শুল্ক কমানোসহ চার দফা দাবিতে বিড়ি শ্রমিকদের সমাবেশ

কুষ্টিয়ায় ছয় দফা দাবিতে সমাবেশ করেছে জেলা বিড়ি শ্রমিক সংগ্রাম পরিষদ। গতকাল বেলা ১১টায় কুষ্টিয়া পাবলিক লাইব্রেরি মাঠে এ সমাবেশ করে তারা। সমাবেশ থেকে বিড়ির ওপর অতিরিক্ত চার টাকা মূল্যস্তর প্রত্যাহার, বিড়িতে অগ্রীম ১০ শতাংশ আয়কর প্রত্যাহার, সিগারেটের মতো বিড়িতেও ৩টি মূল্যস্তরকরণ, বিড়ি শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধিসহ ৬ দফা দাবি তুলে ধরেন।

সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুষ্টিয়া জেলা শ্রমিক লীগের শ্রমবিষয়ক সম্পাদক মো. গোলাম মোস্তফা। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা শ্রমিক লীগের সভাপতি মো. আনারুল হক। সমাবেশে বক্তব্য প্রদান করেন বাংলাদেশ বিড়ি শ্রমিক ফেডারেশনের কার্যকরী সভাপতি আমিন উদ্দিন বিএসসি, সাধারণ সম্পাদক আবদুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুল গফুর। বাংলাদেশ বিড়ি শ্রমিক ফেডারেশনের যুগ্ম-সম্পাদক মো. হারিক হোসেনের সঞ্চালনায় সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন ফেডারেশনের সহ-সভাপতি মো. নাজিম উদ্দিন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে কুষ্টিয়া জেলা শ্রমিক লীগের শ্রমবিষয়ক সম্পাদক মো. গোলাম মোস্তফা বলেন, অসহায় বিড়ি শ্রমিকরা দু’বেলা পেট ভরে খেতে পারে না। কাজ না পেয়ে মজুরির অভাবে পরিবার নিয়ে মানবেতর জীবয-যাপন করে। সারাজীবন কাজ করেও বিড়ি শ্রমিকদের ভাগ্য পরিবর্তন হয় না। বিড়ি শ্রমিকদের নায্য পারিশ্রমিক দেয়ার জন্য বিড়ি মালিকদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। অনলাইনে বিড়ি তৈরির লাইসেন্স দেয়ায় নকল ব্যান্ডরোলযুক্ত বিড়িতে বাজার সয়লাভ হয়ে গেছে। এভাবে অবাধে বিড়ি তৈরির লাইসেন্স দিয়ে বিশেষ সুবিধা গ্রহণের মাধ্যমে কাস্টমস কর্মকর্তারা বিনা ট্যাক্সে বিড়ি বিক্রির সুযোগ করে দিচ্ছে। জেলা প্রশাসককে এ বিষয়ে দৃষ্টি দেয়ার আহ্বান জানান তিনি। এছাড়া বিড়ি শিল্প ও শ্রমিকদের নিয়ে ষড়যন্ত্র করলে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সামনে বিক্ষোভ করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে কুষ্টিয়া জেলা শ্রমিক লীগের সভাপতি মো. আনারুল হক বলেন, বিড়ির শ্রমিকদের ন্যায্য দাবির সঙ্গে আমরা একমত। তাদের দাবি প্রধানমন্ত্রী, অর্থমন্ত্রী, এনবিআরের চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অবহিতকরণের মাধ্যমে বিড়ি শ্রমিকদের জীবন মান উন্নয়নের দাবি জানান।

বিড়ি শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক আবদুর রহমান বলেন, বিড়ির ওপর মাত্রাতিরিক্ত কর বৃদ্ধির কারণে বিড়ির বাজার নকলবাজদের দখলে চলে গেছে। যেখানে প্রতি প্যাকেট বিড়িতে সরকারকে ট্যাক্স দিতে হয় প্রায় দশ টাকা, সেখানে নকল ব্যান্ডরোলযুক্ত বিড়ি বিক্রি হচ্ছে মাত্র সাত/ আট টাকায়। এতে একদিকে বৈধ বিড়ি কারখানাগুলো বন্ধ হয়ে যাচ্ছে, অন্যদিকে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। ফলে বিড়ি কারখানায় শ্রমিকরা বেকার হয়ে যাচ্ছে। অনাহারে অর্ধাহারে দিনাতিপাত করছে। আগামী বাজেটে বিড়ির ওপর ট্যাক্স বৃদ্ধি করলে তীব্র আন্দোলনের মাধ্যমে প্রতিহত করা হবে বলে হুমকি দিয়েছেন তিনি।

মঙ্গলবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২১ , ১২ মাঘ ১৪২৭, ১২ জমাদিউস সানি ১৪৪২

শুল্ক কমানোসহ চার দফা দাবিতে বিড়ি শ্রমিকদের সমাবেশ

অর্থনৈতিক বার্তা পরিবেশক |

image

কুষ্টিয়ায় ছয় দফা দাবিতে সমাবেশ করেছে জেলা বিড়ি শ্রমিক সংগ্রাম পরিষদ। গতকাল বেলা ১১টায় কুষ্টিয়া পাবলিক লাইব্রেরি মাঠে এ সমাবেশ করে তারা। সমাবেশ থেকে বিড়ির ওপর অতিরিক্ত চার টাকা মূল্যস্তর প্রত্যাহার, বিড়িতে অগ্রীম ১০ শতাংশ আয়কর প্রত্যাহার, সিগারেটের মতো বিড়িতেও ৩টি মূল্যস্তরকরণ, বিড়ি শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধিসহ ৬ দফা দাবি তুলে ধরেন।

সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুষ্টিয়া জেলা শ্রমিক লীগের শ্রমবিষয়ক সম্পাদক মো. গোলাম মোস্তফা। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা শ্রমিক লীগের সভাপতি মো. আনারুল হক। সমাবেশে বক্তব্য প্রদান করেন বাংলাদেশ বিড়ি শ্রমিক ফেডারেশনের কার্যকরী সভাপতি আমিন উদ্দিন বিএসসি, সাধারণ সম্পাদক আবদুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুল গফুর। বাংলাদেশ বিড়ি শ্রমিক ফেডারেশনের যুগ্ম-সম্পাদক মো. হারিক হোসেনের সঞ্চালনায় সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন ফেডারেশনের সহ-সভাপতি মো. নাজিম উদ্দিন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে কুষ্টিয়া জেলা শ্রমিক লীগের শ্রমবিষয়ক সম্পাদক মো. গোলাম মোস্তফা বলেন, অসহায় বিড়ি শ্রমিকরা দু’বেলা পেট ভরে খেতে পারে না। কাজ না পেয়ে মজুরির অভাবে পরিবার নিয়ে মানবেতর জীবয-যাপন করে। সারাজীবন কাজ করেও বিড়ি শ্রমিকদের ভাগ্য পরিবর্তন হয় না। বিড়ি শ্রমিকদের নায্য পারিশ্রমিক দেয়ার জন্য বিড়ি মালিকদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। অনলাইনে বিড়ি তৈরির লাইসেন্স দেয়ায় নকল ব্যান্ডরোলযুক্ত বিড়িতে বাজার সয়লাভ হয়ে গেছে। এভাবে অবাধে বিড়ি তৈরির লাইসেন্স দিয়ে বিশেষ সুবিধা গ্রহণের মাধ্যমে কাস্টমস কর্মকর্তারা বিনা ট্যাক্সে বিড়ি বিক্রির সুযোগ করে দিচ্ছে। জেলা প্রশাসককে এ বিষয়ে দৃষ্টি দেয়ার আহ্বান জানান তিনি। এছাড়া বিড়ি শিল্প ও শ্রমিকদের নিয়ে ষড়যন্ত্র করলে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সামনে বিক্ষোভ করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে কুষ্টিয়া জেলা শ্রমিক লীগের সভাপতি মো. আনারুল হক বলেন, বিড়ির শ্রমিকদের ন্যায্য দাবির সঙ্গে আমরা একমত। তাদের দাবি প্রধানমন্ত্রী, অর্থমন্ত্রী, এনবিআরের চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অবহিতকরণের মাধ্যমে বিড়ি শ্রমিকদের জীবন মান উন্নয়নের দাবি জানান।

বিড়ি শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক আবদুর রহমান বলেন, বিড়ির ওপর মাত্রাতিরিক্ত কর বৃদ্ধির কারণে বিড়ির বাজার নকলবাজদের দখলে চলে গেছে। যেখানে প্রতি প্যাকেট বিড়িতে সরকারকে ট্যাক্স দিতে হয় প্রায় দশ টাকা, সেখানে নকল ব্যান্ডরোলযুক্ত বিড়ি বিক্রি হচ্ছে মাত্র সাত/ আট টাকায়। এতে একদিকে বৈধ বিড়ি কারখানাগুলো বন্ধ হয়ে যাচ্ছে, অন্যদিকে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। ফলে বিড়ি কারখানায় শ্রমিকরা বেকার হয়ে যাচ্ছে। অনাহারে অর্ধাহারে দিনাতিপাত করছে। আগামী বাজেটে বিড়ির ওপর ট্যাক্স বৃদ্ধি করলে তীব্র আন্দোলনের মাধ্যমে প্রতিহত করা হবে বলে হুমকি দিয়েছেন তিনি।