দোকান খুলে দেয়ার দাবিতে বিক্ষোভ-মানববন্ধন চলছে

সাত দিনের দ্বিতীয় দিনেও নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং দোকান খোলার দাবিতে দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ, মানববন্ধন ও মিছিল করেছেন দোকান মালিক ও ব্যবসায়ীরা।

ঢাকার নিউমার্কেট ও মিরপুর এলাকায় ব্যবসায়ীরা মার্কেট খুলে দেয়ার দাবিতে টানা তৃতীয় দিনের মতো বিক্ষোভ করেছে। ব্যবসায়ী ও দোকানমালিকরা গতকাল সকাল ১০টা থেকে বেলা ১টা পর্যন্ত নিউমার্কেট এলাকায় চাঁদনী চক শপিং কমপ্লেক্সের সামনে বিক্ষোভ করেন। ব্যবসায়ীরা দিনের নির্দিষ্ট একটা সময় স্বাস্থ্যবিধি মেনে মার্কেট খোলা রাখার দাবিতে শ্লোগান দেন। চাঁদনী চক বিজনেস ফোরামের সাধারণ সম্পাদক মনির হোসেন বলেন, দোকান না খুলে দিলে আমরা না খেয়ে মরব। সব বিনিয়োগ এখানেই করেছি। আমাদের দাবি স্বাস্থ্যবিধি মেনে আমাদের দোকান খুলতে দেয়া হোক।

মিরপুর ১ নম্বর মোড়ে দুপুরে এক ঘণ্টা প্রতিবাদ-বিক্ষোভ করেছেন ব্যবসায়ীরা। এ সময় সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। মিরপুর ১ নম্বর এলাকার কো-অপারেটিভ মার্কেটের ব্যবসায়ী মনির হোসেন বলেন, দোকান বন্ধ থাকায় পরিবার পরিজন নিয়ে এই শহরে টিকে থাকাই দায় হয়ে যাচ্ছে। আমাদের আবেদন সরকারের কাছে, কিছু সময়ের জন্য সীমিত আকারে দোকান খোলার অনুমতি দেয়া হোক। পরে ব্যবসায়ীরা মিরপুর ১ নম্বর চত্বর থেকে মিছিল নিয়ে সনি সিনেমা হলের সামনের দিয়ে আবার ১ নম্বর মোড়ে আসে। বিক্ষোভ থেকে এক পর্যায়ে গাড়ি ভাঙচুরের চেষ্টা চালানো হয়।

ফরিদপুর

ফরিদপুরের সালথা উপজেলায় লকডাউন বাস্তবায়ন করতে যাওয়া প্রশাসনের লোকজনের সঙ্গে স্থানীয়দের বাগবিত-ার পর আগুন-হামলার ঘটনায় আহত একজনের মৃত্যু হয়েছে। ফরিদপুরে থানা ও সরকারি স্থাপনায় উত্তেজিত জনতা আগুন দিয়েছে।

জেলার পুলিশ সুপার মো. আলিমুজ্জামান বলেন, হামলার সময় আইশৃঙ্খলা বাহিনীর আট সদস্যসহ কমপক্ষে ২০ জন আহত হয়। তাদের মধ্যে জুবায়ের হোসেন (২০) নামে একজন চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন।

জুবায়ের রামকান্তপুর গ্রামের আশরাফ আলীর ছেলে। হামলার সময় আহত হওয়ায় তাকে সালথা উপজেলা স্বাস্থ কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। রাতে তিনি মারা যান।

গত সোমবার সন্ধ্যায় উপজেলা প্রশাসনের লোকজন রামকান্তপুর এলাকায় লকডাউন বাস্তবায়ন করতে গেলে স্থানীয়দের সঙ্গে বাগবিত-া হয়। পরে সালথা থানা, উপজেলা পরিষদ ও সহকারী কমিশনারের (ভূমি) কার্যালয়ে হামলা চালিয়ে আগুন দেয়া হয়। পুলিশ সুপার বলেন, ভিডিও ফুটেজ দেখে হামলাকারীদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। এ ঘটনায় পুলিশ তিনজনকে আটক করেছে। মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তবে এই হামলা পরিকল্পিত বলে দাবি করেছে পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসন।

নারায়ণগঞ্জ

লকডাউনে সীমিত পরিসরে ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে মার্কেট খোলার দাবিতে মানববন্ধন ও মিছিল করেছে নারায়ণগঞ্জের দোকান মালিক ও কর্মচারীরা। গতকাল সকালে নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের সামনে জেলা দোকান মালিক সমিতির ব্যানারে মানববন্ধন শেষে মিছিল করেন তারা।

নারায়ণগঞ্জ জেলা দোকান মালিক সমিতির সহ-সভাপতি হাজী হাসানের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন দোকান মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আরিফ দিপু, সহ-সভাপতি শাহীন, যুগ্ম-সম্পাদক মিনার, সাংগঠনিক সম্পাদক নিজামুদ্দিন, দপ্তর সম্পাদক আলম প্রমুখ।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, ‘আমরা পবিত্র রমজান মাস ও ঈদ সামনে রেখে লকডাউনে স্বাস্থ্যবিধি মেনে দোকান খোলা রাখতে চাই। মার্কেট বন্ধ থাকলে আমাদের পরিবারের কী হবে? শুধুমাত্র আমরা না আমাদের কর্মচারীদের কী হবে? এই একটা মাস আমাদের ব্যবসার সময়। কলকারখানা, কাঁচাবাজার সব চালু কিন্তু আমাদের দোকানপাট বন্ধ রেখে সব চালু রেখে দিচ্ছেন। মানববন্ধন শেষে নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাব থেকে একটি মিছিল বের হয়। মিছিলটা চাষাঢ়া হয়ে ডিআইটি পর্যন্ত গিয়ে পুনরায় প্রেসক্লাবে এসে শেষ হয়।

এদিকে নারায়ণগঞ্জে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সিদ্ধিরগঞ্জ শিমরাইল এলাকায় মার্কেট খুলে দেয়ার দাবিতে বিক্ষোভ করেছেন স্থানীয় বিভিন্ন মার্কেটের ব্যবসায়ীরা। গতকাল বেলা ১১টায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের শিমরাইল মোড় হাজী আসহান উল্লাহ সুপার মার্কেটের সামনে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করেন ব্যবসায়ীরা। বিভিন্ন মার্কেটের দুই শতাধিক ব্যবসায়ী এতে অংশ নেন। মানববন্ধন শেষে বিক্ষোভ মিছিল করেন তারা।

বিল্লাল হোসেন নামে এক ব্যবসায়ী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমাদের আবেদন, স্বাস্থ্যবিধি মেনে দোকান খুলে দেয়া হোক। নইলে ব্যবসায়ীদের না খেয়ে মরতে হবে।

মাজহারুল ইসলাম নামে আরেক ব্যবসায়ী বলেন, লকডাউন আমরা মানি না। গত বছর লকডাউনে আমরা ব্যবসায়ীরা ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছি। স্বাস্থ্যবিধি মেনে দোকান খুলে দেয়ার জোর দাবি জানাচ্ছি। আমাদের দাবি না মানলে সামনে আমরা কঠোর আন্দোলনে যাব।

মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি শেষে ব্যবসায়ীরা নিজেরাই রাস্তা থেকে সরে যান। এ সময় পুলিশের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়নি। সোমবারও মার্কেট খোলা রাখার দাবিতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে বিক্ষোভ করেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা।

বরিশাল

স্বাস্থ্যবিধি মেনে দোকানপাট খোলা রাখার দাবিতে বরিশালে বিক্ষোভ করেছেন ব্যবসায়ী ও দোকান শ্রমিকরা। গতকাল সকাল ১১টার দিকে চকবাজারে ব্যবসায়ীরা জড়ো হয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। পরে তাদের সঙ্গে নগরের কাঠপট্টি, ফজলুল হক অ্যাভিনিউ, গীর্জামহল্লা এলাকার ব্যবসায়ীরাও যুক্ত হন।

এ সময় তারা স্বাস্থ্যবিধি মেনে নির্দিষ্ট সময় বেধে দিয়ে দোকানপাট খোলা রাখার দাবিতে স্লোগান দেন। খবর পেয়ে কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশের ওসি নুরুল ইসলামের নেতৃত্বে একদল পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে তাদের রাস্তা থেকে সরিয়ে দেন। এ সময় বিক্ষুব্ধ ব্যবসায়ীরা বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। মিছিলটি বিভিন্ন সড়ক হয়ে জেলা প্রশাসক কার্যালয় ঘিরে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন এবং দোকানপাট খোলার দাবিতে স্লোগান দিতে থাকেন। বিক্ষোভকারী ব্যবসায়ীরা জানান, তাদের সঙ্গে সিটি ও মহসিন মার্কেটের ব্যবসায়ীরাও একমত পোষণ করেছেন।

তারা বলেন, আমরা স্বাস্থ্যবিধি মেনে ব্যবসা-বাণিজ্য, দোকানপাট খুলে দেয়ার দাবি জানাচ্ছি। গত বছর লকডাউনে অনেক দেনা হয়েছি, ঋণের কারণে অনেকে ব্যবসাও ছেড়ে গেছেন। আমরাও ঋণে জর্জরিত হয়ে আছি। লকডাউনে দোকানপাট বন্ধ থাকলে আমাদের পথে বসা ছাড়া কোন উপায় নেই। সাধারণ ব্যবসায়ীরা না খেয়ে মারা যাবেন।

এদিকে বিক্ষোভ প্রদর্শনকারী ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলেন জেলা প্রশাসনের পক্ষে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট গৌতম বাড়ৈ। ব্যবসায়ীদের দাবি শুনে তিনি এ বিষয়ে লিখিত পেলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দেন। পরে ব্যবসায়ীরা লিখিত দেয়ার মত পোষণ করে বিক্ষোভ কর্মসূচি শেষ করেন।

বগুড়া

বগুড়ায় স্বাস্থ্যবিধি মেনে দিনের কিছু সময় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খুলে দেয়ার দাবিতে বিক্ষোভ করেছেন ব্যবসায়ীরা।

গতকাল দুপুরে শহরের জিরো পয়েন্ট সাতমাথা চত্বরে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন করেন ইলেকট্রিক ব্যবসায়ীরা। এ সময় তারা নানা স্লোগান দিতে থাকেন। পরে তারা জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন।

এর আগে সরকারি এ সিদ্ধান্ত কার্যকরের প্রথম দিনই বগুড়া শহরের রানার প্লাজা মার্কেটের ব্যবসায়ী-কর্মচারীরা তাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খোলার দাবিতে মানববন্ধন করেন। বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধনে ব্যবসায়ীরা স্বাস্থ্যবিধি মেনে সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খুলে রাখার দাবি জানান।

বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তারা বলেন, গত বছর লকডাউনের কারণে ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। সেটা পুষিয়ে না উঠতেই আবারও লকডাউন হওয়ায় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান চিরতরে বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। সামনে ঈদ উপলক্ষে সীমিত পরিসরে হলেও মার্কেট খুলে দেয়ার দাবি জানান তারা। অন্যথায় বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন বক্তারা।

সিলেট

সিলেটে স্বাস্থ্যবিধি মেনে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খুলে দেয়ার দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছেন ব্যবসায়ীরা। গতকাল সিলেট নগরীর আদালত চত্বরে মানববন্ধন শেষে মিছিল করেন তারা।

ব্যবসায়ীরা বলেন, ঈদ উপলক্ষে আমাদের বেচাকেনা বেশি হয়। এখনই বেচাকেনা শুরু হওয়ার কথা। গত লকডাউনের ক্ষত এখনও শুকায়নি, আবারও লকডাউনে পড়ে গেলাম। ঈদ উপলক্ষে ব্যাংক থেকে লোন নিয়ে দোকানে মাল উঠিয়েছি। মালগুলো বিক্রি করতে না পারলে বিরাট লোকসানের মুখে পড়ব।

সাভার

সাভারে মার্কেট খুলে দেয়ার দাবিতে ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছে ব্যবসায়ীরা। এ সময় মহাসড়কে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।

গতকাল সাভার বাজার বাসস্ট্যান্ড এলাকায় প্রায় ১ ঘণ্টা মহাসড়ক অবরোধ করে রাখেন ব্যবসায়ীরা। পরে পুলিশ তাদের সড়ক থেকে সরিয়ে দিলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

ব্যবসায়ীরা বলেন, রোজা ও ঈদকে সামনে রেখে আমরা ধার-দেনা করে দোকানে মালামাল উঠিয়েছি। এখন কেনাবেচা না করতে পারলে ঋণ শোধ করতে পারব না। তাই আমরা বাধ্য হয়েই সড়কে নেমেছি।

তারা বলেন, আমাদের দাবি একটি নির্দিষ্ট সময় মার্কেট খুলে দেয়া হোক।

কুমিল্লা

‘অবৈধ লকডাউন মানি না- মানব না, স্বাস্থ্যবিধি মানব, দোকানপাট খুলব’ এই স্লোগানে কুমিল্লায় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খোলা রাখার দাবিতে বিক্ষাভ করেছেন ব্যবসায়ীরা। গতকাল সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত সড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভের পাশাপাশি মানববন্ধনও করেছেন তারা।

সরেজমিনে দেখা যায়, বিভিন্ন শপিংমলের ব্যবসায়ী ও কর্মকারীরা সকাল থেকেই একত্রিত হয়ে সড়ক দখল করে প্রথমে মানববন্ধন করেন। এরপর কয়েক ভাগে বিক্ষাভ মিছিল করে একটি শপিংমলের সামনে গিয়ে সমাবেশ করেন তারা।

কুমিল্লা দোকান মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আতিক উল্লাহ খোকন বলেন, গত বছর লকডাউনে ব্যবসায়ীদের যে পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে তা এখনও কাটেনি। গত কয়েক মাসে ব্যবসায়ীরা একটু উঠে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছিল। তখনই আবার লকডাউন দিয়ে আঘাত করা হয়েছে।

কুমিল্লা জুয়েলারি ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক আরিফ জামান জানান, গত বছর লকডাউনে ব্যবসায়ীরা যে পরিমাণ ক্ষতির শিকার হয়েছেন, তা পূরণ হওয়ার নয়। এখন আবারও লকডাউন দিয়ে ব্যবসায়ীদের নিঃস্ব করে দেয়া হচ্ছে। আমরা স্বাস্থ্যবিধি মেনে ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনা করতে চাই।

এদিকে দুপুরে আন্দোলনরত ব্যবসায়ীদের শান্ত করতে তাদের সঙ্গে কথা বলেন কুমিল্লা সদর আসনের সংসদ সদস্য আ ক ম বাহাউদ্দিন বাহার। এ সময় তিনি আগামী বৃহস্পতিবার পর্যন্ত দোকানপাট বন্ধ রাখার আহ্বান জানান।

বুধবার, ০৭ এপ্রিল ২০২১ , ২৩ চৈত্র ১৪২৭ ২২ শাবান ১৪৪২

দোকান খুলে দেয়ার দাবিতে বিক্ষোভ-মানববন্ধন চলছে

নিজস্ব বার্তা পরিবেশক

image

দোকান খোলার দাবিতে গতকাল রাজধানীর নিউ মার্কেট এলাকায় ব্যবসায়ী ও দোকানকর্মীরা মানববন্ধন করে -সংবাদ

সাত দিনের দ্বিতীয় দিনেও নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং দোকান খোলার দাবিতে দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ, মানববন্ধন ও মিছিল করেছেন দোকান মালিক ও ব্যবসায়ীরা।

ঢাকার নিউমার্কেট ও মিরপুর এলাকায় ব্যবসায়ীরা মার্কেট খুলে দেয়ার দাবিতে টানা তৃতীয় দিনের মতো বিক্ষোভ করেছে। ব্যবসায়ী ও দোকানমালিকরা গতকাল সকাল ১০টা থেকে বেলা ১টা পর্যন্ত নিউমার্কেট এলাকায় চাঁদনী চক শপিং কমপ্লেক্সের সামনে বিক্ষোভ করেন। ব্যবসায়ীরা দিনের নির্দিষ্ট একটা সময় স্বাস্থ্যবিধি মেনে মার্কেট খোলা রাখার দাবিতে শ্লোগান দেন। চাঁদনী চক বিজনেস ফোরামের সাধারণ সম্পাদক মনির হোসেন বলেন, দোকান না খুলে দিলে আমরা না খেয়ে মরব। সব বিনিয়োগ এখানেই করেছি। আমাদের দাবি স্বাস্থ্যবিধি মেনে আমাদের দোকান খুলতে দেয়া হোক।

মিরপুর ১ নম্বর মোড়ে দুপুরে এক ঘণ্টা প্রতিবাদ-বিক্ষোভ করেছেন ব্যবসায়ীরা। এ সময় সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। মিরপুর ১ নম্বর এলাকার কো-অপারেটিভ মার্কেটের ব্যবসায়ী মনির হোসেন বলেন, দোকান বন্ধ থাকায় পরিবার পরিজন নিয়ে এই শহরে টিকে থাকাই দায় হয়ে যাচ্ছে। আমাদের আবেদন সরকারের কাছে, কিছু সময়ের জন্য সীমিত আকারে দোকান খোলার অনুমতি দেয়া হোক। পরে ব্যবসায়ীরা মিরপুর ১ নম্বর চত্বর থেকে মিছিল নিয়ে সনি সিনেমা হলের সামনের দিয়ে আবার ১ নম্বর মোড়ে আসে। বিক্ষোভ থেকে এক পর্যায়ে গাড়ি ভাঙচুরের চেষ্টা চালানো হয়।

ফরিদপুর

ফরিদপুরের সালথা উপজেলায় লকডাউন বাস্তবায়ন করতে যাওয়া প্রশাসনের লোকজনের সঙ্গে স্থানীয়দের বাগবিত-ার পর আগুন-হামলার ঘটনায় আহত একজনের মৃত্যু হয়েছে। ফরিদপুরে থানা ও সরকারি স্থাপনায় উত্তেজিত জনতা আগুন দিয়েছে।

জেলার পুলিশ সুপার মো. আলিমুজ্জামান বলেন, হামলার সময় আইশৃঙ্খলা বাহিনীর আট সদস্যসহ কমপক্ষে ২০ জন আহত হয়। তাদের মধ্যে জুবায়ের হোসেন (২০) নামে একজন চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন।

জুবায়ের রামকান্তপুর গ্রামের আশরাফ আলীর ছেলে। হামলার সময় আহত হওয়ায় তাকে সালথা উপজেলা স্বাস্থ কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। রাতে তিনি মারা যান।

গত সোমবার সন্ধ্যায় উপজেলা প্রশাসনের লোকজন রামকান্তপুর এলাকায় লকডাউন বাস্তবায়ন করতে গেলে স্থানীয়দের সঙ্গে বাগবিত-া হয়। পরে সালথা থানা, উপজেলা পরিষদ ও সহকারী কমিশনারের (ভূমি) কার্যালয়ে হামলা চালিয়ে আগুন দেয়া হয়। পুলিশ সুপার বলেন, ভিডিও ফুটেজ দেখে হামলাকারীদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। এ ঘটনায় পুলিশ তিনজনকে আটক করেছে। মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তবে এই হামলা পরিকল্পিত বলে দাবি করেছে পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসন।

নারায়ণগঞ্জ

লকডাউনে সীমিত পরিসরে ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে মার্কেট খোলার দাবিতে মানববন্ধন ও মিছিল করেছে নারায়ণগঞ্জের দোকান মালিক ও কর্মচারীরা। গতকাল সকালে নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের সামনে জেলা দোকান মালিক সমিতির ব্যানারে মানববন্ধন শেষে মিছিল করেন তারা।

নারায়ণগঞ্জ জেলা দোকান মালিক সমিতির সহ-সভাপতি হাজী হাসানের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন দোকান মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আরিফ দিপু, সহ-সভাপতি শাহীন, যুগ্ম-সম্পাদক মিনার, সাংগঠনিক সম্পাদক নিজামুদ্দিন, দপ্তর সম্পাদক আলম প্রমুখ।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, ‘আমরা পবিত্র রমজান মাস ও ঈদ সামনে রেখে লকডাউনে স্বাস্থ্যবিধি মেনে দোকান খোলা রাখতে চাই। মার্কেট বন্ধ থাকলে আমাদের পরিবারের কী হবে? শুধুমাত্র আমরা না আমাদের কর্মচারীদের কী হবে? এই একটা মাস আমাদের ব্যবসার সময়। কলকারখানা, কাঁচাবাজার সব চালু কিন্তু আমাদের দোকানপাট বন্ধ রেখে সব চালু রেখে দিচ্ছেন। মানববন্ধন শেষে নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাব থেকে একটি মিছিল বের হয়। মিছিলটা চাষাঢ়া হয়ে ডিআইটি পর্যন্ত গিয়ে পুনরায় প্রেসক্লাবে এসে শেষ হয়।

এদিকে নারায়ণগঞ্জে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সিদ্ধিরগঞ্জ শিমরাইল এলাকায় মার্কেট খুলে দেয়ার দাবিতে বিক্ষোভ করেছেন স্থানীয় বিভিন্ন মার্কেটের ব্যবসায়ীরা। গতকাল বেলা ১১টায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের শিমরাইল মোড় হাজী আসহান উল্লাহ সুপার মার্কেটের সামনে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করেন ব্যবসায়ীরা। বিভিন্ন মার্কেটের দুই শতাধিক ব্যবসায়ী এতে অংশ নেন। মানববন্ধন শেষে বিক্ষোভ মিছিল করেন তারা।

বিল্লাল হোসেন নামে এক ব্যবসায়ী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমাদের আবেদন, স্বাস্থ্যবিধি মেনে দোকান খুলে দেয়া হোক। নইলে ব্যবসায়ীদের না খেয়ে মরতে হবে।

মাজহারুল ইসলাম নামে আরেক ব্যবসায়ী বলেন, লকডাউন আমরা মানি না। গত বছর লকডাউনে আমরা ব্যবসায়ীরা ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছি। স্বাস্থ্যবিধি মেনে দোকান খুলে দেয়ার জোর দাবি জানাচ্ছি। আমাদের দাবি না মানলে সামনে আমরা কঠোর আন্দোলনে যাব।

মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি শেষে ব্যবসায়ীরা নিজেরাই রাস্তা থেকে সরে যান। এ সময় পুলিশের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়নি। সোমবারও মার্কেট খোলা রাখার দাবিতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে বিক্ষোভ করেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা।

বরিশাল

স্বাস্থ্যবিধি মেনে দোকানপাট খোলা রাখার দাবিতে বরিশালে বিক্ষোভ করেছেন ব্যবসায়ী ও দোকান শ্রমিকরা। গতকাল সকাল ১১টার দিকে চকবাজারে ব্যবসায়ীরা জড়ো হয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। পরে তাদের সঙ্গে নগরের কাঠপট্টি, ফজলুল হক অ্যাভিনিউ, গীর্জামহল্লা এলাকার ব্যবসায়ীরাও যুক্ত হন।

এ সময় তারা স্বাস্থ্যবিধি মেনে নির্দিষ্ট সময় বেধে দিয়ে দোকানপাট খোলা রাখার দাবিতে স্লোগান দেন। খবর পেয়ে কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশের ওসি নুরুল ইসলামের নেতৃত্বে একদল পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে তাদের রাস্তা থেকে সরিয়ে দেন। এ সময় বিক্ষুব্ধ ব্যবসায়ীরা বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। মিছিলটি বিভিন্ন সড়ক হয়ে জেলা প্রশাসক কার্যালয় ঘিরে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন এবং দোকানপাট খোলার দাবিতে স্লোগান দিতে থাকেন। বিক্ষোভকারী ব্যবসায়ীরা জানান, তাদের সঙ্গে সিটি ও মহসিন মার্কেটের ব্যবসায়ীরাও একমত পোষণ করেছেন।

তারা বলেন, আমরা স্বাস্থ্যবিধি মেনে ব্যবসা-বাণিজ্য, দোকানপাট খুলে দেয়ার দাবি জানাচ্ছি। গত বছর লকডাউনে অনেক দেনা হয়েছি, ঋণের কারণে অনেকে ব্যবসাও ছেড়ে গেছেন। আমরাও ঋণে জর্জরিত হয়ে আছি। লকডাউনে দোকানপাট বন্ধ থাকলে আমাদের পথে বসা ছাড়া কোন উপায় নেই। সাধারণ ব্যবসায়ীরা না খেয়ে মারা যাবেন।

এদিকে বিক্ষোভ প্রদর্শনকারী ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলেন জেলা প্রশাসনের পক্ষে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট গৌতম বাড়ৈ। ব্যবসায়ীদের দাবি শুনে তিনি এ বিষয়ে লিখিত পেলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দেন। পরে ব্যবসায়ীরা লিখিত দেয়ার মত পোষণ করে বিক্ষোভ কর্মসূচি শেষ করেন।

বগুড়া

বগুড়ায় স্বাস্থ্যবিধি মেনে দিনের কিছু সময় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খুলে দেয়ার দাবিতে বিক্ষোভ করেছেন ব্যবসায়ীরা।

গতকাল দুপুরে শহরের জিরো পয়েন্ট সাতমাথা চত্বরে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন করেন ইলেকট্রিক ব্যবসায়ীরা। এ সময় তারা নানা স্লোগান দিতে থাকেন। পরে তারা জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন।

এর আগে সরকারি এ সিদ্ধান্ত কার্যকরের প্রথম দিনই বগুড়া শহরের রানার প্লাজা মার্কেটের ব্যবসায়ী-কর্মচারীরা তাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খোলার দাবিতে মানববন্ধন করেন। বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধনে ব্যবসায়ীরা স্বাস্থ্যবিধি মেনে সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খুলে রাখার দাবি জানান।

বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তারা বলেন, গত বছর লকডাউনের কারণে ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। সেটা পুষিয়ে না উঠতেই আবারও লকডাউন হওয়ায় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান চিরতরে বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। সামনে ঈদ উপলক্ষে সীমিত পরিসরে হলেও মার্কেট খুলে দেয়ার দাবি জানান তারা। অন্যথায় বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন বক্তারা।

সিলেট

সিলেটে স্বাস্থ্যবিধি মেনে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খুলে দেয়ার দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছেন ব্যবসায়ীরা। গতকাল সিলেট নগরীর আদালত চত্বরে মানববন্ধন শেষে মিছিল করেন তারা।

ব্যবসায়ীরা বলেন, ঈদ উপলক্ষে আমাদের বেচাকেনা বেশি হয়। এখনই বেচাকেনা শুরু হওয়ার কথা। গত লকডাউনের ক্ষত এখনও শুকায়নি, আবারও লকডাউনে পড়ে গেলাম। ঈদ উপলক্ষে ব্যাংক থেকে লোন নিয়ে দোকানে মাল উঠিয়েছি। মালগুলো বিক্রি করতে না পারলে বিরাট লোকসানের মুখে পড়ব।

সাভার

সাভারে মার্কেট খুলে দেয়ার দাবিতে ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছে ব্যবসায়ীরা। এ সময় মহাসড়কে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।

গতকাল সাভার বাজার বাসস্ট্যান্ড এলাকায় প্রায় ১ ঘণ্টা মহাসড়ক অবরোধ করে রাখেন ব্যবসায়ীরা। পরে পুলিশ তাদের সড়ক থেকে সরিয়ে দিলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

ব্যবসায়ীরা বলেন, রোজা ও ঈদকে সামনে রেখে আমরা ধার-দেনা করে দোকানে মালামাল উঠিয়েছি। এখন কেনাবেচা না করতে পারলে ঋণ শোধ করতে পারব না। তাই আমরা বাধ্য হয়েই সড়কে নেমেছি।

তারা বলেন, আমাদের দাবি একটি নির্দিষ্ট সময় মার্কেট খুলে দেয়া হোক।

কুমিল্লা

‘অবৈধ লকডাউন মানি না- মানব না, স্বাস্থ্যবিধি মানব, দোকানপাট খুলব’ এই স্লোগানে কুমিল্লায় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খোলা রাখার দাবিতে বিক্ষাভ করেছেন ব্যবসায়ীরা। গতকাল সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত সড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভের পাশাপাশি মানববন্ধনও করেছেন তারা।

সরেজমিনে দেখা যায়, বিভিন্ন শপিংমলের ব্যবসায়ী ও কর্মকারীরা সকাল থেকেই একত্রিত হয়ে সড়ক দখল করে প্রথমে মানববন্ধন করেন। এরপর কয়েক ভাগে বিক্ষাভ মিছিল করে একটি শপিংমলের সামনে গিয়ে সমাবেশ করেন তারা।

কুমিল্লা দোকান মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আতিক উল্লাহ খোকন বলেন, গত বছর লকডাউনে ব্যবসায়ীদের যে পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে তা এখনও কাটেনি। গত কয়েক মাসে ব্যবসায়ীরা একটু উঠে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছিল। তখনই আবার লকডাউন দিয়ে আঘাত করা হয়েছে।

কুমিল্লা জুয়েলারি ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক আরিফ জামান জানান, গত বছর লকডাউনে ব্যবসায়ীরা যে পরিমাণ ক্ষতির শিকার হয়েছেন, তা পূরণ হওয়ার নয়। এখন আবারও লকডাউন দিয়ে ব্যবসায়ীদের নিঃস্ব করে দেয়া হচ্ছে। আমরা স্বাস্থ্যবিধি মেনে ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনা করতে চাই।

এদিকে দুপুরে আন্দোলনরত ব্যবসায়ীদের শান্ত করতে তাদের সঙ্গে কথা বলেন কুমিল্লা সদর আসনের সংসদ সদস্য আ ক ম বাহাউদ্দিন বাহার। এ সময় তিনি আগামী বৃহস্পতিবার পর্যন্ত দোকানপাট বন্ধ রাখার আহ্বান জানান।