একদিনে করোনায় এত মৃত্যু দেখেনি ভারত

২৪ ঘণ্টায় মৃত্যু ৪৫২৯, আক্রান্ত ২ লাখ ৬৭ হাজার

ভারতে করোনাভাইরাসে গত তিন দিন ধরে দৈনিক সংক্রমণ কমলেও মৃত্যু দিন দিন বেড়েই চলেছে। গতকাল ২৪ ঘণ্টায় করোনায় দেশটিতে মৃত্যু হয় ৪৫২৯ জন। মহামারী শুরুর পর থেকে দেশটিতে একদিনে এটিই সর্বোচ্চ মৃত্যুর রেকর্ড। এ নিয়ে দেশটিতে মৃত্যু হয়েছে ২ লাখ ৮৩ হাজার ২৪৮ জনের। এসময় নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন ২ লাখ ৬৭ হাজার ৩৩৪ জন। এতে করে দেশটিতে মোট আক্রান্ত বেড়ে দাঁড়িয়েছে দুই কোটি ৫৪ লাখেরও বেশি। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, করোনায় ভারতের সবচেয়ে বিপর্যস্ত দুই রাজ্য দিল্লি ও মহারাষ্ট্রে দৈনিক আক্রান্তের সংখ্যা কমে এলেও কর্নাটক, ছত্তিশগড়, হরিয়ানা, পাঞ্জাব, তামিলনাড়– প্রভৃতি রাজ্যে দৈনিক সংক্রমণ পরিস্থিতির দৃশ্যমান বড় কোন উন্নতি দেখা যাচ্ছে না।

অন্যদিকে, ভারতের উত্তরপূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যসমূহ, যেগুলো সেভেন সিস্টার্স নামে পরিচিত আসাম, মনিপুর, নাগাল্যান্ড, মিজোরাম, অরুণাচল, সিকিম ও ত্রিপুরায় কিছুটা অবনতি হয়েছে দৈনিক সংক্রমণ পরিস্থিতির। এনডিটিভি

ভারতের কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী হর্ষ বর্ধন জানিয়েছেন, দেশের ২২টি রাজ্যে করোনা আক্রান্তের হার বেড়েছে ১৫ শতাংশেরও বেশি; এবং বর্তমানে ভারতে করোনায় আক্রান্তের গড় হার ১৩ দশমিক ৩১ শতাংশ। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, মহামারী শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত দেশের মোট জনসংখ্যার ১ দশমিক ৮ শতাংশ বর্তমানে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। দেশবাসীকে সতর্ক করে বলা হয়েছে, এই হার যেন কোনোভাবেই ২ শতাংশে উন্নীত না হয়ে সেজন্য আমাদের সবাইকে আরও দায়িত্বশীল হতে হবে। টিকা গ্রহণ ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার ক্ষেত্রে কোন প্রকার শিথিলতা প্রদর্শন না করতে দেশবাসীকে আহ্বান জানানো হচ্ছে।

চলতি বছরের ১৬ জানুয়ারি থেকে দেশটিতে করোনার গণটিকাকরণ কর্মসূচি শুরু হয়। এখন পর্যন্ত দেশটিতে টিকা নিয়েছেন সাড়ে ১৮ কোটিরও বেশি মানুষ।

গত কয়েক সপ্তাহ ধরে দেশটির টিকাকরণ কর্মসূচিতে ধির গতি দেখা গেছে বলে অভিযোগ বিভিন্ন মহলের। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দেয়া পরিসংখ্যানেও সেই তথ্য উঠে এসেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশটিতে টিকা নিয়েছেন ১৩ লাখ ৫৬ হাজার ১৫৩ জন। এদিকে, ভারতে করোনার প্রথম ধাক্কায় বহু চিকিৎসক, স্বাস্থ্য কর্মী, পুলিশ মারা গিয়েছেন। তাই সামনের সারির এই যোদ্ধাদের বাঁচানোর জন্য টিকা আবিষ্কারের পর থেকেই অগ্রাধিকার ভিত্তিতে তা প্রয়োগ শুরু হয়। ফলে করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে প্রথম সারির এ যোদ্ধাদের মৃত্যুর হার অনেক কমে গিয়েছে। কিন্তু প্রথম সারির আরও এক শ্রেণীর যোদ্ধাদের সেই সৌভাগ্য হয়নি। করোনাকালে প্রতিদিন রাস্তায় বেরিয়ে সংবাদ সংগ্রহ করা সেই সাংবাদিকদের জন্য অনেক পরে টিকা প্রয়োগের ব্যবস্থা হয়েছে। কিন্তু টিকা নেওয়ার আগেই অনেক সাংবাদিক করোনায় প্রাণ হারিয়েছেন।

ভারতে করোনাভাইরাসে গত বছরের এপ্রিল থেকে এক বছরে ৩০০ জনের বেশি সাংবাদিকের মৃত্যু হয়েছে। দিল্লির পারসেপশন স্টাডিজ নামে একটি সংস্থা এক রিপোর্টে এই তথ্য প্রকাশ করেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২০ সালের এপ্রিল থেকে ২০২১ সালের ১৬ মে পর্যন্ত ২৩৮ জন সাংবাদিক করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন বলে নিশ্চিত হয়েছে সংস্থাটি। এর বাইরেও অন্তত ৮২টি নাম রয়েছে যাদের মৃত্যুর কারণ এখনও নিশ্চিত করতে পারেনি তারা।

পারসেপশন স্টাডিজের ডিরেক্টর ড. কোটা নীলিমাও দাবি করেন, ৩০০-এর বেশি সাংবাদিক করোনায় মারা গেছেন। এই তালিকায় সেই সব সাংবাদিককে ধরা হয়েছে যারা রাস্তায় বেরিয়ে বা অফিসে বসে কাজ করতেন এবং করোনায় মারা গেছেন। এর মধ্যে রিপোর্টার, ফ্রিল্যান্সার, চিত্র সাংবাদিকসহ সবাইকে ধরা হয়েছে।

তেলেঙ্গানা ও উত্তরপ্রদেশে সব চেয়ে বেশি সাংবাদিক প্রাণ হারিয়েছেন। উত্তরপ্রদেশে গত এক বছরে ৩৭ জন সাংবাদিকের মৃত্যু হয়েছে। তেলাঙ্গানায় মৃত্যু হয়েছে ৩৯ জন সাংবাদিকের। এর পরেই রয়েছে দিল্লি। সেখানে ৩০ জনের মৃত্যু হয়েছে। মহারাষ্ট্রের ২৪ জন, ওড়িশার ২৬ জন এবং মধ্যপ্রদেশের ১৯ জন সাংবাদিকের মৃত্যু হয়েছে।

রিপোর্টে উল্লিখিত মৃত সাংবাদিকদের বয়স বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, ৪১ থেকে ৫০ বয়সী ৩১ শতাংশ, ৩১ থেকে ৪০ বছর বয়সী ১৫ শতাংশ এবং ৫১ থেকে ৬০ বছর বয়সী ১৯ শতাংশ, ৬১ থেকে ৭০ বছর বয়সী ২৪ শতাংশ এবং মৃত সাংবাদিকদের মধ্যে ৭১ বছর বয়সী ছিলেন ৯ শতাংশ।

বৃহস্পতিবার, ২০ মে ২০২১ , ৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮ ৭ শাওয়াল ১৪৪২

একদিনে করোনায় এত মৃত্যু দেখেনি ভারত

২৪ ঘণ্টায় মৃত্যু ৪৫২৯, আক্রান্ত ২ লাখ ৬৭ হাজার

image

ভারতে করোনাভাইরাসে গত তিন দিন ধরে দৈনিক সংক্রমণ কমলেও মৃত্যু দিন দিন বেড়েই চলেছে। গতকাল ২৪ ঘণ্টায় করোনায় দেশটিতে মৃত্যু হয় ৪৫২৯ জন। মহামারী শুরুর পর থেকে দেশটিতে একদিনে এটিই সর্বোচ্চ মৃত্যুর রেকর্ড। এ নিয়ে দেশটিতে মৃত্যু হয়েছে ২ লাখ ৮৩ হাজার ২৪৮ জনের। এসময় নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন ২ লাখ ৬৭ হাজার ৩৩৪ জন। এতে করে দেশটিতে মোট আক্রান্ত বেড়ে দাঁড়িয়েছে দুই কোটি ৫৪ লাখেরও বেশি। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, করোনায় ভারতের সবচেয়ে বিপর্যস্ত দুই রাজ্য দিল্লি ও মহারাষ্ট্রে দৈনিক আক্রান্তের সংখ্যা কমে এলেও কর্নাটক, ছত্তিশগড়, হরিয়ানা, পাঞ্জাব, তামিলনাড়– প্রভৃতি রাজ্যে দৈনিক সংক্রমণ পরিস্থিতির দৃশ্যমান বড় কোন উন্নতি দেখা যাচ্ছে না।

অন্যদিকে, ভারতের উত্তরপূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যসমূহ, যেগুলো সেভেন সিস্টার্স নামে পরিচিত আসাম, মনিপুর, নাগাল্যান্ড, মিজোরাম, অরুণাচল, সিকিম ও ত্রিপুরায় কিছুটা অবনতি হয়েছে দৈনিক সংক্রমণ পরিস্থিতির। এনডিটিভি

ভারতের কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী হর্ষ বর্ধন জানিয়েছেন, দেশের ২২টি রাজ্যে করোনা আক্রান্তের হার বেড়েছে ১৫ শতাংশেরও বেশি; এবং বর্তমানে ভারতে করোনায় আক্রান্তের গড় হার ১৩ দশমিক ৩১ শতাংশ। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, মহামারী শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত দেশের মোট জনসংখ্যার ১ দশমিক ৮ শতাংশ বর্তমানে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। দেশবাসীকে সতর্ক করে বলা হয়েছে, এই হার যেন কোনোভাবেই ২ শতাংশে উন্নীত না হয়ে সেজন্য আমাদের সবাইকে আরও দায়িত্বশীল হতে হবে। টিকা গ্রহণ ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার ক্ষেত্রে কোন প্রকার শিথিলতা প্রদর্শন না করতে দেশবাসীকে আহ্বান জানানো হচ্ছে।

চলতি বছরের ১৬ জানুয়ারি থেকে দেশটিতে করোনার গণটিকাকরণ কর্মসূচি শুরু হয়। এখন পর্যন্ত দেশটিতে টিকা নিয়েছেন সাড়ে ১৮ কোটিরও বেশি মানুষ।

গত কয়েক সপ্তাহ ধরে দেশটির টিকাকরণ কর্মসূচিতে ধির গতি দেখা গেছে বলে অভিযোগ বিভিন্ন মহলের। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দেয়া পরিসংখ্যানেও সেই তথ্য উঠে এসেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশটিতে টিকা নিয়েছেন ১৩ লাখ ৫৬ হাজার ১৫৩ জন। এদিকে, ভারতে করোনার প্রথম ধাক্কায় বহু চিকিৎসক, স্বাস্থ্য কর্মী, পুলিশ মারা গিয়েছেন। তাই সামনের সারির এই যোদ্ধাদের বাঁচানোর জন্য টিকা আবিষ্কারের পর থেকেই অগ্রাধিকার ভিত্তিতে তা প্রয়োগ শুরু হয়। ফলে করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে প্রথম সারির এ যোদ্ধাদের মৃত্যুর হার অনেক কমে গিয়েছে। কিন্তু প্রথম সারির আরও এক শ্রেণীর যোদ্ধাদের সেই সৌভাগ্য হয়নি। করোনাকালে প্রতিদিন রাস্তায় বেরিয়ে সংবাদ সংগ্রহ করা সেই সাংবাদিকদের জন্য অনেক পরে টিকা প্রয়োগের ব্যবস্থা হয়েছে। কিন্তু টিকা নেওয়ার আগেই অনেক সাংবাদিক করোনায় প্রাণ হারিয়েছেন।

ভারতে করোনাভাইরাসে গত বছরের এপ্রিল থেকে এক বছরে ৩০০ জনের বেশি সাংবাদিকের মৃত্যু হয়েছে। দিল্লির পারসেপশন স্টাডিজ নামে একটি সংস্থা এক রিপোর্টে এই তথ্য প্রকাশ করেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২০ সালের এপ্রিল থেকে ২০২১ সালের ১৬ মে পর্যন্ত ২৩৮ জন সাংবাদিক করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন বলে নিশ্চিত হয়েছে সংস্থাটি। এর বাইরেও অন্তত ৮২টি নাম রয়েছে যাদের মৃত্যুর কারণ এখনও নিশ্চিত করতে পারেনি তারা।

পারসেপশন স্টাডিজের ডিরেক্টর ড. কোটা নীলিমাও দাবি করেন, ৩০০-এর বেশি সাংবাদিক করোনায় মারা গেছেন। এই তালিকায় সেই সব সাংবাদিককে ধরা হয়েছে যারা রাস্তায় বেরিয়ে বা অফিসে বসে কাজ করতেন এবং করোনায় মারা গেছেন। এর মধ্যে রিপোর্টার, ফ্রিল্যান্সার, চিত্র সাংবাদিকসহ সবাইকে ধরা হয়েছে।

তেলেঙ্গানা ও উত্তরপ্রদেশে সব চেয়ে বেশি সাংবাদিক প্রাণ হারিয়েছেন। উত্তরপ্রদেশে গত এক বছরে ৩৭ জন সাংবাদিকের মৃত্যু হয়েছে। তেলাঙ্গানায় মৃত্যু হয়েছে ৩৯ জন সাংবাদিকের। এর পরেই রয়েছে দিল্লি। সেখানে ৩০ জনের মৃত্যু হয়েছে। মহারাষ্ট্রের ২৪ জন, ওড়িশার ২৬ জন এবং মধ্যপ্রদেশের ১৯ জন সাংবাদিকের মৃত্যু হয়েছে।

রিপোর্টে উল্লিখিত মৃত সাংবাদিকদের বয়স বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, ৪১ থেকে ৫০ বয়সী ৩১ শতাংশ, ৩১ থেকে ৪০ বছর বয়সী ১৫ শতাংশ এবং ৫১ থেকে ৬০ বছর বয়সী ১৯ শতাংশ, ৬১ থেকে ৭০ বছর বয়সী ২৪ শতাংশ এবং মৃত সাংবাদিকদের মধ্যে ৭১ বছর বয়সী ছিলেন ৯ শতাংশ।