সীতাকুণ্ডে মুক্তিযুদ্ধে পা হারানো রোকেয়া বেগমের মানবেতর জীবন

স্বাধীনতা যুদ্ধে মাইন বিস্ফোরণে পা হারানো সীতাকুণ্ড উপজেলার মাদামবিবির হাটের রোকেয়া বেগম মানবেতর জীবন যাপন করছেন। তার নেই কোন ভিটে মাটি, নেই থাকার ঘর। ভাড়া বাসায় অতিকষ্টে কাটছে তার জীবন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের ভূমি ও গৃহহীন পরিবারকে আট লাখ ৮২ হাজার ৩৩টি পরিবারকে ঘর ও জমি দেয়ার কর্মসূচি নিয়েছে। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস যুদ্ধে মাইন বিস্ফোরণে পা হারানো রোকেয়ার ভাগ্যে ঝুটেনি খাস জায়গা কিংবা একটি ঘর। জানা যায়, ১৯৭১ সালের পাক সেনাদের হাত থেকে বাঁচতে বাড়ি থেকে কিছু দূর যেতে হামিদুর রহমান মুন্সির বাড়ির সামনে পাক বাহিনীর পুঁতে রাখা মাইনে পা পরতেই উড়ে যায় রোকেয়া বেগমের’র বাম পা। ৫ মাস চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে বাড়িতে ফিরেন রোকেয়া বেগম। সেই থেকে আজ পর্যন্ত খোঁড়া পা নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন।

তার বিধবা মেয়ে সাবিনা ইয়াছমিন জানান, ১৯৯১ সালে ঘূর্নিঝড় ও জলোচ্ছাসে তাদের বাড়ি-ঘর পানিতে ভেসে যায়। কয়েক বছর পর আমাদের পিতা মারা যান। বর্তমানে মা আমার সঙ্গে থাকেন। আমার ঘরে দুই সন্তান রেখে আমার স্বামী মারা যান। বাড়ি বাড়ি কাপড় বিক্রি করে মাকে নিয়ে কোনরকম জীবন যাপন করছি। কিন্তু সরকারী কোন সুযোগ সুবিধা পাইনি।

সীতাকুণ্ড উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিল্টন রায় জানান, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের ভূমি ও গৃহহীনদের জন্য যে ঘর বরাদ্দ দিয়েছে সে ঘরগুলো তৈরি করা হলে ঘরগুলোর মধ্য থেকে রোকেয়া বেগমকে একটি ঘর প্রদান করা হবে। এছাড়া ভাটিয়ারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানকে বলা হয়েছে ওই মহিলাকে যেন বিধবা ভাতার ব্যবস্থা করে দেন।

সীতাকুণ্ডের সংসদ সদস্য দিদারুল আলম বলেন, তাকে আমি আগে থেকে সহযোগিতা করছি। প্রধানমন্ত্রী যে ঘর বরাদ্দ দিয়েছে ওই ঘরগুলো থেকে রোকেয়া বেগম যাতে একটি ঘর পাই সে ব্যবস্থা করা হবে।

শনিবার, ০১ মে ২০২১ , ১৯ বৈশাখ ১৪২৮ ১৯ রমজান ১৪৪২

সীতাকুণ্ডে মুক্তিযুদ্ধে পা হারানো রোকেয়া বেগমের মানবেতর জীবন

image

স্বাধীনতা যুদ্ধে মাইন বিস্ফোরণে পা হারানো সীতাকুণ্ড উপজেলার মাদামবিবির হাটের রোকেয়া বেগম মানবেতর জীবন যাপন করছেন। তার নেই কোন ভিটে মাটি, নেই থাকার ঘর। ভাড়া বাসায় অতিকষ্টে কাটছে তার জীবন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের ভূমি ও গৃহহীন পরিবারকে আট লাখ ৮২ হাজার ৩৩টি পরিবারকে ঘর ও জমি দেয়ার কর্মসূচি নিয়েছে। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস যুদ্ধে মাইন বিস্ফোরণে পা হারানো রোকেয়ার ভাগ্যে ঝুটেনি খাস জায়গা কিংবা একটি ঘর। জানা যায়, ১৯৭১ সালের পাক সেনাদের হাত থেকে বাঁচতে বাড়ি থেকে কিছু দূর যেতে হামিদুর রহমান মুন্সির বাড়ির সামনে পাক বাহিনীর পুঁতে রাখা মাইনে পা পরতেই উড়ে যায় রোকেয়া বেগমের’র বাম পা। ৫ মাস চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে বাড়িতে ফিরেন রোকেয়া বেগম। সেই থেকে আজ পর্যন্ত খোঁড়া পা নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন।

তার বিধবা মেয়ে সাবিনা ইয়াছমিন জানান, ১৯৯১ সালে ঘূর্নিঝড় ও জলোচ্ছাসে তাদের বাড়ি-ঘর পানিতে ভেসে যায়। কয়েক বছর পর আমাদের পিতা মারা যান। বর্তমানে মা আমার সঙ্গে থাকেন। আমার ঘরে দুই সন্তান রেখে আমার স্বামী মারা যান। বাড়ি বাড়ি কাপড় বিক্রি করে মাকে নিয়ে কোনরকম জীবন যাপন করছি। কিন্তু সরকারী কোন সুযোগ সুবিধা পাইনি।

সীতাকুণ্ড উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিল্টন রায় জানান, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের ভূমি ও গৃহহীনদের জন্য যে ঘর বরাদ্দ দিয়েছে সে ঘরগুলো তৈরি করা হলে ঘরগুলোর মধ্য থেকে রোকেয়া বেগমকে একটি ঘর প্রদান করা হবে। এছাড়া ভাটিয়ারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানকে বলা হয়েছে ওই মহিলাকে যেন বিধবা ভাতার ব্যবস্থা করে দেন।

সীতাকুণ্ডের সংসদ সদস্য দিদারুল আলম বলেন, তাকে আমি আগে থেকে সহযোগিতা করছি। প্রধানমন্ত্রী যে ঘর বরাদ্দ দিয়েছে ওই ঘরগুলো থেকে রোকেয়া বেগম যাতে একটি ঘর পাই সে ব্যবস্থা করা হবে।