একদিনে মৃত্যুর নতুন রেকর্ড, কমেছে আক্রান্ত

দুদিনে করোনায় মৃত্যু দেড়শ’র বেশি

টানা দু’দিন শনাক্তের সংখ্যা কিছুটা কমলেও এই সময়ে দেড় শতাধিক মানুষের মৃত্যু হয়েছে করোনায়। আগের দিনের রেকর্ড ভেঙ্গে গতকাল সকাল ৮টা পর্যন্ত একদিনে ৭৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। শনিবার করোনায় মৃত্যু হয়েছিল ৭৭ জনের। গত ৩১ মার্চ ৫২ জনের মৃত্যুর তথ্য জানিয়েছিল স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এরপর থেকে প্রতিদিনই মৃত্যুর সংখ্যা ৫০ জনের বেশি ছিল।

৭৮ জনকে নিয়ে দেশে করোনায় মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়ালো ৯ হাজার ৭৩৯ জনে। গত বছরের ৮ মার্চ প্রথম করোনা শনাক্তের ১০ দিন পর ১৮ মার্চ একজনের মৃত্যুর তথ্য জানিয়েছিল স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

গতকাল বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, রোববার সকাল ৮টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় দেশে পাঁচ হাজার ৮১৯ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে মোট করোনা শনাক্তের সংখ্যা দাঁড়ালো ছয় লাখ ৮৪ হাজার ৭৫৬ জনে।

এর আগে শনিবার ১০ এপ্রিল শনাক্তের সংখ্যা ছিল পাঁচ হাজার ৩৪৩ জন এবং ৯ এপ্রিল শনাক্ত হয়েছিল সাত হাজার ৪৬২ জন করোনা রোগী। ৯ এপ্রিল পরীক্ষা হয়েছিল ৩১ হাজার ৬৫৪টি নমুনা। আর গতকাল পরীক্ষা হয়েছে ২৯ হাজার ৩৭৬টি নমুনা এবং ১০ এপ্রিল পরীক্ষা হয় ২৬ হাজার ৭৭টি নমুনা।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত মার্চের শুরু থেকেই করোনার দ্বিতীয় ঢেউ শুরু হয়। এরপর দ্রুত বাড়তে থাকে সংক্রমণ। গত ২৯ মার্চ একদিনেই শনাক্তের সংখ্যা পাঁচ হাজার ছাড়িয়ে যায়, প্রথম ঢেউয়ের সময় গত বছরের ২ জুলাই একদিনে সর্বোচ্চ চার হাজার ১৯ জনের সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছিল।

করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে গত ২৯ মার্চ শনাক্ত হয় পাঁচ হাজার ১৮১ জন করোনা রোগী। এরপর গত ১ এপ্রিল শনাক্তের সংখ্যা ছয় হাজার ছাড়িয়ে যায়, ওইদিন ছয় হাজার ৪৬৯ জনের সংক্রমণ শনাক্ত হয়। গত কয়েক দিন ধরেই দৈনিক ৬ হাজারের বেশি রোগী শনাক্ত হয়ে আসছিল। এর মধ্যে গত ৭ এপ্রিল রেকর্ড সাত হাজার ৬২৬ জন নতুন রোগী শনাক্ত হয়।

যুক্তরাষ্ট্রের জনস হপকিন্স ইউনিভার্সিটির তালিকায় বিশ্বে করোনা শনাক্তে ৩৩তম স্থান এবং মৃত্যুর সংখ্যায় ৩৯তম অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের গতকালের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় বাসাবাড়ি ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন চার হাজার ২১২ জন করোনা রোগী সুস্থ হয়েছেন। এ নিয়ে সুস্থ হওয়া রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে পাঁচ লাখ ৭৬ হাজার ৫৯০ জন।

গত ২৪ ঘণ্টায় নমুনা পরীক্ষা বিবেচনায় শনাক্তের হার ছিল ১৯ দশমিক ৮১ শতাংশ। আর এ পর্যন্ত নমুনা পরীক্ষা বিবেচনায় মোট শনাক্তের হার ১৩ দশমিক ৬৯ শতাংশ।

গত একদিনে সারাদেশে ২৪৮টি ল্যাবে (পরীক্ষাগার) ২৯ হাজার ৩৭৬টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। এ পর্যন্ত পরীক্ষা হয়েছে ৫০ লাখ দুই হাজার ৮৬৫টি নমুনা। এ পর্যন্ত শনাক্ত বিবেচনায় মোট সুস্থতার হার ৮৪ দশমিক ২০ শতাংশ এবং মৃত্যুর হার ১ দশমিক ৪২ শতাংশ।

গতকাল মৃত্যু হওয়া ৭৮ জনের মধ্যে ৫৩ জন পুরুষ এবং ২৫ জন নারী। তাদের ৭৭ জন হাসপাতালে এবং একজনের মৃত্যু হয়েছে হাসপাতালে নেয়ার পথে। তাদের মধ্যে ৪৮ জনের বয়স ছিল ৬০ বছরের বেশি, ১৬ জনের বয়স ৫১ থেকে ৬০ বছর, সাত জনের বয়স ৪১ থেকে ৫০ বছর, ছয়জনের বয়স ৩১ থেকে ৪০ বছর এবং একজনের বয়স ১০ বছরের কম ছিল।

বিভাগভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, মৃত্যু হওয়া লোকজনের মধ্যে ঢাকা বিভাগে ৪৭ জন, চট্টগ্রামে ২০ জন, রাজশাহীতে চারজন, খুলনায় চারজন, সিলেটে দুজন ও রংপুর বিভাগে একজন রয়েছেন।

দেশে এ পর্যন্ত মারা যাওয়া ৯ হাজার ৭৩৯ জনের মধ্যে সাত হাজার ২৭৯ জন পুরুষ এবং দুই হাজার ৪৬০ জন নারী।

সোমবার, ১২ এপ্রিল ২০২১ , ২৯ চৈত্র ১৪২৭ ২৮ শাবান ১৪৪২

একদিনে মৃত্যুর নতুন রেকর্ড, কমেছে আক্রান্ত

দুদিনে করোনায় মৃত্যু দেড়শ’র বেশি

image

টানা দু’দিন শনাক্তের সংখ্যা কিছুটা কমলেও এই সময়ে দেড় শতাধিক মানুষের মৃত্যু হয়েছে করোনায়। আগের দিনের রেকর্ড ভেঙ্গে গতকাল সকাল ৮টা পর্যন্ত একদিনে ৭৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। শনিবার করোনায় মৃত্যু হয়েছিল ৭৭ জনের। গত ৩১ মার্চ ৫২ জনের মৃত্যুর তথ্য জানিয়েছিল স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এরপর থেকে প্রতিদিনই মৃত্যুর সংখ্যা ৫০ জনের বেশি ছিল।

৭৮ জনকে নিয়ে দেশে করোনায় মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়ালো ৯ হাজার ৭৩৯ জনে। গত বছরের ৮ মার্চ প্রথম করোনা শনাক্তের ১০ দিন পর ১৮ মার্চ একজনের মৃত্যুর তথ্য জানিয়েছিল স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

গতকাল বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, রোববার সকাল ৮টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় দেশে পাঁচ হাজার ৮১৯ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে মোট করোনা শনাক্তের সংখ্যা দাঁড়ালো ছয় লাখ ৮৪ হাজার ৭৫৬ জনে।

এর আগে শনিবার ১০ এপ্রিল শনাক্তের সংখ্যা ছিল পাঁচ হাজার ৩৪৩ জন এবং ৯ এপ্রিল শনাক্ত হয়েছিল সাত হাজার ৪৬২ জন করোনা রোগী। ৯ এপ্রিল পরীক্ষা হয়েছিল ৩১ হাজার ৬৫৪টি নমুনা। আর গতকাল পরীক্ষা হয়েছে ২৯ হাজার ৩৭৬টি নমুনা এবং ১০ এপ্রিল পরীক্ষা হয় ২৬ হাজার ৭৭টি নমুনা।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত মার্চের শুরু থেকেই করোনার দ্বিতীয় ঢেউ শুরু হয়। এরপর দ্রুত বাড়তে থাকে সংক্রমণ। গত ২৯ মার্চ একদিনেই শনাক্তের সংখ্যা পাঁচ হাজার ছাড়িয়ে যায়, প্রথম ঢেউয়ের সময় গত বছরের ২ জুলাই একদিনে সর্বোচ্চ চার হাজার ১৯ জনের সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছিল।

করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে গত ২৯ মার্চ শনাক্ত হয় পাঁচ হাজার ১৮১ জন করোনা রোগী। এরপর গত ১ এপ্রিল শনাক্তের সংখ্যা ছয় হাজার ছাড়িয়ে যায়, ওইদিন ছয় হাজার ৪৬৯ জনের সংক্রমণ শনাক্ত হয়। গত কয়েক দিন ধরেই দৈনিক ৬ হাজারের বেশি রোগী শনাক্ত হয়ে আসছিল। এর মধ্যে গত ৭ এপ্রিল রেকর্ড সাত হাজার ৬২৬ জন নতুন রোগী শনাক্ত হয়।

যুক্তরাষ্ট্রের জনস হপকিন্স ইউনিভার্সিটির তালিকায় বিশ্বে করোনা শনাক্তে ৩৩তম স্থান এবং মৃত্যুর সংখ্যায় ৩৯তম অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের গতকালের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় বাসাবাড়ি ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন চার হাজার ২১২ জন করোনা রোগী সুস্থ হয়েছেন। এ নিয়ে সুস্থ হওয়া রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে পাঁচ লাখ ৭৬ হাজার ৫৯০ জন।

গত ২৪ ঘণ্টায় নমুনা পরীক্ষা বিবেচনায় শনাক্তের হার ছিল ১৯ দশমিক ৮১ শতাংশ। আর এ পর্যন্ত নমুনা পরীক্ষা বিবেচনায় মোট শনাক্তের হার ১৩ দশমিক ৬৯ শতাংশ।

গত একদিনে সারাদেশে ২৪৮টি ল্যাবে (পরীক্ষাগার) ২৯ হাজার ৩৭৬টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। এ পর্যন্ত পরীক্ষা হয়েছে ৫০ লাখ দুই হাজার ৮৬৫টি নমুনা। এ পর্যন্ত শনাক্ত বিবেচনায় মোট সুস্থতার হার ৮৪ দশমিক ২০ শতাংশ এবং মৃত্যুর হার ১ দশমিক ৪২ শতাংশ।

গতকাল মৃত্যু হওয়া ৭৮ জনের মধ্যে ৫৩ জন পুরুষ এবং ২৫ জন নারী। তাদের ৭৭ জন হাসপাতালে এবং একজনের মৃত্যু হয়েছে হাসপাতালে নেয়ার পথে। তাদের মধ্যে ৪৮ জনের বয়স ছিল ৬০ বছরের বেশি, ১৬ জনের বয়স ৫১ থেকে ৬০ বছর, সাত জনের বয়স ৪১ থেকে ৫০ বছর, ছয়জনের বয়স ৩১ থেকে ৪০ বছর এবং একজনের বয়স ১০ বছরের কম ছিল।

বিভাগভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, মৃত্যু হওয়া লোকজনের মধ্যে ঢাকা বিভাগে ৪৭ জন, চট্টগ্রামে ২০ জন, রাজশাহীতে চারজন, খুলনায় চারজন, সিলেটে দুজন ও রংপুর বিভাগে একজন রয়েছেন।

দেশে এ পর্যন্ত মারা যাওয়া ৯ হাজার ৭৩৯ জনের মধ্যে সাত হাজার ২৭৯ জন পুরুষ এবং দুই হাজার ৪৬০ জন নারী।