ছাত্র হলের তুলনায় প্রার্থী কম ছাত্রী হলে

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের হলগুলোর আসন্ন সম্মেলনকে ঘিরে ব্যাপক সক্রিয় পদপ্রত্যাশীরা। হল-মধুর ক্যান্টিন-টিএসসি সবখানেই নিজ নিজ সমর্থকদের নিয়ে শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে কর্মসূচিতে সরব হচ্ছেন। সংশ্লিষ্টরা জানায়, ছাত্রলীগে অঘোষিতভাবে কেন্দ্র ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শীর্ষ নেতাদের অনুসারী রয়েছে। ছাত্রদের হলে চারজনেরই এক বা একাধিক প্রার্থী রয়েছে। কিন্তু ছাত্রী হলে সবার পদপ্রত্যাশী নেই। আবার ছেলেদের হলে পদপ্রত্যাশীরা অধিকাংশই শিক্ষাজীবনের শেষ দিকে। কিন্তু মেয়েদের হলে দ্বিতীয় বর্ষেও পদপ্রত্যাশী আছে। তবে ছাত্রদের ১৩ হলের তুলনায় মেয়েদের পাঁচ হলে তুলনামূলক প্রার্থী কম।

ছাত্রী হলের রাজনীতি নিয়ে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি জেসমিন শান্তা সংবাদকে বলেন, কার অনুসারী আছে কার অনুসারী নেই এমন কোন হিসাব করা হয় না। সামষ্টিকভাবে ছাত্রলীগ করা মেয়েরা হলগুলোতে আছে কি না সেটি আমাদের হিসাব রাখতে হবে। এটা বাধ্যতামূলক না যে সব হলে সবার অনুসারী থাকতে হবে। যারা রাজনীতি করে, সবার একটাই পরিচয় সেটা হচ্ছে ছাত্রলীগ। একটা অদৃশ্য বিষয় সবার মাথার উপর ভর করে আছে বা নিয়মও হয়ে গেছে যে প্রতিটি হলেই চারজনের আলাদা আলাদা অনুসারী থাকবে। ছাত্রলীগের গঠনতন্ত্রে এমন কিছুর উল্লেখ নেই।

মেয়েদের হলগুলোতে জ্যেষ্ঠ পদপ্রত্যাশী না থাকায়, কোন কোন হলে দ্বিতীয়বর্ষ থেকে পদপ্রত্যাশী আছে বলে শুনা যাচ্ছে। এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, অনেকে কিছু বুঝে উঠতে পারে না। তারা হয়তো নিজে নিজেই এসব বলে বেড়ায়। দ্বিতীয় বর্ষের কোন মেয়েকে যদি নেতৃত্বে আনা হয়, তাহলে মাস্টার্সের কোন মেয়ে তার কাছে সমস্যা নিয়ে আসবে না বা নিরাপদ অনুভব করবে না। এখানে অভিজ্ঞতার একটা বিষয় অবশ্যই আছে।

কবি সুফিয়া কামাল হলের পদপ্রত্যাশী মিতালী মন্ডল বলেন, দীর্ঘদিন পর হল সম্মেলন হচ্ছে। আমাদের প্রত্যাশা থাকবে, যাদেরকে এতদিন দলীয় ও হলের কর্মকা-ে সক্রিয় থাকতে দখা যায়নি, তাদেরকে যেন অন্য কারো সুপারিশ রক্ষা করতে গিয়ে হুট করে পদে না আনা হয়। এতে রাজনীতির ধারা নষ্ট হয়ে যাবে। যারা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত, তাদের সুবিধা-অসুবিধায় কাজ করতে পারবে তাদেরকেই যেন মূল বিবেচনায় রাখা হয়।

রোকেয়া হলের পদপ্রত্যাশী মাসুমা ইয়াসমিন বলেন, আমাদের প্রত্যাশা থাকবে সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। যোগ্য প্রার্থীদের কাছে যেন নেতৃত্ব দেয়া হয়।

রোকেয়া হল ছাত্রলীগের হলের পদপ্রত্যাশীদের মধ্যে রয়েছেন হল ছাত্রলীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ফাল্গুনী দাস তন্বী, ছাত্রী বিষয়ক সম্পাদক মাসুমা ইয়াসমিন, আতিকা বিনতে হোসাইন, অন্তরা দাস প্রিথা, মজিদা নাসরীন মমো, মাঈশা বাসার সুমাইয়া।

কবি সুফিয়া কামাল হলের প্রার্থীরা হচ্ছেন- শাখা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক পূজা কর্মকার, হল সংসদের সাবেক সদস্য মিতালী মন্ডল, লাবিছা আক্তার রিমা।

শামসুন্নাহার হল সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক হওয়ার দৌড়ে এগিয়ে আছেন খাদিজা উর্মি, শেহেরজান শেহের, সাবরিনা তাবাসসুম নিথিয়া, বিশাখা দাস ইরা, নুসরাত রুবাইয়াত নীলা।

বাংলাদেশ কুয়েত-মৈত্রী হলে শীর্ষ দুই পদে যারা যেতে চান তারা হলেন শাখা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক রাজিয়া সুলতানা কথা, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জান্নাতুল হাওয়া আখি।

বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলের প্রার্থীরা হচ্ছেন- শাখা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক কোহিনুর আক্তার রাখি, আপ্যায়ন বিষয়ক সম্পাদক সানজিনা ইয়াসমিন পাপিয়া, সাবরিনা শর্না, রুবাইয়া আক্তার, আফরোজা ইমু।

সোমবার, ২২ নভেম্বর ২০২১ , ৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৮ ১৬ রবিউস সানি ১৪৪৩

ঢাবি শাখা ছাত্রলীগের হল সম্মেলন

ছাত্র হলের তুলনায় প্রার্থী কম ছাত্রী হলে

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের হলগুলোর আসন্ন সম্মেলনকে ঘিরে ব্যাপক সক্রিয় পদপ্রত্যাশীরা। হল-মধুর ক্যান্টিন-টিএসসি সবখানেই নিজ নিজ সমর্থকদের নিয়ে শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে কর্মসূচিতে সরব হচ্ছেন। সংশ্লিষ্টরা জানায়, ছাত্রলীগে অঘোষিতভাবে কেন্দ্র ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শীর্ষ নেতাদের অনুসারী রয়েছে। ছাত্রদের হলে চারজনেরই এক বা একাধিক প্রার্থী রয়েছে। কিন্তু ছাত্রী হলে সবার পদপ্রত্যাশী নেই। আবার ছেলেদের হলে পদপ্রত্যাশীরা অধিকাংশই শিক্ষাজীবনের শেষ দিকে। কিন্তু মেয়েদের হলে দ্বিতীয় বর্ষেও পদপ্রত্যাশী আছে। তবে ছাত্রদের ১৩ হলের তুলনায় মেয়েদের পাঁচ হলে তুলনামূলক প্রার্থী কম।

ছাত্রী হলের রাজনীতি নিয়ে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি জেসমিন শান্তা সংবাদকে বলেন, কার অনুসারী আছে কার অনুসারী নেই এমন কোন হিসাব করা হয় না। সামষ্টিকভাবে ছাত্রলীগ করা মেয়েরা হলগুলোতে আছে কি না সেটি আমাদের হিসাব রাখতে হবে। এটা বাধ্যতামূলক না যে সব হলে সবার অনুসারী থাকতে হবে। যারা রাজনীতি করে, সবার একটাই পরিচয় সেটা হচ্ছে ছাত্রলীগ। একটা অদৃশ্য বিষয় সবার মাথার উপর ভর করে আছে বা নিয়মও হয়ে গেছে যে প্রতিটি হলেই চারজনের আলাদা আলাদা অনুসারী থাকবে। ছাত্রলীগের গঠনতন্ত্রে এমন কিছুর উল্লেখ নেই।

মেয়েদের হলগুলোতে জ্যেষ্ঠ পদপ্রত্যাশী না থাকায়, কোন কোন হলে দ্বিতীয়বর্ষ থেকে পদপ্রত্যাশী আছে বলে শুনা যাচ্ছে। এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, অনেকে কিছু বুঝে উঠতে পারে না। তারা হয়তো নিজে নিজেই এসব বলে বেড়ায়। দ্বিতীয় বর্ষের কোন মেয়েকে যদি নেতৃত্বে আনা হয়, তাহলে মাস্টার্সের কোন মেয়ে তার কাছে সমস্যা নিয়ে আসবে না বা নিরাপদ অনুভব করবে না। এখানে অভিজ্ঞতার একটা বিষয় অবশ্যই আছে।

কবি সুফিয়া কামাল হলের পদপ্রত্যাশী মিতালী মন্ডল বলেন, দীর্ঘদিন পর হল সম্মেলন হচ্ছে। আমাদের প্রত্যাশা থাকবে, যাদেরকে এতদিন দলীয় ও হলের কর্মকা-ে সক্রিয় থাকতে দখা যায়নি, তাদেরকে যেন অন্য কারো সুপারিশ রক্ষা করতে গিয়ে হুট করে পদে না আনা হয়। এতে রাজনীতির ধারা নষ্ট হয়ে যাবে। যারা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত, তাদের সুবিধা-অসুবিধায় কাজ করতে পারবে তাদেরকেই যেন মূল বিবেচনায় রাখা হয়।

রোকেয়া হলের পদপ্রত্যাশী মাসুমা ইয়াসমিন বলেন, আমাদের প্রত্যাশা থাকবে সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। যোগ্য প্রার্থীদের কাছে যেন নেতৃত্ব দেয়া হয়।

রোকেয়া হল ছাত্রলীগের হলের পদপ্রত্যাশীদের মধ্যে রয়েছেন হল ছাত্রলীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ফাল্গুনী দাস তন্বী, ছাত্রী বিষয়ক সম্পাদক মাসুমা ইয়াসমিন, আতিকা বিনতে হোসাইন, অন্তরা দাস প্রিথা, মজিদা নাসরীন মমো, মাঈশা বাসার সুমাইয়া।

কবি সুফিয়া কামাল হলের প্রার্থীরা হচ্ছেন- শাখা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক পূজা কর্মকার, হল সংসদের সাবেক সদস্য মিতালী মন্ডল, লাবিছা আক্তার রিমা।

শামসুন্নাহার হল সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক হওয়ার দৌড়ে এগিয়ে আছেন খাদিজা উর্মি, শেহেরজান শেহের, সাবরিনা তাবাসসুম নিথিয়া, বিশাখা দাস ইরা, নুসরাত রুবাইয়াত নীলা।

বাংলাদেশ কুয়েত-মৈত্রী হলে শীর্ষ দুই পদে যারা যেতে চান তারা হলেন শাখা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক রাজিয়া সুলতানা কথা, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জান্নাতুল হাওয়া আখি।

বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলের প্রার্থীরা হচ্ছেন- শাখা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক কোহিনুর আক্তার রাখি, আপ্যায়ন বিষয়ক সম্পাদক সানজিনা ইয়াসমিন পাপিয়া, সাবরিনা শর্না, রুবাইয়া আক্তার, আফরোজা ইমু।