গ্রামমুখী মানুষের ঢল

দূরপাল্লার পরিবহন নেই : নানা দুর্ভোগে যাত্রা

যাত্রাবাড়ী ফ্লাইওভারের নিচের রাস্তায় চায়ের দোকান চালাতেন ইসমাইল আলী। তিনি বলছিলেন, ঘরবাড়ি না থাকলেও রাস্তায় থাকা যায়। কিন্তু পেটে ক্ষুধা থাকলে থাকা যায় না।

তিনি বলেন, ‘যাত্রাবাড়ী ফ্লাইওভারের নিচের রাস্তায় একটি চায়ের দোকান করে পরিবার চালাতাম। কাল থেকে সবকিছু বন্ধ। দোকান বন্ধ থাকলে তো পরিবার চলবে না। তাই বাড়ির উদ্দেশে রওনা দিয়েছি।

আরিচা ও পাটুরিয়া ঘাটের যাত্রী আবুল বাশার, সালাউদ্দিন, সুমন মিয়া, শহিদুল আসলাম, আলী হোসেন, নিলুফা, মনিকা, লতা আকতার, জুলেখা বেগম ও একই কথা বলছিলেন। তারা বলেন, শহরে থেকে কী খাব? কোন উপায়ে খাবার জোগাড় করব? লকডাউনের কারণে কাজ-কর্ম বন্ধ থাকবে। এ অবস্থায় খাবার জোগাড় করা আমাদের পক্ষে সম্ভব হবে না তাই নিরুপায় হয়ে বাড়ি যাচ্ছি। কপালে যা থাকে তাই হবে।

ঘরমুখো একাধিক যাত্রী জানান, তারা শ্রমজীবী। লকডাউনে কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। এমন পরিস্থিতিতে গ্রামে চলে যাচ্ছেন। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে আবার ঢাকায় ফিরবেন।

কঠোর নিষেধাজ্ঞার আগের দিন গতকাল রাজধানী থেকে গ্রামে ফিরতে সড়কে, পথে-ঘাটে মানুষের ঢল নামে। জীবনের ঝুঁঁকি নিয়ে ট্রাক, পিকআপ, প্রাইভেটকার, ভাড়ায়চালিত মাইক্রোবাস, মোটরসাইকেলে যে যার মতো করে এসব মানুষ গ্রামের উদ্দেশে রওনা দেন। এ সুযোগে নির্ধারিত ভাড়ার দ্বিগুণ আদায় করে পরিবহন সংশ্লিষ্টরা। বাড়ি ফেরার তাড়ায় স্বাস্থ্যবিধি মানতে দেখা যায়নি। অনেকের মুখেই মাস্ক ছিল না।

দূরপাল্লার গণপরিবহন বন্ধ থাকলেও গতকাল বিভিন্ন উপায়ে কয়েক লাখ মানুষ ঢাকা ছেড়েছেন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। মূলত কর্মহীন হয়ে পড়া মানুষ অর্থকষ্ট এড়াতে ঢাকা ছেড়েছেন। বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও ঢাকা ছেড়েছেন। কঠোর নিষেধাজ্ঞায় সরকারি-বেসরকারি সব ধরনের অফিস বন্ধ থাকবে। জরুরি পণ্য বহনকারী গাড়ি ছাড়া সব ধরনের গাড়িও বন্ধ থাকবে। লকডাউন এক সপ্তাহের জন্য দেয়া হলেও পরিস্থিতি বিবেচনায় এ সময় আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।

গতকাল রাজধানী থেকে বের হওয়া পয়েন্টগুলোতে দেখা গেছে, ঘরমুখো মানুষের ভিড় অন্যদিনের চেয়ে বেশি। গতকাল সকালে সায়েদাবাদ রেলগেট থেকে জনপথ মোড় পর্যন্ত ঘরমুখো মানুষের ভিড় দেখা গেছে। শুধু সায়েদাবাদই নয়, উত্তরা, মহাখালী, গাবতলী, যাত্রাবাড়ী, গুলিস্তানসহ বিভিন্ন বাস টার্মিনালে ঘরমুখো মানুষের উপচে পড়া ভিড় ছিল। কার আগে কে গাড়িতে উঠবে এ নিয়েও ছিল ঠেলাঠেলি। কোন কোন গণপরিবহন পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে ঢাকার আশপাশের জেলাগুলোতে যাত্রী পরিবহন করেছে।

যাত্রাবাড়ী থেকে শনিরআখড়া পর্যন্ত সড়কের বিভিন্ন স্থানে কুমিল্লা, নোয়াখালী, ফেনী, সিলেট, চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন জেলার উদ্দেশে ট্রাকযোগে মানুষ গেছেন। একই চিত্র শ্যামলী থেকে কল্যাণপুর, গাবতলী থেকে সাভার সড়কে। সড়কটির আমিনবাজার ব্রিজ এলাকায় ঘরমুখো মানুষের ভিড় দেখা গেছে। এসব সড়কে তীব্র যানজট দেখা গেছে।

সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব খন্দকার এনায়েত উল্যাহ বলেন, ‘সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী গতকাল পর্যন্ত শুধু দেশের সিটি করপোরেশন এলাকাগুলোতে গণপরিবহন চলেছে। দূরপাল্লার কোন বাস চলেনি। তাদের কোন ?দূরপাল্লার গণপরিবহন চলাচল করেনি। অনেক যাত্রী ঝুঁঁকি নিয়ে ট্রাক, মিনিট্রাক, মাইক্রোবাস ও মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন উপায়ে ঢাকা ছাড়ার খবর পেয়েছেন তারা। এ বিষয়ে তাদের কিছুই করার ছিল না। সেটা নিয়ন্ত্রণ করার দায়িত্ব আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর।

শিবালয় (মানিকগঞ্জ) প্রতিনিধি জানান, গত দুইদিন ধরে বাড়তি যানবাহনের চাপ এবং বাড়ি ফেরা মানুষের উপচে পড়া ভিড় ছিল আরিচা ও পাটুরিয়া ঘাটে। জনগণের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। ফেরি ও ট্রলার ঘাটে উপেক্ষিত ছিল স্বাস্থ্যবিধি।

আরিচা ও পাটুরিয়া ঘাটে  যাত্রী ও যানবাহনের অত্যাধিক চাপ পড়েছে। এই সুযোগে পরিবহন শ্রমিকরা যাত্রীদের নিকট থেকে নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে ৫/৭ গুণ অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বেশ কিছু যাত্রীবাহী বাস আটক করে। গন্তব্যমুখী নিরুপায় যাত্রীরা ৬/৭ মাইল হেঁটে আরিচা ও পাটুরিয়া ঘাটে পৌঁছায়। ভ্যাপসা গরমে বৃদ্ধ-শিশু ও নারীদের অনেকেই ঘাটে এসে ক্লান্ত ও অসুস্থ হয়ে পড়েন। 

আরিচা ও পাটুরিয়া ঘাট ঘুরে দেখা গেছে, দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের যাত্রীরা ফেরি এবং ফেরি না পেলে অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে  ট্রলারযোগে নদী পারাপার হয়।

যাত্রী আবুল বাশার, সালাউদ্দিন, সুমন মিয়া, শহিদুল আসলাম, আলী হোসেন, নিলুফা, মনিকা, লতা আকতার, জুলেখা বেগমসহ শতাধিক যাত্রী জানিয়েছেন, শহরে থেকে কী খাব? কোন উপায়ে খাবার জোগাড় করব? লকডাউনের কারণে কাজ-কর্ম বন্ধ থাকবে। এ অবস্থায় খাবার জোগাড় করা আমাদের পক্ষে সম্ভব হবে না তাই নিরুপায় হয়ে বাড়ি যাচ্ছি। কপালে যা থাকে তাই হবে।

শিবচর (মাদারীপুর) প্রতিনিধি জানান, সর্বাত্মক লকডাউনের ঘোষণায় ঢাকা থেকে দক্ষিণাঞ্চলের বাড়ি ফিরছেন কর্মহীন হয়ে পড়া হাজারো নি¤œবিত্ত। শিমুলিয়া-বাংলাবাজার নৌরুটে ঘরমুখী যাত্রীদের ঢল নামে মঙ্গলবার সকাল থেকেই। লঞ্চ বন্ধ থাকলেও ফেরি, স্পিডবোট, ট্রলারে হাজার হাজার যাত্রী বাড়তি ভাড়া গুনে গাদাগাদি, ঠাসাঠাসি করে পারাপার হয়।

শিমুলিয়া থেকে বাংলাবাজার ঘাটে আসা প্রতিটি ফেরি ছিল যাত্রী কানায় কানায় পরিপূর্ণ। যাত্রী চাপে যানবাহন কম নিয়েই পার হতে বাধ্য হয় ফেরিগুলো। লঞ্চ বন্ধ থাকলেও প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে শিমুলিয়া ঘাট থেকে ছেড়ে আসা স্পিডবোট ও ট্রলারে পারাপার হয় শতশত যাত্রী। ঘাট এলাকায় এসে বাস, মাইক্রোবাস, ইজিবাইক, সিএনজি, মোটরসাইকেলসহ বিকল্প যানবাহনে দ্বিগুণ-তিনগুণ ভাড়া দিয়ে গন্তব্যে পৌঁছেন। ঢাকা থেকে দক্ষিণাঞ্চলের জেলাগুলোতে পৌঁছাতে ৪ গুণেরও বেশি ভাড়া পড়ে। ঢাকা থেকে ৩-৪ গুণ ভাড়া গুনে শিমুলিয়া থেকে স্পিডবোটে ভাড়া যাত্রীপ্রতি নেয়া হয় ৪শ-৫শ’ টাকা, ট্রলারে ভাড়া নেয়া হচ্ছে দেড়শ’-২শ’ টাকা। ঘাটে নেমে বাসে, ইজিবাইক, সিএনজি, মোটরসাইকেলে বরিশালে ৫শ’-৬শ’ টাকা, গোপালগঞ্জ ৫শ’ টাকা, খুলনা ৭শ’ টাকা, মাদারীপুর ২শ’ টাকা, বাগেরহাট ৬শ’৫০ টাকাসহ প্রতিটি যানবাহনেই কয়েকগুণ ভাড়া আদায় করা হয়।

বুধবার, ১৪ এপ্রিল ২০২১ , ১ বৈশাখ ১৪২৮ ১ রমজান ১৪৪২

গ্রামমুখী মানুষের ঢল

দূরপাল্লার পরিবহন নেই : নানা দুর্ভোগে যাত্রা

নিজস্ব বার্তা পরিবেশক |

image

ঈদের ছুটি নয়, লকডাউনের আগের দিন ঘাটে ঘাটে, ফেরি, স্পিডবোট, ইঞ্জিনচালিত নৌকায় আর সড়কে ট্রাকে ঠাসাঠাসি করে ঝুঁকি নিয়ে চলছে গ্রামমুখী মানুষ। গতকাল মাওয়া ঘাটের চিত্র -সোহরাব আলম

যাত্রাবাড়ী ফ্লাইওভারের নিচের রাস্তায় চায়ের দোকান চালাতেন ইসমাইল আলী। তিনি বলছিলেন, ঘরবাড়ি না থাকলেও রাস্তায় থাকা যায়। কিন্তু পেটে ক্ষুধা থাকলে থাকা যায় না।

তিনি বলেন, ‘যাত্রাবাড়ী ফ্লাইওভারের নিচের রাস্তায় একটি চায়ের দোকান করে পরিবার চালাতাম। কাল থেকে সবকিছু বন্ধ। দোকান বন্ধ থাকলে তো পরিবার চলবে না। তাই বাড়ির উদ্দেশে রওনা দিয়েছি।

আরিচা ও পাটুরিয়া ঘাটের যাত্রী আবুল বাশার, সালাউদ্দিন, সুমন মিয়া, শহিদুল আসলাম, আলী হোসেন, নিলুফা, মনিকা, লতা আকতার, জুলেখা বেগম ও একই কথা বলছিলেন। তারা বলেন, শহরে থেকে কী খাব? কোন উপায়ে খাবার জোগাড় করব? লকডাউনের কারণে কাজ-কর্ম বন্ধ থাকবে। এ অবস্থায় খাবার জোগাড় করা আমাদের পক্ষে সম্ভব হবে না তাই নিরুপায় হয়ে বাড়ি যাচ্ছি। কপালে যা থাকে তাই হবে।

ঘরমুখো একাধিক যাত্রী জানান, তারা শ্রমজীবী। লকডাউনে কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। এমন পরিস্থিতিতে গ্রামে চলে যাচ্ছেন। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে আবার ঢাকায় ফিরবেন।

কঠোর নিষেধাজ্ঞার আগের দিন গতকাল রাজধানী থেকে গ্রামে ফিরতে সড়কে, পথে-ঘাটে মানুষের ঢল নামে। জীবনের ঝুঁঁকি নিয়ে ট্রাক, পিকআপ, প্রাইভেটকার, ভাড়ায়চালিত মাইক্রোবাস, মোটরসাইকেলে যে যার মতো করে এসব মানুষ গ্রামের উদ্দেশে রওনা দেন। এ সুযোগে নির্ধারিত ভাড়ার দ্বিগুণ আদায় করে পরিবহন সংশ্লিষ্টরা। বাড়ি ফেরার তাড়ায় স্বাস্থ্যবিধি মানতে দেখা যায়নি। অনেকের মুখেই মাস্ক ছিল না।

দূরপাল্লার গণপরিবহন বন্ধ থাকলেও গতকাল বিভিন্ন উপায়ে কয়েক লাখ মানুষ ঢাকা ছেড়েছেন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। মূলত কর্মহীন হয়ে পড়া মানুষ অর্থকষ্ট এড়াতে ঢাকা ছেড়েছেন। বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও ঢাকা ছেড়েছেন। কঠোর নিষেধাজ্ঞায় সরকারি-বেসরকারি সব ধরনের অফিস বন্ধ থাকবে। জরুরি পণ্য বহনকারী গাড়ি ছাড়া সব ধরনের গাড়িও বন্ধ থাকবে। লকডাউন এক সপ্তাহের জন্য দেয়া হলেও পরিস্থিতি বিবেচনায় এ সময় আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।

গতকাল রাজধানী থেকে বের হওয়া পয়েন্টগুলোতে দেখা গেছে, ঘরমুখো মানুষের ভিড় অন্যদিনের চেয়ে বেশি। গতকাল সকালে সায়েদাবাদ রেলগেট থেকে জনপথ মোড় পর্যন্ত ঘরমুখো মানুষের ভিড় দেখা গেছে। শুধু সায়েদাবাদই নয়, উত্তরা, মহাখালী, গাবতলী, যাত্রাবাড়ী, গুলিস্তানসহ বিভিন্ন বাস টার্মিনালে ঘরমুখো মানুষের উপচে পড়া ভিড় ছিল। কার আগে কে গাড়িতে উঠবে এ নিয়েও ছিল ঠেলাঠেলি। কোন কোন গণপরিবহন পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে ঢাকার আশপাশের জেলাগুলোতে যাত্রী পরিবহন করেছে।

যাত্রাবাড়ী থেকে শনিরআখড়া পর্যন্ত সড়কের বিভিন্ন স্থানে কুমিল্লা, নোয়াখালী, ফেনী, সিলেট, চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন জেলার উদ্দেশে ট্রাকযোগে মানুষ গেছেন। একই চিত্র শ্যামলী থেকে কল্যাণপুর, গাবতলী থেকে সাভার সড়কে। সড়কটির আমিনবাজার ব্রিজ এলাকায় ঘরমুখো মানুষের ভিড় দেখা গেছে। এসব সড়কে তীব্র যানজট দেখা গেছে।

সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব খন্দকার এনায়েত উল্যাহ বলেন, ‘সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী গতকাল পর্যন্ত শুধু দেশের সিটি করপোরেশন এলাকাগুলোতে গণপরিবহন চলেছে। দূরপাল্লার কোন বাস চলেনি। তাদের কোন ?দূরপাল্লার গণপরিবহন চলাচল করেনি। অনেক যাত্রী ঝুঁঁকি নিয়ে ট্রাক, মিনিট্রাক, মাইক্রোবাস ও মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন উপায়ে ঢাকা ছাড়ার খবর পেয়েছেন তারা। এ বিষয়ে তাদের কিছুই করার ছিল না। সেটা নিয়ন্ত্রণ করার দায়িত্ব আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর।

শিবালয় (মানিকগঞ্জ) প্রতিনিধি জানান, গত দুইদিন ধরে বাড়তি যানবাহনের চাপ এবং বাড়ি ফেরা মানুষের উপচে পড়া ভিড় ছিল আরিচা ও পাটুরিয়া ঘাটে। জনগণের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। ফেরি ও ট্রলার ঘাটে উপেক্ষিত ছিল স্বাস্থ্যবিধি।

আরিচা ও পাটুরিয়া ঘাটে  যাত্রী ও যানবাহনের অত্যাধিক চাপ পড়েছে। এই সুযোগে পরিবহন শ্রমিকরা যাত্রীদের নিকট থেকে নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে ৫/৭ গুণ অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বেশ কিছু যাত্রীবাহী বাস আটক করে। গন্তব্যমুখী নিরুপায় যাত্রীরা ৬/৭ মাইল হেঁটে আরিচা ও পাটুরিয়া ঘাটে পৌঁছায়। ভ্যাপসা গরমে বৃদ্ধ-শিশু ও নারীদের অনেকেই ঘাটে এসে ক্লান্ত ও অসুস্থ হয়ে পড়েন। 

আরিচা ও পাটুরিয়া ঘাট ঘুরে দেখা গেছে, দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের যাত্রীরা ফেরি এবং ফেরি না পেলে অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে  ট্রলারযোগে নদী পারাপার হয়।

যাত্রী আবুল বাশার, সালাউদ্দিন, সুমন মিয়া, শহিদুল আসলাম, আলী হোসেন, নিলুফা, মনিকা, লতা আকতার, জুলেখা বেগমসহ শতাধিক যাত্রী জানিয়েছেন, শহরে থেকে কী খাব? কোন উপায়ে খাবার জোগাড় করব? লকডাউনের কারণে কাজ-কর্ম বন্ধ থাকবে। এ অবস্থায় খাবার জোগাড় করা আমাদের পক্ষে সম্ভব হবে না তাই নিরুপায় হয়ে বাড়ি যাচ্ছি। কপালে যা থাকে তাই হবে।

শিবচর (মাদারীপুর) প্রতিনিধি জানান, সর্বাত্মক লকডাউনের ঘোষণায় ঢাকা থেকে দক্ষিণাঞ্চলের বাড়ি ফিরছেন কর্মহীন হয়ে পড়া হাজারো নি¤œবিত্ত। শিমুলিয়া-বাংলাবাজার নৌরুটে ঘরমুখী যাত্রীদের ঢল নামে মঙ্গলবার সকাল থেকেই। লঞ্চ বন্ধ থাকলেও ফেরি, স্পিডবোট, ট্রলারে হাজার হাজার যাত্রী বাড়তি ভাড়া গুনে গাদাগাদি, ঠাসাঠাসি করে পারাপার হয়।

শিমুলিয়া থেকে বাংলাবাজার ঘাটে আসা প্রতিটি ফেরি ছিল যাত্রী কানায় কানায় পরিপূর্ণ। যাত্রী চাপে যানবাহন কম নিয়েই পার হতে বাধ্য হয় ফেরিগুলো। লঞ্চ বন্ধ থাকলেও প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে শিমুলিয়া ঘাট থেকে ছেড়ে আসা স্পিডবোট ও ট্রলারে পারাপার হয় শতশত যাত্রী। ঘাট এলাকায় এসে বাস, মাইক্রোবাস, ইজিবাইক, সিএনজি, মোটরসাইকেলসহ বিকল্প যানবাহনে দ্বিগুণ-তিনগুণ ভাড়া দিয়ে গন্তব্যে পৌঁছেন। ঢাকা থেকে দক্ষিণাঞ্চলের জেলাগুলোতে পৌঁছাতে ৪ গুণেরও বেশি ভাড়া পড়ে। ঢাকা থেকে ৩-৪ গুণ ভাড়া গুনে শিমুলিয়া থেকে স্পিডবোটে ভাড়া যাত্রীপ্রতি নেয়া হয় ৪শ-৫শ’ টাকা, ট্রলারে ভাড়া নেয়া হচ্ছে দেড়শ’-২শ’ টাকা। ঘাটে নেমে বাসে, ইজিবাইক, সিএনজি, মোটরসাইকেলে বরিশালে ৫শ’-৬শ’ টাকা, গোপালগঞ্জ ৫শ’ টাকা, খুলনা ৭শ’ টাকা, মাদারীপুর ২শ’ টাকা, বাগেরহাট ৬শ’৫০ টাকাসহ প্রতিটি যানবাহনেই কয়েকগুণ ভাড়া আদায় করা হয়।