এক সপ্তাহে শনাক্ত সাড়ে ২৬ শতাংশ

মৃত্যু বেড়েছে ৩০ শতাংশের বেশি

করোনায় প্রাণহানি বেড়েই চলছে। গতকাল দেশে রেকর্ড ৭৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার সকাল থেকে গতকাল সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় তাদের মৃত্যু হয়। গত এক সপ্তাহে দেশে করোনা শনাক্ত সাড়ে ২৬ শতাংশ এবং মৃত্যু বেড়েছে ৩০ শতাংশের বেশি। সর্বোচ্চ মৃত্যু হলেও কয়েকদিনের তুলনায় গতকাল শনাক্তের সংখ্যা কিছুটা কমেছে। যদিও কয়েকদিনের তুলনায় গতকাল নমুনা পরীক্ষার সংখ্যাও কমেছে।

আইইডিসিআরের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, করোনা সংক্রমণের সর্বোচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ স্থান হলোÑ বাজার ও গণপরিবহন। এ পর্যন্ত যাদের করোনা সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে তাদের একটি বড় অংশই বাজারে গিয়েছেন কিংবা গণপবিহনে চড়েছেন। প্রতিষ্ঠানটির সর্বশেষ প্রতিবেদনে ঢাকার রূপনগর ও আদাবর থানাকে করোনায় সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

আইইডিসিআরের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা সংবাদকে বলেন, ‘মানুষ স্বাস্থ্যবিধি না মেনে নিজেদের পাশাপাশি অন্যদেরও ঝুঁকিতে ফেলছেন। তারা বাজারে যাচ্ছেন মাস্ক পরছেন না; কেউ কেউ মাস্ক থুতনিতে ঝুলিয়ে রাখেন। গণপরিবহনেও এটি হচ্ছে।’

এক সপ্তাহে সংক্রমণ ও মৃত্যু বেড়েছে

‘এপিডেমিওলজিক্যাল (রোগ বিস্তার সংক্রান্ত) সপ্তাহ ২০২১’ এর ১৪তম সপ্তাহে ৪ এপ্রিল থেকে গতকাল পর্যন্ত ৪৪৮ জনের মৃত্যু হয়েছে, যা আগের সপ্তাহে ছিল ৩৪৪ জন। এ হিসেবে মৃত্যু ৩০ দশমিক ২৩ শতাংশ বেড়েছে। ১৪তম সপ্তাহে ৪৮ হাজার ৬৬০ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে, যা আগের সপ্তাহে ছিল ৩৮ হাজার ৪৭১ জন। এ হিসেবে শনাক্ত ২৬ দশমিক ৪৮ শতাংশ বেড়েছে।

এছাড়া ১৪তম সপ্তাহে নমুনা পরীক্ষা হয়েছে দুই লাখ ২০ হাজার ৮২৮টি। এর আগের সপ্তাহে নমুনা পরীক্ষা হয়েছিল এক লাখ ৮৫ হাজার ৯৬৭টি। এ হিসেবে গত সপ্তাহে নমুনা পরীক্ষা বেড়েছে ১৮ দশমিক ৭৫ শতাংশ। আর ১৪তম সপ্তাহে সুস্থতা বেড়েছে ৪২ দশমিক ৫৮ শতাংশ।

বাজার ও গণপরিবহনে সংক্রমণের ঝুঁকি ৬১ শতাংশ

সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) প্রকাশিত এক গবেষণায় বলা হয়েছে, বাজার ও গণপরিবহন থেকে করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি রয়েছে ৬১ শতাংশ। আর জনসমাগমস্থল থেকে করোনা ছড়ানোর ঝুঁকি রয়েছো ৩৫ ভাগ। গত ৫ মার্চ থেকে ৫ এপ্রিল পর্যন্ত প্রায় সাড়ে আট হাজার করোনা রোগীর তথ্য পর্যালোচনা করে এসব তথ্য পাওয়া গেছে বলে আইইডিসিআর জানিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি বলছে, শনাক্ত রোগীদের মধ্যে ৬০ শতাংশেরই বাজারে যাওয়া এবং গণপরিবহন ব্যবহারের ইতিহাস রয়েছে।

বাজার ও গণপরিবহন ছাড়া সভা-সেমিনারসহ অন্য জায়গা থেকেও করোনায় আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কার কথা জানিয়ে আইইডিসিআর বলছে, জনসমাগমস্থল, উপাসনালয়, এক বিভাগ থেকে আরেক বিভাগে ভ্রমণ, স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র, পর্যটনকেন্দ্র এবং সামাজিক অনুষ্ঠানে অংশ নেয়ার মাধ্যমে সংক্রমণ ছাড়াচ্ছে।

ঢাকা মহানগরীতে সংক্রমণ

গতকাল আইইডিসিআরের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে গত ২৭ মার্চ থেকে ২ এপ্রিল পর্যন্ত ১৪ হাজার ৩৩২টি নমুনা পরীক্ষায় ৫ হাজার ১০৩ জনের করোনা শনাক্ত হয়। শনাক্তের হার ৩৬ শতাংশ। এই সময়ে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ৩৬ হাজার ৭৭১টি নমুনা পরীক্ষায় ১০ হাজার ৮৪৩ জনের সংক্রমণ শনাক্ত হয়। শনাক্তের হার ২৯ শতাংশ।

ঢাকার রূপনগর ও আদাবর থানা সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ

আইইডিসিআরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঢাকার রূপনগর ও আদাবর থানা সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ থানা। এর মধ্যে রূপনগরে করোনা শনাক্তের হার ৪৬ শতাংশ এবং আদাবরে তা ৪৪ শতাংশ।

ঢাকার অন্যান্য এলাকার মধ্যে ১৭টি থানায় করোনা শনাক্তের হার ৩০ শতাংশের উপরে, ২৩টি থাকায় ২০ শতাংশের বেশি, সাতটি থাকায় ১১ শতাংশের বেশি এবং কোতোয়ালি ও সদরঘাটে ১০ শতাংশের কম।

২৪ ঘণ্টায় কমেছে শনাক্ত

মৃত্যুর রেকর্ড

গতকাল শনিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আগের ২৪ ঘণ্টায় পাঁচ হাজার ৩৪৩ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে মোট করোনা শনাক্ত হলো ছয় লাখ ৭৮ হাজার ৯৩৭ জনের। গত ১ ও ২ এপ্রিল দৈনিক শনাক্তের সংখ্যা ৬ হাজার ছাড়িয়ে যায়। এরপর ৪ এপ্রিল শনাক্তের সংখ্যা সাত হাজার ছাড়িয়ে যায়। গত ৭ এপ্রিল রেকর্ড সাত হাজার ৬২৬ জনের করোনা শনাক্ত হয়।

গত ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যু হওয়া ৭৭ জনকে নিয়ে এ পর্যন্ত দেশে করোনায় মৃত্যুর মোট সংখ্যা দাঁড়ালো ৯ হাজার ৬৬১ জনে। এর আগে গত ৮ এপ্রিল একদিনে সর্বোচ্চ ৭৪ জনের মৃত্যুর তথ্য জানিয়েছিল স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

গত ২৪ ঘণ্টায় বাসাবাড়ি ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন তিন হাজার ৮৩৭ জন করোনা রোগী সুস্থ হয়েছেন। এ নিয়ে মোট সুস্থ হওয়া রোগীর সংখ্যা দাঁড়ালো পাঁচ লাখ ৭২ হাজার ৩৭৮ জনে।

গত একদিনে নমুনা পরীক্ষা বিবেচনায় শনাক্তের হার ছিল ২০ দশমিক ৪৯ শতাংশ। আর এ পর্যন্ত মোট নমুনা পরীক্ষা বিবেচনায় শনাক্তের হার হলো ১৩ দশমিক ৬৫ শতাংশ।

একদিনে শনাক্তের সংখ্যা নিচে নামার বিষয়ে জানতে চাইলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার সাবেক পরিচালক ও সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ প্রফেসর ডা. বেনজির আহমেদ গতকাল সংবাদকে বলেছেন, ‘একদিনে সংক্রমণ কম-বেশি শনাক্ত হওয়ার ওপর নির্ভর করে বলা যাবে না যে, এটি কমছে। গত ১ ফেব্রুয়ারি থেকেই সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতি লক্ষ্য করা গেছে। মার্চে এসে এটি দ্রুত বাড়তে শুরু করেছে। আগামী আরও কিছুদিন হয়তো সংক্রমণ বাড়বে। তবে সবকিছুই নির্ভর করছে স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনার ওপর।’

ভালো পদক্ষেপ নেয়া হলে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আসবেÑ মন্তব্য করে আইইডিসিআরের সাবেক এই প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা বলেন, ‘যেমন লকডাউনের কারণে গত কিছুদিন মানুষ এক জেলা থেকে অন্য জেলায় যেতে পারেনি; এতে সংক্রমণের গতি কিছুটা কমতে পারে। আবার লকডাউনের আগেই বিপুলসংখ্যক মানুষ স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষা করে গ্রামের বাড়িতে গিয়েছেন; এতে সংক্রমণের ঝুঁকি রয়েছে।’

করোনায় হঠাৎ মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ার কারণ সম্পর্কে ডা. বেনজির আহমেদ বলেন, ‘এখন প্রতিদিন যে সংখ্যক মানুষের মৃত্যু হচ্ছে সেটি প্রত্যাশিত। কারণ গত ফেব্রুয়ারি থেকে যত সংখ্যক রোগী শনাক্ত হয়েছে, তাদের দেড় বা দুই শতাংশেরও যদি মৃত্যু হয় তাহলে এই ৭৭ জনের সংখ্যাটা বেশি নয়; আগামী কিছুদিন আরও মানুষের মৃত্যু হবে; সংক্রমণ অনুপাতে মৃত্যুও বাড়তে থাকবে। পরিসংখ্যান তাই বলছে। আমরা ভালো ও সময়োপযোগী পদক্ষেপ নিতে পারলে মৃত্যুর সংখ্যা কিছুটা কমতে পারে।’

কমেছে নমুনা পরীক্ষা:

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের গতকালের তথ্যানুযায়ী, আগের ২৪ ঘণ্টায় সারাদেশে ২৪৩টি ল্যাবে (পরীক্ষাগার) ২৬ হাজার ৭৭টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। এ পর্যন্ত পরীক্ষা হয়েছে ৪৯ লাখ ৭৩ হাজার ৪৮৯টি নমুনা।

এর আগের দিন ৯ এপ্রিল ৩১ হাজার ৬৫৪টি ও ৮ এপ্রিল ৩৩ হাজার ১৯৩টি নমুনা পরীক্ষার তথ্য জানিয়েছিল স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

গতকাল নমুনা পরীক্ষা বিবেচনায় সুস্থতার হার ৮৪ দশমিক ৩০ শতাংশ এবং মৃত্যুর হার ছিল ১ দশমিক ৪২ শতাংশ।

জনস হপকিন্স ইউনিভার্সিটির তালিকায় বিশ্বে করোনা শনাক্তে ৩৩তম স্থানে এবং মৃত্যুর সংখ্যায় ৩৯তম অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ।

গত এক দিনে মৃত্যু হওয়া লোকজনের মধ্যে পুরুষ ৫৩ জন এবং নারী ২৪ জন। তাদের সবাই হাসপাতালে মারা গেছেন। এর মধ্যে ৪৪ জনের বয়স ছিল ৬০ বছরের বেশি, ২২ জনের বয়স ৫১ থেকে ৬০ বছর, পাঁচ জনের বয়স ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে, দুইজনের বয়স ৩১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে, তিনজনের বয়স ২১ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে এবং একজনের বয়স ১১ থেকে ২০ বছরের মধ্যে ছিল।

এ পর্যন্ত মারা যাওয়া ৯ হাজার ৬৬১ জনের মধ্যে সাত হাজার ২২৬ জন পুরুষ এবং দুই হাজার ৪৩৫ জন নারী।

গতকাল মৃত্যু হওয়া লোকজনের মধ্যে ৫১ জন ঢাকা বিভাগের, ১৫ জন চট্টগ্রাম বিভাগের, তিনজন রাজশাহী বিভাগের, দুইজন খুলনা বিভাগের, একজন করে বরিশাল ও সিলেট বিভাগের এবং চারজন রংপুর বিভাগের বাসিন্দা ছিলেন।

রবিবার, ১১ এপ্রিল ২০২১ , ২৮ চৈত্র ১৪২৭ ২৭ শাবান ১৪৪২

এক সপ্তাহে শনাক্ত সাড়ে ২৬ শতাংশ

মৃত্যু বেড়েছে ৩০ শতাংশের বেশি

রাকিব উদ্দিন

image

করোনায় প্রাণহানি বেড়েই চলছে। গতকাল দেশে রেকর্ড ৭৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার সকাল থেকে গতকাল সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় তাদের মৃত্যু হয়। গত এক সপ্তাহে দেশে করোনা শনাক্ত সাড়ে ২৬ শতাংশ এবং মৃত্যু বেড়েছে ৩০ শতাংশের বেশি। সর্বোচ্চ মৃত্যু হলেও কয়েকদিনের তুলনায় গতকাল শনাক্তের সংখ্যা কিছুটা কমেছে। যদিও কয়েকদিনের তুলনায় গতকাল নমুনা পরীক্ষার সংখ্যাও কমেছে।

আইইডিসিআরের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, করোনা সংক্রমণের সর্বোচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ স্থান হলোÑ বাজার ও গণপরিবহন। এ পর্যন্ত যাদের করোনা সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে তাদের একটি বড় অংশই বাজারে গিয়েছেন কিংবা গণপবিহনে চড়েছেন। প্রতিষ্ঠানটির সর্বশেষ প্রতিবেদনে ঢাকার রূপনগর ও আদাবর থানাকে করোনায় সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

আইইডিসিআরের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা সংবাদকে বলেন, ‘মানুষ স্বাস্থ্যবিধি না মেনে নিজেদের পাশাপাশি অন্যদেরও ঝুঁকিতে ফেলছেন। তারা বাজারে যাচ্ছেন মাস্ক পরছেন না; কেউ কেউ মাস্ক থুতনিতে ঝুলিয়ে রাখেন। গণপরিবহনেও এটি হচ্ছে।’

এক সপ্তাহে সংক্রমণ ও মৃত্যু বেড়েছে

‘এপিডেমিওলজিক্যাল (রোগ বিস্তার সংক্রান্ত) সপ্তাহ ২০২১’ এর ১৪তম সপ্তাহে ৪ এপ্রিল থেকে গতকাল পর্যন্ত ৪৪৮ জনের মৃত্যু হয়েছে, যা আগের সপ্তাহে ছিল ৩৪৪ জন। এ হিসেবে মৃত্যু ৩০ দশমিক ২৩ শতাংশ বেড়েছে। ১৪তম সপ্তাহে ৪৮ হাজার ৬৬০ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে, যা আগের সপ্তাহে ছিল ৩৮ হাজার ৪৭১ জন। এ হিসেবে শনাক্ত ২৬ দশমিক ৪৮ শতাংশ বেড়েছে।

এছাড়া ১৪তম সপ্তাহে নমুনা পরীক্ষা হয়েছে দুই লাখ ২০ হাজার ৮২৮টি। এর আগের সপ্তাহে নমুনা পরীক্ষা হয়েছিল এক লাখ ৮৫ হাজার ৯৬৭টি। এ হিসেবে গত সপ্তাহে নমুনা পরীক্ষা বেড়েছে ১৮ দশমিক ৭৫ শতাংশ। আর ১৪তম সপ্তাহে সুস্থতা বেড়েছে ৪২ দশমিক ৫৮ শতাংশ।

বাজার ও গণপরিবহনে সংক্রমণের ঝুঁকি ৬১ শতাংশ

সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) প্রকাশিত এক গবেষণায় বলা হয়েছে, বাজার ও গণপরিবহন থেকে করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি রয়েছে ৬১ শতাংশ। আর জনসমাগমস্থল থেকে করোনা ছড়ানোর ঝুঁকি রয়েছো ৩৫ ভাগ। গত ৫ মার্চ থেকে ৫ এপ্রিল পর্যন্ত প্রায় সাড়ে আট হাজার করোনা রোগীর তথ্য পর্যালোচনা করে এসব তথ্য পাওয়া গেছে বলে আইইডিসিআর জানিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি বলছে, শনাক্ত রোগীদের মধ্যে ৬০ শতাংশেরই বাজারে যাওয়া এবং গণপরিবহন ব্যবহারের ইতিহাস রয়েছে।

বাজার ও গণপরিবহন ছাড়া সভা-সেমিনারসহ অন্য জায়গা থেকেও করোনায় আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কার কথা জানিয়ে আইইডিসিআর বলছে, জনসমাগমস্থল, উপাসনালয়, এক বিভাগ থেকে আরেক বিভাগে ভ্রমণ, স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র, পর্যটনকেন্দ্র এবং সামাজিক অনুষ্ঠানে অংশ নেয়ার মাধ্যমে সংক্রমণ ছাড়াচ্ছে।

ঢাকা মহানগরীতে সংক্রমণ

গতকাল আইইডিসিআরের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে গত ২৭ মার্চ থেকে ২ এপ্রিল পর্যন্ত ১৪ হাজার ৩৩২টি নমুনা পরীক্ষায় ৫ হাজার ১০৩ জনের করোনা শনাক্ত হয়। শনাক্তের হার ৩৬ শতাংশ। এই সময়ে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ৩৬ হাজার ৭৭১টি নমুনা পরীক্ষায় ১০ হাজার ৮৪৩ জনের সংক্রমণ শনাক্ত হয়। শনাক্তের হার ২৯ শতাংশ।

ঢাকার রূপনগর ও আদাবর থানা সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ

আইইডিসিআরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঢাকার রূপনগর ও আদাবর থানা সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ থানা। এর মধ্যে রূপনগরে করোনা শনাক্তের হার ৪৬ শতাংশ এবং আদাবরে তা ৪৪ শতাংশ।

ঢাকার অন্যান্য এলাকার মধ্যে ১৭টি থানায় করোনা শনাক্তের হার ৩০ শতাংশের উপরে, ২৩টি থাকায় ২০ শতাংশের বেশি, সাতটি থাকায় ১১ শতাংশের বেশি এবং কোতোয়ালি ও সদরঘাটে ১০ শতাংশের কম।

২৪ ঘণ্টায় কমেছে শনাক্ত

মৃত্যুর রেকর্ড

গতকাল শনিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আগের ২৪ ঘণ্টায় পাঁচ হাজার ৩৪৩ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে মোট করোনা শনাক্ত হলো ছয় লাখ ৭৮ হাজার ৯৩৭ জনের। গত ১ ও ২ এপ্রিল দৈনিক শনাক্তের সংখ্যা ৬ হাজার ছাড়িয়ে যায়। এরপর ৪ এপ্রিল শনাক্তের সংখ্যা সাত হাজার ছাড়িয়ে যায়। গত ৭ এপ্রিল রেকর্ড সাত হাজার ৬২৬ জনের করোনা শনাক্ত হয়।

গত ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যু হওয়া ৭৭ জনকে নিয়ে এ পর্যন্ত দেশে করোনায় মৃত্যুর মোট সংখ্যা দাঁড়ালো ৯ হাজার ৬৬১ জনে। এর আগে গত ৮ এপ্রিল একদিনে সর্বোচ্চ ৭৪ জনের মৃত্যুর তথ্য জানিয়েছিল স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

গত ২৪ ঘণ্টায় বাসাবাড়ি ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন তিন হাজার ৮৩৭ জন করোনা রোগী সুস্থ হয়েছেন। এ নিয়ে মোট সুস্থ হওয়া রোগীর সংখ্যা দাঁড়ালো পাঁচ লাখ ৭২ হাজার ৩৭৮ জনে।

গত একদিনে নমুনা পরীক্ষা বিবেচনায় শনাক্তের হার ছিল ২০ দশমিক ৪৯ শতাংশ। আর এ পর্যন্ত মোট নমুনা পরীক্ষা বিবেচনায় শনাক্তের হার হলো ১৩ দশমিক ৬৫ শতাংশ।

একদিনে শনাক্তের সংখ্যা নিচে নামার বিষয়ে জানতে চাইলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার সাবেক পরিচালক ও সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ প্রফেসর ডা. বেনজির আহমেদ গতকাল সংবাদকে বলেছেন, ‘একদিনে সংক্রমণ কম-বেশি শনাক্ত হওয়ার ওপর নির্ভর করে বলা যাবে না যে, এটি কমছে। গত ১ ফেব্রুয়ারি থেকেই সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতি লক্ষ্য করা গেছে। মার্চে এসে এটি দ্রুত বাড়তে শুরু করেছে। আগামী আরও কিছুদিন হয়তো সংক্রমণ বাড়বে। তবে সবকিছুই নির্ভর করছে স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনার ওপর।’

ভালো পদক্ষেপ নেয়া হলে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আসবেÑ মন্তব্য করে আইইডিসিআরের সাবেক এই প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা বলেন, ‘যেমন লকডাউনের কারণে গত কিছুদিন মানুষ এক জেলা থেকে অন্য জেলায় যেতে পারেনি; এতে সংক্রমণের গতি কিছুটা কমতে পারে। আবার লকডাউনের আগেই বিপুলসংখ্যক মানুষ স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষা করে গ্রামের বাড়িতে গিয়েছেন; এতে সংক্রমণের ঝুঁকি রয়েছে।’

করোনায় হঠাৎ মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ার কারণ সম্পর্কে ডা. বেনজির আহমেদ বলেন, ‘এখন প্রতিদিন যে সংখ্যক মানুষের মৃত্যু হচ্ছে সেটি প্রত্যাশিত। কারণ গত ফেব্রুয়ারি থেকে যত সংখ্যক রোগী শনাক্ত হয়েছে, তাদের দেড় বা দুই শতাংশেরও যদি মৃত্যু হয় তাহলে এই ৭৭ জনের সংখ্যাটা বেশি নয়; আগামী কিছুদিন আরও মানুষের মৃত্যু হবে; সংক্রমণ অনুপাতে মৃত্যুও বাড়তে থাকবে। পরিসংখ্যান তাই বলছে। আমরা ভালো ও সময়োপযোগী পদক্ষেপ নিতে পারলে মৃত্যুর সংখ্যা কিছুটা কমতে পারে।’

কমেছে নমুনা পরীক্ষা:

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের গতকালের তথ্যানুযায়ী, আগের ২৪ ঘণ্টায় সারাদেশে ২৪৩টি ল্যাবে (পরীক্ষাগার) ২৬ হাজার ৭৭টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। এ পর্যন্ত পরীক্ষা হয়েছে ৪৯ লাখ ৭৩ হাজার ৪৮৯টি নমুনা।

এর আগের দিন ৯ এপ্রিল ৩১ হাজার ৬৫৪টি ও ৮ এপ্রিল ৩৩ হাজার ১৯৩টি নমুনা পরীক্ষার তথ্য জানিয়েছিল স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

গতকাল নমুনা পরীক্ষা বিবেচনায় সুস্থতার হার ৮৪ দশমিক ৩০ শতাংশ এবং মৃত্যুর হার ছিল ১ দশমিক ৪২ শতাংশ।

জনস হপকিন্স ইউনিভার্সিটির তালিকায় বিশ্বে করোনা শনাক্তে ৩৩তম স্থানে এবং মৃত্যুর সংখ্যায় ৩৯তম অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ।

গত এক দিনে মৃত্যু হওয়া লোকজনের মধ্যে পুরুষ ৫৩ জন এবং নারী ২৪ জন। তাদের সবাই হাসপাতালে মারা গেছেন। এর মধ্যে ৪৪ জনের বয়স ছিল ৬০ বছরের বেশি, ২২ জনের বয়স ৫১ থেকে ৬০ বছর, পাঁচ জনের বয়স ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে, দুইজনের বয়স ৩১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে, তিনজনের বয়স ২১ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে এবং একজনের বয়স ১১ থেকে ২০ বছরের মধ্যে ছিল।

এ পর্যন্ত মারা যাওয়া ৯ হাজার ৬৬১ জনের মধ্যে সাত হাজার ২২৬ জন পুরুষ এবং দুই হাজার ৪৩৫ জন নারী।

গতকাল মৃত্যু হওয়া লোকজনের মধ্যে ৫১ জন ঢাকা বিভাগের, ১৫ জন চট্টগ্রাম বিভাগের, তিনজন রাজশাহী বিভাগের, দুইজন খুলনা বিভাগের, একজন করে বরিশাল ও সিলেট বিভাগের এবং চারজন রংপুর বিভাগের বাসিন্দা ছিলেন।