পুলিশের সাবেক এসআই আসাদুজ্জামানের নানা অপকর্ম

অপহরণ ও মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগে গ্রেপ্তার

মাদক সেবনের দায়ে চাকরিচ্যুত হয়ে নানা অপরাধে জড়িয়ে পড়েন পুলিশের সাবেক এসআই আসাদুজ্জামান। চাকরিজীবী, ব্যবসায়ীসহ টার্গেট ব্যক্তিদের অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায়, নারীর সঙ্গে আপত্তিকর ছবি তুলে অর্থ হাতিয়ে নেয়াসহ নানা ধরনের অপরাধে জড়িয়ে গড়ে তুলেন অপহরণকারী চক্র। তবে শেষ রক্ষা হয়নি। এক ব্যাংকারকে আটকে অর্থ আদায়ের অভিযোগে গত শনিবার পল্লবী থানা পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছেন ওই থানা থেকেই চাকরিচ্যুত এসআই আসাদুজ্জামানসহ ৪ জন। অন্যরা হলেন, জয়নাল, মেহেদি ও আদনান। এ ঘটনায় আঁখি ওরফে সাথী নামে তার এক সহযোগী পলাতক রয়েছে। তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা করছে পুলিশ।

পুলিশ জানিয়েছে, একটি বেসরকারি ব্যাংকের ভাইস প্রেসিডেন্ট পদমর্যাদার এক ব্যক্তিকে তুলে নিয়ে আটকে রাখে চাকরিচ্যুত এসআই আসাদুজ্জামান। ওই কর্মকর্তার সঙ্গে এক নারীকে দিয়ে আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও ধারণ করে। এরপর তা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়ার ভয় দেখিয়ে ওই ব্যক্তির কাছ থেকে মোটা অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নেয়া হয়। পরে ওই ব্যাংক কর্মকর্তা এ ঘটনায় পল্লবী থানায় মামলা দায়ের করলে পুলিশ তাকে ধরতে অভিযানে নামে। চাকরিচ্যুত ওই কর্মকর্তাসহ ৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

মামলা সূত্রে জানা যায়, ব্যাংকের ঋণখেলাপিদের অবস্থান শনাক্ত করে তাদের আইনের আওতায় আনতে প্রায় সময় মাঠ পর্যায়ে তদন্ত করতে যেতে হয় ভুক্তভোগী ব্যাংকের ভাইস প্রেসিডেন্টকে। ৮ এপ্রিল বিকেল ৪টায় পল্লবীর ১১ নম্বর পলাশনগর মালিক সমিতির মোড়ে সাব্বির হোসেন নামে এক ঋণখেলাপি সম্পর্কে জানতে গোপন তদন্তে বের হন তিনি। পলাশনগরের একটি বাড়িতে গিয়ে সাব্বির হোসেন সম্পর্কে জানতে চাইলে অজ্ঞাত এক ব্যক্তি তাকে বাড়ির ভেতর নিয়ে একটি কক্ষে অপেক্ষা করতে বলেন। কিছুক্ষণ পরে আঁখি ওরফে সাথী নামে একটি মেয়ে ও অজ্ঞাত ছয়জন লোক ওই কক্ষে প্রবেশ করে দরজা আটকে তাকে এলোপাতাড়ি মারতে থাকেন। এরপর তার কাছে ২ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেন। সঙ্গে থাকা ডেবিট, ক্রেডিট ও মাস্টার কার্ডগুলো নিয়ে যায়। তারা কার্ডগুলোর পিন নম্বরও নিয়ে নেয়। ব্যাংকের ওই ভাইস প্রেসিডেন্ট জীবন ভিক্ষা চাইলে তার পরিহিত শার্ট, প্যান্ট খুলে গামছা পরিয়ে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে আসামি আঁখি ওরফে সাথীকে পাশে বসিয়ে আপত্তিকর ছবি ও মোবাইলে ভিডিও ধারণ করে। কিছুক্ষণ পর বিভিন্ন ব্যাংকের কার্ডগুলো নিয়ে তাদের চার সহযোগী বাইরে চলে যায়। তাকে পাহারা দেয়ার জন্য আঁখিসহ দুইজন বাসায় থেকে যায়। তারা বিভিন্ন ব্যাংকের বুথ থেকে নগদ ৭ লাখ ১০ হাজার টাকা উত্তোলন ও মার্কেটে কেনাকাটা করে। ওইদিন রাত সাড়ে ৮টায় ঐ চারজন বাইরে থেকে এলে তাকে ছেড়ে দেয়া হয়। এছাড়াও ভয় দেখিয়ে বলে, এ ঘটনা কাউকে জানালে মোবাইলে ধারণকৃত আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছেড়ে দেয়া হবে।

পল্লবী থানার ওসি কাজী ওয়াজেদ আলী জানিয়েছেন, এসআই আসাদুজ্জামান পল্লবী থানায় এসআই হিসেবে কর্মরত ছিলেন। সম্প্রতি মাদকসক্ত পুলিশ সদস্যদের বিদায়। পরে তিনি বাদী হয়ে ৯ এপ্রিল পল্লবী থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। সে মামলার পরিপ্রেক্ষিতে আসাদুজ্জামানসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশের একটি সূত্র জানায়, পল্লবী থানায় দীর্ঘদিন চাকরি করার সুবাধে থানা এলাকার বিভিন্ন বিষয়ে সে ভালোভাবে অবগত ছিল। এলাকার পেশাদার অপরাধীদের নিয়ে একটি সংঘবদ্ধ চক্র গড়ে তোলে। এ চক্রে নারী সদস্যও রয়েছে। চক্রের নেতৃত্ব দিতো চাকরিচ্যুত এসআই আসাদুজ্জামান।

ডিএমপি কমিশনার শুদ্ধি অভিযানে নামে। ডোপ টেস্টে এসআই আসাদুজ্জামানের মাদকাসক্তের বিষয়টি প্রমাণিত হয়। এরপর তিনি চাকরিচ্যুত হন। চাকরি হারানোর পর এসআই আসাদুজ্জামান নানা ধরনের অপরাধে জড়িয়ে পড়ে।

ওসি জানান, গত ৮ এপ্রিল আসাদুজ্জামানসহ তার চার সহযোগী পল্লবীর ১১ নম্বর পলাশনগরের একটি বাসায় ওই বেসরকারি ব্যাংকের ভাইস প্রেসিডেন্টকে অবৈধভাবে আটকে ৭ লাখ ১০ হাজার টাকা আদায় করে।

সোমবার, ১২ এপ্রিল ২০২১ , ২৯ চৈত্র ১৪২৭ ২৮ শাবান ১৪৪২

পুলিশের সাবেক এসআই আসাদুজ্জামানের নানা অপকর্ম

অপহরণ ও মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগে গ্রেপ্তার

নিজস্ব বার্তা পরিবেশক

মাদক সেবনের দায়ে চাকরিচ্যুত হয়ে নানা অপরাধে জড়িয়ে পড়েন পুলিশের সাবেক এসআই আসাদুজ্জামান। চাকরিজীবী, ব্যবসায়ীসহ টার্গেট ব্যক্তিদের অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায়, নারীর সঙ্গে আপত্তিকর ছবি তুলে অর্থ হাতিয়ে নেয়াসহ নানা ধরনের অপরাধে জড়িয়ে গড়ে তুলেন অপহরণকারী চক্র। তবে শেষ রক্ষা হয়নি। এক ব্যাংকারকে আটকে অর্থ আদায়ের অভিযোগে গত শনিবার পল্লবী থানা পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছেন ওই থানা থেকেই চাকরিচ্যুত এসআই আসাদুজ্জামানসহ ৪ জন। অন্যরা হলেন, জয়নাল, মেহেদি ও আদনান। এ ঘটনায় আঁখি ওরফে সাথী নামে তার এক সহযোগী পলাতক রয়েছে। তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা করছে পুলিশ।

পুলিশ জানিয়েছে, একটি বেসরকারি ব্যাংকের ভাইস প্রেসিডেন্ট পদমর্যাদার এক ব্যক্তিকে তুলে নিয়ে আটকে রাখে চাকরিচ্যুত এসআই আসাদুজ্জামান। ওই কর্মকর্তার সঙ্গে এক নারীকে দিয়ে আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও ধারণ করে। এরপর তা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়ার ভয় দেখিয়ে ওই ব্যক্তির কাছ থেকে মোটা অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নেয়া হয়। পরে ওই ব্যাংক কর্মকর্তা এ ঘটনায় পল্লবী থানায় মামলা দায়ের করলে পুলিশ তাকে ধরতে অভিযানে নামে। চাকরিচ্যুত ওই কর্মকর্তাসহ ৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

মামলা সূত্রে জানা যায়, ব্যাংকের ঋণখেলাপিদের অবস্থান শনাক্ত করে তাদের আইনের আওতায় আনতে প্রায় সময় মাঠ পর্যায়ে তদন্ত করতে যেতে হয় ভুক্তভোগী ব্যাংকের ভাইস প্রেসিডেন্টকে। ৮ এপ্রিল বিকেল ৪টায় পল্লবীর ১১ নম্বর পলাশনগর মালিক সমিতির মোড়ে সাব্বির হোসেন নামে এক ঋণখেলাপি সম্পর্কে জানতে গোপন তদন্তে বের হন তিনি। পলাশনগরের একটি বাড়িতে গিয়ে সাব্বির হোসেন সম্পর্কে জানতে চাইলে অজ্ঞাত এক ব্যক্তি তাকে বাড়ির ভেতর নিয়ে একটি কক্ষে অপেক্ষা করতে বলেন। কিছুক্ষণ পরে আঁখি ওরফে সাথী নামে একটি মেয়ে ও অজ্ঞাত ছয়জন লোক ওই কক্ষে প্রবেশ করে দরজা আটকে তাকে এলোপাতাড়ি মারতে থাকেন। এরপর তার কাছে ২ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেন। সঙ্গে থাকা ডেবিট, ক্রেডিট ও মাস্টার কার্ডগুলো নিয়ে যায়। তারা কার্ডগুলোর পিন নম্বরও নিয়ে নেয়। ব্যাংকের ওই ভাইস প্রেসিডেন্ট জীবন ভিক্ষা চাইলে তার পরিহিত শার্ট, প্যান্ট খুলে গামছা পরিয়ে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে আসামি আঁখি ওরফে সাথীকে পাশে বসিয়ে আপত্তিকর ছবি ও মোবাইলে ভিডিও ধারণ করে। কিছুক্ষণ পর বিভিন্ন ব্যাংকের কার্ডগুলো নিয়ে তাদের চার সহযোগী বাইরে চলে যায়। তাকে পাহারা দেয়ার জন্য আঁখিসহ দুইজন বাসায় থেকে যায়। তারা বিভিন্ন ব্যাংকের বুথ থেকে নগদ ৭ লাখ ১০ হাজার টাকা উত্তোলন ও মার্কেটে কেনাকাটা করে। ওইদিন রাত সাড়ে ৮টায় ঐ চারজন বাইরে থেকে এলে তাকে ছেড়ে দেয়া হয়। এছাড়াও ভয় দেখিয়ে বলে, এ ঘটনা কাউকে জানালে মোবাইলে ধারণকৃত আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছেড়ে দেয়া হবে।

পল্লবী থানার ওসি কাজী ওয়াজেদ আলী জানিয়েছেন, এসআই আসাদুজ্জামান পল্লবী থানায় এসআই হিসেবে কর্মরত ছিলেন। সম্প্রতি মাদকসক্ত পুলিশ সদস্যদের বিদায়। পরে তিনি বাদী হয়ে ৯ এপ্রিল পল্লবী থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। সে মামলার পরিপ্রেক্ষিতে আসাদুজ্জামানসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশের একটি সূত্র জানায়, পল্লবী থানায় দীর্ঘদিন চাকরি করার সুবাধে থানা এলাকার বিভিন্ন বিষয়ে সে ভালোভাবে অবগত ছিল। এলাকার পেশাদার অপরাধীদের নিয়ে একটি সংঘবদ্ধ চক্র গড়ে তোলে। এ চক্রে নারী সদস্যও রয়েছে। চক্রের নেতৃত্ব দিতো চাকরিচ্যুত এসআই আসাদুজ্জামান।

ডিএমপি কমিশনার শুদ্ধি অভিযানে নামে। ডোপ টেস্টে এসআই আসাদুজ্জামানের মাদকাসক্তের বিষয়টি প্রমাণিত হয়। এরপর তিনি চাকরিচ্যুত হন। চাকরি হারানোর পর এসআই আসাদুজ্জামান নানা ধরনের অপরাধে জড়িয়ে পড়ে।

ওসি জানান, গত ৮ এপ্রিল আসাদুজ্জামানসহ তার চার সহযোগী পল্লবীর ১১ নম্বর পলাশনগরের একটি বাসায় ওই বেসরকারি ব্যাংকের ভাইস প্রেসিডেন্টকে অবৈধভাবে আটকে ৭ লাখ ১০ হাজার টাকা আদায় করে।