অপহরণের পর মুক্তিপণ, চার র‌্যাব সদস্যকে ধরল পুলিশ

রাজধানীর হাতিরঝিল থানার এক ব্যক্তিকে অপহরণ করে মুক্তিপণ দাবি করার অভিযোগে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‌্যাব) চার সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে হাতিরঝিল থানা পুলিশ। গতকাল সকালে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। ঘটনায় জড়িত আরও দুইজন পলাতক রয়েছে। ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার মোহা. শফিকুল ইসলাম জানান, অপহরণ করে মুক্তিপণ নেয়ার সুনির্দিষ্ট অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত চারজনের মধ্যে তিনজন সেনাবাহিনীর ও একজন বিমানবাহিনীর সদস্য। এক ব্যক্তিকে অপহরণ করে টাকা আদায়ের অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে থানায় নিয়মিত মামলা হয়েছে। তবে চারজনকেই তাদের নিজ নিজ বাহিনীর হাতে তুলে দেয়া হয়েছে। এদের বিচার নিজ নিজ বাহিনীর আইনকানুন অনুযায়ী হবে।

হাতিরঝিল থানা পুলিশ জানিয়েছে, এই ঘটনায় জড়িত আরও দুইজন পলাতক আছে। তাদের মধ্যে একজন বিজিবির সদস্য ও একজন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী কোন বাহিনীর সদস্য নন। তিনি সাধারণ মানুষ। তবে এই চারজনকে কোথা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তাদের নাম কী তা জানায়নি থানা পুলিশ। এ ঘটনায় ভিকটিম তামজিদ হোসেনের ভাই রাইয়ানা হোসেন বাদী হয়ে গতকাল হাতিরঝিল থানায় মামলা করেছেন। মামলা নং ২২। এজহারে বাদী রাইয়ানা হোসেন উল্লেখ করেন, তার বড় ভাই তামজিদ হোসেন গত বৃহস্পতিবার সকাল ৯টার দিকে হাতিরঝিল থানার মীরেরবাগের এপি-১/২ নম্বর বাসা থেকে উত্তরার উদ্দেশে বের হন। দুপুর ১২টার দিকে অজ্ঞাতনামা এক ব্যক্তি তার মোবাইলে ফোন করে নিজেকে র‌্যাবের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে বলে, আপনার (আমার) বড় ভাই র‌্যাব হেফাজতে আছে। আপনি থানা পুলিশ বা ডিবি পুলিশকে জানাবেন না। যদি জানান, তাহলে আপনার বড় ভাইকে প্রাণে মেরে ফেলা হবে।

পরে একাধিকবার ওই ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হই। দুপুর ১টার দিকে ওই ব্যক্তি আবারও ফোন করে জানায়, আমার বড় ভাইকে র‌্যাব অফিসে সিনিয়র অফিসাররা জিজ্ঞাসাবাদ করছে। তার নামে অস্ত্র ও মাদক মামলা হবে। আমার বড় ভাই র‌্যাবের কোন অফিসে, সিনিয়র কোন অফিসার জিজ্ঞাসাবাদ করছে জানতে চাইলে ওই ব্যক্তি জানায়, আপনার বড় ভাই র‌্যাবের কোন অফিসে আছে তা বলা যাবে না। তাকে ক্রসফায়ারে দেয়া হতে পারে। যদি আপনার ভাইকে বাঁচাতে চান, দুই কোটি টাকা রেডি করেন। এর কিছুক্ষণ পর র‌্যাবের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা পরিচয়দানকারী ওই ব্যক্তি আমার ভাইকে মারধরের শব্দ শোনান এবং আমার ভাইকে মোবাইল ফোন দিলে সে কাঁদতে কাঁদতে জানায়, তাকে চোখ বেঁধে গাড়িতে তুলে বেধড়ক মারধর করছে।

আমার ভাই কাঁদতে কাঁদতে বাঁচার আকুতি জানাতে থাকে। পরবর্তীতে ওই নম্বর থেকে অজ্ঞাত আরও ২-৩ জন ফোন করে টাকা জোগাড় হয়েছে কিনা জানতে চায়। আমি তাদের বলি, আমরা গরিব মানুষ। এত টাকা কোথায় পাব? একপর্যায়ে তারা ১৫ লাখ টাকা দাবি করে। আমাদের কাছে কোন টাকা নাই জানালে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা পরিচয়দানকারী ওই ব্যক্তি নগদ ১২ লাখ টাকা নিয়ে যমুনা ফিউচার পার্ক মার্কেটে যেতে বলে। এ সময় আবারও থানা পুলিশ ও ডিবি পুলিশকে জানালে আমার ভাইকে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেয়। বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে আবারওও আমার ভাইয়ের সঙ্গে কথা বলিয়ে দেয়। তখন আমার ভাই প্রচুর মারধর করছে জানিয়ে তাদের দাবিকৃত টাকা দিয়ে দিতে বলে। তখন আমরা তার অবস্থান জানতে চাইলে তার হাত-পা ও চোখ বাঁধা থাকায় সে জানাতে পারেনি। আমার মনে হচ্ছে অজ্ঞাতনামা অপহরণকারীরা মুক্তিপণ আদায়ের জন্য আমার ভাইকে অপহরণ করেছে।

এ বিষয়ে র‌্যাব সদর দপ্তরের মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলেন, আমরা ঘটনাটি শুনেছি। ইতোমধ্যে তদন্ত শুরু হয়েছে। অভিযুক্তদের জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেলে অবশ্যই কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। ২/৪ জন সদস্যের জন্য র‌্যাবের সুনাম ক্ষুণœ হচ্ছে, আর কেউ যাতে এ ধরনের অপকর্মে লিপ্ত না হয় সেজন্য কোন উদ্যোগ নেয়া হবে কিনা? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বাহিনীর কেউ অপরাধে জড়াতেই পারে। তবে সেটির প্রমাণ পেলে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। বিশেষ করে র‌্যাবে শতভাগ শাস্তি নিশ্চিত করা হয়। অনৈতিক কাজ করলে শাস্তি পেতেই হবে, এ বার্তা সব সময় দেয়া থাকে।

শনিবার, ১০ এপ্রিল ২০২১ , ২৬ চৈত্র ১৪২৭ ২৫ শাবান ১৪৪২

অপহরণের পর মুক্তিপণ, চার র‌্যাব সদস্যকে ধরল পুলিশ

নিজস্ব বার্তা পরিবেশক

রাজধানীর হাতিরঝিল থানার এক ব্যক্তিকে অপহরণ করে মুক্তিপণ দাবি করার অভিযোগে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‌্যাব) চার সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে হাতিরঝিল থানা পুলিশ। গতকাল সকালে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। ঘটনায় জড়িত আরও দুইজন পলাতক রয়েছে। ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার মোহা. শফিকুল ইসলাম জানান, অপহরণ করে মুক্তিপণ নেয়ার সুনির্দিষ্ট অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত চারজনের মধ্যে তিনজন সেনাবাহিনীর ও একজন বিমানবাহিনীর সদস্য। এক ব্যক্তিকে অপহরণ করে টাকা আদায়ের অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে থানায় নিয়মিত মামলা হয়েছে। তবে চারজনকেই তাদের নিজ নিজ বাহিনীর হাতে তুলে দেয়া হয়েছে। এদের বিচার নিজ নিজ বাহিনীর আইনকানুন অনুযায়ী হবে।

হাতিরঝিল থানা পুলিশ জানিয়েছে, এই ঘটনায় জড়িত আরও দুইজন পলাতক আছে। তাদের মধ্যে একজন বিজিবির সদস্য ও একজন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী কোন বাহিনীর সদস্য নন। তিনি সাধারণ মানুষ। তবে এই চারজনকে কোথা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তাদের নাম কী তা জানায়নি থানা পুলিশ। এ ঘটনায় ভিকটিম তামজিদ হোসেনের ভাই রাইয়ানা হোসেন বাদী হয়ে গতকাল হাতিরঝিল থানায় মামলা করেছেন। মামলা নং ২২। এজহারে বাদী রাইয়ানা হোসেন উল্লেখ করেন, তার বড় ভাই তামজিদ হোসেন গত বৃহস্পতিবার সকাল ৯টার দিকে হাতিরঝিল থানার মীরেরবাগের এপি-১/২ নম্বর বাসা থেকে উত্তরার উদ্দেশে বের হন। দুপুর ১২টার দিকে অজ্ঞাতনামা এক ব্যক্তি তার মোবাইলে ফোন করে নিজেকে র‌্যাবের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে বলে, আপনার (আমার) বড় ভাই র‌্যাব হেফাজতে আছে। আপনি থানা পুলিশ বা ডিবি পুলিশকে জানাবেন না। যদি জানান, তাহলে আপনার বড় ভাইকে প্রাণে মেরে ফেলা হবে।

পরে একাধিকবার ওই ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হই। দুপুর ১টার দিকে ওই ব্যক্তি আবারও ফোন করে জানায়, আমার বড় ভাইকে র‌্যাব অফিসে সিনিয়র অফিসাররা জিজ্ঞাসাবাদ করছে। তার নামে অস্ত্র ও মাদক মামলা হবে। আমার বড় ভাই র‌্যাবের কোন অফিসে, সিনিয়র কোন অফিসার জিজ্ঞাসাবাদ করছে জানতে চাইলে ওই ব্যক্তি জানায়, আপনার বড় ভাই র‌্যাবের কোন অফিসে আছে তা বলা যাবে না। তাকে ক্রসফায়ারে দেয়া হতে পারে। যদি আপনার ভাইকে বাঁচাতে চান, দুই কোটি টাকা রেডি করেন। এর কিছুক্ষণ পর র‌্যাবের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা পরিচয়দানকারী ওই ব্যক্তি আমার ভাইকে মারধরের শব্দ শোনান এবং আমার ভাইকে মোবাইল ফোন দিলে সে কাঁদতে কাঁদতে জানায়, তাকে চোখ বেঁধে গাড়িতে তুলে বেধড়ক মারধর করছে।

আমার ভাই কাঁদতে কাঁদতে বাঁচার আকুতি জানাতে থাকে। পরবর্তীতে ওই নম্বর থেকে অজ্ঞাত আরও ২-৩ জন ফোন করে টাকা জোগাড় হয়েছে কিনা জানতে চায়। আমি তাদের বলি, আমরা গরিব মানুষ। এত টাকা কোথায় পাব? একপর্যায়ে তারা ১৫ লাখ টাকা দাবি করে। আমাদের কাছে কোন টাকা নাই জানালে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা পরিচয়দানকারী ওই ব্যক্তি নগদ ১২ লাখ টাকা নিয়ে যমুনা ফিউচার পার্ক মার্কেটে যেতে বলে। এ সময় আবারও থানা পুলিশ ও ডিবি পুলিশকে জানালে আমার ভাইকে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেয়। বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে আবারওও আমার ভাইয়ের সঙ্গে কথা বলিয়ে দেয়। তখন আমার ভাই প্রচুর মারধর করছে জানিয়ে তাদের দাবিকৃত টাকা দিয়ে দিতে বলে। তখন আমরা তার অবস্থান জানতে চাইলে তার হাত-পা ও চোখ বাঁধা থাকায় সে জানাতে পারেনি। আমার মনে হচ্ছে অজ্ঞাতনামা অপহরণকারীরা মুক্তিপণ আদায়ের জন্য আমার ভাইকে অপহরণ করেছে।

এ বিষয়ে র‌্যাব সদর দপ্তরের মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলেন, আমরা ঘটনাটি শুনেছি। ইতোমধ্যে তদন্ত শুরু হয়েছে। অভিযুক্তদের জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেলে অবশ্যই কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। ২/৪ জন সদস্যের জন্য র‌্যাবের সুনাম ক্ষুণœ হচ্ছে, আর কেউ যাতে এ ধরনের অপকর্মে লিপ্ত না হয় সেজন্য কোন উদ্যোগ নেয়া হবে কিনা? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বাহিনীর কেউ অপরাধে জড়াতেই পারে। তবে সেটির প্রমাণ পেলে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। বিশেষ করে র‌্যাবে শতভাগ শাস্তি নিশ্চিত করা হয়। অনৈতিক কাজ করলে শাস্তি পেতেই হবে, এ বার্তা সব সময় দেয়া থাকে।