সব রেকর্ড ভেঙে একদিনে মৃত্যু ৮৩

চলতি মাসে করোনায় মৃত্যু ৭৭৬

ফের সাত হাজার অতিক্রম করলো দৈনিক করোনা সংক্রমণ। একদিনে মৃত্যুতেও নয়া রেকর্ড হলো দেশে। এবার ৮৩ জনের মৃত্যুর তথ্য দিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ। সোমবার সকাল ৮টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় সারাদেশে সাত হাজার ২০১ জনের করোনা সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে চলতি মাসেই করোনা সংক্রমণে প্রাণ হারালেন ৭৭৬ জন।

জনস্বাস্থ্যবিদরা বলছেন, সংক্রমণ যত বাড়বে, মৃত্যুও সে অনুপাতে বাড়তে থাকবে। এজন্য মৃত্যু ঠেকাতে সংক্রমণের লাগাম টেনে ধরতে হবে। করোনা আক্রান্ত রোগীদের সংস্পর্শে যারা আসবেন তাদের আইসোলেশন ও কোয়ারেন্টিন নিশ্চিত করতে হবে। সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলাফেরা করতে হবে, অবশ্যই মাস্ক পরতে হবে।

এর আগে ১১ এপ্রিল ৭৮ জনের এবং ১০ এপ্রিল ৭৭ জনের মৃত্যুর খবর দিয়েছিল স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। গত ১ মার্চ থেকে করোনার ‘দ্বিতীয় ঢেউ’ শুরু হয়েছে। এপ্রিলের শুরুতে ভয়ংকর রুপ নিয়েছে সংক্রমণ ও মৃত্যু। গত তিন দিনই মৃত্যুর রেকর্ড ভেঙেছে সংক্রমণ।

গত বছরের ৮ মার্চ দেশে প্রথম করোনা শনাক্তের দশদিন পর ১৮ মার্চ প্রথম একজনের মৃত্যুর তথ্য জানিয়েছিল স্বাস্থ্য বিভাগ। দেশে করোনার ‘প্রথম ঢেউ’র সময় গত বছরের ৩০ জুন একদিনে সর্বোচ্চ ৬৪ জনের মৃত্যুর কথা জানিয়েছিল স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

অর্ধশত থেকে দৈনিক মৃত্যু

একশ’র কাছাকাছি

করোনার ‘দ্বিতীয় ঢেউ’য়ে গত ৩১ মার্চ প্রথম অর্ধশতকের ঘর অতিক্রম করে মৃত্যু। ওইদিন ৫২ জনের মৃত্যুর কথা জানায় স্বাস্থ্য অধিদপ্ততর। এরপর মৃত্যুর সংখ্যা আর নিচে নামেনি। অর্ধশতকের ঘর পেরিয়ে তা এখন প্রায় একশ’র কাছাকাছির দিকে অবস্থান করছে।

গত ১ এপ্রিল থেকে গতকাল পর্যন্ত এই মাসেই মোট ৭৭৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। ১ এপ্রিল করোনায় ৫৯ জনের মৃত্যু হয়েছিল। এরপর ২ এপ্রিল মৃত্যু হয় ৫০ জনের, ৩ এপ্রিল ৫৮ জনের, ৪ এপ্রিল ৫৩ জনের, ৫ এপ্রিল ৫২ জনের, ৬ এপ্রিল ৬৬ জনের, ৭ এপ্রিল ৬৩ জনের, ৮ এপ্রিল ৭৪ জনের, ৯ এপ্রিল ৬৩ জনের, ১০ এপ্রিল ৭৭ জনের, ১১ এপ্রিল ৭৮ জনের এবং ১২ এপ্রিল ৮৩ জনের মৃত্যুর তথ্য জানায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

এ পর্যন্ত দেশে করোনায় মোট ৯ হাজার ৮২২ জনের মৃত্যু হয়েছে।

২৪ ঘণ্টায় ফের শনাক্ত সাত হাজারের ঘরে

গতকাল বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ১২ এপ্রিল সকাল ৮টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় সারাদেশে সাত হাজার ২০১ জনের শরীরে করোনা শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে দেশে মোট শনাক্তের সংখ্যা দাঁড়ালো ছয় লাখ ৯১ হাজার ৯৫৭ জনে।

এর আগে ৪ এপ্রিল দৈনিক শনাক্ত সাত হাজারের ঘর পেরিয়ে যায়। ওইদিন সাত হাজার ৮৭ জনের সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছিল। পরবর্তীতে ৫ এপ্রিল সাত হাজার ৭৫ জন, ৬ এপ্রির সাত হাজার ২১৩ জন, ৭ এপ্রিল একদিনে সর্বোচ্চ সাত হাজার ৬২৭ জন এবং ৯ এপ্রিল সাত হাজার ৪৬২ জনের করোনা শনাক্তের তথ্য জানিয়েছিল স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত একদিনে বাসাবাড়ি ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন চার হাজার ৫২৩ জন করোনা রোগী সুস্থ হয়েছেন। তাদের নিয়ে সুস্থ হওয়া রোগীর সংখ্যা দাঁড়ালো পাঁচ লাখ ৮১ হাজার ১১৩ জনে।

যুক্তরাষ্ট্রের জনস হপকিন্স ইউনিভার্সিটির তালিকায় বিশ্বে করোনা শনাক্তে ৩৩তম স্থানে এবং মৃত্যুর সংখ্যায় ৩৯তম অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ।

গত একদিনে সারাদেশে ২৫৫টি ল্যাবে (পরীক্ষাগার) ৩৪ হাজার ৯৬৮টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। এ পর্যন্ত নমুনা পরীক্ষা হয়েছে ৫০ লাখ ৩৭ হাজার ৮৩৩টি। গত ২৪ ঘণ্টায় নমুনা পরীক্ষা বিবেচনায় ২০ দশমিক ৫৯ শতাংশ মানুষের করোনা শনাক্ত হয়েছে। আর এ পর্যন্ত নমুনা পরীক্ষা বিবেচনায় মোট করোনা শনাক্তের হার ১৩ দশমিক ৭৪ শতাংশ। এ পর্যন্ত শনাক্ত বিবেচনায় সুস্থতার হার ৮৩ দশমিক ৯৮ শতাংশ এবং মৃত্যুর হার ১ দশমিক ৪২ শতাংশ।

গত ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যু হওয়া লোকজনের মধ্যে ৫৪ জন পুরুষ এবং ২৯ জন নারী। আর এ পর্যন্ত মারা যাওয়া মোট লোকজনের মধ্যে সাত হাজার ৩৩৩ জন পুরুষ এবং দুই হাজার ৪৮৯ জন নারী।

করোনায় গতকাল মৃত্যু হওয়া লোকজনের মধ্যে পাঁচজন বাড়িতে, চারজন হাসপাতালে নেয়ার পথে মারা গেছেন। বাকি ৭৪ জনের মৃত্যু হয়েছে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায়।

এর মধ্যে ৫২ জনের বয়স ছিল ৬০ বছরের বেশি, ১৬ জনের বয়স ৫১ থেকে ৬০ বছর, ১১ জনের বয়স ৪১ থেকে ৫০ বছর এবং চারজনের বয়স ছিল ৩১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে।

বিভাগভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, গতকাল মৃত্যু হওয়া লোকজনের মধ্যে ৫৪ জন ঢাকা বিভাগের, ১৭ জন চট্টগ্রাম বিভাগের, তিনজন রাজশাহী বিভাগের, চারজন খুলনা বিভাগের, দু’জন বরিশাল বিভাগের এবং একজন রংপুর বিভাগের বাসিন্দা ছিলেন।

মঙ্গলবার, ১৩ এপ্রিল ২০২১ , ৩০ চৈত্র ১৪২৭ ২৯ শাবান ১৪৪২

সব রেকর্ড ভেঙে একদিনে মৃত্যু ৮৩

চলতি মাসে করোনায় মৃত্যু ৭৭৬

নিজস্ব বার্তা পরিবেশক

image

ফের সাত হাজার অতিক্রম করলো দৈনিক করোনা সংক্রমণ। একদিনে মৃত্যুতেও নয়া রেকর্ড হলো দেশে। এবার ৮৩ জনের মৃত্যুর তথ্য দিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ। সোমবার সকাল ৮টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় সারাদেশে সাত হাজার ২০১ জনের করোনা সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে চলতি মাসেই করোনা সংক্রমণে প্রাণ হারালেন ৭৭৬ জন।

জনস্বাস্থ্যবিদরা বলছেন, সংক্রমণ যত বাড়বে, মৃত্যুও সে অনুপাতে বাড়তে থাকবে। এজন্য মৃত্যু ঠেকাতে সংক্রমণের লাগাম টেনে ধরতে হবে। করোনা আক্রান্ত রোগীদের সংস্পর্শে যারা আসবেন তাদের আইসোলেশন ও কোয়ারেন্টিন নিশ্চিত করতে হবে। সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলাফেরা করতে হবে, অবশ্যই মাস্ক পরতে হবে।

এর আগে ১১ এপ্রিল ৭৮ জনের এবং ১০ এপ্রিল ৭৭ জনের মৃত্যুর খবর দিয়েছিল স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। গত ১ মার্চ থেকে করোনার ‘দ্বিতীয় ঢেউ’ শুরু হয়েছে। এপ্রিলের শুরুতে ভয়ংকর রুপ নিয়েছে সংক্রমণ ও মৃত্যু। গত তিন দিনই মৃত্যুর রেকর্ড ভেঙেছে সংক্রমণ।

গত বছরের ৮ মার্চ দেশে প্রথম করোনা শনাক্তের দশদিন পর ১৮ মার্চ প্রথম একজনের মৃত্যুর তথ্য জানিয়েছিল স্বাস্থ্য বিভাগ। দেশে করোনার ‘প্রথম ঢেউ’র সময় গত বছরের ৩০ জুন একদিনে সর্বোচ্চ ৬৪ জনের মৃত্যুর কথা জানিয়েছিল স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

অর্ধশত থেকে দৈনিক মৃত্যু

একশ’র কাছাকাছি

করোনার ‘দ্বিতীয় ঢেউ’য়ে গত ৩১ মার্চ প্রথম অর্ধশতকের ঘর অতিক্রম করে মৃত্যু। ওইদিন ৫২ জনের মৃত্যুর কথা জানায় স্বাস্থ্য অধিদপ্ততর। এরপর মৃত্যুর সংখ্যা আর নিচে নামেনি। অর্ধশতকের ঘর পেরিয়ে তা এখন প্রায় একশ’র কাছাকাছির দিকে অবস্থান করছে।

গত ১ এপ্রিল থেকে গতকাল পর্যন্ত এই মাসেই মোট ৭৭৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। ১ এপ্রিল করোনায় ৫৯ জনের মৃত্যু হয়েছিল। এরপর ২ এপ্রিল মৃত্যু হয় ৫০ জনের, ৩ এপ্রিল ৫৮ জনের, ৪ এপ্রিল ৫৩ জনের, ৫ এপ্রিল ৫২ জনের, ৬ এপ্রিল ৬৬ জনের, ৭ এপ্রিল ৬৩ জনের, ৮ এপ্রিল ৭৪ জনের, ৯ এপ্রিল ৬৩ জনের, ১০ এপ্রিল ৭৭ জনের, ১১ এপ্রিল ৭৮ জনের এবং ১২ এপ্রিল ৮৩ জনের মৃত্যুর তথ্য জানায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

এ পর্যন্ত দেশে করোনায় মোট ৯ হাজার ৮২২ জনের মৃত্যু হয়েছে।

২৪ ঘণ্টায় ফের শনাক্ত সাত হাজারের ঘরে

গতকাল বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ১২ এপ্রিল সকাল ৮টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় সারাদেশে সাত হাজার ২০১ জনের শরীরে করোনা শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে দেশে মোট শনাক্তের সংখ্যা দাঁড়ালো ছয় লাখ ৯১ হাজার ৯৫৭ জনে।

এর আগে ৪ এপ্রিল দৈনিক শনাক্ত সাত হাজারের ঘর পেরিয়ে যায়। ওইদিন সাত হাজার ৮৭ জনের সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছিল। পরবর্তীতে ৫ এপ্রিল সাত হাজার ৭৫ জন, ৬ এপ্রির সাত হাজার ২১৩ জন, ৭ এপ্রিল একদিনে সর্বোচ্চ সাত হাজার ৬২৭ জন এবং ৯ এপ্রিল সাত হাজার ৪৬২ জনের করোনা শনাক্তের তথ্য জানিয়েছিল স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত একদিনে বাসাবাড়ি ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন চার হাজার ৫২৩ জন করোনা রোগী সুস্থ হয়েছেন। তাদের নিয়ে সুস্থ হওয়া রোগীর সংখ্যা দাঁড়ালো পাঁচ লাখ ৮১ হাজার ১১৩ জনে।

যুক্তরাষ্ট্রের জনস হপকিন্স ইউনিভার্সিটির তালিকায় বিশ্বে করোনা শনাক্তে ৩৩তম স্থানে এবং মৃত্যুর সংখ্যায় ৩৯তম অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ।

গত একদিনে সারাদেশে ২৫৫টি ল্যাবে (পরীক্ষাগার) ৩৪ হাজার ৯৬৮টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। এ পর্যন্ত নমুনা পরীক্ষা হয়েছে ৫০ লাখ ৩৭ হাজার ৮৩৩টি। গত ২৪ ঘণ্টায় নমুনা পরীক্ষা বিবেচনায় ২০ দশমিক ৫৯ শতাংশ মানুষের করোনা শনাক্ত হয়েছে। আর এ পর্যন্ত নমুনা পরীক্ষা বিবেচনায় মোট করোনা শনাক্তের হার ১৩ দশমিক ৭৪ শতাংশ। এ পর্যন্ত শনাক্ত বিবেচনায় সুস্থতার হার ৮৩ দশমিক ৯৮ শতাংশ এবং মৃত্যুর হার ১ দশমিক ৪২ শতাংশ।

গত ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যু হওয়া লোকজনের মধ্যে ৫৪ জন পুরুষ এবং ২৯ জন নারী। আর এ পর্যন্ত মারা যাওয়া মোট লোকজনের মধ্যে সাত হাজার ৩৩৩ জন পুরুষ এবং দুই হাজার ৪৮৯ জন নারী।

করোনায় গতকাল মৃত্যু হওয়া লোকজনের মধ্যে পাঁচজন বাড়িতে, চারজন হাসপাতালে নেয়ার পথে মারা গেছেন। বাকি ৭৪ জনের মৃত্যু হয়েছে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায়।

এর মধ্যে ৫২ জনের বয়স ছিল ৬০ বছরের বেশি, ১৬ জনের বয়স ৫১ থেকে ৬০ বছর, ১১ জনের বয়স ৪১ থেকে ৫০ বছর এবং চারজনের বয়স ছিল ৩১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে।

বিভাগভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, গতকাল মৃত্যু হওয়া লোকজনের মধ্যে ৫৪ জন ঢাকা বিভাগের, ১৭ জন চট্টগ্রাম বিভাগের, তিনজন রাজশাহী বিভাগের, চারজন খুলনা বিভাগের, দু’জন বরিশাল বিভাগের এবং একজন রংপুর বিভাগের বাসিন্দা ছিলেন।