আইসিইউ শয্যার জন্য হাহাকার

দোহার জয়পাড়া গ্রামের করোনা আক্রান্ত মফিজ উদ্দিন (৭০) মিটফোর্ড হাসপাতালে আইসিইউ বেড না পেয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের করোনা ইউনিটে এসেছেন আইসিইউতে চিকিৎসা পাওয়ার আশায়। হাসপাতালের গেটের সামনে কথা হয় রোগীর ছেলে বাবুলের সঙ্গে। তিনি জানান, তার বাবার শ্বাসকষ্ট থেকে করোনা ধরা পড়েছে। ‘যদি হাসপাতালে আইসিইউ সুবিধাসহ একটি বেড পাই তাহলে আমার বৃদ্ধ অসুস্থ বাবা একটু স্বস্তি পাবে,’ বলেন বাবুল। কথা বলার সময় করোনা উপসর্গে অসুস্থ বৃদ্ধ মফিজ উদ্দিনকে ঢামেক-২-এর সামনে অ্যাম্বুলেন্সে শ্বাসকষ্টে অস্থির দেখা যায়। অ্যাম্বুলেন্সের ভিতর রোগীকে হাতপাখায় বাতাস করছিলেন তার মেয়ে।

মুন্সীগঞ্জ সদর থেকে ৬০ বছর বয়সী করোনা রোগী আলী জব্বারকে ঢাকায় নিয়ে এসেছেন স্বজনরা। জব্বারকে অ্যাম্বুলেন্সে শুইয়ে রেখে ছেলে এবং স্বজনরা ঢামেক হাসপাতালের ভিতরে আইসিইউ বেডের জন্য এদিক ওদিক ছোটাছুটি করছিলেন। জানতে চাইলে রোগীর একজন স্বজন বলেন, ‘করোনা রোগীকে নিয়ে দুশ্চিন্তা আর হতাশায় আছি। জানি না এখানে করোনা ইউনিটে আইসিইউ বেড পাব কিনা।’

মো. রফিক। অবসরগ্রাপ্ত চাকরিজীবী। কাজ করতেন হাইকোর্টে। তার স্ত্রী আফরোজা বেগম করোন আক্রান্ত। এসেছেন হাসপাতালে একটি বেডের আশায়। ‘আমার স্ত্রীর অক্সিজেনের পরিমাণ কমে গেছে। সে খুব কষ্ট পাচ্ছে। তাই ঢাকা মেডিকেলের করোনা ইউনিটের আইসিইউতে ভর্তি করার আশায় এসেছি। কি যে করি আইসিইউ বেড পাচ্ছি না,’ আক্ষেপ ঝরে পড়লো অসহায় রফিকের কণ্ঠে।

এখন প্রতিদিন, প্রায় সব হাসপাতালের চিত্র এটা। তিনদিন আগেও দেখা গেছে ঢামেক-২এর করোনা ইউনিটের সামনে করোনা আক্রান্ত মুমূর্ষু রোগীদের আইসিইউ বা নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে একটি বেডের জন্য অপেক্ষা করতে দেখা গেছে। ঢাকা মেডিকেলের নিচতলা গেটের সামনে অ্যাম্বুলেন্সের ভিতর শ্বাসকষ্টে অস্থির কামরুজ্জামানকে হাত পাখায় বাতাস করছিলেন তার ছেলে। অসুস্থ কামরুজ্জামানের স্ত্রী সংবাদকে জানান, গত ১১ দিন ধরে ধানমন্ডির রেনেসা হসপিটালে উনি ভর্তি ছিলেন। সেখানে অক্সিজেনের সংকট। তাই তাকে ঢাকা মেডিকেল হাসপাতালের করোনা ইউনিটে নিয়ে এসেছেন ভালো চিকিৎসার আশায়।

একই স্থানে ট্রলিতে শুয়ে শ্বাসকষ্টে ঘন ঘন শ্বাস নিচ্ছেলেন করোনা আক্রান্ত মুমূর্ষু নরসিংদীর শিবপুরের অসুস্থ বৃদ্ধা সুক্তা (৭০)। তার স্বজনরা জানান, রোগীকে নিয়ে প্রায় এক ঘণ্টা ধরে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করছেন ঢাকা মেডিকেলের করোনা ইউনিটে ভর্তি করানোর জন্য। কিন্তু বেড খালি পাচ্ছেন না।

সারাদেশেই হাসপাতালগুলোতে আইসিইউর জন্য চরম হাহাকার চলছে। জেলায় জেলায় আইসিইউর অভাবে শত শত সংকটাপন্ন রোগী আসছে ঢাকায়। ঢাকায় হাসপাতাল থেকে হাসপাতালে ঘুরছে। দেশের ৬৪ জেলার মধ্যে ৩৬টি জেলা হাসপাতাল ও স্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলোতে কোন আইসিইউ নেই। আইসিইউর জন্য রোগী নিয়ে স্বজনরা হাসপাতালের বারান্দায় অপেক্ষার প্রহর গুনছে। কখন একটি বেড খালি পাবেন।

বিশেষজ্ঞরা জানান, করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় দেশে সংকটাপন্ন রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। সংকটাপন্ন রোগীরা কয়েকটি হাসপাতাল ঘুরেও আইসিইউ না পেয়ে অ্যাম্বুলেন্সে মৃত্যুবরণ করছেন এমন ঘটনাও আছে। আইসিইউর অভাবে সমবায় অফিসের একজন চাকরিজীবী প্রাইভেট হাসপাতালে নেয়ার পরপরই মারা যান।

মহাখালী স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল) ডা. ফরিদ হোসেন মিয়া অনেক জেলা হাসপাতালেই আইসিইউ নেই বলে স্বীকার করেছেন। তবে তিনি জানান, সব জেলার পুরো তথ্য তার কাছে নেই। এখন সারাদেশে সাড়ে ৫শ থেকে ৬শ আইসিইউ বেড আছে। সূত্র মতে, গত ১০ দিনে কমপক্ষে ৭শ সংকটাপন্ন রোগী আইসিইউতে ভর্তি হয়েছে।

বিভিন্ন জেলার সিভিল সার্জনরা জানান, যে সব জেলা হাসপাতালে আইসিইউ নেই সেসব জেলার সংকটাপন্ন রোগীরা আইসিইউর জন্য ঢাকায় যাচ্ছেন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য মতে, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে করোনা ওয়ার্ডে আইসিইউ বেড আছে ২০টি। রোগী ভর্তি আছেন ২০ জন। অপেক্ষায় আছেন ২২ জন। মহাখালী সংক্রমণ ব্যাধি হাসপাতালে কোন আইসিইউ বেড নেই। মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আইসিইউ বেড ১৯টি। রোগী আছে গতকাল সকাল পর্যন্ত ১৮ জন। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে করোনা ওয়ার্ডে ২০টি আইসিইউ বেডও পূর্ণ।

মহাখালী শেখ রাসেল গ্যাস্ট্রোলিভার হাসপাতালে আইসিইউ বেড ১৬টি। একটিও খালি নেই। কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে আইসিইউ ১০টি। রোগী ভর্তি আছে ১০ জন। উত্তরা কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালে আইসিইউ বেড ১৬টি, একটিও খালি নেই। ঢাকার স্কয়ার হাসপাতালসহ ১২টি বেসরকারি হাসপাতালে আইসিইউ বেড আছে ৩৭৭টি। সেখানে গতকাল সকাল পর্যন্ত রোগী ভর্তি ছিলেন ৩৭০ জনেরও বেশি। এভাবে সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে আইসিইউ বেডের চরম সংকট চলছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্তমানে আক্রান্তের সংখ্যা যেভাবে বাড়ছে তাতে দিনে কমপক্ষে ১৫০ থেকে ২শ জন পর্যন্ত সংকটাপন্ন রোগী থাকে। তাদের আইসিইউ দরকার হয়। একজন আইসিইউতে ভর্তি হলে সুস্থ হতে সময় লাগে প্রায় এক মাস। বর্তমানে যে পরিস্থিতি চলছে একজন সুস্থ হলে বা মারা গেলে ১০ থেকে ২২ জন ওই আইসিইউ বেড পাওয়ার জন্য তদবির করেন।

স্বাস্থ্য বিভাগের এক তথ্যে জানা গেছে, সারাদেশে সরকারি হাসপাতাল (গেল বছরের হিসেবে) আছে ৬৫৪টি। এরমধ্যে মেডিকেল কলেজ ও স্পেশালাইজড হাসপাতাল ১৪০টি। আর উপজেলা পর্যায়ে আছে ৫১৪টি। এ সব হাসপাতালে বেড সংখ্যা ৫১ হাজার ৩১৬টি। করোনার কারণে গেল বছর ও চলতি বছর হাসপাতাল ও আইসিইউ বাড়ানোর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। তবে তা এখনও আলোর মুখ দেখেনি। অনুমোদন দেয়া হলেও প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত জনবলের অভাবে তা চালু করা কঠিন বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।

রোগ তত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সাবেক প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ডা. মোস্তাক হোসেন বলেন, “আক্রান্ত বাড়ছে। তাদের মধ্যে প্রতিদিন শতকরা একজনের জন্য হলেও আইসিইউ দরকার। জেলা হাসপাতাল থেকে দায় এড়াতে অনেকেই ঢাকায় পাঠিয়ে দেন। এ কারণেও আইসিইউ সংকট বাড়ছে।’ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ডা. শারফুদ্দিন আহমেদ বলেন, দেশের প্রতিটি জেলা হাসপাতালে হাইফ্লো-অক্সিজেনের ব্যবস্থা করা দরকার। একই সঙ্গে কোভিড হাসপাতাল কিংবা ফিল্ড হাসপাতাল বাড়ানো দরকার বলে জানান তিনি ।

এ বিষয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল নাজমুল হক জানান, করোনা আক্রান্ত মুমূর্ষু রোগীদের সুবিধার্থে ঢাকা মেডিকেল হাসপাতালের করোনা ইউনিটে বিশটি আইসিইউ বেড আছে। তা বাড়ানোর সম্ভাবনা নেই। তবে যে সব করোনা আক্রান্ত রোগী হাসপাতালের করোনা ইউনিটে চিকিৎসাধীন আছেন তাদের উন্নত চিকিৎসা ও সেবা দিচ্ছে কর্তব্যরত ডাক্তার ও নার্সরা।

মঙ্গলবার, ১৩ এপ্রিল ২০২১ , ৩০ চৈত্র ১৪২৭ ২৯ শাবান ১৪৪২

আইসিইউ শয্যার জন্য হাহাকার

বাকী বিল্লাহ ও খন্দকার জাফর আহমদ

image

করোনা সংক্রমণ ক্রমাগত বেড়েই চলেছে। হাসপাতালে আইসিইউতে শয্যা সংকট। কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের বারান্দায় সিলিন্ডারের অক্সিজেন লাগানো দুই করোনা রোগী শয্যার অপেক্ষায় -সোহরাব

দোহার জয়পাড়া গ্রামের করোনা আক্রান্ত মফিজ উদ্দিন (৭০) মিটফোর্ড হাসপাতালে আইসিইউ বেড না পেয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের করোনা ইউনিটে এসেছেন আইসিইউতে চিকিৎসা পাওয়ার আশায়। হাসপাতালের গেটের সামনে কথা হয় রোগীর ছেলে বাবুলের সঙ্গে। তিনি জানান, তার বাবার শ্বাসকষ্ট থেকে করোনা ধরা পড়েছে। ‘যদি হাসপাতালে আইসিইউ সুবিধাসহ একটি বেড পাই তাহলে আমার বৃদ্ধ অসুস্থ বাবা একটু স্বস্তি পাবে,’ বলেন বাবুল। কথা বলার সময় করোনা উপসর্গে অসুস্থ বৃদ্ধ মফিজ উদ্দিনকে ঢামেক-২-এর সামনে অ্যাম্বুলেন্সে শ্বাসকষ্টে অস্থির দেখা যায়। অ্যাম্বুলেন্সের ভিতর রোগীকে হাতপাখায় বাতাস করছিলেন তার মেয়ে।

মুন্সীগঞ্জ সদর থেকে ৬০ বছর বয়সী করোনা রোগী আলী জব্বারকে ঢাকায় নিয়ে এসেছেন স্বজনরা। জব্বারকে অ্যাম্বুলেন্সে শুইয়ে রেখে ছেলে এবং স্বজনরা ঢামেক হাসপাতালের ভিতরে আইসিইউ বেডের জন্য এদিক ওদিক ছোটাছুটি করছিলেন। জানতে চাইলে রোগীর একজন স্বজন বলেন, ‘করোনা রোগীকে নিয়ে দুশ্চিন্তা আর হতাশায় আছি। জানি না এখানে করোনা ইউনিটে আইসিইউ বেড পাব কিনা।’

মো. রফিক। অবসরগ্রাপ্ত চাকরিজীবী। কাজ করতেন হাইকোর্টে। তার স্ত্রী আফরোজা বেগম করোন আক্রান্ত। এসেছেন হাসপাতালে একটি বেডের আশায়। ‘আমার স্ত্রীর অক্সিজেনের পরিমাণ কমে গেছে। সে খুব কষ্ট পাচ্ছে। তাই ঢাকা মেডিকেলের করোনা ইউনিটের আইসিইউতে ভর্তি করার আশায় এসেছি। কি যে করি আইসিইউ বেড পাচ্ছি না,’ আক্ষেপ ঝরে পড়লো অসহায় রফিকের কণ্ঠে।

এখন প্রতিদিন, প্রায় সব হাসপাতালের চিত্র এটা। তিনদিন আগেও দেখা গেছে ঢামেক-২এর করোনা ইউনিটের সামনে করোনা আক্রান্ত মুমূর্ষু রোগীদের আইসিইউ বা নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে একটি বেডের জন্য অপেক্ষা করতে দেখা গেছে। ঢাকা মেডিকেলের নিচতলা গেটের সামনে অ্যাম্বুলেন্সের ভিতর শ্বাসকষ্টে অস্থির কামরুজ্জামানকে হাত পাখায় বাতাস করছিলেন তার ছেলে। অসুস্থ কামরুজ্জামানের স্ত্রী সংবাদকে জানান, গত ১১ দিন ধরে ধানমন্ডির রেনেসা হসপিটালে উনি ভর্তি ছিলেন। সেখানে অক্সিজেনের সংকট। তাই তাকে ঢাকা মেডিকেল হাসপাতালের করোনা ইউনিটে নিয়ে এসেছেন ভালো চিকিৎসার আশায়।

একই স্থানে ট্রলিতে শুয়ে শ্বাসকষ্টে ঘন ঘন শ্বাস নিচ্ছেলেন করোনা আক্রান্ত মুমূর্ষু নরসিংদীর শিবপুরের অসুস্থ বৃদ্ধা সুক্তা (৭০)। তার স্বজনরা জানান, রোগীকে নিয়ে প্রায় এক ঘণ্টা ধরে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করছেন ঢাকা মেডিকেলের করোনা ইউনিটে ভর্তি করানোর জন্য। কিন্তু বেড খালি পাচ্ছেন না।

সারাদেশেই হাসপাতালগুলোতে আইসিইউর জন্য চরম হাহাকার চলছে। জেলায় জেলায় আইসিইউর অভাবে শত শত সংকটাপন্ন রোগী আসছে ঢাকায়। ঢাকায় হাসপাতাল থেকে হাসপাতালে ঘুরছে। দেশের ৬৪ জেলার মধ্যে ৩৬টি জেলা হাসপাতাল ও স্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলোতে কোন আইসিইউ নেই। আইসিইউর জন্য রোগী নিয়ে স্বজনরা হাসপাতালের বারান্দায় অপেক্ষার প্রহর গুনছে। কখন একটি বেড খালি পাবেন।

বিশেষজ্ঞরা জানান, করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় দেশে সংকটাপন্ন রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। সংকটাপন্ন রোগীরা কয়েকটি হাসপাতাল ঘুরেও আইসিইউ না পেয়ে অ্যাম্বুলেন্সে মৃত্যুবরণ করছেন এমন ঘটনাও আছে। আইসিইউর অভাবে সমবায় অফিসের একজন চাকরিজীবী প্রাইভেট হাসপাতালে নেয়ার পরপরই মারা যান।

মহাখালী স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল) ডা. ফরিদ হোসেন মিয়া অনেক জেলা হাসপাতালেই আইসিইউ নেই বলে স্বীকার করেছেন। তবে তিনি জানান, সব জেলার পুরো তথ্য তার কাছে নেই। এখন সারাদেশে সাড়ে ৫শ থেকে ৬শ আইসিইউ বেড আছে। সূত্র মতে, গত ১০ দিনে কমপক্ষে ৭শ সংকটাপন্ন রোগী আইসিইউতে ভর্তি হয়েছে।

বিভিন্ন জেলার সিভিল সার্জনরা জানান, যে সব জেলা হাসপাতালে আইসিইউ নেই সেসব জেলার সংকটাপন্ন রোগীরা আইসিইউর জন্য ঢাকায় যাচ্ছেন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য মতে, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে করোনা ওয়ার্ডে আইসিইউ বেড আছে ২০টি। রোগী ভর্তি আছেন ২০ জন। অপেক্ষায় আছেন ২২ জন। মহাখালী সংক্রমণ ব্যাধি হাসপাতালে কোন আইসিইউ বেড নেই। মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আইসিইউ বেড ১৯টি। রোগী আছে গতকাল সকাল পর্যন্ত ১৮ জন। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে করোনা ওয়ার্ডে ২০টি আইসিইউ বেডও পূর্ণ।

মহাখালী শেখ রাসেল গ্যাস্ট্রোলিভার হাসপাতালে আইসিইউ বেড ১৬টি। একটিও খালি নেই। কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে আইসিইউ ১০টি। রোগী ভর্তি আছে ১০ জন। উত্তরা কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালে আইসিইউ বেড ১৬টি, একটিও খালি নেই। ঢাকার স্কয়ার হাসপাতালসহ ১২টি বেসরকারি হাসপাতালে আইসিইউ বেড আছে ৩৭৭টি। সেখানে গতকাল সকাল পর্যন্ত রোগী ভর্তি ছিলেন ৩৭০ জনেরও বেশি। এভাবে সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে আইসিইউ বেডের চরম সংকট চলছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্তমানে আক্রান্তের সংখ্যা যেভাবে বাড়ছে তাতে দিনে কমপক্ষে ১৫০ থেকে ২শ জন পর্যন্ত সংকটাপন্ন রোগী থাকে। তাদের আইসিইউ দরকার হয়। একজন আইসিইউতে ভর্তি হলে সুস্থ হতে সময় লাগে প্রায় এক মাস। বর্তমানে যে পরিস্থিতি চলছে একজন সুস্থ হলে বা মারা গেলে ১০ থেকে ২২ জন ওই আইসিইউ বেড পাওয়ার জন্য তদবির করেন।

স্বাস্থ্য বিভাগের এক তথ্যে জানা গেছে, সারাদেশে সরকারি হাসপাতাল (গেল বছরের হিসেবে) আছে ৬৫৪টি। এরমধ্যে মেডিকেল কলেজ ও স্পেশালাইজড হাসপাতাল ১৪০টি। আর উপজেলা পর্যায়ে আছে ৫১৪টি। এ সব হাসপাতালে বেড সংখ্যা ৫১ হাজার ৩১৬টি। করোনার কারণে গেল বছর ও চলতি বছর হাসপাতাল ও আইসিইউ বাড়ানোর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। তবে তা এখনও আলোর মুখ দেখেনি। অনুমোদন দেয়া হলেও প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত জনবলের অভাবে তা চালু করা কঠিন বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।

রোগ তত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সাবেক প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ডা. মোস্তাক হোসেন বলেন, “আক্রান্ত বাড়ছে। তাদের মধ্যে প্রতিদিন শতকরা একজনের জন্য হলেও আইসিইউ দরকার। জেলা হাসপাতাল থেকে দায় এড়াতে অনেকেই ঢাকায় পাঠিয়ে দেন। এ কারণেও আইসিইউ সংকট বাড়ছে।’ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ডা. শারফুদ্দিন আহমেদ বলেন, দেশের প্রতিটি জেলা হাসপাতালে হাইফ্লো-অক্সিজেনের ব্যবস্থা করা দরকার। একই সঙ্গে কোভিড হাসপাতাল কিংবা ফিল্ড হাসপাতাল বাড়ানো দরকার বলে জানান তিনি ।

এ বিষয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল নাজমুল হক জানান, করোনা আক্রান্ত মুমূর্ষু রোগীদের সুবিধার্থে ঢাকা মেডিকেল হাসপাতালের করোনা ইউনিটে বিশটি আইসিইউ বেড আছে। তা বাড়ানোর সম্ভাবনা নেই। তবে যে সব করোনা আক্রান্ত রোগী হাসপাতালের করোনা ইউনিটে চিকিৎসাধীন আছেন তাদের উন্নত চিকিৎসা ও সেবা দিচ্ছে কর্তব্যরত ডাক্তার ও নার্সরা।