খালেদা জিয়াসহ ৯ জন করোনা আক্রান্ত

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার গুলশানের বাসভবন ‘ফিরোজা’য় তিনিসহ নয়জন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। গতকাল বিকেলে খালেদা জিয়াকে দেখে আসার পর তার ব্যক্তিগত চিকিৎসক মো. আল মামুন সাংবাদিকদের এ তথ্য জানিয়েছেন।

তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘ম্যাডামসহ (খালেদা জিয়া) মোট নয়জন আক্রান্ত।’

বাসাতেই চিকিৎসার সব ব্যবস্থা করা হয়েছে জানিয়ে ডা. মামুন বলেন, আগাম প্রস্তুতির অংশ হিসেবে তারা বেসরকারি একটি হাসপাতালে একটি কেবিন ঠিক করে রেখেছেন।

৭৫ বছর বয়সী খালেদা নানা স্বাস্থ্যগত জটিলতায় ভুগছেন। তবে ডা. মামুন বলেন, ‘এখন পর্যন্ত তার অবস্থা স্টেবল আছে। আমরা সব ধরনের ব্যবস্থা নিয়ে রেখেছি। ম্যাডামের যে মেডিকেল বোর্ড আছে, সেই বোর্ড নিয়মিত আলোচনা করে তার চিকিৎসা চালাচ্ছে।’

খালেদা জিয়ার বাসভবনে তার স্বজনদের অনেকেই তার সঙ্গে দেখা-সাক্ষাৎ করতেন। স্বজনরা কেউ আক্রান্ত কিনা, জানতে চাইলে বিএনপি চেয়ারপারসনের মিডিয়া উইং সদস্য শায়রুল কবির খান বলেন, ‘স্বজনদের মধ্যে কেউ আক্রান্ত হননি। আক্রান্ত সবাই ম্যাডামের স্টাফ।’ খালেদা জিয়ার সব সময়ের গৃহকর্মী ফাতেমা বেগমও আক্রান্ত বলে জানান ডা. মামুন।

তবে গত শনিবার রাতে খালেদা জিয়ার করোনায় আক্রান্তের খবর বিভিন্ন মাধ্যমে ছড়িয়ে গেলে দলের পক্ষ থেকে বলা হয়, খালেদা জিয়ার নিয়মিত চেকআপ হয়েছে। এর বাইরে কিছুই হয়নি।

শায়রুল কবির খান তখন বলেছিলেন, ‘আমি ডা. মামুনের সঙ্গে কথা বলেছি। তিনি বলেছেন, তারা নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার বাসভবন ফিরোজাতে গিয়েছিলেন। করোনা পরীক্ষার জন্য তারা ম্যাডামের নমুনা নেননি।’

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর গতকাল সকালে খালেদা জিয়া করোনাভাইরাস পজেটিভ নিশ্চিত করে। বিকেলে বিএনপি চেয়ারপারসনের গুলশানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানান, খালেদা জিয়া করোনা আক্রান্ত হলেও ভালো আছেন। বর্তমানে তিনি ব্যক্তিগত চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে আছেন বলে জানান ফখরুল।

খালেদা জিয়ার করোনায় আক্রান্তের বিষয়টি প্রথমে কেন গোপন করা হয়েছিল এই প্রশ্নে ডা. মামুন সাংবাদিকদের বলেন, চিকিৎসক হিসেবে রোগীর ‘গোপনীয়তা রক্ষা করা তার ইমানি দায়িত্ব’। তাই তিনি করোনায় আক্রান্তের বিষয়টি গণমাধ্যমের কাছে অস্বীকার করেছিলেন।

তিনি বলেন, ‘আল্লাহর রহমতে ম্যাডামের ফিজিক্যাল কন্ডিশন ভালো। কোন উপসর্গ নেই। জ্বর, গলা ব্যথা, কাশি, শ্বাসকষ্ট কোন কিছুই নেই।’

তাহলে কেন নমুনা পরীক্ষার প্রয়োজন পড়ল, এই প্রশ্নে ডা. মামুন বলেন, ‘বাসার একজন স্টাফের আরও ৫/৬ দিন আগে জ্বরজ্বর ভাব ছিল। তখন তার টেস্ট করানো হয়। টেস্টের রেজাল্ট পজেটিভ আসে। ওই স্টাফ যে রুমে থাকত, ওই রুমে বাকিদেরও আমরা চেক করাই। তখন তাদেরও পজেটিভ আসে। তখন সেফটি পারপাসে ম্যাডামের টেস্ট করানো হয়, এরপর পজেটিভ আসে সেই রেজাল্টও।’

এর আগে মির্জা ফখরুল জানান, ‘প্রফেসর ডা. এফএম সিদ্দিকীর নেতৃত্বে তার ব্যক্তিগত চিকিৎসক যারা আছেন, তাদের তত্ত্বাবধানে ইতোমধ্যে চিকিৎসা শুরু হয়েছে।’

দুর্নীতির দুই মামলায় দন্ডিত সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে তিন বছর আগে কারাগারে যেতে হয়। দেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ শুরুর পর পরিবারের আবেদনে গত বছরের ২৫ মার্চ ‘মানবিক বিবেচনায়’ শর্তসাপেক্ষে নির্বাহী আদেশে তাকে সাময়িক মুক্তি দেয় সরকার। তখন থেকে তিনি গুলশানে নিজের ভাড়া বাসা ‘ফিরোজা’য় থেকে ব্যক্তিগত চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে আছেন। তার বড় ছেলে তারেক রহমান দুর্নীতির মামলায় দন্ড নিয়ে সপরিবারে যুক্তরাজ্যে রয়েছেন।

সোমবার, ১২ এপ্রিল ২০২১ , ২৯ চৈত্র ১৪২৭ ২৮ শাবান ১৪৪২

খালেদা জিয়াসহ ৯ জন করোনা আক্রান্ত

image

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার গুলশানের বাসভবন ‘ফিরোজা’য় তিনিসহ নয়জন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। গতকাল বিকেলে খালেদা জিয়াকে দেখে আসার পর তার ব্যক্তিগত চিকিৎসক মো. আল মামুন সাংবাদিকদের এ তথ্য জানিয়েছেন।

তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘ম্যাডামসহ (খালেদা জিয়া) মোট নয়জন আক্রান্ত।’

বাসাতেই চিকিৎসার সব ব্যবস্থা করা হয়েছে জানিয়ে ডা. মামুন বলেন, আগাম প্রস্তুতির অংশ হিসেবে তারা বেসরকারি একটি হাসপাতালে একটি কেবিন ঠিক করে রেখেছেন।

৭৫ বছর বয়সী খালেদা নানা স্বাস্থ্যগত জটিলতায় ভুগছেন। তবে ডা. মামুন বলেন, ‘এখন পর্যন্ত তার অবস্থা স্টেবল আছে। আমরা সব ধরনের ব্যবস্থা নিয়ে রেখেছি। ম্যাডামের যে মেডিকেল বোর্ড আছে, সেই বোর্ড নিয়মিত আলোচনা করে তার চিকিৎসা চালাচ্ছে।’

খালেদা জিয়ার বাসভবনে তার স্বজনদের অনেকেই তার সঙ্গে দেখা-সাক্ষাৎ করতেন। স্বজনরা কেউ আক্রান্ত কিনা, জানতে চাইলে বিএনপি চেয়ারপারসনের মিডিয়া উইং সদস্য শায়রুল কবির খান বলেন, ‘স্বজনদের মধ্যে কেউ আক্রান্ত হননি। আক্রান্ত সবাই ম্যাডামের স্টাফ।’ খালেদা জিয়ার সব সময়ের গৃহকর্মী ফাতেমা বেগমও আক্রান্ত বলে জানান ডা. মামুন।

তবে গত শনিবার রাতে খালেদা জিয়ার করোনায় আক্রান্তের খবর বিভিন্ন মাধ্যমে ছড়িয়ে গেলে দলের পক্ষ থেকে বলা হয়, খালেদা জিয়ার নিয়মিত চেকআপ হয়েছে। এর বাইরে কিছুই হয়নি।

শায়রুল কবির খান তখন বলেছিলেন, ‘আমি ডা. মামুনের সঙ্গে কথা বলেছি। তিনি বলেছেন, তারা নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার বাসভবন ফিরোজাতে গিয়েছিলেন। করোনা পরীক্ষার জন্য তারা ম্যাডামের নমুনা নেননি।’

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর গতকাল সকালে খালেদা জিয়া করোনাভাইরাস পজেটিভ নিশ্চিত করে। বিকেলে বিএনপি চেয়ারপারসনের গুলশানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানান, খালেদা জিয়া করোনা আক্রান্ত হলেও ভালো আছেন। বর্তমানে তিনি ব্যক্তিগত চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে আছেন বলে জানান ফখরুল।

খালেদা জিয়ার করোনায় আক্রান্তের বিষয়টি প্রথমে কেন গোপন করা হয়েছিল এই প্রশ্নে ডা. মামুন সাংবাদিকদের বলেন, চিকিৎসক হিসেবে রোগীর ‘গোপনীয়তা রক্ষা করা তার ইমানি দায়িত্ব’। তাই তিনি করোনায় আক্রান্তের বিষয়টি গণমাধ্যমের কাছে অস্বীকার করেছিলেন।

তিনি বলেন, ‘আল্লাহর রহমতে ম্যাডামের ফিজিক্যাল কন্ডিশন ভালো। কোন উপসর্গ নেই। জ্বর, গলা ব্যথা, কাশি, শ্বাসকষ্ট কোন কিছুই নেই।’

তাহলে কেন নমুনা পরীক্ষার প্রয়োজন পড়ল, এই প্রশ্নে ডা. মামুন বলেন, ‘বাসার একজন স্টাফের আরও ৫/৬ দিন আগে জ্বরজ্বর ভাব ছিল। তখন তার টেস্ট করানো হয়। টেস্টের রেজাল্ট পজেটিভ আসে। ওই স্টাফ যে রুমে থাকত, ওই রুমে বাকিদেরও আমরা চেক করাই। তখন তাদেরও পজেটিভ আসে। তখন সেফটি পারপাসে ম্যাডামের টেস্ট করানো হয়, এরপর পজেটিভ আসে সেই রেজাল্টও।’

এর আগে মির্জা ফখরুল জানান, ‘প্রফেসর ডা. এফএম সিদ্দিকীর নেতৃত্বে তার ব্যক্তিগত চিকিৎসক যারা আছেন, তাদের তত্ত্বাবধানে ইতোমধ্যে চিকিৎসা শুরু হয়েছে।’

দুর্নীতির দুই মামলায় দন্ডিত সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে তিন বছর আগে কারাগারে যেতে হয়। দেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ শুরুর পর পরিবারের আবেদনে গত বছরের ২৫ মার্চ ‘মানবিক বিবেচনায়’ শর্তসাপেক্ষে নির্বাহী আদেশে তাকে সাময়িক মুক্তি দেয় সরকার। তখন থেকে তিনি গুলশানে নিজের ভাড়া বাসা ‘ফিরোজা’য় থেকে ব্যক্তিগত চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে আছেন। তার বড় ছেলে তারেক রহমান দুর্নীতির মামলায় দন্ড নিয়ে সপরিবারে যুক্তরাজ্যে রয়েছেন।