অভয়নগরে সঞ্জয় হত্যা ও ডাকাতির রহস্য উদ্ঘাটন পিবিআইর

যশোরের অভয়নগরে বাড়িতে চাঞ্চল্যকার দেবাশীষ সরকার সঞ্জয় হত্যাকাণ্ড ও ডাকাতির রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন-পিবিআই যশোর। হত্যাকাণ্ড, ডাকাতি ও স্বর্ণালঙ্কার কেনাবেচায় জড়িত অভিযোগে পিবিআই দু’জনকে আটক করেছে। এরা হলো খুলনার তেরখাদা উপজেলার মোকামপুর গ্রামের মোতালেব খাঁ ওরফে মোতাহের খাঁর ছেলে সেলিম খাঁ ওরফে শহিদুল এবং দিঘলিয়া উপজেলার চন্দনী মহল গ্রামের মুক্তার শেখের ছেলে নান্টু শেখ। আটককৃতরা গত শুক্রবার যশোরের আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে।

যশোর পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) পুলিশ সুপার রেশমা শারমিন জানিয়েছেন, গত ২৭ এপ্রিল ভোর রাত আড়াইটার দিকে একদল ডাকাত যশোরের অভয়নগর উপজেলার চলিশিয়া গ্রামের পালপাড়ার দেবাশীষ সরকার ওরফে সঞ্জয় সরকারের বাড়িতে হানা দেয়। প্রথমেই ডাকাতরা বাড়ির মালি সঞ্জয় সরকার ও তার স্ত্রী রিপা সরকার, মেয়ে দেবীকা এবং মা মিনতী সরকারকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে এবং মারপিট শুরু করে।

এরপর ওই বাড়ি থেকে ৪ লাখ টাকা এবং ২০ ভরি ৮ আনা স্বর্ণালঙ্কার লুটপাট করে নিয়ে চলে যায়। ডাকাতরা চলে যাওয়ার পর বাড়ির লোকজনের চিৎকারে আশপাশের লোকজন এসে সঞ্জয় সরকার ও তার স্ত্রী রিপা সরকার, মেয়ে দেবীকা এবং মা মিনতী সরকারকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য অভয়নগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক সঞ্জয় সরকারকে মৃত ঘোষণা করেন। সঞ্জয়ের স্ত্রী রিপা সরকারের অবস্থা খারাপ হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে খুলনায় রেফার করা হয়।

এ ঘটনায় নিহত সঞ্জয়ের ভগ্নিপতি অ্যাডভোকেট তপন কুমার বিশ্বাস অভয়নগর থানায় মামলা করেন। মামলাটি স্বউদ্যোগে তদন্ত ভার গ্রহণ করে যশোরের পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। পিবিআই যশোরের পুলিশ পরিদর্শক দেবাশীষ মন্ডল তদন্তকালে গত ২০ মে রাত আড়াইটার দিকে খুলনার তেরখাদা উপজেলার মোকামপুর গ্রামের বাড়ি থেকে প্রথমেই আসামি সেলিম খাঁ ওরফে শহিদুলকে আটক করেন। এ সময় তার কাছ থেকে ডাকাতি করা একটি স্বর্ণের আংটি উদ্ধার করা হয়।

এরপর ২০ মে সকাল সাড়ে ৮টার দিকে দিঘলিয়া উপজেলার চন্দনী মহলের বাড়ি থেকে আটক করা হয় অন্য আসামি নান্টু মিয়াকে। আটক দু’জনের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে খুলনার হেলাতলা রিংকু স্টোরে অভিযান চালানো হয়। এ সময় ওই দোকান থেকে ডাকাতি করা ৬ ভরি ৭ আনা স্বর্ণ উদ্ধার করা হয়। তবে ডাকাতি করা স্বর্ণালঙ্কার গলিয়ে ফেলা হয়েছিল।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটককৃতরা পিবিআইকে জানিয়েছে, আসামি সেলিম খাঁ ওরফে শহিদুল খাঁ তার দলবল নিয়ে দেবাশীষ সরকার সঞ্জয়ের বাড়িতে ডাকাতি করতে যায়। বাড়ির সদস্যদের লোহার রড দিয়ে গুরুতর জখম করে বাড়িতে থাকা স্বর্ণালঙ্কার ও নগদ অর্থসহ ১৯ লাখ টাকার মালামাল ডাকাতি করে। আর ডাকাতির লুণ্ঠিত স্বর্ণালঙ্কার অভিযুক্ত নান্টু শেখের মাধ্যমে বিক্রি করে।

আটক দু’জনকে গত শুক্রবার যশোর জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সোপর্দ করা হয়। তারা জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, ৪র্থ আদালতের বিচারক মাহাদী হাসানের কাছে ১৬৪ ধারা মোতাবেক স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেছে। এই মামলায় সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দিয়েছেন খুলনা সদর থানার হেলাতলা ‘রিংকু স্টোর’ নামক স্বর্ণের দোকানের মালিক বিপ্লব।

রবিবার, ২৩ মে ২০২১ , ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮ ১০ শাওয়াল ১৪৪২

অভয়নগরে সঞ্জয় হত্যা ও ডাকাতির রহস্য উদ্ঘাটন পিবিআইর

যশোরের অভয়নগরে বাড়িতে চাঞ্চল্যকার দেবাশীষ সরকার সঞ্জয় হত্যাকাণ্ড ও ডাকাতির রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন-পিবিআই যশোর। হত্যাকাণ্ড, ডাকাতি ও স্বর্ণালঙ্কার কেনাবেচায় জড়িত অভিযোগে পিবিআই দু’জনকে আটক করেছে। এরা হলো খুলনার তেরখাদা উপজেলার মোকামপুর গ্রামের মোতালেব খাঁ ওরফে মোতাহের খাঁর ছেলে সেলিম খাঁ ওরফে শহিদুল এবং দিঘলিয়া উপজেলার চন্দনী মহল গ্রামের মুক্তার শেখের ছেলে নান্টু শেখ। আটককৃতরা গত শুক্রবার যশোরের আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে।

যশোর পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) পুলিশ সুপার রেশমা শারমিন জানিয়েছেন, গত ২৭ এপ্রিল ভোর রাত আড়াইটার দিকে একদল ডাকাত যশোরের অভয়নগর উপজেলার চলিশিয়া গ্রামের পালপাড়ার দেবাশীষ সরকার ওরফে সঞ্জয় সরকারের বাড়িতে হানা দেয়। প্রথমেই ডাকাতরা বাড়ির মালি সঞ্জয় সরকার ও তার স্ত্রী রিপা সরকার, মেয়ে দেবীকা এবং মা মিনতী সরকারকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে এবং মারপিট শুরু করে।

এরপর ওই বাড়ি থেকে ৪ লাখ টাকা এবং ২০ ভরি ৮ আনা স্বর্ণালঙ্কার লুটপাট করে নিয়ে চলে যায়। ডাকাতরা চলে যাওয়ার পর বাড়ির লোকজনের চিৎকারে আশপাশের লোকজন এসে সঞ্জয় সরকার ও তার স্ত্রী রিপা সরকার, মেয়ে দেবীকা এবং মা মিনতী সরকারকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য অভয়নগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক সঞ্জয় সরকারকে মৃত ঘোষণা করেন। সঞ্জয়ের স্ত্রী রিপা সরকারের অবস্থা খারাপ হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে খুলনায় রেফার করা হয়।

এ ঘটনায় নিহত সঞ্জয়ের ভগ্নিপতি অ্যাডভোকেট তপন কুমার বিশ্বাস অভয়নগর থানায় মামলা করেন। মামলাটি স্বউদ্যোগে তদন্ত ভার গ্রহণ করে যশোরের পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। পিবিআই যশোরের পুলিশ পরিদর্শক দেবাশীষ মন্ডল তদন্তকালে গত ২০ মে রাত আড়াইটার দিকে খুলনার তেরখাদা উপজেলার মোকামপুর গ্রামের বাড়ি থেকে প্রথমেই আসামি সেলিম খাঁ ওরফে শহিদুলকে আটক করেন। এ সময় তার কাছ থেকে ডাকাতি করা একটি স্বর্ণের আংটি উদ্ধার করা হয়।

এরপর ২০ মে সকাল সাড়ে ৮টার দিকে দিঘলিয়া উপজেলার চন্দনী মহলের বাড়ি থেকে আটক করা হয় অন্য আসামি নান্টু মিয়াকে। আটক দু’জনের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে খুলনার হেলাতলা রিংকু স্টোরে অভিযান চালানো হয়। এ সময় ওই দোকান থেকে ডাকাতি করা ৬ ভরি ৭ আনা স্বর্ণ উদ্ধার করা হয়। তবে ডাকাতি করা স্বর্ণালঙ্কার গলিয়ে ফেলা হয়েছিল।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটককৃতরা পিবিআইকে জানিয়েছে, আসামি সেলিম খাঁ ওরফে শহিদুল খাঁ তার দলবল নিয়ে দেবাশীষ সরকার সঞ্জয়ের বাড়িতে ডাকাতি করতে যায়। বাড়ির সদস্যদের লোহার রড দিয়ে গুরুতর জখম করে বাড়িতে থাকা স্বর্ণালঙ্কার ও নগদ অর্থসহ ১৯ লাখ টাকার মালামাল ডাকাতি করে। আর ডাকাতির লুণ্ঠিত স্বর্ণালঙ্কার অভিযুক্ত নান্টু শেখের মাধ্যমে বিক্রি করে।

আটক দু’জনকে গত শুক্রবার যশোর জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সোপর্দ করা হয়। তারা জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, ৪র্থ আদালতের বিচারক মাহাদী হাসানের কাছে ১৬৪ ধারা মোতাবেক স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেছে। এই মামলায় সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দিয়েছেন খুলনা সদর থানার হেলাতলা ‘রিংকু স্টোর’ নামক স্বর্ণের দোকানের মালিক বিপ্লব।