পুলিশের সব স্থাপনায় নিরাপত্তা জোরদার

বাংকার স্থাপনসহ অত্যাধুনিক অস্ত্রসজ্জিত সতর্ক পাহারা

সারাদেশে ৬ শতাধিক থানাসহ পুলিশের সব স্থাপনায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। কোন কোন থানায় বালুর বস্তা দিয়ে বাংকারও স্থাপন করে মাঝখানে পুলিশ সদস্য সাব-মেশিনগানসহ অত্যাধুনিক আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে নিরাপত্তা জোরদার করেছে। এছাড়া পুলিশ ফাঁড়িতেও অত্যাধুনিক অস্ত্র নিয়ে পুলিশ সদস্যরা সতর্ক পাহারা দিচ্ছেন। রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোতে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে বাড়তি সতর্কতা। গুলশান, বারিধারা এলাকার মতো স্পর্শকাতর স্থানগুলোতে পুলিশের চেকপোস্ট ও মোবাইল টিম কাজ করছে। পুলিশের একাধিক ঊর্ধ্বতন সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

পুলিশের কয়েক কর্মকর্তা বলেন, আন্দোলনের নামে হেফাজতে ইসলামসহ কয়েকটি সংগঠন সম্প্রতি ব্রাহ্মণবাড়িয়া, চট্টগ্রাম ও নারায়ণগঞ্জসহ থানায় ও জেলা এসপির অফিস, বিভিন্ন সরকারি স্থাপনা ভাঙচুর করে। পুলিশ এসব রাষ্ট্রীয় সম্পদের নিরাপত্তা দিতে গিয়ে অতর্কিত হামলা শিকার হয়। এছাড়া স্থাপনা ও যানবাহনে আগুন দেয়ার ঘটনা ঘটেছে। এসব কারণে সম্প্রতি পুলিশ সদর দপ্তর থেকে নির্দেশনা পেয়ে মেট্রোপলিটন ও বিভাগীয় পুলিশ কার্যালয় থেকে নিজ নিজ এলাকার থানার নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে।

সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানান, সিলেট মেট্রোপলিটনে ৬টি থানা ও ৮টি ফাঁড়ির নিরাপত্তায় থানা ও ফাঁড়ির সামনে বালুর বস্তা দিয়ে বাংকার স্থাপন করা হয়েছে। বাংকারের মাঝখানে পুলিশ সদস্য সাব-মেশিনগান ও লাইট মেশিনগান স্থাপন করে সতর্ক অবস্থায় দায়িত্ব পালন করছেন। গত দুই থেকে তিন দিন ধরে এ নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে।

পুলিশের এক কর্মকর্তা বলেন, অস্ত্রগারে সাব-মেশিনগান পড়ে থাকবে আর পুলিশি স্থাপনা ও পুলিশের উপর উগ্রবাদীরা হামলা চালাবে এটা চলতে পারে না। গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা, সিলেটবাসীর নিরাপত্তায় পুলিশ সতর্ক রয়েছে। এখন আঘাত করে কেউ পার পেয়ে যাবে না। পুলিশ সদর দপ্তর থেকে ভার্চুয়াল মিটিংয়ে এমন নির্দেশনা রয়েছে।

সিলেটের পুলিশ কমিশনার নিশারুল আরিফ মুঠোফোনে নিরাপত্তা জোরদার করার বিষয় নিশ্চিত করেছেন। উগ্রবাদ, জঙ্গিবাদের হামলা থেকে রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা রক্ষায় পুলিশ প্রস্তুত রয়েছে।

পুলিশের চট্টগ্রাম বিভাগের ডিআইজি আনোয়ার হোসেন জানান, চট্টগ্রাম বিভাগের ১১টি জেলায় ১০৮টি থানা আছে। এছাড়াও অনেক ফাঁড়ি রয়েছে। এসব স্থাপনায় বাড়তি ফোর্স মোতায়েন করা হয়েছে। অত্যাধুনিক আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে পুলিশ টহল দিচ্ছে। পুলিশের উপর হামলা ঠেকাতে সব প্রস্তুতি আছে। অপরাধীরা যেই হোক কাউকে ছাড় দেয়া হবে না। পুলিশ সতর্ক আছে। হাটহাজারী থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া, নোয়াখালীসহ বিভাগের প্রতিটি থানায় অত্যাধুনিক অস্ত্র নিয়ে পুলিশ ডিউটি রয়েছে।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) এক কর্মকর্তা বলেন, উগ্রবাদের তা-বের পর ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের সব থানা ফাঁড়িতে পুলিশ সতর্কতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছে। আর গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।

ডিএমপির গুলশান বিভাগের ডিসি জানান, গুলশান ও বারিধারাসহ আশপাশ এলাকায় মোবাইল প্যাট্রোল, চেকপোস্ট, কনভয় প্যাট্রোলের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। স্পর্শকাতর স্থানগুলোতে আন্তঃবাহিনী সমন্বয় করে নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে। গত কয়েকদিন ধরে এ পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। বাড়ানো হয়েছে গোয়েন্দা কার্যক্রমও।

র‌্যাব হেডকোয়াটার্সের এক কর্মকর্তা বলেন, র‌্যাবের সব টিম সতর্ক অবস্থানে আছে। জঙ্গিবাদসহ অপরাধ দমনে র‌্যাব কাজ করে যাচ্ছে।

শুক্রবার, ০৯ এপ্রিল ২০২১ , ২৫ চৈত্র ১৪২৭ ২৪ শাবান ১৪৪২

পুলিশের সব স্থাপনায় নিরাপত্তা জোরদার

বাংকার স্থাপনসহ অত্যাধুনিক অস্ত্রসজ্জিত সতর্ক পাহারা

বাকী বিল্লাহ

image

সিলেট : নিরাপত্তায় নিয়োজিত পুলিশ  -ইদ্রিস আলী

সারাদেশে ৬ শতাধিক থানাসহ পুলিশের সব স্থাপনায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। কোন কোন থানায় বালুর বস্তা দিয়ে বাংকারও স্থাপন করে মাঝখানে পুলিশ সদস্য সাব-মেশিনগানসহ অত্যাধুনিক আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে নিরাপত্তা জোরদার করেছে। এছাড়া পুলিশ ফাঁড়িতেও অত্যাধুনিক অস্ত্র নিয়ে পুলিশ সদস্যরা সতর্ক পাহারা দিচ্ছেন। রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোতে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে বাড়তি সতর্কতা। গুলশান, বারিধারা এলাকার মতো স্পর্শকাতর স্থানগুলোতে পুলিশের চেকপোস্ট ও মোবাইল টিম কাজ করছে। পুলিশের একাধিক ঊর্ধ্বতন সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

পুলিশের কয়েক কর্মকর্তা বলেন, আন্দোলনের নামে হেফাজতে ইসলামসহ কয়েকটি সংগঠন সম্প্রতি ব্রাহ্মণবাড়িয়া, চট্টগ্রাম ও নারায়ণগঞ্জসহ থানায় ও জেলা এসপির অফিস, বিভিন্ন সরকারি স্থাপনা ভাঙচুর করে। পুলিশ এসব রাষ্ট্রীয় সম্পদের নিরাপত্তা দিতে গিয়ে অতর্কিত হামলা শিকার হয়। এছাড়া স্থাপনা ও যানবাহনে আগুন দেয়ার ঘটনা ঘটেছে। এসব কারণে সম্প্রতি পুলিশ সদর দপ্তর থেকে নির্দেশনা পেয়ে মেট্রোপলিটন ও বিভাগীয় পুলিশ কার্যালয় থেকে নিজ নিজ এলাকার থানার নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে।

সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানান, সিলেট মেট্রোপলিটনে ৬টি থানা ও ৮টি ফাঁড়ির নিরাপত্তায় থানা ও ফাঁড়ির সামনে বালুর বস্তা দিয়ে বাংকার স্থাপন করা হয়েছে। বাংকারের মাঝখানে পুলিশ সদস্য সাব-মেশিনগান ও লাইট মেশিনগান স্থাপন করে সতর্ক অবস্থায় দায়িত্ব পালন করছেন। গত দুই থেকে তিন দিন ধরে এ নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে।

পুলিশের এক কর্মকর্তা বলেন, অস্ত্রগারে সাব-মেশিনগান পড়ে থাকবে আর পুলিশি স্থাপনা ও পুলিশের উপর উগ্রবাদীরা হামলা চালাবে এটা চলতে পারে না। গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা, সিলেটবাসীর নিরাপত্তায় পুলিশ সতর্ক রয়েছে। এখন আঘাত করে কেউ পার পেয়ে যাবে না। পুলিশ সদর দপ্তর থেকে ভার্চুয়াল মিটিংয়ে এমন নির্দেশনা রয়েছে।

সিলেটের পুলিশ কমিশনার নিশারুল আরিফ মুঠোফোনে নিরাপত্তা জোরদার করার বিষয় নিশ্চিত করেছেন। উগ্রবাদ, জঙ্গিবাদের হামলা থেকে রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা রক্ষায় পুলিশ প্রস্তুত রয়েছে।

পুলিশের চট্টগ্রাম বিভাগের ডিআইজি আনোয়ার হোসেন জানান, চট্টগ্রাম বিভাগের ১১টি জেলায় ১০৮টি থানা আছে। এছাড়াও অনেক ফাঁড়ি রয়েছে। এসব স্থাপনায় বাড়তি ফোর্স মোতায়েন করা হয়েছে। অত্যাধুনিক আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে পুলিশ টহল দিচ্ছে। পুলিশের উপর হামলা ঠেকাতে সব প্রস্তুতি আছে। অপরাধীরা যেই হোক কাউকে ছাড় দেয়া হবে না। পুলিশ সতর্ক আছে। হাটহাজারী থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া, নোয়াখালীসহ বিভাগের প্রতিটি থানায় অত্যাধুনিক অস্ত্র নিয়ে পুলিশ ডিউটি রয়েছে।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) এক কর্মকর্তা বলেন, উগ্রবাদের তা-বের পর ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের সব থানা ফাঁড়িতে পুলিশ সতর্কতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছে। আর গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।

ডিএমপির গুলশান বিভাগের ডিসি জানান, গুলশান ও বারিধারাসহ আশপাশ এলাকায় মোবাইল প্যাট্রোল, চেকপোস্ট, কনভয় প্যাট্রোলের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। স্পর্শকাতর স্থানগুলোতে আন্তঃবাহিনী সমন্বয় করে নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে। গত কয়েকদিন ধরে এ পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। বাড়ানো হয়েছে গোয়েন্দা কার্যক্রমও।

র‌্যাব হেডকোয়াটার্সের এক কর্মকর্তা বলেন, র‌্যাবের সব টিম সতর্ক অবস্থানে আছে। জঙ্গিবাদসহ অপরাধ দমনে র‌্যাব কাজ করে যাচ্ছে।