ধর্মের নামে সাম্প্রদায়িক রাজনীতি পরিহার করতে হবে

ভাষা, সংস্কৃতি, সাহিত্য কিংবা খাদ্যাভ্যাসে মিল না থাকা সত্ত্বেও ১৯৪৭ সালে হাজার মাইল দূরত্বের দুটি ভূখণ্ড একসাথে জুড়ে দেয়া হয়েছিল ধর্মের ভিত্তিতে। দ্বি-জাতিতত্ত্বের ভিত্তিতে দেশভাগ বাঙালির জীবনে সুখ বয়ে আনতে পারেনি। রাজনৈতিক বৈষম্য, ভাষাগত বৈষম্য, চাকরির বাজারে বৈষম্যের স্বীকার হয়ে যখনই বাংলার মানুষ ন্যায্য অধিকার চেয়েছে, স্বাধীনতা চেয়েছে তখনই পশ্চিম পাকিস্তান ও তাদের দোসররা ইসলাম গেল, পাকিস্তান গেল বলে মায়াকান্না করেছে। যারা ধর্মের কথা বলে অধর্ম করছে, তারা আমাদের আপনজন নয়, এটি বুঝতে বাঙালির সময় লাগেনি। সশস্ত্র সংগ্রামের মাধ্যমে পাকিস্তানের সাম্প্রদায়িক অপশক্তিকে পরাজিত করে লাল-সবুজের পতাকা পেয়েছি আমরা। দেশ স্বাধীন হবার পর, ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের ভাষণে বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, বাংলাদেশ হবে ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র। বাংলাদেশে থাকবে সমাজতন্ত্র ব্যবস্থা। আর কেউ যেন ধর্মকে রাজনীতির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে না পারে, ধর্মের নামে কেউ যেন ব্যবসা করতে না পারে, ধর্মের নামে কেউ যেন নিপীড়ন, নির্যাতন, বৈষম্য করতে না পরে সেই লক্ষ্যে ধর্মনিরপেক্ষতাবাদকে সংবিধানের মূলনীতি করেন বঙ্গবন্ধু। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার পর বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার অন্যতম ভিত্তি ধর্মনিরপেক্ষতাকে সংবিধান থেকে মুছে ফেলা হয়েছিল। ২০১০ সালে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ আদালত সংবিধানের পঞ্চম সংশোধনী অবৈধ ঘোষণা করে এবং ধর্মনিরপেক্ষতাকে সংবিধানের মূলনীতি হিসেবে পুনঃপ্রতিষ্ঠা করে।

শহীদের আত্মত্যাগ ভুলে গেলে চলবে না। ধর্মের নামে সাম্প্রদায়িক রাজনীতি পরিহার করতে হবে। বঙ্গবন্ধুর অসাম্প্রদায়িক, ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র বিনির্মাণের স্বপ্ন বাস্তবায়নে ধর্মীয় সম্প্রীতির সুরে দেশের গান গাইতে হবে। মনে রাখতে হবে, ধর্মের নামে অধর্মের কাছে বাংলাদেশ আগেও হারেনি, আজও হারবে না।

ওমর ফারুক

বুধবার, ১৪ এপ্রিল ২০২১ , ১ বৈশাখ ১৪২৮ ১ রমজান ১৪৪২

ধর্মের নামে সাম্প্রদায়িক রাজনীতি পরিহার করতে হবে

image

ভাষা, সংস্কৃতি, সাহিত্য কিংবা খাদ্যাভ্যাসে মিল না থাকা সত্ত্বেও ১৯৪৭ সালে হাজার মাইল দূরত্বের দুটি ভূখণ্ড একসাথে জুড়ে দেয়া হয়েছিল ধর্মের ভিত্তিতে। দ্বি-জাতিতত্ত্বের ভিত্তিতে দেশভাগ বাঙালির জীবনে সুখ বয়ে আনতে পারেনি। রাজনৈতিক বৈষম্য, ভাষাগত বৈষম্য, চাকরির বাজারে বৈষম্যের স্বীকার হয়ে যখনই বাংলার মানুষ ন্যায্য অধিকার চেয়েছে, স্বাধীনতা চেয়েছে তখনই পশ্চিম পাকিস্তান ও তাদের দোসররা ইসলাম গেল, পাকিস্তান গেল বলে মায়াকান্না করেছে। যারা ধর্মের কথা বলে অধর্ম করছে, তারা আমাদের আপনজন নয়, এটি বুঝতে বাঙালির সময় লাগেনি। সশস্ত্র সংগ্রামের মাধ্যমে পাকিস্তানের সাম্প্রদায়িক অপশক্তিকে পরাজিত করে লাল-সবুজের পতাকা পেয়েছি আমরা। দেশ স্বাধীন হবার পর, ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের ভাষণে বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, বাংলাদেশ হবে ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র। বাংলাদেশে থাকবে সমাজতন্ত্র ব্যবস্থা। আর কেউ যেন ধর্মকে রাজনীতির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে না পারে, ধর্মের নামে কেউ যেন ব্যবসা করতে না পারে, ধর্মের নামে কেউ যেন নিপীড়ন, নির্যাতন, বৈষম্য করতে না পরে সেই লক্ষ্যে ধর্মনিরপেক্ষতাবাদকে সংবিধানের মূলনীতি করেন বঙ্গবন্ধু। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার পর বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার অন্যতম ভিত্তি ধর্মনিরপেক্ষতাকে সংবিধান থেকে মুছে ফেলা হয়েছিল। ২০১০ সালে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ আদালত সংবিধানের পঞ্চম সংশোধনী অবৈধ ঘোষণা করে এবং ধর্মনিরপেক্ষতাকে সংবিধানের মূলনীতি হিসেবে পুনঃপ্রতিষ্ঠা করে।

শহীদের আত্মত্যাগ ভুলে গেলে চলবে না। ধর্মের নামে সাম্প্রদায়িক রাজনীতি পরিহার করতে হবে। বঙ্গবন্ধুর অসাম্প্রদায়িক, ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র বিনির্মাণের স্বপ্ন বাস্তবায়নে ধর্মীয় সম্প্রীতির সুরে দেশের গান গাইতে হবে। মনে রাখতে হবে, ধর্মের নামে অধর্মের কাছে বাংলাদেশ আগেও হারেনি, আজও হারবে না।

ওমর ফারুক