খুলেছে মার্কেট দোকানপাট মানছে না কেউ স্বাস্থ্যবিধি

করোনাভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে সরকার ঘোষিত কঠোর বিধিনিষেধের পঞ্চম দিনে শপিংমল ও দোকানপাট খুলে দেয়া হয়েছে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে সব মার্কেটের দোকানপাট খোলার কথা থাকলেও তা মানছেন না অনেকেই।

এদিকে নতুন করে আবার লকডাউনের বিরোধিতা করছেন দোকান ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা। তারা মনে করেন, ১৪ এপ্রিল আবার লকডাউন দেয়া হলে তাদের কোন বেচাকেনা হবে না। দোকানে বিপুল পরিমাণ মালামাল তুলে তা বিক্রি করতে না পারলে তাদের পথে বসতে হবে।

গত ৫ এপ্রিল থেকে আগামী ১১ এপ্রিল পর্যন্ত সারাদেশে লকডাউন ঘোষণা করা হলে বিভিন্ন স্থানে দোকান মালিকরা আন্দোলন শুরু করেন। তারা সেøাগান দেন, ‘স্বাস্থ্যবিধি মানব, দোকানপাট খুলব।’ পরে সরকার শর্তসাপেক্ষে ৯ এপ্রিল থেকে ১৩ এপ্রিল পর্যন্ত দোকানপাট ও শপিংমল খুলে দেয়ার সিদ্ধান্তের কথা জানায়।

গতকাল সকাল ১০টায় রাজধানীর মিরপুরের একাধিক শপিংমল ঘুরে দেখা গেছে, প্রবেশপথে নিরাপত্তারক্ষীরা হাতে স্যাভলন মিশ্রিত পানি ছিটাচ্ছেন। দোকানগুলোতে নেই সামাজিক দূরত্ব। অধিকাংশ ক্রেতা-বিক্রেতার মুখে মাস্ক থাকলেও, সেটা অনেকের থুতনির নিচে স্থান পেয়েছে। শর্তসাপেক্ষে মার্কেট খোলার অনুমতি দেয়ার জন্য সবাই সরকারের প্রতি ধন্যবাদ এবং কৃতজ্ঞতা জানিয়েছে। দোকান মালিকরা বলছেন, ক্রেতা-বিক্রেতা সঠিকভাবে স্বাস্থ্যবিধি মানলে মার্কেট থেকে করোনাভাইরাস ছড়ানোর আশঙ্কা কম।

গত ৫ এপ্রিল ৭ দিনব্যাপী লকডাউন ঘোষণার পর স্বাস্থ্যবিধি প্রতিপালন না করা হলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়। তবে গতকাল মার্কেট ঘুরে দেখা গেছে, ও হাতেগোনা কয়েকটি মার্কেটে হাতে ছিটিয়ে দেয়া হচ্ছে স্যাভলন মিশ্রিত পানি। অন্যান্য স্বাস্থ্যবিধি মানা না মানা নিয়ে কারও মাথাব্যথা নেই।

জানতে চাইলে শাহ আলীর মার্কেটের ব্যবসায়ী কামাল আহমেদ জানান, ৫ দিন পর দোকান খুলেছি। আমরা মাস্ক ছাড়া কাউকে দোকানে ঢুকতে দিচ্ছি না। সামাজিক দূরত্বের বিষয়ে তিনি জানান, একসঙ্গে অনেক কাস্টমার ঢুকে পড়ে। আমরা তাড়াতাড়ি বিদায় করার চেষ্টা করি।

গত বছর করোনাভাইরাস সংক্রমণের সময় ১০ নম্বরের শাহ আলী মার্কেটসহ একাধিক স্থানে অস্থায়ী হাত ধোয়ার বেসিন বসানো হয়েছিল। সেগুলো কোথায় গেছে জানে না কেউ। মিরপুর ২ নম্বরে বাচ্চাদের জামা-কাপড় বিক্রি করেন মো. জুয়েল। তিনি বলেন, মার্কেটগুলোর সামনে গত ঈদের আগে এসব বেসিন ছিল। ঈদের পর ব্যবহার হয় না দেখে এইগুলো নিয়ে গেছে। এখন একটাও নেই। এদিকে মিরপুর ১০ থেকে ২ নম্বর পর্যন্ত ফুটপাতে ব্যবসায়ীরা বসেছেন। তবে মাস্ক ছাড়া কেউই আর কোন স্বাস্থ্যবিধি মানছে না। ফুটপাতের দোকানদার শরিফ আহমেদ জানান, দোকান খুলছি ঠিক আছে, তবে বিক্রি তো হয় নাই। আমাদের তো দিনে এনে দিন খাওয়ার অবস্থা। একদিন বিক্রি না হলে ফ্যামিলি নিয়ে চলতে কষ্ট হয়। ফুটপাত ঘুরে দেখা গেছে, মাস্ক পরা নিয়ে ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়েরই সমান অনাগ্রহ। এজন্য তাদের কাছে আছে গরম লাগা, কথা বলতে না পরাসহ নানা অজুহাত।

মিরপুর ২ নম্বরে এক ক্রেতাকে মাস্ক না পরার কারণ জানতে চাইলে, তিনি বলেন ‘মাস্ক পরি নাই তো কী হইছে?’ গত একদিনে ৭৪ জন করোনাভাইরাসে মারা গেছেন জানালে তিনি বলেন, ‘মরে যাওয়া ভালো তো!’

দোকান-মার্কেটে স্বাস্থ্যঝুকি মানা হচ্ছে কিনা তা তদারকি করতে দোকান মালিক সমিতি, পুলিশ কিংবা ম্যাজিস্ট্রেট কারও উপস্থিতি চোখে পড়েনি। এদিকে করোনাভাইরাস সংক্রমণের ভয়াবহতা উপলব্ধি করতে পারছেন অনেক ব্যবসায়ী। তাই তারা নিয়েছেন পর্যাপ্ত স্বাস্থ্য সুরক্ষা। এমনই একজন মিরপুর ২-এর জুতার ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম। তিনি জানান, দোকানের বাইরে রশি টানিয়ে দিয়েছি। বাইরে থেকে বেচাকেনা করছি। কাউকে দোকানের ভেতরে ঢুকতে দিচ্ছি না। মাস্ক ছাড়া কারও কাছে পণ্য বিক্রি করছি না। তিনি বলেন, যারা সামনে থেকে করোনা রোগী দেখেছে বা আত্মীয়-স্বজনকে অসুস্থ হতে দেখেছে, একমাত্র তারাই জানে করোনা কতটা ভয়াবহ। ম্যাজিস্ট্রেট আসলে জরিমানা করলে অন্য ব্যবসায়ীরা বাধ্য হয়ে স্বাস্থ্যবিধি মানবে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে দোকান চালানো সম্ভব। প্রথমদিকেই যদি কার্যকর লকডাউন দিত তাহলে পরিস্থিতি এমন হতো না। আসছে ঈদ মৌসুমে আশানুরূপ বেচাকেনা করতে পারলে গত বছরের লোকসান কিছুটা পুষিয়ে নিতে পারবেন বলে আশা ব্যবসায়ীদের।

এদিকে বিভিন্ন মার্কেট ঘুরে ব্যসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কোন ব্যবসায়ীই আর লকডাউন চান না। ঈদের বাজারে লকডাউন দেয়া হলে তাদের ব্যবসা একেবারেই লাটে উঠবে বলে তারা আশঙ্কা করছেন।

মালিবাগের মৌচাক মার্কেটের কর্মচারীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এবার লকডাউনে তাদের যে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তা এবার আরও বেশি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। গতবার লকডাউন চলা অবস্থায় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় আয়ের কোন পথ না পেয়ে নিজেদের সঞ্চিত যা ছিল তা দিয়ে তারা কোনরকম দিন পার করেছিল। লকডাউন শেষে আরাব তারা নতুন ভাবনা নিয়ে কাজ শুরু করেন। কম পরিসরে হলেও তারা স্বাভাবিক করার চেষ্টা করছেন। আবার লকডাউন হলে তাদের বাচার উপায় থাকবে না বলেই তারা মনে করেন।

মালিবাগের মৌচাক মার্কেটের উজ্জল অ্যাম্পোরিয়াম শাড়ির দোকানের কর্মচারী আলোক সাহা জানান, গত বছরের লকডাউনে তারা পুরোপুরি নিঃস্ব হয়ে যায়। তারা কোনরকম সরকারি সহযোগিতা পাননি। মধ্যবিত্ত পরিবার হওয়ায় তারা কারও কাছে সাহায্য চাইতেও পারেননি। করোনার সংক্রমণ কিছুটা কমে যাওয়ায় তারা কিছুটা স্বস্তি পেয়েছিল। পহেলা বৈশাখ ও ঈদকে সামনে রেখে তারা পুনরায় তাদের দোকান সাজিয়েছে রকমারি শাড়িতে। তাদের আশা ছিল, এবার কিছু লাভ করতে পারবে। কিন্তু আবারও করোনা পরিস্থিতি খারাপের দিকে। বেচাবিক্রি শূন্য বললেই চলে। এবার যদি আগের মতো লকডাউন দীর্ঘ হয়, তাহলে এবার না খেয়ে মরতে হবে বলে জানান তারা।

আফিয়া কালেকশন হলো একটি কসমেটিকসের দোকান। এই দোকানের কর্মচারী সাইফুল ইসলাম জানান, সারাদিনে কোন বিক্রি হয়নি। সামনে ঈদ তাই তারা ২ লাখ টাকার মতো মালপত্র দোকানে তুলেছেন। কিন্তু এই জিনিসগুলো বিক্রি করতে পারবেন কিনা, তা নিয়ে বড় আশঙ্কায় রয়েছেন। বেচাবিক্রি না হলে তারা তাদের পারিশ্রমিকও হয়ত পাবে না। পরিস্থিতি ঠিক না হলে পরিবার নিয়ে গ্রামে ফিরে যেতে হবে, কিন্তু সেখানে গেলেও যে কিছু করবে সে উপায় নেই। যে ঋণ নিয়ে তারা মালামাল তুলেছে বেচাবিক্রি না হলে তা কিভাবে পরিশোধ করবে তা নিয়েও তাদের হতাশা। এজন্য তারা আর লকডউন চাননা।

নিউ কেন্টাকি র‌্যাক্সিন হাউজের কর্মচারী নুর আলম জানান, এসব জিনিসের চাহিদা সব সময় খুব বেশি না থাকলেও ঈদের সময়টাতে বেশ বেচাবিক্রি হয়। লকডাউনের কারণে ব্যবসার পরিস্থিতি অনেক খারাপ। লকডাউন খোলার পর তেমন কোন বেচাবিক্রি নেই। তিনি এও বলেন, পাবলিকের কাছে পয়সা না থাকলে তারা আর কি কিনবে। দোকান সচল রাখতে তারা তাদের মালপত্রের পাশাপাশি অন্য সামগ্রীও দোকানে তুলেছেন। কিন্তু তাতে ও কোন লাভ হচ্ছে না। আবারও যদি লকডাউন শুরু হয় এ আশঙ্কায় তারা ঈদ উপলক্ষে নতুন মালামাল তোলার সাহস করতে পারছে না।

শনিবার, ১০ এপ্রিল ২০২১ , ২৬ চৈত্র ১৪২৭ ২৫ শাবান ১৪৪২

খুলেছে মার্কেট দোকানপাট মানছে না কেউ স্বাস্থ্যবিধি

নিজস্ব বার্তা পরিবেশক

image

স্বাস্থ্যবিধি লংঘন করে গতকাল নিউ মার্কেট এলাকায় উপচেপড়া ভিড়, ওভারব্রিজের উপরে ক্রেতাদের চাপ -সংবাদ

করোনাভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে সরকার ঘোষিত কঠোর বিধিনিষেধের পঞ্চম দিনে শপিংমল ও দোকানপাট খুলে দেয়া হয়েছে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে সব মার্কেটের দোকানপাট খোলার কথা থাকলেও তা মানছেন না অনেকেই।

এদিকে নতুন করে আবার লকডাউনের বিরোধিতা করছেন দোকান ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা। তারা মনে করেন, ১৪ এপ্রিল আবার লকডাউন দেয়া হলে তাদের কোন বেচাকেনা হবে না। দোকানে বিপুল পরিমাণ মালামাল তুলে তা বিক্রি করতে না পারলে তাদের পথে বসতে হবে।

গত ৫ এপ্রিল থেকে আগামী ১১ এপ্রিল পর্যন্ত সারাদেশে লকডাউন ঘোষণা করা হলে বিভিন্ন স্থানে দোকান মালিকরা আন্দোলন শুরু করেন। তারা সেøাগান দেন, ‘স্বাস্থ্যবিধি মানব, দোকানপাট খুলব।’ পরে সরকার শর্তসাপেক্ষে ৯ এপ্রিল থেকে ১৩ এপ্রিল পর্যন্ত দোকানপাট ও শপিংমল খুলে দেয়ার সিদ্ধান্তের কথা জানায়।

গতকাল সকাল ১০টায় রাজধানীর মিরপুরের একাধিক শপিংমল ঘুরে দেখা গেছে, প্রবেশপথে নিরাপত্তারক্ষীরা হাতে স্যাভলন মিশ্রিত পানি ছিটাচ্ছেন। দোকানগুলোতে নেই সামাজিক দূরত্ব। অধিকাংশ ক্রেতা-বিক্রেতার মুখে মাস্ক থাকলেও, সেটা অনেকের থুতনির নিচে স্থান পেয়েছে। শর্তসাপেক্ষে মার্কেট খোলার অনুমতি দেয়ার জন্য সবাই সরকারের প্রতি ধন্যবাদ এবং কৃতজ্ঞতা জানিয়েছে। দোকান মালিকরা বলছেন, ক্রেতা-বিক্রেতা সঠিকভাবে স্বাস্থ্যবিধি মানলে মার্কেট থেকে করোনাভাইরাস ছড়ানোর আশঙ্কা কম।

গত ৫ এপ্রিল ৭ দিনব্যাপী লকডাউন ঘোষণার পর স্বাস্থ্যবিধি প্রতিপালন না করা হলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়। তবে গতকাল মার্কেট ঘুরে দেখা গেছে, ও হাতেগোনা কয়েকটি মার্কেটে হাতে ছিটিয়ে দেয়া হচ্ছে স্যাভলন মিশ্রিত পানি। অন্যান্য স্বাস্থ্যবিধি মানা না মানা নিয়ে কারও মাথাব্যথা নেই।

জানতে চাইলে শাহ আলীর মার্কেটের ব্যবসায়ী কামাল আহমেদ জানান, ৫ দিন পর দোকান খুলেছি। আমরা মাস্ক ছাড়া কাউকে দোকানে ঢুকতে দিচ্ছি না। সামাজিক দূরত্বের বিষয়ে তিনি জানান, একসঙ্গে অনেক কাস্টমার ঢুকে পড়ে। আমরা তাড়াতাড়ি বিদায় করার চেষ্টা করি।

গত বছর করোনাভাইরাস সংক্রমণের সময় ১০ নম্বরের শাহ আলী মার্কেটসহ একাধিক স্থানে অস্থায়ী হাত ধোয়ার বেসিন বসানো হয়েছিল। সেগুলো কোথায় গেছে জানে না কেউ। মিরপুর ২ নম্বরে বাচ্চাদের জামা-কাপড় বিক্রি করেন মো. জুয়েল। তিনি বলেন, মার্কেটগুলোর সামনে গত ঈদের আগে এসব বেসিন ছিল। ঈদের পর ব্যবহার হয় না দেখে এইগুলো নিয়ে গেছে। এখন একটাও নেই। এদিকে মিরপুর ১০ থেকে ২ নম্বর পর্যন্ত ফুটপাতে ব্যবসায়ীরা বসেছেন। তবে মাস্ক ছাড়া কেউই আর কোন স্বাস্থ্যবিধি মানছে না। ফুটপাতের দোকানদার শরিফ আহমেদ জানান, দোকান খুলছি ঠিক আছে, তবে বিক্রি তো হয় নাই। আমাদের তো দিনে এনে দিন খাওয়ার অবস্থা। একদিন বিক্রি না হলে ফ্যামিলি নিয়ে চলতে কষ্ট হয়। ফুটপাত ঘুরে দেখা গেছে, মাস্ক পরা নিয়ে ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়েরই সমান অনাগ্রহ। এজন্য তাদের কাছে আছে গরম লাগা, কথা বলতে না পরাসহ নানা অজুহাত।

মিরপুর ২ নম্বরে এক ক্রেতাকে মাস্ক না পরার কারণ জানতে চাইলে, তিনি বলেন ‘মাস্ক পরি নাই তো কী হইছে?’ গত একদিনে ৭৪ জন করোনাভাইরাসে মারা গেছেন জানালে তিনি বলেন, ‘মরে যাওয়া ভালো তো!’

দোকান-মার্কেটে স্বাস্থ্যঝুকি মানা হচ্ছে কিনা তা তদারকি করতে দোকান মালিক সমিতি, পুলিশ কিংবা ম্যাজিস্ট্রেট কারও উপস্থিতি চোখে পড়েনি। এদিকে করোনাভাইরাস সংক্রমণের ভয়াবহতা উপলব্ধি করতে পারছেন অনেক ব্যবসায়ী। তাই তারা নিয়েছেন পর্যাপ্ত স্বাস্থ্য সুরক্ষা। এমনই একজন মিরপুর ২-এর জুতার ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম। তিনি জানান, দোকানের বাইরে রশি টানিয়ে দিয়েছি। বাইরে থেকে বেচাকেনা করছি। কাউকে দোকানের ভেতরে ঢুকতে দিচ্ছি না। মাস্ক ছাড়া কারও কাছে পণ্য বিক্রি করছি না। তিনি বলেন, যারা সামনে থেকে করোনা রোগী দেখেছে বা আত্মীয়-স্বজনকে অসুস্থ হতে দেখেছে, একমাত্র তারাই জানে করোনা কতটা ভয়াবহ। ম্যাজিস্ট্রেট আসলে জরিমানা করলে অন্য ব্যবসায়ীরা বাধ্য হয়ে স্বাস্থ্যবিধি মানবে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে দোকান চালানো সম্ভব। প্রথমদিকেই যদি কার্যকর লকডাউন দিত তাহলে পরিস্থিতি এমন হতো না। আসছে ঈদ মৌসুমে আশানুরূপ বেচাকেনা করতে পারলে গত বছরের লোকসান কিছুটা পুষিয়ে নিতে পারবেন বলে আশা ব্যবসায়ীদের।

এদিকে বিভিন্ন মার্কেট ঘুরে ব্যসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কোন ব্যবসায়ীই আর লকডাউন চান না। ঈদের বাজারে লকডাউন দেয়া হলে তাদের ব্যবসা একেবারেই লাটে উঠবে বলে তারা আশঙ্কা করছেন।

মালিবাগের মৌচাক মার্কেটের কর্মচারীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এবার লকডাউনে তাদের যে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তা এবার আরও বেশি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। গতবার লকডাউন চলা অবস্থায় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় আয়ের কোন পথ না পেয়ে নিজেদের সঞ্চিত যা ছিল তা দিয়ে তারা কোনরকম দিন পার করেছিল। লকডাউন শেষে আরাব তারা নতুন ভাবনা নিয়ে কাজ শুরু করেন। কম পরিসরে হলেও তারা স্বাভাবিক করার চেষ্টা করছেন। আবার লকডাউন হলে তাদের বাচার উপায় থাকবে না বলেই তারা মনে করেন।

মালিবাগের মৌচাক মার্কেটের উজ্জল অ্যাম্পোরিয়াম শাড়ির দোকানের কর্মচারী আলোক সাহা জানান, গত বছরের লকডাউনে তারা পুরোপুরি নিঃস্ব হয়ে যায়। তারা কোনরকম সরকারি সহযোগিতা পাননি। মধ্যবিত্ত পরিবার হওয়ায় তারা কারও কাছে সাহায্য চাইতেও পারেননি। করোনার সংক্রমণ কিছুটা কমে যাওয়ায় তারা কিছুটা স্বস্তি পেয়েছিল। পহেলা বৈশাখ ও ঈদকে সামনে রেখে তারা পুনরায় তাদের দোকান সাজিয়েছে রকমারি শাড়িতে। তাদের আশা ছিল, এবার কিছু লাভ করতে পারবে। কিন্তু আবারও করোনা পরিস্থিতি খারাপের দিকে। বেচাবিক্রি শূন্য বললেই চলে। এবার যদি আগের মতো লকডাউন দীর্ঘ হয়, তাহলে এবার না খেয়ে মরতে হবে বলে জানান তারা।

আফিয়া কালেকশন হলো একটি কসমেটিকসের দোকান। এই দোকানের কর্মচারী সাইফুল ইসলাম জানান, সারাদিনে কোন বিক্রি হয়নি। সামনে ঈদ তাই তারা ২ লাখ টাকার মতো মালপত্র দোকানে তুলেছেন। কিন্তু এই জিনিসগুলো বিক্রি করতে পারবেন কিনা, তা নিয়ে বড় আশঙ্কায় রয়েছেন। বেচাবিক্রি না হলে তারা তাদের পারিশ্রমিকও হয়ত পাবে না। পরিস্থিতি ঠিক না হলে পরিবার নিয়ে গ্রামে ফিরে যেতে হবে, কিন্তু সেখানে গেলেও যে কিছু করবে সে উপায় নেই। যে ঋণ নিয়ে তারা মালামাল তুলেছে বেচাবিক্রি না হলে তা কিভাবে পরিশোধ করবে তা নিয়েও তাদের হতাশা। এজন্য তারা আর লকডউন চাননা।

নিউ কেন্টাকি র‌্যাক্সিন হাউজের কর্মচারী নুর আলম জানান, এসব জিনিসের চাহিদা সব সময় খুব বেশি না থাকলেও ঈদের সময়টাতে বেশ বেচাবিক্রি হয়। লকডাউনের কারণে ব্যবসার পরিস্থিতি অনেক খারাপ। লকডাউন খোলার পর তেমন কোন বেচাবিক্রি নেই। তিনি এও বলেন, পাবলিকের কাছে পয়সা না থাকলে তারা আর কি কিনবে। দোকান সচল রাখতে তারা তাদের মালপত্রের পাশাপাশি অন্য সামগ্রীও দোকানে তুলেছেন। কিন্তু তাতে ও কোন লাভ হচ্ছে না। আবারও যদি লকডাউন শুরু হয় এ আশঙ্কায় তারা ঈদ উপলক্ষে নতুন মালামাল তোলার সাহস করতে পারছে না।