ভেজাল ও মেয়াদোত্তীর্ণ খেজুর ১১ হাজার কেজি জব্দ

ছয় ব্যবসায়ীকে জরিমানা

বাজারে ভেজাল ও মেয়াদোত্তীর্ণ খেজুরের ছড়াছড়ি। এ সব খেজুর কিনে ক্রেতারা প্রতিনিয়ত প্রতারিত হচ্ছে। এমন তথ্যের ভিত্তিতে র‌্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত গত মঙ্গলবার দুপুর থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল এলাকার প্যারামাউন্ড কোল্ডস্টোরেজ লিমিটেডে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের প্রতিনিধির সহযোগিতায় অভিযান চালিয়ে ২১ হাজার ২৬০ কেজি ভেজাল খেজুর জব্দ করেছে।

অসাধু ব্যবসায়ীরা ওই সব খেজুর ৪ হাজার ২শ’র বেশি প্যাকেট করে কোল্ডস্টোরেজে মজুদ করে। অথচ এ সব খেজুর আগেই খাবার অযোগ্য হয়ে পড়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, নষ্ট ও ভেজাল খেজুরে জীবাণু থাকে। এতে পোকা হয়ে যায়। পেটের ব্যথা, লিভারে সমস্যা ও ট্রক্সি ডায়রিয়া হয়ে মৃত্যুও হতে পারে বলে বিশেজ্ঞরা মতামত দেন।

অভিযানে কোল্ডস্টোরেজে রক্ষিত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের পণ্যের গুণগতমান যাচাইকালে নষ্ট, ভেজাল ও মেয়াদোত্তীর্ণ খেজুর মজুদ ও বাজারজাতকরণের অপরাধে ৬টি প্রতিষ্ঠানের মালিকদের জরিমানা করে। এরমধ্যে ১. মো. হাসনাইন, মালিক, মেসার্স সাকিব ট্রেডিং, মিরপুর-১১, ঢাকাকে ৩ লাখ টাকা জরিমানা, ২. মো. আরিফুল ইসলাম (৪২), মালিক, মদিনা ফুডস শপ, বনানী, ঢাকাকে ৩ লাখ টাকা জরিমানা, ৩. তারিক আল দীন (৩৮), মালিক, এলডুরাডু এন্টারপ্রাইজ, পূর্ব তেজতুরী বাজার, তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল, ঢাকাকে ৩ লাখ টাকা জরিমানা, ৪. মো. কামরুজ্জামান (৩৫), মালিক, কামরুজ্জামান এন্টারপ্রাইজ, শ্রীপুর, গাজীপুরকে ৩ লাখ টাকা জরিমানা, ৫. মো. গোলাম মোস্তফা (৪৩), মালিক, সোর্স ডিস্ট্রিবিউশন, দক্ষিণখান, ঢাকাকে ৩ লাখ টাকা জরিমানা ও ৬. মো. জাবের (৩০), মালিক, উত্তরা ফুডস, রাজলক্ষী, ঢাকাকে ২ লাখ টাকা জরিমানাসহ ১৭ লাখ টাকা জরিমানা করে ভ্রাম্যমাণ আদালত।

জব্দকৃত খেজুরের পরিমাণ আনুমানিক ২১ হাজার ২৬০ কেজি। এ সব খেজুর জব্দ ও ধ্বংস করা হয়েছে। এ সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।

প্রাথমিক অনুসন্ধান ও জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, বেশিরভাগ খেজুরের প্যাকেট ও কার্টুনে আমদানিকারকের বিস্তারিত তথ্য নেই। আরও উল্লেখ্য যে, মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ আলাদাভাবে পেস্টিং করে নতুনভাবে কার্টুনে বসানো হয়। বেশ কিছু কার্টুনে উৎপাদন ও মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ নেই।

আসামিরা প্রত্যেকেই স্বীকার করে যে, তারা দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ধরনের ভেজাল, মেয়াদোত্তীর্ণ ও নষ্ট ভোগ্যপণ্য আমদানি করে তা খোলাবাজারে সরবরাহ ও বিক্রয় করে আসছে। এ বছর রমজানকে টার্গেট করে তারা কম দামে ভেজাল, মেয়াদোত্তীর্ণ, নষ্ট ও মানহীন খেজুর বিভিন্ন দেশ থেকে আমদানি করে উক্ত কোল্ডস্টোরেজে মজুদ করেছে।

অধিক মুনাফালোভী এই চক্র মানহীন এসব খেজুর খুচরা বাজারে বাজারজাতকরণের মাধ্যমে দেশের সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করে আসছে। ফলে সাধারণ জনগণের স্বাস্থ্যঝুঁকি বৃদ্ধিসহ খাদ্যের সঠিক পুষ্টিমান থেকেও বঞ্চিত হচ্ছে।

অসাধু ব্যবসায়ীরা পরস্পর যোগসাজশে পুরনো পোকে ধরা, নষ্ট খেজুরের প্যাকেটে নতুন তারিখ লাগিয়ে বাজারে বেশি দামে বিক্রি করছে। অনেক সময় ঢাকার বাইরে জেলা পর্যায়ে এসব খেজুর বেশি দামে বিক্রি করা হয়। শিশু বয়স্করা এ সব খেজুর খেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ে। অনেকেই ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়। শরীরের লিভারসহ অন্যান্য অঙ্গ প্রতঙ্গের ক্ষতি করে।

ইনটেনসিভ কেয়ার মেডিসিন বিশেষজ্ঞ প্রফেসর ডা. দেবব্রত বণিক বলেন, কোল্ডস্টোরেজে ভেজাল ও মেয়াদোত্তীর্ণ খেজুরে জীবাণু থাকে। পোকা জন্মে যায়। ভেজাল ভেজুর খেলে পেটে ব্যথা, লিভারে সমস্যা, ডায়রিয়া হয়ে মৃত্যু হতে পারে। ক্রেতাদের অভিযোগ, শুধু ক্লোডস্টোরই নয়. পাইকারি ও খুচরা বাজারে অভিযান চালালে বহু ভেজাল ও নষ্ট খেজুর জব্দ করা যাবে বলে অনেকেই মন্তব্য করেন।

বৃহস্পতিবার, ২৯ এপ্রিল ২০২১ , ১৬ বৈশাখ ১৪২৮ ১৬ রমজান ১৪৪২

ভেজাল ও মেয়াদোত্তীর্ণ খেজুর ১১ হাজার কেজি জব্দ

ছয় ব্যবসায়ীকে জরিমানা

নিজস্ব বার্তা পরিবেশক

image

বাজারে ভেজাল ও মেয়াদোত্তীর্ণ খেজুরের ছড়াছড়ি। এ সব খেজুর কিনে ক্রেতারা প্রতিনিয়ত প্রতারিত হচ্ছে। এমন তথ্যের ভিত্তিতে র‌্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত গত মঙ্গলবার দুপুর থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল এলাকার প্যারামাউন্ড কোল্ডস্টোরেজ লিমিটেডে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের প্রতিনিধির সহযোগিতায় অভিযান চালিয়ে ২১ হাজার ২৬০ কেজি ভেজাল খেজুর জব্দ করেছে।

অসাধু ব্যবসায়ীরা ওই সব খেজুর ৪ হাজার ২শ’র বেশি প্যাকেট করে কোল্ডস্টোরেজে মজুদ করে। অথচ এ সব খেজুর আগেই খাবার অযোগ্য হয়ে পড়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, নষ্ট ও ভেজাল খেজুরে জীবাণু থাকে। এতে পোকা হয়ে যায়। পেটের ব্যথা, লিভারে সমস্যা ও ট্রক্সি ডায়রিয়া হয়ে মৃত্যুও হতে পারে বলে বিশেজ্ঞরা মতামত দেন।

অভিযানে কোল্ডস্টোরেজে রক্ষিত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের পণ্যের গুণগতমান যাচাইকালে নষ্ট, ভেজাল ও মেয়াদোত্তীর্ণ খেজুর মজুদ ও বাজারজাতকরণের অপরাধে ৬টি প্রতিষ্ঠানের মালিকদের জরিমানা করে। এরমধ্যে ১. মো. হাসনাইন, মালিক, মেসার্স সাকিব ট্রেডিং, মিরপুর-১১, ঢাকাকে ৩ লাখ টাকা জরিমানা, ২. মো. আরিফুল ইসলাম (৪২), মালিক, মদিনা ফুডস শপ, বনানী, ঢাকাকে ৩ লাখ টাকা জরিমানা, ৩. তারিক আল দীন (৩৮), মালিক, এলডুরাডু এন্টারপ্রাইজ, পূর্ব তেজতুরী বাজার, তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল, ঢাকাকে ৩ লাখ টাকা জরিমানা, ৪. মো. কামরুজ্জামান (৩৫), মালিক, কামরুজ্জামান এন্টারপ্রাইজ, শ্রীপুর, গাজীপুরকে ৩ লাখ টাকা জরিমানা, ৫. মো. গোলাম মোস্তফা (৪৩), মালিক, সোর্স ডিস্ট্রিবিউশন, দক্ষিণখান, ঢাকাকে ৩ লাখ টাকা জরিমানা ও ৬. মো. জাবের (৩০), মালিক, উত্তরা ফুডস, রাজলক্ষী, ঢাকাকে ২ লাখ টাকা জরিমানাসহ ১৭ লাখ টাকা জরিমানা করে ভ্রাম্যমাণ আদালত।

জব্দকৃত খেজুরের পরিমাণ আনুমানিক ২১ হাজার ২৬০ কেজি। এ সব খেজুর জব্দ ও ধ্বংস করা হয়েছে। এ সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।

প্রাথমিক অনুসন্ধান ও জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, বেশিরভাগ খেজুরের প্যাকেট ও কার্টুনে আমদানিকারকের বিস্তারিত তথ্য নেই। আরও উল্লেখ্য যে, মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ আলাদাভাবে পেস্টিং করে নতুনভাবে কার্টুনে বসানো হয়। বেশ কিছু কার্টুনে উৎপাদন ও মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ নেই।

আসামিরা প্রত্যেকেই স্বীকার করে যে, তারা দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ধরনের ভেজাল, মেয়াদোত্তীর্ণ ও নষ্ট ভোগ্যপণ্য আমদানি করে তা খোলাবাজারে সরবরাহ ও বিক্রয় করে আসছে। এ বছর রমজানকে টার্গেট করে তারা কম দামে ভেজাল, মেয়াদোত্তীর্ণ, নষ্ট ও মানহীন খেজুর বিভিন্ন দেশ থেকে আমদানি করে উক্ত কোল্ডস্টোরেজে মজুদ করেছে।

অধিক মুনাফালোভী এই চক্র মানহীন এসব খেজুর খুচরা বাজারে বাজারজাতকরণের মাধ্যমে দেশের সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করে আসছে। ফলে সাধারণ জনগণের স্বাস্থ্যঝুঁকি বৃদ্ধিসহ খাদ্যের সঠিক পুষ্টিমান থেকেও বঞ্চিত হচ্ছে।

অসাধু ব্যবসায়ীরা পরস্পর যোগসাজশে পুরনো পোকে ধরা, নষ্ট খেজুরের প্যাকেটে নতুন তারিখ লাগিয়ে বাজারে বেশি দামে বিক্রি করছে। অনেক সময় ঢাকার বাইরে জেলা পর্যায়ে এসব খেজুর বেশি দামে বিক্রি করা হয়। শিশু বয়স্করা এ সব খেজুর খেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ে। অনেকেই ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়। শরীরের লিভারসহ অন্যান্য অঙ্গ প্রতঙ্গের ক্ষতি করে।

ইনটেনসিভ কেয়ার মেডিসিন বিশেষজ্ঞ প্রফেসর ডা. দেবব্রত বণিক বলেন, কোল্ডস্টোরেজে ভেজাল ও মেয়াদোত্তীর্ণ খেজুরে জীবাণু থাকে। পোকা জন্মে যায়। ভেজাল ভেজুর খেলে পেটে ব্যথা, লিভারে সমস্যা, ডায়রিয়া হয়ে মৃত্যু হতে পারে। ক্রেতাদের অভিযোগ, শুধু ক্লোডস্টোরই নয়. পাইকারি ও খুচরা বাজারে অভিযান চালালে বহু ভেজাল ও নষ্ট খেজুর জব্দ করা যাবে বলে অনেকেই মন্তব্য করেন।