চৈত্র সংক্রান্তি

রুকাইয়া মিজান মিমি

প্রকৃতি থেকে ধীরে ধীরে বসন্ত বিদায় নিচ্ছে, আর চুপিসারে ঘটছে গ্রীষ্মের অনুপ্রবেশ। ঠিক এ সময়টিতেই বসন্তের শেষদিনে বাংলার ঘরে-ঘরে পালিত হয় চৈত্র সংক্রান্তি। যুগ যুগ ধরে পালিত এ দিনটিকে বাঙালি যেন আপন মাধুর্যে ভরিয়ে তোলে। এ যেন বাঙালির এক প্রাণের উৎসব। নিজস্ব জাতিসত্তার পরিচয় ফুটিয়ে তুলতে জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে এমন অনুষ্ঠানের কোনো জুড়ি নেই।

পবিত্র স্নান, উপবাস, দান-দক্ষিণা ও সাংস্কৃতিক আয়োজন এর মধ্য দিওয় পালিত হয়ে আসছে এই উৎসবটি। মূলত সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে এ দিনটির তাৎপর্য একটু বেশি পরিলক্ষিত হয়। এই দিনে তারা নীল পুজো পালন করে থাকে। গ্রামে-গ্রামে পালিত হয় গাজন উৎসব। এ উৎসবটি বুঝি কৃষকদেরই প্রাণের কথা বলে। গ্রীষ্মের কাঠফাটা রোদে মাঠে কাজ করতে হয় তাদের। ঘাম ঝরানো এ মুহূর্তটি খুবই কষ্টদায়ক। তাই তারা এর থেকে মুক্তির জন্য সেই প্রাগৈতিহাসিক সময় গ্রীষ্ম রোদের তেজকে কমানোর জন্যই এই গাজনের আয়োজন করে থাকে। পথে-ঘাটে পালিত হয় রং-বেরঙের মেলা। শিশুদের মাঝে আনন্দের ঢল নামে।

এদিনটিকে ঘিরে লোকাচারেরও কমতি নেই। কথিত রয়েছে- এমন দিনে কোনো আত্মীয়কে বাড়ি থেকে দেয়া যাবে না, এতে গৃহস্থের অমঙ্গল হয়। এছাড়া এ দিনে হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা স্নান সেরে সংস্কৃতির মধ্য দিয়ে ব্রত পালন করে অসহায়দের দান করে। তাদের বিশ্বাস এতে অনেক পূণ্য। এছাড়া এর মধ্য দিয়ে তারা দীনতা থেকেও মুক্তি লাভ করে। এছাড়াও সব দূরাশা, অশুভ, দুঃখ-গ্লানিকে ভুলে এই দিন প্রতিটি বাঙালি যেন নতুনত্বের স্বপ্ন বুনতে শুরু করে। তাদের দুই চোখে লেগে থাকে নতুন বছরকে বরণ এর উদগ্রীবতা। বৈশাখে শুভর আগমন ধ্বনিতে তারা প্রত্যাশার প্রহর গুনে।

তবে গত বছর থেকে করোনা মহামারির প্রভাবে যেন খানিকটা ফাটল ধরেছে এ উৎসবগুলোতে। আর যত্রতত্র মেলা চোখে পড়ছে না, নেই মানুষের মাঝে আনন্দধ্বনি। করোনা থেকে বাঁচার তাগিদ তাদের আড়ষ্ট করে রেখেছে। সরকার কঠোর আদেশের প্রভাবে জনবহুল অনুষ্ঠানগুলোও পালিত হচ্ছে না। এ যেন এক দুঃসময় এর দীর্ঘশ্বাস! তবে এ বছর চৈত্র সংক্রান্তিতে প্রত্যাশা- বৈশাখ যেন সুখের বার্তা নিয়ে আসে বাঙালির জন্য। করোনাভাইরাসসহ সব অশুভকে দূরে ঠেলে যেন আশীর্বাদপুষ্ট হয় বাংলার প্রত্যেকটি ঘর।

[লেখক : শিক্ষার্থী, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়]

মঙ্গলবার, ১৩ এপ্রিল ২০২১ , ৩০ চৈত্র ১৪২৭ ২৯ শাবান ১৪৪২

চৈত্র সংক্রান্তি

রুকাইয়া মিজান মিমি

প্রকৃতি থেকে ধীরে ধীরে বসন্ত বিদায় নিচ্ছে, আর চুপিসারে ঘটছে গ্রীষ্মের অনুপ্রবেশ। ঠিক এ সময়টিতেই বসন্তের শেষদিনে বাংলার ঘরে-ঘরে পালিত হয় চৈত্র সংক্রান্তি। যুগ যুগ ধরে পালিত এ দিনটিকে বাঙালি যেন আপন মাধুর্যে ভরিয়ে তোলে। এ যেন বাঙালির এক প্রাণের উৎসব। নিজস্ব জাতিসত্তার পরিচয় ফুটিয়ে তুলতে জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে এমন অনুষ্ঠানের কোনো জুড়ি নেই।

পবিত্র স্নান, উপবাস, দান-দক্ষিণা ও সাংস্কৃতিক আয়োজন এর মধ্য দিওয় পালিত হয়ে আসছে এই উৎসবটি। মূলত সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে এ দিনটির তাৎপর্য একটু বেশি পরিলক্ষিত হয়। এই দিনে তারা নীল পুজো পালন করে থাকে। গ্রামে-গ্রামে পালিত হয় গাজন উৎসব। এ উৎসবটি বুঝি কৃষকদেরই প্রাণের কথা বলে। গ্রীষ্মের কাঠফাটা রোদে মাঠে কাজ করতে হয় তাদের। ঘাম ঝরানো এ মুহূর্তটি খুবই কষ্টদায়ক। তাই তারা এর থেকে মুক্তির জন্য সেই প্রাগৈতিহাসিক সময় গ্রীষ্ম রোদের তেজকে কমানোর জন্যই এই গাজনের আয়োজন করে থাকে। পথে-ঘাটে পালিত হয় রং-বেরঙের মেলা। শিশুদের মাঝে আনন্দের ঢল নামে।

এদিনটিকে ঘিরে লোকাচারেরও কমতি নেই। কথিত রয়েছে- এমন দিনে কোনো আত্মীয়কে বাড়ি থেকে দেয়া যাবে না, এতে গৃহস্থের অমঙ্গল হয়। এছাড়া এ দিনে হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা স্নান সেরে সংস্কৃতির মধ্য দিয়ে ব্রত পালন করে অসহায়দের দান করে। তাদের বিশ্বাস এতে অনেক পূণ্য। এছাড়া এর মধ্য দিয়ে তারা দীনতা থেকেও মুক্তি লাভ করে। এছাড়াও সব দূরাশা, অশুভ, দুঃখ-গ্লানিকে ভুলে এই দিন প্রতিটি বাঙালি যেন নতুনত্বের স্বপ্ন বুনতে শুরু করে। তাদের দুই চোখে লেগে থাকে নতুন বছরকে বরণ এর উদগ্রীবতা। বৈশাখে শুভর আগমন ধ্বনিতে তারা প্রত্যাশার প্রহর গুনে।

তবে গত বছর থেকে করোনা মহামারির প্রভাবে যেন খানিকটা ফাটল ধরেছে এ উৎসবগুলোতে। আর যত্রতত্র মেলা চোখে পড়ছে না, নেই মানুষের মাঝে আনন্দধ্বনি। করোনা থেকে বাঁচার তাগিদ তাদের আড়ষ্ট করে রেখেছে। সরকার কঠোর আদেশের প্রভাবে জনবহুল অনুষ্ঠানগুলোও পালিত হচ্ছে না। এ যেন এক দুঃসময় এর দীর্ঘশ্বাস! তবে এ বছর চৈত্র সংক্রান্তিতে প্রত্যাশা- বৈশাখ যেন সুখের বার্তা নিয়ে আসে বাঙালির জন্য। করোনাভাইরাসসহ সব অশুভকে দূরে ঠেলে যেন আশীর্বাদপুষ্ট হয় বাংলার প্রত্যেকটি ঘর।

[লেখক : শিক্ষার্থী, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়]