তৃণমূল নেত্রী সায়নী গ্রেপ্তার

তৃণমূল কংগ্রেস ও বিজেপি সমর্থকদের সংঘাতে ফের উত্তপ্ত আগরতলা। তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক ব্যানার্জীর ত্রিপুরায় আজকের কর্মসূচির ২৪ ঘণ্টা আগে তৃণমূল-বিজেপি বিবাদে জড়ায়। এ ঘটনায় তৃণমূলের একটি প্রচারসভা বাতিল করা হয়। এদিন আগরতলা পৌরসভার ১০ নম্বর ওয়ার্ডে ওই প্রচারসভা করতে পারেনি তৃণমূল। বিজেপির বিরুদ্ধে তৃণমূলের অভিযোগ পুলিশকে কাজে লাগিয়ে ওই প্রচার সভামঞ্চটি ভেঙে দেয় বিজেপি সমর্থকরা।

ওই ঘটনায় বিজেপির বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ জানাতে তৃণমূল নেতা সায়নী ঘোষসহ কয়েকজন নেতা থানায় ঢোকার পরেই থানা চত্বরের বাইরে লাঠি হাতে, হেলমেট পরে জমায়েত করে বিজেপি আশ্রিত দুষ্কৃতকারীরা। তারা থানায় ঢুকে তৃণমূল কর্মীদের উপর আক্রমণ করে। এ সময় তৃণমূল নেতা সুবল ভৌমিকের গাড়ি ভাঙচুরেরও অভিযোগ করে তৃণমূল। বিজেপি পাল্টা প্ররোচনার আভিযোগ করেছে তৃণমূলের বিরুদ্ধে। থানায় ঢোকার আগে সায়নী ঘোষ মানুষের উপর গাড়ি চাপা দেয়ার চেষ্টা করে। বিজেপি নেতা নবেন্দু ভট্টাচার্য্য জানিয়েছেন, ওই সময় থানার বাইরে সাধারণ মানুষ জড়ো হয়েছিলেন, বিজেপি কর্মীরা নয়। রাজ্য বিজেপির মুখপাত্র নবেন্দু ভট্টাচার্য্য বলেন, ‘তৃণমূল বিভিন্নরকম প্ররোচনা ছড়াচ্ছে ত্রিপুরায়। মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লবদেবের সভাতেও অশান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছে তৃণমূল, স্থানীয় মানুষই তাদের বিরুদ্ধে আপত্তি জানিয়েছেন।’

প্রসঙ্গত, এদিন সকালে ‘হিট অ্যান্ড রান’ মামলায় সায়নীকে তলব করে পুলিশ। আগরতলায় যে হোটেলে সায়নীসহ তৃণমূলের অন্য নেতারা অবস্থান করছেন সেখানে রোববার হানা দেয় আগরতলা থানার পুলিশ। তাদের অভিযোগ সায়নী ঘোষের গাড়ি ধাক্কা মেরেছে এক ব্যক্তিকে। এছাড়াও সভায় কুরুচিকর মন্তব্য করার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। সায়নীর সঙ্গে কথা বলে তাকে থানায় নিয়ে যেতে চায় পুলিশ। কুণাল ঘোষ বাধা দিয়ে বলেন কোন মহিলাকে এভাবে বিনা নোটিশে তুলে নিয়ে যাওয়া যায় না। পুলিশ সেই নোটিশ দেখাতে না পারায় এই নিয়ে পুলিশের সঙ্গে তৃণমূল নেতাদের তুমুল বচসা হয়। একপর্যয়ে কুণাল ঘোষ পুলিশকে জানিয়ে দেয় সায়নীকে নিয়ে পরে তারা থানায় যাবেন। পরে সায়নীকে নিয়ে এদিন তৃণমূল মুখপাত্র কুণাল ঘোষ, সুস্মিতদেব আগরতলা পূর্ব মহিলা থানায় হাজির হলে থানা চত্বর রণক্ষেত্র রূপ নেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ লাঠিচার্জ করে।

এ ব্যাপারে কুণাল ঘোষ বলেন, ‘থানায় ডেকে এনে মেরে ফেলার পরিকল্পনা ছিল সায়নীকে।’ তৃণমূল নেতা সুবল ভৌমিক জানান, ‘পুলিশকে কাজে লাগিয়ে তৃণমূলকে আটকাতে চাইছে বিজেপি। তৃণমূলের অভিযোগ বিজেপির কথায় সম্পূর্ণ মিথ্যা মামলায় সায়নীকে ফাঁসানোর চেষ্টা করছে পুলিশ।

সকাল থেকে সায়নীকে বসিয়ে রেখে বিকেল ৪টা নাগাদ আগরতলা পূর্ব থানার পুলিশ জানায়, সায়নী ঘোষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মেডিকেল টেস্টের জন্য তাকে পাঠানো হচ্ছে। সোমবার আদালতে তোলা হলে তখন জামিনের জন্য আবেদন করা হবে বলে কুণাল ঘোষ জানান। সায়নীর গ্রেপ্তার নিয়ে তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ বলেন, আগামীকাল অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সভা রয়েছে। সেই সভা বানচাল করার জন্য পরিকল্পনামাফিক এসব করা হয়েছে। তার অভিযোগ, যারা থানায় তা-ব চালালো তাদের গ্রেপ্তার করা হল না, পুলিশ গ্রেপ্তার করলো সায়নীকে।

এই ঘটনার পরে সূত্র জানায়, সোমবার নয় রোববার-ই ত্রিপুরা যাচ্ছেন অভিষেক ব্যানার্জী। তিনি আগরতলায় পুর প্রার্থীদের সমর্থনে পদযাত্রাসহ কয়েকটি প্রচারসভায় বক্তব্য রাখবেন। অভিষেক বিপ্লবদেব সরকারকে কঠোর হুঁশিয়ারী উচ্চারন করে বলেন, ‘বিপ্লবদেব ত্রিপুরা থেকে আপনাকে বিদায় নিতেই হবে, আগামী বিধানসভা নির্বাচনের পর তৃণমূল ত্রিপুরায় সরকার গঠন করবে।’

ফের চারদিনের সফরে দিল্লি যাবেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ২২ নভেম্বর বেলা ৩টায় দিল্লির উদ্দেশ্যে রওনা দেবেন তিনি। ২৫ নভেম্বর পর্যন্ত এই সফরে রাজ্যের বকেয়া আর্থিক দাবীসহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে দেখা করবেন। এছাড়াও বিএসএফের কাজের ক্ষমতাবৃদ্ধিসহ একাধিক বিষয়ে আলোচনা করবেন মোদি-মমতা।

সোমবার, ২২ নভেম্বর ২০২১ , ৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৮ ১৬ রবিউস সানি ১৪৪৩

ফের উত্তপ্ত আগরতলা

তৃণমূল নেত্রী সায়নী গ্রেপ্তার

তৃণমূল কংগ্রেস ও বিজেপি সমর্থকদের সংঘাতে ফের উত্তপ্ত আগরতলা। তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক ব্যানার্জীর ত্রিপুরায় আজকের কর্মসূচির ২৪ ঘণ্টা আগে তৃণমূল-বিজেপি বিবাদে জড়ায়। এ ঘটনায় তৃণমূলের একটি প্রচারসভা বাতিল করা হয়। এদিন আগরতলা পৌরসভার ১০ নম্বর ওয়ার্ডে ওই প্রচারসভা করতে পারেনি তৃণমূল। বিজেপির বিরুদ্ধে তৃণমূলের অভিযোগ পুলিশকে কাজে লাগিয়ে ওই প্রচার সভামঞ্চটি ভেঙে দেয় বিজেপি সমর্থকরা।

ওই ঘটনায় বিজেপির বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ জানাতে তৃণমূল নেতা সায়নী ঘোষসহ কয়েকজন নেতা থানায় ঢোকার পরেই থানা চত্বরের বাইরে লাঠি হাতে, হেলমেট পরে জমায়েত করে বিজেপি আশ্রিত দুষ্কৃতকারীরা। তারা থানায় ঢুকে তৃণমূল কর্মীদের উপর আক্রমণ করে। এ সময় তৃণমূল নেতা সুবল ভৌমিকের গাড়ি ভাঙচুরেরও অভিযোগ করে তৃণমূল। বিজেপি পাল্টা প্ররোচনার আভিযোগ করেছে তৃণমূলের বিরুদ্ধে। থানায় ঢোকার আগে সায়নী ঘোষ মানুষের উপর গাড়ি চাপা দেয়ার চেষ্টা করে। বিজেপি নেতা নবেন্দু ভট্টাচার্য্য জানিয়েছেন, ওই সময় থানার বাইরে সাধারণ মানুষ জড়ো হয়েছিলেন, বিজেপি কর্মীরা নয়। রাজ্য বিজেপির মুখপাত্র নবেন্দু ভট্টাচার্য্য বলেন, ‘তৃণমূল বিভিন্নরকম প্ররোচনা ছড়াচ্ছে ত্রিপুরায়। মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লবদেবের সভাতেও অশান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছে তৃণমূল, স্থানীয় মানুষই তাদের বিরুদ্ধে আপত্তি জানিয়েছেন।’

প্রসঙ্গত, এদিন সকালে ‘হিট অ্যান্ড রান’ মামলায় সায়নীকে তলব করে পুলিশ। আগরতলায় যে হোটেলে সায়নীসহ তৃণমূলের অন্য নেতারা অবস্থান করছেন সেখানে রোববার হানা দেয় আগরতলা থানার পুলিশ। তাদের অভিযোগ সায়নী ঘোষের গাড়ি ধাক্কা মেরেছে এক ব্যক্তিকে। এছাড়াও সভায় কুরুচিকর মন্তব্য করার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। সায়নীর সঙ্গে কথা বলে তাকে থানায় নিয়ে যেতে চায় পুলিশ। কুণাল ঘোষ বাধা দিয়ে বলেন কোন মহিলাকে এভাবে বিনা নোটিশে তুলে নিয়ে যাওয়া যায় না। পুলিশ সেই নোটিশ দেখাতে না পারায় এই নিয়ে পুলিশের সঙ্গে তৃণমূল নেতাদের তুমুল বচসা হয়। একপর্যয়ে কুণাল ঘোষ পুলিশকে জানিয়ে দেয় সায়নীকে নিয়ে পরে তারা থানায় যাবেন। পরে সায়নীকে নিয়ে এদিন তৃণমূল মুখপাত্র কুণাল ঘোষ, সুস্মিতদেব আগরতলা পূর্ব মহিলা থানায় হাজির হলে থানা চত্বর রণক্ষেত্র রূপ নেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ লাঠিচার্জ করে।

এ ব্যাপারে কুণাল ঘোষ বলেন, ‘থানায় ডেকে এনে মেরে ফেলার পরিকল্পনা ছিল সায়নীকে।’ তৃণমূল নেতা সুবল ভৌমিক জানান, ‘পুলিশকে কাজে লাগিয়ে তৃণমূলকে আটকাতে চাইছে বিজেপি। তৃণমূলের অভিযোগ বিজেপির কথায় সম্পূর্ণ মিথ্যা মামলায় সায়নীকে ফাঁসানোর চেষ্টা করছে পুলিশ।

সকাল থেকে সায়নীকে বসিয়ে রেখে বিকেল ৪টা নাগাদ আগরতলা পূর্ব থানার পুলিশ জানায়, সায়নী ঘোষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মেডিকেল টেস্টের জন্য তাকে পাঠানো হচ্ছে। সোমবার আদালতে তোলা হলে তখন জামিনের জন্য আবেদন করা হবে বলে কুণাল ঘোষ জানান। সায়নীর গ্রেপ্তার নিয়ে তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ বলেন, আগামীকাল অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সভা রয়েছে। সেই সভা বানচাল করার জন্য পরিকল্পনামাফিক এসব করা হয়েছে। তার অভিযোগ, যারা থানায় তা-ব চালালো তাদের গ্রেপ্তার করা হল না, পুলিশ গ্রেপ্তার করলো সায়নীকে।

এই ঘটনার পরে সূত্র জানায়, সোমবার নয় রোববার-ই ত্রিপুরা যাচ্ছেন অভিষেক ব্যানার্জী। তিনি আগরতলায় পুর প্রার্থীদের সমর্থনে পদযাত্রাসহ কয়েকটি প্রচারসভায় বক্তব্য রাখবেন। অভিষেক বিপ্লবদেব সরকারকে কঠোর হুঁশিয়ারী উচ্চারন করে বলেন, ‘বিপ্লবদেব ত্রিপুরা থেকে আপনাকে বিদায় নিতেই হবে, আগামী বিধানসভা নির্বাচনের পর তৃণমূল ত্রিপুরায় সরকার গঠন করবে।’

ফের চারদিনের সফরে দিল্লি যাবেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ২২ নভেম্বর বেলা ৩টায় দিল্লির উদ্দেশ্যে রওনা দেবেন তিনি। ২৫ নভেম্বর পর্যন্ত এই সফরে রাজ্যের বকেয়া আর্থিক দাবীসহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে দেখা করবেন। এছাড়াও বিএসএফের কাজের ক্ষমতাবৃদ্ধিসহ একাধিক বিষয়ে আলোচনা করবেন মোদি-মমতা।