একদিনে দ্বিতীয় ডোজ টিকা নিলেন প্রায় ২ লাখ

দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনাভাইরাসের টিকার দ্বিতীয় ডোজ নিয়েছেন এক লাখ ৯৬ হাজার ৯৭৬ জন। এদের মধ্যে পুরুষ এক লাখ ৩৩ হাজার ৬৫৫ জন ও নারী ৬৩ হাজার ৩২১ জন। প্রথম ও দ্বিতীয় ডোজ মিলিয়ে দেশে এ পর্যন্ত মোট টিকা নিয়েছেন ৬৬ লাখ ১৭ হাজার ৩৬ জন। গতকাল টিকাবিষয়ক নিয়মিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এ তথ্য জানিয়েছে। গতকাল প্রথম ডোজ নিয়েছেন ১০,৫৭২ জন। এর মধ্যে পুরুষ ৬,৮৯০ ও নারী ৩,৬৮২ জন। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ৮ এপ্রিল থেকে টিকার দ্বিতীয় ডোজ কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে এ পর্যন্ত টিকা নিয়েছেন ৯ লাখ ৩০ হাজার ১৫১ জন। তাদের মধ্যে পুরুষ ৬ লাখ ৩৭ হাজার ৪৫৬ জন, আর ২ দুই লাখ ৯২ হাজার ৬৯৫ জন। উল্লেখ্য, গত ৭ ফেব্রুয়ারি দেশে জাতীয়ভাবে করোনাভাইরাসের টিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়। গতকাল বিকেল সাড়ে পাঁচটা পর্যন্ত টিকার জন্য সারাদেশে নিবন্ধন করেছেন ৭০ লাখ ৮৮ হাজার ৪৬৯ জন।

এদিকে, করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে জরুরি স্বাস্থ্যসেবা দিতে কর্মস্থলে যাওয়ার সময় চিকিৎসক-স্বাস্থ্যকর্মীদের আবশ্যিকভাবে প্রাতিষ্ঠানিক পরিচয়পত্র (আইডি কার্ড) ব্যবহারের নির্দেশ দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। গতকাল স্বাস্থ্য অধিদপ্তর পরিচালক (প্রশাসন) ডা. শেখ মোহাম্মদ হাসান ইমাম স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ‘করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতিতে উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলা করার নিমিত্তে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের স্মারক নং-৪৫.০০.০০০০.১৪০.৯৯.০০৪.২০.৪৯৭ তারিখ-১৩.০৪.২০২১ খ্রি. মোতাবেক স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও এর আওতাধীন সব স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠান ও হাসপাতালসমূহ (সকল পর্যায়ে) জনসাধারণের মাঝে জরুরি স্বাস্থ্যসেবা প্রদানের লক্ষ্যে চিকিৎসক ও নার্সসহ অন্যান্য সকল স্বাস্থ্যকর্মীদের লকডাউনের পরিস্থিতিতে জরুরি স্বাস্থ্যসেবা/চিকিৎসা সেবাসহ অন্যান্য কার্যক্রমে জড়িত সকল কর্মকর্তা কর্মচারীদের দাপ্তরিক পরিচয়পত্র (আইডি কার্ড) আবশ্যিকভাবে ব্যবহার করার জন্য বলা হলো।’

এতে আরও বলা হয়েছে, ‘দাপ্তরিক কার্যক্রম এবং চিকিৎসাসেবা প্রদানের লক্ষ্যে যাতায়াতের সময় প্রাতিষ্ঠানিক পরিচয়পত্র প্রর্দশনের পরও অনেকেই নানাভাবে হয়রানির শিকার হচ্ছেন, যা কোনভাবেই কাম্য নয়। জনগণের স্বাস্থ্যসেবা সুনিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে কর্মস্থলে যাতায়াতে সার্বিক সহযোগিতা করার জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে সহযোগিতা করার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো।’ সদয় অবগতি ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য এর অনুলিপি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের মন্ত্রিপরিষদ সচিবসহ সংশ্লিষ্টদের কাছে পাঠানো হয়েছে। বিধিনিষেধের প্রথম দিন বুধবার পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে হয়রানির শিকার হওয়ার অভিযোগ করেন একাধিক চিকিৎসক। মুভমেন্ট পাস না থাকায় তাদের কারও কারও বিরুদ্ধে মামলাও দায়ের করা হয় বলে জানা গেছে। জরুরি সেবায় নিয়োজিত চিকিৎসক-স্বাস্থ্যকর্মীরা মুভমেন্ট পাসের আওতামুক্ত হওয়ার পরও কর্মস্থলে যাওয়ার সময় হেনস্থার শিকার হওয়ায় করোনার এ দুঃসময়ে চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেন স্বাস্থ্য সংশ্লিষ্টরা।

শুক্রবার, ১৬ এপ্রিল ২০২১ , ৩ বৈশাখ ১৪২৮ ৩ রমজান ১৪৪২

একদিনে দ্বিতীয় ডোজ টিকা নিলেন প্রায় ২ লাখ

নিজস্ব বার্তা পরিবেশক

image

দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনাভাইরাসের টিকার দ্বিতীয় ডোজ নিয়েছেন এক লাখ ৯৬ হাজার ৯৭৬ জন। এদের মধ্যে পুরুষ এক লাখ ৩৩ হাজার ৬৫৫ জন ও নারী ৬৩ হাজার ৩২১ জন। প্রথম ও দ্বিতীয় ডোজ মিলিয়ে দেশে এ পর্যন্ত মোট টিকা নিয়েছেন ৬৬ লাখ ১৭ হাজার ৩৬ জন। গতকাল টিকাবিষয়ক নিয়মিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এ তথ্য জানিয়েছে। গতকাল প্রথম ডোজ নিয়েছেন ১০,৫৭২ জন। এর মধ্যে পুরুষ ৬,৮৯০ ও নারী ৩,৬৮২ জন। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ৮ এপ্রিল থেকে টিকার দ্বিতীয় ডোজ কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে এ পর্যন্ত টিকা নিয়েছেন ৯ লাখ ৩০ হাজার ১৫১ জন। তাদের মধ্যে পুরুষ ৬ লাখ ৩৭ হাজার ৪৫৬ জন, আর ২ দুই লাখ ৯২ হাজার ৬৯৫ জন। উল্লেখ্য, গত ৭ ফেব্রুয়ারি দেশে জাতীয়ভাবে করোনাভাইরাসের টিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়। গতকাল বিকেল সাড়ে পাঁচটা পর্যন্ত টিকার জন্য সারাদেশে নিবন্ধন করেছেন ৭০ লাখ ৮৮ হাজার ৪৬৯ জন।

এদিকে, করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে জরুরি স্বাস্থ্যসেবা দিতে কর্মস্থলে যাওয়ার সময় চিকিৎসক-স্বাস্থ্যকর্মীদের আবশ্যিকভাবে প্রাতিষ্ঠানিক পরিচয়পত্র (আইডি কার্ড) ব্যবহারের নির্দেশ দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। গতকাল স্বাস্থ্য অধিদপ্তর পরিচালক (প্রশাসন) ডা. শেখ মোহাম্মদ হাসান ইমাম স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ‘করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতিতে উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলা করার নিমিত্তে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের স্মারক নং-৪৫.০০.০০০০.১৪০.৯৯.০০৪.২০.৪৯৭ তারিখ-১৩.০৪.২০২১ খ্রি. মোতাবেক স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও এর আওতাধীন সব স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠান ও হাসপাতালসমূহ (সকল পর্যায়ে) জনসাধারণের মাঝে জরুরি স্বাস্থ্যসেবা প্রদানের লক্ষ্যে চিকিৎসক ও নার্সসহ অন্যান্য সকল স্বাস্থ্যকর্মীদের লকডাউনের পরিস্থিতিতে জরুরি স্বাস্থ্যসেবা/চিকিৎসা সেবাসহ অন্যান্য কার্যক্রমে জড়িত সকল কর্মকর্তা কর্মচারীদের দাপ্তরিক পরিচয়পত্র (আইডি কার্ড) আবশ্যিকভাবে ব্যবহার করার জন্য বলা হলো।’

এতে আরও বলা হয়েছে, ‘দাপ্তরিক কার্যক্রম এবং চিকিৎসাসেবা প্রদানের লক্ষ্যে যাতায়াতের সময় প্রাতিষ্ঠানিক পরিচয়পত্র প্রর্দশনের পরও অনেকেই নানাভাবে হয়রানির শিকার হচ্ছেন, যা কোনভাবেই কাম্য নয়। জনগণের স্বাস্থ্যসেবা সুনিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে কর্মস্থলে যাতায়াতে সার্বিক সহযোগিতা করার জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে সহযোগিতা করার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো।’ সদয় অবগতি ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য এর অনুলিপি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের মন্ত্রিপরিষদ সচিবসহ সংশ্লিষ্টদের কাছে পাঠানো হয়েছে। বিধিনিষেধের প্রথম দিন বুধবার পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে হয়রানির শিকার হওয়ার অভিযোগ করেন একাধিক চিকিৎসক। মুভমেন্ট পাস না থাকায় তাদের কারও কারও বিরুদ্ধে মামলাও দায়ের করা হয় বলে জানা গেছে। জরুরি সেবায় নিয়োজিত চিকিৎসক-স্বাস্থ্যকর্মীরা মুভমেন্ট পাসের আওতামুক্ত হওয়ার পরও কর্মস্থলে যাওয়ার সময় হেনস্থার শিকার হওয়ায় করোনার এ দুঃসময়ে চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেন স্বাস্থ্য সংশ্লিষ্টরা।