প্যালেস্টাইন-ইসরায়েল আলাদা রাষ্ট্রই একমাত্র সমাধান : বাইডেন

প্যালেস্টাইন-ইসরায়েল ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বলেছেন, দুই পক্ষের মধ্যে সংঘাতের একমাত্র সমাধান হলো দুটি আলাদা রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা। রয়টার্স

এছাড়া দখলদার ইসরায়েলি বাহিনীর তা-বে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়া গাজা পুনর্নির্মাণে সর্বাত্মক সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন জো বাইডেন। একইসঙ্গে গাজায় শান্তি ফেরাতে ‘নীরবে’ কূটনৈতিক তৎপরতা চালিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছেন তিনি।

দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট মুন জা-ইনের সঙ্গে হোয়াইট হাউজে একটি যৌথ সংবাদ সম্মেলনে তিনি একথা বলেন।

বাইডেন বলেন, ইসরায়েলিদের ও হামাসের মধ্যে যুদ্ধবিরতি যাতে অব্যাহত থাকে, সেজন্য তিনি প্রার্থনা করছেন। তিনি আরও বলেন, ‘ইসরায়েলের প্রতি আমার দায়বদ্ধতার কোন পরিবর্তন আসেনি। ইসরায়েলের নিরাপত্তার জন্য আমার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, তার কোন পরিবর্তন হবে না। কোন অবস্থাতেই না, মোটেও না। ইসরায়েলের প্রতি ডেমোক্রেটদের অব্যাহত সমর্থন রয়েছে। যদিও আলেকজান্দ্রিয়া ওকাসিও-কর্টেজ ও রাশিদা তাইবের মতো প্রগতিশীল ডেমোক্রেট প্রতিনিধিরা ইসরায়েলের সমালোচনা করেছেন।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট গাজায় সহায়তা পাঠানোর কথা উল্লেখ করে বলেন, গাজার জনগণের জন্য দ্রুত মানবিক সহায়তা প্রদান ও গাজা পুনর্নির্মাণ চেষ্টায় আন্তর্জাতিক সহায়তা জোরদারে মার্কিন প্রশাসন প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমি বিশ্বাস করি, ইসরায়েল ও প্যালেস্টাইনিদের নিরাপত্তার সঙ্গে বেঁচে থাকা অধিকার রয়েছে। স্বাধীনতা, উন্নয়ন ও গণতন্ত্র উপভোগের সমান অধিকার রয়েছে। তাই আমি জোর দিয়ে বলছি সেখানে ইসরায়েলের পাশাপাশি স্বাধীন প্যালেস্টাইন রাষ্ট্র গঠন জরুরি। আমরা এসব নিয়ে নিরলস কাজ করে যাব।

যুদ্ধবিরতির পর গাজা ও ইসরায়েলের উপকূলীয় এলাকায় শান্তি ফিরেছে উল্লেখ করে বাইডেন বলেন, ‘সংঘাত বন্ধ করে শান্তি ফেরানোয় ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুকে ধন্যবাদ। তিনি কথা রেখেছেন, সংঘাত থামিয়ে শান্তি এনেছেন।’

বাইডেন আরও বলেন, হামাস যাতে অস্ত্রের মজুদ না গড়তে পারে তা নিশ্চিত করতে ইসরায়েলি দখলে থাকা ওয়েস্ট ব্যাংকে তার প্রতিদ্বন্দ্বী প্যালেস্টাইনিয়ান অথরিটির সঙ্গে সমন্বয় করে ওই অঞ্চলে সহায়তা দেয়া হবে। একটা বিষয় স্পষ্ট করা দরকার : একটি স্বাধীন ইহুদি রাষ্ট্র হিসেবে ইসরায়েলের অস্তিত্ব যতদিন না ওই অঞ্চলের স্বীকৃতি পাবে, ততদিন কোন শান্তি আসবে না।

ইসরায়েলি-প্যালেস্টাইনিদের মধ্যে সংঘাত বন্ধে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহল দীর্ঘদিন ধরে জেরুজালেমকে রাজধানী হিসাবে ভাগাভাগি করে ইসরায়েলের পাশাপাশি প্যালেস্টাইনিদের জন্য আলাদা রাষ্ট্রের ধারণাকে সামনে রেখে প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

প্যালেস্টাইনিদের উপেক্ষা করে অন্ধভাবে ইসরায়েলকে সমর্থন করায় এর আগে ডোনাল্ড ট্রাম্পের অধীনে যুক্তরাষ্ট্রের নীতি সমালোচিত হয়েছে। তার প্রশাসনও দুই রাষ্ট্র সমাধান নিয়ে হাজির হয়েছিল। কিন্তু তাতে ‘ইসরায়েলকে নিরাপত্তার দায়িত্ব দিয়ে প্যালেস্টাইন রাষ্ট্রকে সীমিত সার্বভৌমত্ব দেয়ার’ প্রস্তাব থাকায় তা প্রত্যাখ্যাত হয়। তবে বাইডেন যে কথা বলেছেন, তাতে সেই অবস্থান থেকে সরে গিয়ে প্যালেস্টাইনিদের জন্য পূর্ণাঙ্গ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠারই ইঙ্গিত।

রবিবার, ২৩ মে ২০২১ , ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮ ১০ শাওয়াল ১৪৪২

প্যালেস্টাইন-ইসরায়েল আলাদা রাষ্ট্রই একমাত্র সমাধান : বাইডেন

image

প্যালেস্টাইন-ইসরায়েল ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বলেছেন, দুই পক্ষের মধ্যে সংঘাতের একমাত্র সমাধান হলো দুটি আলাদা রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা। রয়টার্স

এছাড়া দখলদার ইসরায়েলি বাহিনীর তা-বে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়া গাজা পুনর্নির্মাণে সর্বাত্মক সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন জো বাইডেন। একইসঙ্গে গাজায় শান্তি ফেরাতে ‘নীরবে’ কূটনৈতিক তৎপরতা চালিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছেন তিনি।

দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট মুন জা-ইনের সঙ্গে হোয়াইট হাউজে একটি যৌথ সংবাদ সম্মেলনে তিনি একথা বলেন।

বাইডেন বলেন, ইসরায়েলিদের ও হামাসের মধ্যে যুদ্ধবিরতি যাতে অব্যাহত থাকে, সেজন্য তিনি প্রার্থনা করছেন। তিনি আরও বলেন, ‘ইসরায়েলের প্রতি আমার দায়বদ্ধতার কোন পরিবর্তন আসেনি। ইসরায়েলের নিরাপত্তার জন্য আমার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, তার কোন পরিবর্তন হবে না। কোন অবস্থাতেই না, মোটেও না। ইসরায়েলের প্রতি ডেমোক্রেটদের অব্যাহত সমর্থন রয়েছে। যদিও আলেকজান্দ্রিয়া ওকাসিও-কর্টেজ ও রাশিদা তাইবের মতো প্রগতিশীল ডেমোক্রেট প্রতিনিধিরা ইসরায়েলের সমালোচনা করেছেন।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট গাজায় সহায়তা পাঠানোর কথা উল্লেখ করে বলেন, গাজার জনগণের জন্য দ্রুত মানবিক সহায়তা প্রদান ও গাজা পুনর্নির্মাণ চেষ্টায় আন্তর্জাতিক সহায়তা জোরদারে মার্কিন প্রশাসন প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমি বিশ্বাস করি, ইসরায়েল ও প্যালেস্টাইনিদের নিরাপত্তার সঙ্গে বেঁচে থাকা অধিকার রয়েছে। স্বাধীনতা, উন্নয়ন ও গণতন্ত্র উপভোগের সমান অধিকার রয়েছে। তাই আমি জোর দিয়ে বলছি সেখানে ইসরায়েলের পাশাপাশি স্বাধীন প্যালেস্টাইন রাষ্ট্র গঠন জরুরি। আমরা এসব নিয়ে নিরলস কাজ করে যাব।

যুদ্ধবিরতির পর গাজা ও ইসরায়েলের উপকূলীয় এলাকায় শান্তি ফিরেছে উল্লেখ করে বাইডেন বলেন, ‘সংঘাত বন্ধ করে শান্তি ফেরানোয় ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুকে ধন্যবাদ। তিনি কথা রেখেছেন, সংঘাত থামিয়ে শান্তি এনেছেন।’

বাইডেন আরও বলেন, হামাস যাতে অস্ত্রের মজুদ না গড়তে পারে তা নিশ্চিত করতে ইসরায়েলি দখলে থাকা ওয়েস্ট ব্যাংকে তার প্রতিদ্বন্দ্বী প্যালেস্টাইনিয়ান অথরিটির সঙ্গে সমন্বয় করে ওই অঞ্চলে সহায়তা দেয়া হবে। একটা বিষয় স্পষ্ট করা দরকার : একটি স্বাধীন ইহুদি রাষ্ট্র হিসেবে ইসরায়েলের অস্তিত্ব যতদিন না ওই অঞ্চলের স্বীকৃতি পাবে, ততদিন কোন শান্তি আসবে না।

ইসরায়েলি-প্যালেস্টাইনিদের মধ্যে সংঘাত বন্ধে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহল দীর্ঘদিন ধরে জেরুজালেমকে রাজধানী হিসাবে ভাগাভাগি করে ইসরায়েলের পাশাপাশি প্যালেস্টাইনিদের জন্য আলাদা রাষ্ট্রের ধারণাকে সামনে রেখে প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

প্যালেস্টাইনিদের উপেক্ষা করে অন্ধভাবে ইসরায়েলকে সমর্থন করায় এর আগে ডোনাল্ড ট্রাম্পের অধীনে যুক্তরাষ্ট্রের নীতি সমালোচিত হয়েছে। তার প্রশাসনও দুই রাষ্ট্র সমাধান নিয়ে হাজির হয়েছিল। কিন্তু তাতে ‘ইসরায়েলকে নিরাপত্তার দায়িত্ব দিয়ে প্যালেস্টাইন রাষ্ট্রকে সীমিত সার্বভৌমত্ব দেয়ার’ প্রস্তাব থাকায় তা প্রত্যাখ্যাত হয়। তবে বাইডেন যে কথা বলেছেন, তাতে সেই অবস্থান থেকে সরে গিয়ে প্যালেস্টাইনিদের জন্য পূর্ণাঙ্গ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠারই ইঙ্গিত।