্সেস) জন্ম হয়েছিল সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীর সমন্বয়ে এই সশস্ত্র বাহিনী আজ বিশ্ব দরবারে উঁচু অবস্থান তৈরি করেছে। এখন সতন্ত্রভাবেই বিশে^র আধুনিক দেশগুলোর সঙ্গে তাল মিলিয়ে এগিয়ে চলেছে অত্যাধুনিক সমরাস্ত্রে শক্তিশালী এ বাহিনী। প্রায় শূন্য অবস্থা থেকে শুরু বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর। সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনী সমন্বয়ে এ বাহিনী আজ নিজ নিজ অবস্থানে আধুনিক ও শক্তিশালী।

সশন্ত্র বাহিনী দিবস উপলক্ষে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আবদুল্লাহ ইবনে জায়েদ সংবাদকে বলেন, দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা থেকে শুরু করে উন্নয়ন ও শান্তি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী অনন্য ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে। সরকার ও দেশের জনগণের আস্থার প্রতীক হিসেবে সুনামের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছে সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনী। এছাড়াও জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনেও গৌরবের সাক্ষর রেখেছেন বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর শান্তিরক্ষীরা। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নির্দেশিত বৈদেশিক নীতির অনুসরণে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ১৯৮৮ সালের আগস্ট থেকে বিশ^শান্তি মিশনে যাত্রা শুরু করে। এরপর পুলিশ বাহিনী এবং পর্যায়ক্রমে নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনী শান্তি মিশনে যুক্ত হয়।

সশস্ত্র বাহিনী সূত্রে জানা যায়, ১৯৭১ সালে স্বাধীনতার যুদ্ধ চলাকালে সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনী সম্মিলিতভাবে পাকিস্তান হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে আক্রমণের সূচনা করে। ৮০র দশকে মাঝামাঝি থেকে সম্মিলিতভাবে ২১ নভেম্বরকে সশস্ত্র বাহিনী দিবস হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। এর আগে সেনাবাহিনী ২৫ মার্চ, নৌ বাহিনী ১০ ডিসেম্বর এবং বিমান বাহিনী ২৮ সেপ্টেম্বর আলাদাভাবে দিবসটি পালন করত। পরে ২১ নভেম্বরের তাৎপর্য সমুন্নত রাখেতে সম্মিলিতভাবে দিবসটি পালনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। মুক্তিযুদ্ধে বাঙালি জাতির অগ্রযাত্রা ও বিজয়ের স্মারক সেই ২১ নভেম্বর- সশস্ত্র বাহিনী দিবস।

আইএসপিআর জানিয়েছে, যথাযথ মর্যাদা ও উৎসাহ উদ্দীপনার মধ্যদিয়ে আজ ২১ নভেম্বর সশস্ত্র বাহিনী দিবস উদযাপিত হবে। দেশের সব সেনানিবাস, নৌঘাঁটি ও স্থাপনা এবং বিমানবাহিনী ঘাঁটির মসজিদসমূহে দেশের কল্যাণ ও সমৃদ্ধি এবং সশস্ত্র বাহিনীর উত্তরোত্তর উন্নতি ও অগ্রগতি কামনা করে ফজরের নামাজ শেষে বিশেষ মোনাজাতের মধ্যদিয়ে দিবসের কর্মসূচি শুরু হবে। দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি ও সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক মো. আবদুল হামিদ এবং প্রধানমন্ত্রী ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক পৃথক বাণী দিয়েছেন।

আইএসপিআর জানিয়েছে, স্বাধীনতা যুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী ২১ নভেম্বর সকালে ঢাকা সেনানিবাসের শিখা অনির্বাণে পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন। এরপর সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ, নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল মোহাম্মদ শাহীন ইকবাল এবং বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল শেখ আবদুল হান্নান নিজ নিজ বাহিনীর পক্ষ থেকে শিখা অনির্বাণে পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন। তিন বাহিনী প্রধান সশস্ত্র বাহিনী বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এবং বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন।

সশস্ত্র বাহিনী দিবস উপলক্ষে তিন বাহিনী প্রধান নিজ নিজ বাহিনীর খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা/তাদের উত্তরাধিকারীদের অনুরূপ সংবর্ধনা প্রদান করবেন। ঢাকা ছাড়াও বরিশাল, কক্সবাজার, বগুড়া, সিলেট, ঘাটাইল, চট্টগ্রাম, যশোর, রংপুর ও খুলনা সেনানিবাস/ঘাঁটিতে সংশ্লিষ্ট এরিয়া সদরদপ্তরের ব্যবস্থাপনায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে। এদিকে, দিনটি যথাযোগ্য মর্যাদায় পালনের জন্য ঢাকার বাইরে দেশের অন্যান্য সেনা গ্যারিসন, নৌজাহাজ ও স্থাপনা এবং বিমানবাহিনী ঘাঁটিতেও বিভিন্ন কর্মসূচি নেয়া হয়েছে। ঢাকা, খুলনা, চাঁদপুর, বরিশাল ও চট্টগ্রামে বিশেষভাবে সজ্জিত নৌবাহিনী জাহাজসমূহ ২১ নভেম্বর দুপুর ২টা থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত সর্বসাধারণের জন্য নিকটস্থ ঘাটে অবস্থান/নোঙ্গরকৃত অবস্থায় রাখা হবে।