রপ্তানি আয়ে সুখবর

করোনা মহামারীর মধ্যে দেশের অর্থনীতিতে স্থবিরতা বিরাজ করলেও রপ্তানি আয়ে সুখবর এসেছে। গত বছরের মার্চ মাসের চেয়ে সদ্য শেষ হওয়া মার্চে রপ্তানি আয় বেড়েছে ১২ শতাংশ। চলতি বছরের মার্চে ৩০৭ কোটি ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়েছে, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১২ দশমিক ৫৯ শতাংশ বেশি। ২০২০ সালের মার্চ মাসেই দেশের রপ্তানি আয়ে প্রথম করোনার ধাক্কা লাগে। ওই মাসে ২৭৩ কোটি ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। সম্প্রতি রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) রপ্তানি আয়ের সর্বশেষ তথ্য প্রকাশ করেছে। হালনাগাদ পরিসংখ্যান থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।

পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ২০২০ সালের মার্চে আগের বছর ২০১৯-এর তুলনায় রপ্তানি কমেছিল ১৮ শতাংশের বেশি। অর্থবছরের প্রথম নয় মাসে (জুলাই-মার্চ) পণ্য রপ্তানি আয়ে বাংলাদেশ আগের একই সময়ের চেয়ে সামান্য পিছিয়ে রয়েছে। এই সময়ে বাংলাদেশ পণ্য রপ্তানি করে ২ হাজার ৮৯৩ কোটি ৮৩ লাখ ৫০ হাজার ডলার আয় করেছে যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় দশমিক ১২ শতাংশ কম।

ইপিবির পরিসংখ্যানে আরও দেখা যায়, পোশাক খাতের নিটপণ্য রপ্তানির ধারাবাহিক উন্নতি রপ্তানি খাতের ঘুরে দাঁড়ানোর ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রাখছে। তবে প্রধান রপ্তানি পণ্য ওভেনপণ্য আগের মতোই নেতিবাচক ধারায় রয়েছে। নয় মাসে ১ হাজার ২৬৫ কোটি ডলারের নিটপণ্য রপ্তানি হয়েছে, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ১ হাজার ১৯৫ কোটি ডলার। এ ক্ষেত্রে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৫ দশমিক ৮৫ শতাংশ। ঠিক ফেব্রুয়ারি মাসেও নিট পণ্যে ৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধি ছিল। একই সময়ে ওভেন পণ্য রপ্তানি হয়েছে ১ হাজার ৮৩ কোটি ডলারের, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১০ দশমিক ৮৩ শতাংশ কম। পোশাক শিল্পের বাইরে পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য বেশ ইতিবাচক ভূমিকা রেখেছে। টাকার অঙ্কে এসব পণ্য রপ্তানির আকার কম হলেও প্রবৃদ্ধিতে বেশ এগিয়ে আছে পাটপণ্য ও হোম টেক্সটাইল। মার্চ মাস শেষে ৯৫ কোটি ডলারের পাট ও পাটজাত পণ্য রপ্তানি করেছে বাংলাদেশ যা আগের বছর একই সময়ে ছিল ৭৭ কোটি টাকা। অর্থাৎ বার্ষিক হিসাবে ২২ শতাংশ এবং লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১০ শতাংশ প্রবৃদ্ধি রয়েছে এই খাতে।

বুধবার, ০৭ এপ্রিল ২০২১ , ২৩ চৈত্র ১৪২৭ ২২ শাবান ১৪৪২

রপ্তানি আয়ে সুখবর

অর্থনৈতিক বার্তা পরিবেশক

করোনা মহামারীর মধ্যে দেশের অর্থনীতিতে স্থবিরতা বিরাজ করলেও রপ্তানি আয়ে সুখবর এসেছে। গত বছরের মার্চ মাসের চেয়ে সদ্য শেষ হওয়া মার্চে রপ্তানি আয় বেড়েছে ১২ শতাংশ। চলতি বছরের মার্চে ৩০৭ কোটি ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়েছে, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১২ দশমিক ৫৯ শতাংশ বেশি। ২০২০ সালের মার্চ মাসেই দেশের রপ্তানি আয়ে প্রথম করোনার ধাক্কা লাগে। ওই মাসে ২৭৩ কোটি ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। সম্প্রতি রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) রপ্তানি আয়ের সর্বশেষ তথ্য প্রকাশ করেছে। হালনাগাদ পরিসংখ্যান থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।

পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ২০২০ সালের মার্চে আগের বছর ২০১৯-এর তুলনায় রপ্তানি কমেছিল ১৮ শতাংশের বেশি। অর্থবছরের প্রথম নয় মাসে (জুলাই-মার্চ) পণ্য রপ্তানি আয়ে বাংলাদেশ আগের একই সময়ের চেয়ে সামান্য পিছিয়ে রয়েছে। এই সময়ে বাংলাদেশ পণ্য রপ্তানি করে ২ হাজার ৮৯৩ কোটি ৮৩ লাখ ৫০ হাজার ডলার আয় করেছে যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় দশমিক ১২ শতাংশ কম।

ইপিবির পরিসংখ্যানে আরও দেখা যায়, পোশাক খাতের নিটপণ্য রপ্তানির ধারাবাহিক উন্নতি রপ্তানি খাতের ঘুরে দাঁড়ানোর ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রাখছে। তবে প্রধান রপ্তানি পণ্য ওভেনপণ্য আগের মতোই নেতিবাচক ধারায় রয়েছে। নয় মাসে ১ হাজার ২৬৫ কোটি ডলারের নিটপণ্য রপ্তানি হয়েছে, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ১ হাজার ১৯৫ কোটি ডলার। এ ক্ষেত্রে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৫ দশমিক ৮৫ শতাংশ। ঠিক ফেব্রুয়ারি মাসেও নিট পণ্যে ৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধি ছিল। একই সময়ে ওভেন পণ্য রপ্তানি হয়েছে ১ হাজার ৮৩ কোটি ডলারের, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১০ দশমিক ৮৩ শতাংশ কম। পোশাক শিল্পের বাইরে পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য বেশ ইতিবাচক ভূমিকা রেখেছে। টাকার অঙ্কে এসব পণ্য রপ্তানির আকার কম হলেও প্রবৃদ্ধিতে বেশ এগিয়ে আছে পাটপণ্য ও হোম টেক্সটাইল। মার্চ মাস শেষে ৯৫ কোটি ডলারের পাট ও পাটজাত পণ্য রপ্তানি করেছে বাংলাদেশ যা আগের বছর একই সময়ে ছিল ৭৭ কোটি টাকা। অর্থাৎ বার্ষিক হিসাবে ২২ শতাংশ এবং লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১০ শতাংশ প্রবৃদ্ধি রয়েছে এই খাতে।