খালেদা জিয়া ভালো আছেন

হাসপাতালে ভর্তির সিদ্ধান্ত সিটি স্ক্যানের পর : চিকিৎসক

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার চিকিৎসক অধ্যাপক এফএম সিদ্দিক জানিয়েছেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রীর শারীরিক অবস্থা ভালো আছে। তিনি স্টেবল আছেন। উনাকে সিটি স্ক্যানকরার পর বলতে পারব, বাসায় রাখব নাকি কয়েকদিনের জন্য হাসপাতালে ভর্তি করব।

গতকাল খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে চিকিৎসক বলেন, ‘গত দু’দিনে ম্যাডামের অবস্থা আর বর্তমান অবস্থার রিপোর্ট করেছি। তাতে আমরা দেখেছি, উনার শারীরিক অবস্থা ভালো। উনার অক্সিজেন স্যাচুরেশন ভালো আছে। ব্লাডের রিপোর্টও ভালো আছে। তবে গতকাল রাতে উনার জ্বর ছিল, আজ সকালেও জ্বর ছিল একশর মতো। তবে উনি স্টেবল আছেন।’

বিএনপির পক্ষ থেকে জানানো হয়, গত রোববার সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার করোনা পজেটিভ রিপোর্ট আসে। তিনি এখন গুলশানের বাসায় অবস্থান করছেন। তার বাসার আরও কয়েকজন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। শুরু থেকেই খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যের দেখভাল করছেন এফএম সিদ্দিকীর নেতৃত্বে একদল চিকিৎসক।

এই চিকিৎসক বলেন, ‘কোভিডের পরিভাষায় ম্যাডাম এখন দ্বিতীয় সপ্তাহে আছেন। আর কোভিডের সব বড় সমস্যা হয় দ্বিতীয় সপ্তাহেই। তাই সে বিষয়েও আমরা সতর্ক আছি। আমরা এখন উনার সিটি স্ক্যান করাব।

কোথায় রেখে চিকিৎসা করা হবে জানতে চাইলে খালেদা জিয়ার চিকিৎসক বলেন, ‘কোভিডে বলা যায় না কখন কী অবস্থা হয়। তাই আমরা সিটি স্ক্যান করার পর বলতে পারব উনাকে বাসায় রাখব নাকি কয়েকদিনের জন্য হাসপাতালে নেব। সেটা পরে সিদ্ধান্ত নেব। তবে আমাদের সব প্রস্তুতি আছে।’

‘খালেদা জিয়ার মানসিক অবস্থা ভালো আছে। আর উনি নিজেই বলেছেন, উনি করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন সেটা ফিল করছেন না। তিনি বলেছেন, টেস্ট না হলে তো কিছু বুঝতামই না। তাতে বলা যায়, উনার মানসিক অবস্থা ভালো আছে।’ কোথায় সিটি স্ক্যান করা হবে জানতে চাইলে ডা. এফএম সিদ্দিকী বলেন, ‘কোথায় করব তা আমরা সিদ্ধান্ত নিয়ে রেখেছি। সময়মতো আপনাদের জানিয়ে দেব। তবে দ্রুত সময়ের মাঝে করব।’

গত বছর সারা বিশ্বে মহামারী করোনা ছড়িয়ে পড়লে শর্তসাপেক্ষে সরকার প্রধানের নির্বাহী আদেশে জামিন পান খালেদা জিয়া। প্রায় ২৫ মাস (কারাগার ও বিএসএমএমইউ’র প্রিজন সেল) কারাভোগের পর তিনি ২০২০ সালের ২৫ মার্চ মুক্ত হন। বিএসএমএমইউ প্রিজন সেল থেকে মুক্তির পর গুলশানে নিজের ভাড়া বাসা ‘ফিরোজা’য় অবস্থান করছেন সাবেক এ প্রধানমন্ত্রী।

খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনায় জাপান ও পাকিস্তানের চিঠি

করোনভাইরাসে আক্রান্ত বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনা করে চিঠি দিয়েছেন জাপানের রাষ্ট্রদূত ইতো নাওকি ও পাকিস্তান হাইকমিশনার ইমরান আহমেদ সিদ্দিকী। বুধবার রাতে বিএনপির চেয়ারপারসনের মিডিয়া উইংয়ের সদস্য শায়রুল কবির খান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ম্যাডামের সুস্থতা কামনা করে এই দুই দেশের প্রতিনিধি তার একান্ত সচিব আবদুর সাত্তার বরাবর চিঠি পাঠিয়েছেন।

তিনি আরও জানান, গত ১৩ এপ্রিল জাপানের রাষ্ট্রদূত আর ১৪ এপ্রিল পাকিস্তানের হাইকমিশনার সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার কোভিড-১৯ সংবাদ পেয়ে শারীরিক সুস্থতা কামনা করে চিঠি পাঠান।

উল্লেখ্য, গত ১১ এপ্রিল খালেদা জিয়া করোনায় আক্রান্তের খবর ছড়িয়ে পড়লে প্রথমে দলের পক্ষ থেকে স্বীকার করা হয়নি। পরে বিকেলে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সংবাদ সম্মেলনে খালেদা জিয়া করোনা আক্রান্ত বলে জানান। একইসঙ্গে তিনি বলেন, খালেদা জিয়ার অবস্থা স্থিতিশীল। তিনি ভালো আছেন।

শুক্রবার, ১৬ এপ্রিল ২০২১ , ৩ বৈশাখ ১৪২৮ ৩ রমজান ১৪৪২

খালেদা জিয়া ভালো আছেন

হাসপাতালে ভর্তির সিদ্ধান্ত সিটি স্ক্যানের পর : চিকিৎসক

image

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার চিকিৎসক অধ্যাপক এফএম সিদ্দিক জানিয়েছেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রীর শারীরিক অবস্থা ভালো আছে। তিনি স্টেবল আছেন। উনাকে সিটি স্ক্যানকরার পর বলতে পারব, বাসায় রাখব নাকি কয়েকদিনের জন্য হাসপাতালে ভর্তি করব।

গতকাল খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে চিকিৎসক বলেন, ‘গত দু’দিনে ম্যাডামের অবস্থা আর বর্তমান অবস্থার রিপোর্ট করেছি। তাতে আমরা দেখেছি, উনার শারীরিক অবস্থা ভালো। উনার অক্সিজেন স্যাচুরেশন ভালো আছে। ব্লাডের রিপোর্টও ভালো আছে। তবে গতকাল রাতে উনার জ্বর ছিল, আজ সকালেও জ্বর ছিল একশর মতো। তবে উনি স্টেবল আছেন।’

বিএনপির পক্ষ থেকে জানানো হয়, গত রোববার সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার করোনা পজেটিভ রিপোর্ট আসে। তিনি এখন গুলশানের বাসায় অবস্থান করছেন। তার বাসার আরও কয়েকজন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। শুরু থেকেই খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যের দেখভাল করছেন এফএম সিদ্দিকীর নেতৃত্বে একদল চিকিৎসক।

এই চিকিৎসক বলেন, ‘কোভিডের পরিভাষায় ম্যাডাম এখন দ্বিতীয় সপ্তাহে আছেন। আর কোভিডের সব বড় সমস্যা হয় দ্বিতীয় সপ্তাহেই। তাই সে বিষয়েও আমরা সতর্ক আছি। আমরা এখন উনার সিটি স্ক্যান করাব।

কোথায় রেখে চিকিৎসা করা হবে জানতে চাইলে খালেদা জিয়ার চিকিৎসক বলেন, ‘কোভিডে বলা যায় না কখন কী অবস্থা হয়। তাই আমরা সিটি স্ক্যান করার পর বলতে পারব উনাকে বাসায় রাখব নাকি কয়েকদিনের জন্য হাসপাতালে নেব। সেটা পরে সিদ্ধান্ত নেব। তবে আমাদের সব প্রস্তুতি আছে।’

‘খালেদা জিয়ার মানসিক অবস্থা ভালো আছে। আর উনি নিজেই বলেছেন, উনি করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন সেটা ফিল করছেন না। তিনি বলেছেন, টেস্ট না হলে তো কিছু বুঝতামই না। তাতে বলা যায়, উনার মানসিক অবস্থা ভালো আছে।’ কোথায় সিটি স্ক্যান করা হবে জানতে চাইলে ডা. এফএম সিদ্দিকী বলেন, ‘কোথায় করব তা আমরা সিদ্ধান্ত নিয়ে রেখেছি। সময়মতো আপনাদের জানিয়ে দেব। তবে দ্রুত সময়ের মাঝে করব।’

গত বছর সারা বিশ্বে মহামারী করোনা ছড়িয়ে পড়লে শর্তসাপেক্ষে সরকার প্রধানের নির্বাহী আদেশে জামিন পান খালেদা জিয়া। প্রায় ২৫ মাস (কারাগার ও বিএসএমএমইউ’র প্রিজন সেল) কারাভোগের পর তিনি ২০২০ সালের ২৫ মার্চ মুক্ত হন। বিএসএমএমইউ প্রিজন সেল থেকে মুক্তির পর গুলশানে নিজের ভাড়া বাসা ‘ফিরোজা’য় অবস্থান করছেন সাবেক এ প্রধানমন্ত্রী।

খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনায় জাপান ও পাকিস্তানের চিঠি

করোনভাইরাসে আক্রান্ত বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনা করে চিঠি দিয়েছেন জাপানের রাষ্ট্রদূত ইতো নাওকি ও পাকিস্তান হাইকমিশনার ইমরান আহমেদ সিদ্দিকী। বুধবার রাতে বিএনপির চেয়ারপারসনের মিডিয়া উইংয়ের সদস্য শায়রুল কবির খান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ম্যাডামের সুস্থতা কামনা করে এই দুই দেশের প্রতিনিধি তার একান্ত সচিব আবদুর সাত্তার বরাবর চিঠি পাঠিয়েছেন।

তিনি আরও জানান, গত ১৩ এপ্রিল জাপানের রাষ্ট্রদূত আর ১৪ এপ্রিল পাকিস্তানের হাইকমিশনার সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার কোভিড-১৯ সংবাদ পেয়ে শারীরিক সুস্থতা কামনা করে চিঠি পাঠান।

উল্লেখ্য, গত ১১ এপ্রিল খালেদা জিয়া করোনায় আক্রান্তের খবর ছড়িয়ে পড়লে প্রথমে দলের পক্ষ থেকে স্বীকার করা হয়নি। পরে বিকেলে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সংবাদ সম্মেলনে খালেদা জিয়া করোনা আক্রান্ত বলে জানান। একইসঙ্গে তিনি বলেন, খালেদা জিয়ার অবস্থা স্থিতিশীল। তিনি ভালো আছেন।