অনলাইন পরীক্ষা : মেধা বিকাশ নাকি মেধা হনন?

শিক্ষাজীবনে প্রতিটি শিক্ষার্থীর কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে ‘পরীক্ষা’ কার্যক্রম। পরীক্ষার মাধ্যমেই একজন শিক্ষার্থীর মেধা যাচাই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়ে থাকে। শিক্ষার্থীরা অতিক্রম করে শিক্ষা জীবনের এক একটি স্তর। পরীক্ষার মাধ্যমেই একজন শিক্ষার্থী নিজের দূর্বলতা ও অবস্থান সম্পর্কে জানতে পারে। পরীক্ষা কি ও পরীক্ষার গুরুত্ব কী? তা একজন শিক্ষার্থী প্রাক-প্রাথমিক থেকেই জানতে ও শিখতে থাকে; কিন্তু এই পরীক্ষা শিক্ষার্থীর মেধা বিকাশ ও জ্ঞান আহরণের মাধ্যম হলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে ‘পরীক্ষা’ হয়ে উঠছে মেধা বিকাশ পরিপন্থী। গেল বছর হঠাৎ করে শুরু হয় করোনা মহামারি। করোনার প্রভাবে ধীরে ধীরে সবক্ষেত্রে স্থিতিশীল হলেও দীর্ঘ এক বছরের ও বেশি সময় ধরে অনিশ্চয়তার মুখে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। তবে শিক্ষার্থীদের ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে শুরু হয় অনলাইন শিক্ষা কার্যক্রম। প্রাক-প্রাথমিক থেকে শুরু করে উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়েও চলছে অনলাইন ক্লাস ও পরীক্ষা। বর্তমানে বিশেষ করে বেসরকারি প্রাক-প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে নিয়মিত চলছে অনলাইন ক্লাস ও পরীক্ষা। দশে চলমান উদ্ভুত পরিস্থিতির পূর্বে শিক্ষার্থীদের নিজ নিজ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সশরীরে পরীক্ষা নেওয়ার সুযোগ হলেও মহামারি করোনার প্রভাবে সেটি বন্ধ আছে। ফলে শিক্ষার্থীদের অনলাইন ক্লাসের পাশাপাশি অনলাইনেই চলছে পরীক্ষা। কিন্তু প্রশ্ন হলো কতটা কার্যকরী হচ্ছে অনলাইন পরীক্ষা? বেশিরভাগ শিক্ষার্থীর কাছেই অনেকটা গুরুত্বহীন এসব অনলাইন পরীক্ষা। বর্তমানে অনলাইন পরীক্ষায় এসব কোমলমতি শিশু শিক্ষার্থীদের প্রশ্নপত্র দেয়া হলে অধিকাংশ শিক্ষার্থীরাই বই দেখে দেখে প্রতিনিয়ত পরীক্ষা দিচ্ছে।

উদ্বেগের বিষয়, অধিকাংশ অভিভাবকরাই তার সন্তানকে মেধাতালিকায় এগিয়ে রাখতে পরীক্ষার প্রশ্নগুলোর উত্তর করে দিচ্ছেন। এভাবে প্রতিনিয়ত অধিকাংশ অভিভাবকই পরীক্ষার মেধাতালিকায় এগিয়ে থাকার অসুস্থ ও নেতিবাচক প্রতিযোগিতায় ফেলছে কোমলমতি শিশু শিক্ষার্থীদের। ফলে দিন দিন অনলাইন পরীক্ষা ভয়ংকর রূপধারণ করেছে। কোমলমতি এসব শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা মানেই বুঝে উঠছে দেখে দেখে উত্তর করা। এই ধরনের চর্চা শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতে ব্যপক নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিকের শিক্ষার্থীরা অনলাইন পরীক্ষার ক্ষেত্রে নিজের ভালো-মন্দ দিক বিবেচনায় নৈতিকতা বজায় রাখলেও প্রাক-প্রাথমিকের কোমলমতি শিশু শিক্ষার্থীরা অনেকটাই অবুঝ এ ব্যপারে। দেখে দেখে অনলাইন পরীক্ষা দেয়ার এমন নেতিবাচক প্রবণতা চলতে থাকলে শিক্ষা ক্ষেত্রের পরবর্তী স্তরে এসব শিক্ষার্থীরা হুমকির সম্মুখীন হতে পারে। অভ্যাসগত কারণে অনেক শিক্ষার্থী লেখাপড়ায় অমনোযোগী হয়ে উঠতে পারে,এছাড়া প্রতিযোগিতামূলক মনোভাবের অভাব, মানসিক অসুস্থতা, বিষন্নতা, নৈতিক অবক্ষয় সহ নানান নেতিবাচক প্রভাব তৈরি হতে পারে। তাই শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশ ও নৈতিকতা সম্পর্কে অবগত করতে পরিবারকেই বিশেষ ভূমিকা পালন করতে হবে। সন্তানকে নৈতিকতার ব্যত্যয় ঘটিয়ে অসুস্থ প্রতিযোগিতায় না ফেলে সঠিক শিক্ষা দেয়া জরুরি। মহামারির এ সময়ে শিক্ষার্থীরা যেন দেখে দেখে অনলাইন পরীক্ষা দিতে না পারে সেদিকে অভিভাবককে আরো সচেতন হতে হবে। অসৎ উপায় যেন শিক্ষার্থীদের মেধা মেধার বিকাশের নেতিবাচক মাধ্যম না হয় সেদিক খেয়াল রাখতে হবে। তা না হলে পরবর্তী প্রজন্ম ও ব্যক্তি জীবনের ওপর এর বিরাট প্রভাব পড়বে।

আরিফুল ইসলাম

বুধবার, ২১ এপ্রিল ২০২১ , ৮ বৈশাখ ১৪২৮ ৮ রমজান ১৪৪২

অনলাইন পরীক্ষা : মেধা বিকাশ নাকি মেধা হনন?

শিক্ষাজীবনে প্রতিটি শিক্ষার্থীর কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে ‘পরীক্ষা’ কার্যক্রম। পরীক্ষার মাধ্যমেই একজন শিক্ষার্থীর মেধা যাচাই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়ে থাকে। শিক্ষার্থীরা অতিক্রম করে শিক্ষা জীবনের এক একটি স্তর। পরীক্ষার মাধ্যমেই একজন শিক্ষার্থী নিজের দূর্বলতা ও অবস্থান সম্পর্কে জানতে পারে। পরীক্ষা কি ও পরীক্ষার গুরুত্ব কী? তা একজন শিক্ষার্থী প্রাক-প্রাথমিক থেকেই জানতে ও শিখতে থাকে; কিন্তু এই পরীক্ষা শিক্ষার্থীর মেধা বিকাশ ও জ্ঞান আহরণের মাধ্যম হলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে ‘পরীক্ষা’ হয়ে উঠছে মেধা বিকাশ পরিপন্থী। গেল বছর হঠাৎ করে শুরু হয় করোনা মহামারি। করোনার প্রভাবে ধীরে ধীরে সবক্ষেত্রে স্থিতিশীল হলেও দীর্ঘ এক বছরের ও বেশি সময় ধরে অনিশ্চয়তার মুখে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। তবে শিক্ষার্থীদের ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে শুরু হয় অনলাইন শিক্ষা কার্যক্রম। প্রাক-প্রাথমিক থেকে শুরু করে উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়েও চলছে অনলাইন ক্লাস ও পরীক্ষা। বর্তমানে বিশেষ করে বেসরকারি প্রাক-প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে নিয়মিত চলছে অনলাইন ক্লাস ও পরীক্ষা। দশে চলমান উদ্ভুত পরিস্থিতির পূর্বে শিক্ষার্থীদের নিজ নিজ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সশরীরে পরীক্ষা নেওয়ার সুযোগ হলেও মহামারি করোনার প্রভাবে সেটি বন্ধ আছে। ফলে শিক্ষার্থীদের অনলাইন ক্লাসের পাশাপাশি অনলাইনেই চলছে পরীক্ষা। কিন্তু প্রশ্ন হলো কতটা কার্যকরী হচ্ছে অনলাইন পরীক্ষা? বেশিরভাগ শিক্ষার্থীর কাছেই অনেকটা গুরুত্বহীন এসব অনলাইন পরীক্ষা। বর্তমানে অনলাইন পরীক্ষায় এসব কোমলমতি শিশু শিক্ষার্থীদের প্রশ্নপত্র দেয়া হলে অধিকাংশ শিক্ষার্থীরাই বই দেখে দেখে প্রতিনিয়ত পরীক্ষা দিচ্ছে।

উদ্বেগের বিষয়, অধিকাংশ অভিভাবকরাই তার সন্তানকে মেধাতালিকায় এগিয়ে রাখতে পরীক্ষার প্রশ্নগুলোর উত্তর করে দিচ্ছেন। এভাবে প্রতিনিয়ত অধিকাংশ অভিভাবকই পরীক্ষার মেধাতালিকায় এগিয়ে থাকার অসুস্থ ও নেতিবাচক প্রতিযোগিতায় ফেলছে কোমলমতি শিশু শিক্ষার্থীদের। ফলে দিন দিন অনলাইন পরীক্ষা ভয়ংকর রূপধারণ করেছে। কোমলমতি এসব শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা মানেই বুঝে উঠছে দেখে দেখে উত্তর করা। এই ধরনের চর্চা শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতে ব্যপক নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিকের শিক্ষার্থীরা অনলাইন পরীক্ষার ক্ষেত্রে নিজের ভালো-মন্দ দিক বিবেচনায় নৈতিকতা বজায় রাখলেও প্রাক-প্রাথমিকের কোমলমতি শিশু শিক্ষার্থীরা অনেকটাই অবুঝ এ ব্যপারে। দেখে দেখে অনলাইন পরীক্ষা দেয়ার এমন নেতিবাচক প্রবণতা চলতে থাকলে শিক্ষা ক্ষেত্রের পরবর্তী স্তরে এসব শিক্ষার্থীরা হুমকির সম্মুখীন হতে পারে। অভ্যাসগত কারণে অনেক শিক্ষার্থী লেখাপড়ায় অমনোযোগী হয়ে উঠতে পারে,এছাড়া প্রতিযোগিতামূলক মনোভাবের অভাব, মানসিক অসুস্থতা, বিষন্নতা, নৈতিক অবক্ষয় সহ নানান নেতিবাচক প্রভাব তৈরি হতে পারে। তাই শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশ ও নৈতিকতা সম্পর্কে অবগত করতে পরিবারকেই বিশেষ ভূমিকা পালন করতে হবে। সন্তানকে নৈতিকতার ব্যত্যয় ঘটিয়ে অসুস্থ প্রতিযোগিতায় না ফেলে সঠিক শিক্ষা দেয়া জরুরি। মহামারির এ সময়ে শিক্ষার্থীরা যেন দেখে দেখে অনলাইন পরীক্ষা দিতে না পারে সেদিকে অভিভাবককে আরো সচেতন হতে হবে। অসৎ উপায় যেন শিক্ষার্থীদের মেধা মেধার বিকাশের নেতিবাচক মাধ্যম না হয় সেদিক খেয়াল রাখতে হবে। তা না হলে পরবর্তী প্রজন্ম ও ব্যক্তি জীবনের ওপর এর বিরাট প্রভাব পড়বে।

আরিফুল ইসলাম