সংক্রমণ ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে

‘ভয়ঙ্কর’ রূপ নিচ্ছে করোনা সংক্রমণ। করোনায় একদিনেই প্রাণ হারালেন ৬৬ জন, যা এখন সর্বোচ্চ। ২৪ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ নমুনা পরীক্ষায় রেকর্ড সাত হাজার ২১৩ জনের করোনা শনাক্ত করেছে স্বাস্থ্য বিভাগ। এ নিয়ে টানা তিনদিনই সাত হাজারের বেশি মানুষের করোনা শনাক্ত হলো। তবে এর আগের পাঁচদিনের তুলনায় গতকাল সংক্রমণ শনাক্তের হার ২ শতাংশ কমে ২১ শতাংশের ওপরেই রয়েছে।

জনস্বাস্থ্যবিদরা বলছেন, করোনার ‘দ্বিতীয় ধাক্কা’ সামলাতে সরকার এক সপ্তাহের ‘লকডাউন’ (অবরুদ্ধ) ঘোষণা করলেও সংক্রমণের গতি থামছে না; সরকারের কঠোর বিধিনিষেধ অনেকেই মানছেন না; এতে বেড়েই চলছে সংক্রমণ। পাল্লা দিয়ে বাড়ছে প্রাণহানির সংখ্যা। আক্রান্তের সংখ্যা বাড়তে থাকায় রোগী সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে ‘কোভিড-১৯ ডেডিকেটেড’ হাসপাতালগুলো। সংক্রমণ বাড়তে থাকলে মৃত্যুও বাড়বে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা।

গত বছরের ১৮ মার্চ দেশে করোনায় প্রথম একজনের মৃত্যুর কথা জানিয়েছিল স্বাস্থ্য বিভাগ। এরপর গত ৩০ জুন একদিনে সর্বোচ্চ ৬৪ জনের মৃত্যু হয় করোনা আক্রান্ত হয়ে।

গত বছরের ৮ মার্চ দেশে প্রথম করোনা শনাক্তের ওই বছরের ২ জুলাই একদিনে সর্বোচ্চ চার হাজার ১৯ জনের সংক্রমণ শনাক্ত হয়। চলতি বছরের জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি নাগাদ করোনা সংক্রমণ অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে এসেছিল।

কিন্তু গত মার্চের শুরুতেই বাড়তে থাকে সংক্রমণ। মার্চের শেষের দিকে দৈনিক শনাক্তের সংখ্যা পাঁচ হাজার ছাড়িয়ে যায়। এপ্রিলে আরও ভয়ঙ্কর রূপ নেয় সংক্রমণ। শনাক্তের পাশাপাশি বাড়তে থাকে প্রাণহানির সংখ্যাও। ১ এপ্রিল শনাক্ত সাড়ে ছয় হাজারের কাছাকাছি পৌঁছে যায়।

সর্বশেষ গত তিনদিনই সাত হাজারের বেশি মানুষের সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। এর আগে গত ৫ এপ্রিল দেশে করোনা শনাক্ত হয়েছিল সাত হাজার ৭৫ জনের আর ৪ এপ্রিল শনাক্ত হয়েছিল সাত হাজার ৮৭ জনের।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, করোনা সংক্রমণ পরিস্থিতি খারাপের দিকে যাচ্ছে। মানুষ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলাফেরা না করায় সংক্রমণ পরিস্থিতির অবনতি হচ্ছে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা বিশেষ করে সবাইকে মাস্ক পরতে সরকারের তরফ থেকে বারবার বলা হচ্ছে; বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরাও বারবার মাস্ক পরার পরামর্শ দিয়ে আসছেন; তাতে খুব একটা কাজ হয়নি।

এই পরিস্থিতিতে সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় গত ২৯ মার্চ বেশ কিছু বিধিনিষেধসহ সরকার ১৮ দফা নির্দেশনা জারি করেছে। এসব নির্দেশনাও অনেকেই মেনে চলাচল করছেন না। ‘লকডাউন’-এর দ্বিতীয় দিন গতকাল রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অনেককেই মাস্ক না পরে উদাসীনভাবে চলাচল করতে দেখা গেছে। সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ করতে হলে মাস্ক পরাসহ স্বাস্থ্যবিধি মানার বিকল্প নেই বলে মনে করছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।

গতকাল বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় (সোমবার সকাল আটটা থেকে গতকাল মঙ্গলবার সকাল আটটা পর্যন্ত) সারাদেশে নমুনা পরীক্ষা হয়েছে সবচেয়ে বেশি, ৩৪ হাজার ৩১১ জনের। নমুনা পরীক্ষা বিবেচনায় করোনা রোগী শনাক্তের হার ২১ দশমিক শূন্য ২ শতাংশ।

যদিও গত ২ এপ্রিল থেকে ৫ এপ্রিল পর্যন্ত দৈনিক নমুনা পরীক্ষা বিবেচনায় শনাক্তের হার ২৩ শতাংশের বেশি ছিল। ৫ এপ্রিল শনাক্তের হার ছিল ২৩ দশমিক ৪০ শতাংশ। আর এ পর্যন্ত নমুনা পরীক্ষার অনুপাতে মোট শনাক্তের হার হলো ১৩ দশমিক ৪৪ শতাংশ।

২৪ ঘণ্টায় মৃত্যু হওয়া ৬৬ জনকে নিয়ে দেশে এ পর্যন্ত করোনায় মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়ালো ৯ হাজার ৩৮৪ জনে। গত একদিনে শনাক্ত হওয়া সাত হাজার ২১৩ জনকে নিয়ে দেশে মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়ালো ছয় লাখ ৫১ হাজার ৬৫২ জন।

যুক্তরাষ্ট্রের জন হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকায় বিশ্বে করোনা শনাক্তের দিক থেকে ৩৩তম এবং মৃত্যুর সংখ্যায় ৪০তম অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ।

গত বছরের ৮ মার্চ দেশে প্রথম করোনা শনাক্তের পর সংক্রমণ পিকে (চূড়ায়) ছিল জুন-জুলাই ও আগস্টে। আগস্টের তৃতীয় সপ্তাহ পর্যন্ত মোট শনাক্তের হার ২০ শতাংশের ওপরে ছিল। এরপর থেকে নিয়মিত কমতে থাকে সংক্রমণ ও শনাক্তের হার।

পরবর্তীতে শীত মৌসুমে গত নভেম্বর-ডিসেম্বরে সংক্রমণ কিছুটা বাড়লেও গত জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারিতে দৈনিক শনাক্তের হার ২/৩ শতাংশে নেমে এসেছিল। ওই সময় দৈনিক শনাক্তের হারও দুই-তিনশ’-এর কাছাকাছি নেমে এসেছিল।

এ বছর মার্চে শুরু হয়েছে করোনার ‘দ্বিতীয় ঢেউ’। ‘প্রথম ঢেউ’য়ের চেয়ে এবার সংক্রমণ অধিকতর তীব্র। এখন দৈনিক যে সংখ্যক রোগী সুস্থ হচ্ছেন তার চেয়ে দ্বিগুণের বেশি রোগী শনাক্ত হচ্ছেন। গতকাল পর্যন্ত দেশে প্রায় ৮৪ হাজার সক্রিয় ‘অ্যাক্টিভ কেস’ ছিল।

২৪ ঘণ্টায় সবচেয়ে বেশি ল্যাবে সবচেয়ে বেশি নমুনা পরীক্ষা:

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, ২৪ ঘণ্টায় বাসাবাড়ি ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন দুই হাজার ৯৬৯ রোগী সুস্থ হয়েছেন। এ নিয়ে সুস্থ রোগীর মোট সংখ্যা বেড়ে পাঁচ লাখ ৫৮ হাজার ৩৮৩ জন।

ওই ২৪ ঘণ্টায় সারাদেশে সবচেয়ে বেশি মোট ২৩৭টি ল্যাবে ৩৪ হাজার ৩১১টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। এ পর্যন্ত পরীক্ষা হয়েছে ৪৮ লাখ ৪৭ হাজার ৯৩৫টি নমুনা। এ পর্যন্ত মোট শনাক্ত বিবেচনায় সুস্থতার হার ৮৫ দশমিক ৬৯ শতাংশ এবং মৃত্যুর হার ১ দশমিক ৪৪ শতাংশ।

২৪ ঘণ্টায় মৃত্যু হওয়া ৬৬ জনের ৩৯ জন পুরুষ ও ২৭ জন নারী। এর মধ্যে দু’জন বাড়িতে এবং ৬৪ জন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। তাদের মধ্যে ৪১ জনের বয়স ছিল ৬০ বছরের বেশি, ১৭ জনের বয়স ৫১ থেকে ৬০ বছর, পাঁচজনের বয়স ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে, দু’জনের বয়স ৩১ থেকে ৪০ বছর এবং একজনের বয়স ২১ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে ছিল।

গত একদিনে করোনায় সবচেয়ে বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে ঢাকায়। মারা যাওয়া ৬৬ জনের মধ্যে ৫৪ জন ঢাকা বিভাগের। অন্যদের মধ্যে চারজন চট্টগ্রাম বিভাগের, তিনজন রাজশাহী বিভাগের, দু’জন করে খুলনা ও বরিশাল বিভাগের এবং একজন সিলেট বিভাগের বাসিন্দা ছিলেন।

দেশে মোট মারা যাওয়া ৯ হাজার ৩১৮ জনের মধ্যে সাত হাজার ৪৩ জন পুরুষ এবং দুই হাজার ৩৪১ জন নারী। তাদের মধ্যে পাঁচ হাজার ২৬৩ জনের বয়স ছিল ৬০ বছরের বেশি। অন্যদের মধ্যে দুই হাজার ৩১২ জনের বয়স ৫১ থেকে ৬০ বছর, এক হাজার ৫৪ জনের বয়স ৪১ থেকে ৫০ বছর, ৪৬৬ জনের বয়স ৩১ থেকে ৪০ বছর, ১৮১ জনের বয়স ২১ থেকে ৩০ বছর, ৬৯ জনের বয়স ১১ থেকে ২০ বছরের মধ্যে এবং ৩৯ জনের বয়স ছিল ১০ বছরের কম।

আর মৃত্যু হওয়া মোট লোকজনের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ঢাকার বাসিন্দা। এর মধ্যে পাঁচ হাজার ৩৯৮ জন ঢাকা বিভাগের, এক হাজার ৬৮৪ জন চট্টগ্রাম বিভাগের, ৫১৩ জন রাজশাহী বিভাগের, ৫৯৫ জন খুলনা বিভাগের, ২৭৯ জন বরিশাল বিভাগের, ৩২৯ জন সিলেট বিভাগের, ৩৮১ জন রংপুর বিভাগের এবং ২০৫ জন ময়মনসিংহ বিভাগের বাসিন্দা ছিলেন।

বুধবার, ০৭ এপ্রিল ২০২১ , ২৩ চৈত্র ১৪২৭ ২২ শাবান ১৪৪২

সংক্রমণ ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে

নিজস্ব বার্তা পরিবেশক

image

‘ভয়ঙ্কর’ রূপ নিচ্ছে করোনা সংক্রমণ। করোনায় একদিনেই প্রাণ হারালেন ৬৬ জন, যা এখন সর্বোচ্চ। ২৪ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ নমুনা পরীক্ষায় রেকর্ড সাত হাজার ২১৩ জনের করোনা শনাক্ত করেছে স্বাস্থ্য বিভাগ। এ নিয়ে টানা তিনদিনই সাত হাজারের বেশি মানুষের করোনা শনাক্ত হলো। তবে এর আগের পাঁচদিনের তুলনায় গতকাল সংক্রমণ শনাক্তের হার ২ শতাংশ কমে ২১ শতাংশের ওপরেই রয়েছে।

জনস্বাস্থ্যবিদরা বলছেন, করোনার ‘দ্বিতীয় ধাক্কা’ সামলাতে সরকার এক সপ্তাহের ‘লকডাউন’ (অবরুদ্ধ) ঘোষণা করলেও সংক্রমণের গতি থামছে না; সরকারের কঠোর বিধিনিষেধ অনেকেই মানছেন না; এতে বেড়েই চলছে সংক্রমণ। পাল্লা দিয়ে বাড়ছে প্রাণহানির সংখ্যা। আক্রান্তের সংখ্যা বাড়তে থাকায় রোগী সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে ‘কোভিড-১৯ ডেডিকেটেড’ হাসপাতালগুলো। সংক্রমণ বাড়তে থাকলে মৃত্যুও বাড়বে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা।

গত বছরের ১৮ মার্চ দেশে করোনায় প্রথম একজনের মৃত্যুর কথা জানিয়েছিল স্বাস্থ্য বিভাগ। এরপর গত ৩০ জুন একদিনে সর্বোচ্চ ৬৪ জনের মৃত্যু হয় করোনা আক্রান্ত হয়ে।

গত বছরের ৮ মার্চ দেশে প্রথম করোনা শনাক্তের ওই বছরের ২ জুলাই একদিনে সর্বোচ্চ চার হাজার ১৯ জনের সংক্রমণ শনাক্ত হয়। চলতি বছরের জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি নাগাদ করোনা সংক্রমণ অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে এসেছিল।

কিন্তু গত মার্চের শুরুতেই বাড়তে থাকে সংক্রমণ। মার্চের শেষের দিকে দৈনিক শনাক্তের সংখ্যা পাঁচ হাজার ছাড়িয়ে যায়। এপ্রিলে আরও ভয়ঙ্কর রূপ নেয় সংক্রমণ। শনাক্তের পাশাপাশি বাড়তে থাকে প্রাণহানির সংখ্যাও। ১ এপ্রিল শনাক্ত সাড়ে ছয় হাজারের কাছাকাছি পৌঁছে যায়।

সর্বশেষ গত তিনদিনই সাত হাজারের বেশি মানুষের সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। এর আগে গত ৫ এপ্রিল দেশে করোনা শনাক্ত হয়েছিল সাত হাজার ৭৫ জনের আর ৪ এপ্রিল শনাক্ত হয়েছিল সাত হাজার ৮৭ জনের।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, করোনা সংক্রমণ পরিস্থিতি খারাপের দিকে যাচ্ছে। মানুষ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলাফেরা না করায় সংক্রমণ পরিস্থিতির অবনতি হচ্ছে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা বিশেষ করে সবাইকে মাস্ক পরতে সরকারের তরফ থেকে বারবার বলা হচ্ছে; বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরাও বারবার মাস্ক পরার পরামর্শ দিয়ে আসছেন; তাতে খুব একটা কাজ হয়নি।

এই পরিস্থিতিতে সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় গত ২৯ মার্চ বেশ কিছু বিধিনিষেধসহ সরকার ১৮ দফা নির্দেশনা জারি করেছে। এসব নির্দেশনাও অনেকেই মেনে চলাচল করছেন না। ‘লকডাউন’-এর দ্বিতীয় দিন গতকাল রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অনেককেই মাস্ক না পরে উদাসীনভাবে চলাচল করতে দেখা গেছে। সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ করতে হলে মাস্ক পরাসহ স্বাস্থ্যবিধি মানার বিকল্প নেই বলে মনে করছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।

গতকাল বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় (সোমবার সকাল আটটা থেকে গতকাল মঙ্গলবার সকাল আটটা পর্যন্ত) সারাদেশে নমুনা পরীক্ষা হয়েছে সবচেয়ে বেশি, ৩৪ হাজার ৩১১ জনের। নমুনা পরীক্ষা বিবেচনায় করোনা রোগী শনাক্তের হার ২১ দশমিক শূন্য ২ শতাংশ।

যদিও গত ২ এপ্রিল থেকে ৫ এপ্রিল পর্যন্ত দৈনিক নমুনা পরীক্ষা বিবেচনায় শনাক্তের হার ২৩ শতাংশের বেশি ছিল। ৫ এপ্রিল শনাক্তের হার ছিল ২৩ দশমিক ৪০ শতাংশ। আর এ পর্যন্ত নমুনা পরীক্ষার অনুপাতে মোট শনাক্তের হার হলো ১৩ দশমিক ৪৪ শতাংশ।

২৪ ঘণ্টায় মৃত্যু হওয়া ৬৬ জনকে নিয়ে দেশে এ পর্যন্ত করোনায় মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়ালো ৯ হাজার ৩৮৪ জনে। গত একদিনে শনাক্ত হওয়া সাত হাজার ২১৩ জনকে নিয়ে দেশে মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়ালো ছয় লাখ ৫১ হাজার ৬৫২ জন।

যুক্তরাষ্ট্রের জন হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকায় বিশ্বে করোনা শনাক্তের দিক থেকে ৩৩তম এবং মৃত্যুর সংখ্যায় ৪০তম অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ।

গত বছরের ৮ মার্চ দেশে প্রথম করোনা শনাক্তের পর সংক্রমণ পিকে (চূড়ায়) ছিল জুন-জুলাই ও আগস্টে। আগস্টের তৃতীয় সপ্তাহ পর্যন্ত মোট শনাক্তের হার ২০ শতাংশের ওপরে ছিল। এরপর থেকে নিয়মিত কমতে থাকে সংক্রমণ ও শনাক্তের হার।

পরবর্তীতে শীত মৌসুমে গত নভেম্বর-ডিসেম্বরে সংক্রমণ কিছুটা বাড়লেও গত জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারিতে দৈনিক শনাক্তের হার ২/৩ শতাংশে নেমে এসেছিল। ওই সময় দৈনিক শনাক্তের হারও দুই-তিনশ’-এর কাছাকাছি নেমে এসেছিল।

এ বছর মার্চে শুরু হয়েছে করোনার ‘দ্বিতীয় ঢেউ’। ‘প্রথম ঢেউ’য়ের চেয়ে এবার সংক্রমণ অধিকতর তীব্র। এখন দৈনিক যে সংখ্যক রোগী সুস্থ হচ্ছেন তার চেয়ে দ্বিগুণের বেশি রোগী শনাক্ত হচ্ছেন। গতকাল পর্যন্ত দেশে প্রায় ৮৪ হাজার সক্রিয় ‘অ্যাক্টিভ কেস’ ছিল।

২৪ ঘণ্টায় সবচেয়ে বেশি ল্যাবে সবচেয়ে বেশি নমুনা পরীক্ষা:

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, ২৪ ঘণ্টায় বাসাবাড়ি ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন দুই হাজার ৯৬৯ রোগী সুস্থ হয়েছেন। এ নিয়ে সুস্থ রোগীর মোট সংখ্যা বেড়ে পাঁচ লাখ ৫৮ হাজার ৩৮৩ জন।

ওই ২৪ ঘণ্টায় সারাদেশে সবচেয়ে বেশি মোট ২৩৭টি ল্যাবে ৩৪ হাজার ৩১১টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। এ পর্যন্ত পরীক্ষা হয়েছে ৪৮ লাখ ৪৭ হাজার ৯৩৫টি নমুনা। এ পর্যন্ত মোট শনাক্ত বিবেচনায় সুস্থতার হার ৮৫ দশমিক ৬৯ শতাংশ এবং মৃত্যুর হার ১ দশমিক ৪৪ শতাংশ।

২৪ ঘণ্টায় মৃত্যু হওয়া ৬৬ জনের ৩৯ জন পুরুষ ও ২৭ জন নারী। এর মধ্যে দু’জন বাড়িতে এবং ৬৪ জন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। তাদের মধ্যে ৪১ জনের বয়স ছিল ৬০ বছরের বেশি, ১৭ জনের বয়স ৫১ থেকে ৬০ বছর, পাঁচজনের বয়স ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে, দু’জনের বয়স ৩১ থেকে ৪০ বছর এবং একজনের বয়স ২১ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে ছিল।

গত একদিনে করোনায় সবচেয়ে বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে ঢাকায়। মারা যাওয়া ৬৬ জনের মধ্যে ৫৪ জন ঢাকা বিভাগের। অন্যদের মধ্যে চারজন চট্টগ্রাম বিভাগের, তিনজন রাজশাহী বিভাগের, দু’জন করে খুলনা ও বরিশাল বিভাগের এবং একজন সিলেট বিভাগের বাসিন্দা ছিলেন।

দেশে মোট মারা যাওয়া ৯ হাজার ৩১৮ জনের মধ্যে সাত হাজার ৪৩ জন পুরুষ এবং দুই হাজার ৩৪১ জন নারী। তাদের মধ্যে পাঁচ হাজার ২৬৩ জনের বয়স ছিল ৬০ বছরের বেশি। অন্যদের মধ্যে দুই হাজার ৩১২ জনের বয়স ৫১ থেকে ৬০ বছর, এক হাজার ৫৪ জনের বয়স ৪১ থেকে ৫০ বছর, ৪৬৬ জনের বয়স ৩১ থেকে ৪০ বছর, ১৮১ জনের বয়স ২১ থেকে ৩০ বছর, ৬৯ জনের বয়স ১১ থেকে ২০ বছরের মধ্যে এবং ৩৯ জনের বয়স ছিল ১০ বছরের কম।

আর মৃত্যু হওয়া মোট লোকজনের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ঢাকার বাসিন্দা। এর মধ্যে পাঁচ হাজার ৩৯৮ জন ঢাকা বিভাগের, এক হাজার ৬৮৪ জন চট্টগ্রাম বিভাগের, ৫১৩ জন রাজশাহী বিভাগের, ৫৯৫ জন খুলনা বিভাগের, ২৭৯ জন বরিশাল বিভাগের, ৩২৯ জন সিলেট বিভাগের, ৩৮১ জন রংপুর বিভাগের এবং ২০৫ জন ময়মনসিংহ বিভাগের বাসিন্দা ছিলেন।