গণপরিবহন চালুু হলেও খুলছে না পর্যটনকেন্দ্র, কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা বহাল

কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা বহালসহ সব পর্যটন স্পট বন্ধ থাকছে। এছাড়াও বন্ধ থাকছে সাড়ে ৪ শতাধিক হোটেল-মোটেল, রিসোর্ট, গেস্ট হাউস ও কটেজ। মঙ্গলবার (২৫ মে) দুপুরে কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মোহাম্মদ আমিন আল পারভেজ সংবাদকে জানান, জেলা করোনা প্রতিরোধ কমিটির সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সবকিছু আগের মতোই চলবে। পর্যটন স্পট ও হোটেল-মোটেল বন্ধ থাকবে। তবে শুধু রেস্তোরাঁগুলো শর্ত-সাপেক্ষে ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে খোলা রাখা যাবে।

জানা গেছে, গণপরিবহন চালু ও শর্ত-সাপেক্ষে হোটেল-রেস্তোরাঁ খোলা রাখার নির্দেশনা দিয়ে ৩০ মে পর্যন্ত চলমান বিধিনিষেধ বাড়িয়ে গত রোববার এক প্রজ্ঞাপন জারি হয়। এই প্রজ্ঞাপনে গণপরিবহন চালু ও শর্ত-সাপেক্ষে হোটেল-রেস্তোরাঁ খোলা রাখার নির্দেশনায় আশায় বুক বেঁধেছিলেন পর্যটন ব্যবসায়ীরা।

কিন্তু প্রশাসনের পক্ষ থেকে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা বহাল, পর্যটন স্পট ও হোটেল বন্ধ রাখার নির্দেশনায় পর্যটন ব্যবসায়ীরা বিপাকে পড়েছে।

এ নিয়ে কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মোহাম্মদ আমিন আল পারভেজ জানান, করোনা সংক্রমণ কক্সবাজারে বেড়েছে। এতে রোববার (২৩ মে) রাতে জেলা করোনা প্রতিরোধ কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সমুদ্র সৈকতে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকাসহ সব পর্যটন স্পট ও সাড়ে ৪ শতাধিক হোটেল-মোটেল, রিসোর্ট, গেস্ট হাউস এবং কটেজ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।

কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মোহাম্মদ আমিন আল পারভেজ সংবাদকে আরও জানান, সংক্রমণ রোধে ২৩ মে থেকে ৩০ মে পর্যন্ত উখিয়া উপজেলাকে লকডাউনের আওতায় আনা হয়েছে। আগের দিন লকডাউন দেয়া হয় টেকনাফ উপজেলাতেও। একই সময় উখিয়ার চারটি, টেকনাফের একটিসহ পাঁচ রোহিঙ্গা শিবিরে কঠোর লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছে। সুতরাং সবাইকে করোনার সংক্রমণ রোধে সহযোগিতা করার তিনি আহ্বান জানান।

এদিকে গত সোমবারও পুরো সৈকত ছিল ফাঁকা। সৈকতের সুগন্ধা, কবিতা চত্বর, কলাতলী পয়েন্টে প্রতিদিনের মতো কড়া পাহারায় রয়েছে ট্যুরিস্ট পুলিশ। আগত দর্শনার্থীদের প্রবেশে নিরুৎসাহিত করছে ট্যুরিস্ট পুলিশ আর লাবণী পয়েন্টে অবস্থানরত বিচ কর্মীরাও মাইকিং করছে সৈকতে প্রবেশ নিষেধ।

আর কলাতলীর হোটেল-মোটেল জোনে দেখা গেছে, কয়েকটি রেস্তোরাঁ খোলা রয়েছে। আবার অনেক রেস্তোরাঁ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে খোলার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

ট্যুরিস্ট পুলিশ কক্সবাজার জোনের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জিল্লুর রহমান বলেন, করোনা প্রতিরোধ কমিটির সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সবকিছু আগের নিয়মেই থাকছে। শুধু রেস্তোরাঁ খোলার বিষয়টি শিথিল করা হয়েছে। সৈকতে প্রবেশে দর্শনার্থীদের নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে। প্রবেশদ্বারে ট্যুরিস্ট পুলিশের পাহারা ও সৈকতের টহল আগের নিয়মেই চলছে।

এদিকে গেল বছরের মার্চে দেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ দেখা দিলে সরকার লকডাউনের ঘোষণার মধ্য দিয়ে বন্ধ করে দেয় কক্সবাজারের পর্যটন কেন্দ্রগুলো। পরে সংক্রমণ কমলে সরকার বিধিনিষেধ শিথিল করে খুলে দেয় কিন্তু সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউয়ে এপ্রিলের শুরুতে ফের লকডাউন আসে, আবার বন্ধ হয়ে যায় সমুদ্র সৈকতসহ কক্সবাজারের পর্যটন কেন্দ্রগুলো। যা এখনও বহাল।

এদিকে হোটেল-মোটেল, রিসোর্ট, গেস্ট হাউস ও কটেজ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্তে চরম হতাশ পর্যটন সংশ্লিষ্টরা। তবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে সীমিত আকারে হলেও সৈকতে পর্যটকদের আসার সুযোগ দেয়ার দাবি জানান তারা।

এদিকে কক্সবাজার সিভিল সার্জন ডাক্তার মাহবুবুর রহমান সংবাদকে জানান, ২৪ মে পর্যন্ত কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ ল্যাবে সর্বমোট করোনা কেইসের সংখ্যা দাঁড়ালো ৯৮৩২ জন। তার মধ্যে সুস্থ হয়েছেন ৮৫১৭ জন, এখন পর্যন্ত মৃত্যুবরণ করেছেন ১০৯ জন। এর মধ্যে রোহিঙ্গা রয়েছে ১৩ জন। হোম আইসোলেশনে আছেন ৭৫৯ জন, প্রাতিষ্ঠানিক আইসোলেশনে আছেন ৩৩৪ জন।

বুধবার, ২৬ মে ২০২১ , ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮ ১৩ শাওয়াল ১৪৪২

গণপরিবহন চালুু হলেও খুলছে না পর্যটনকেন্দ্র, কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা বহাল

কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা বহালসহ সব পর্যটন স্পট বন্ধ থাকছে। এছাড়াও বন্ধ থাকছে সাড়ে ৪ শতাধিক হোটেল-মোটেল, রিসোর্ট, গেস্ট হাউস ও কটেজ। মঙ্গলবার (২৫ মে) দুপুরে কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মোহাম্মদ আমিন আল পারভেজ সংবাদকে জানান, জেলা করোনা প্রতিরোধ কমিটির সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সবকিছু আগের মতোই চলবে। পর্যটন স্পট ও হোটেল-মোটেল বন্ধ থাকবে। তবে শুধু রেস্তোরাঁগুলো শর্ত-সাপেক্ষে ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে খোলা রাখা যাবে।

জানা গেছে, গণপরিবহন চালু ও শর্ত-সাপেক্ষে হোটেল-রেস্তোরাঁ খোলা রাখার নির্দেশনা দিয়ে ৩০ মে পর্যন্ত চলমান বিধিনিষেধ বাড়িয়ে গত রোববার এক প্রজ্ঞাপন জারি হয়। এই প্রজ্ঞাপনে গণপরিবহন চালু ও শর্ত-সাপেক্ষে হোটেল-রেস্তোরাঁ খোলা রাখার নির্দেশনায় আশায় বুক বেঁধেছিলেন পর্যটন ব্যবসায়ীরা।

কিন্তু প্রশাসনের পক্ষ থেকে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা বহাল, পর্যটন স্পট ও হোটেল বন্ধ রাখার নির্দেশনায় পর্যটন ব্যবসায়ীরা বিপাকে পড়েছে।

এ নিয়ে কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মোহাম্মদ আমিন আল পারভেজ জানান, করোনা সংক্রমণ কক্সবাজারে বেড়েছে। এতে রোববার (২৩ মে) রাতে জেলা করোনা প্রতিরোধ কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সমুদ্র সৈকতে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকাসহ সব পর্যটন স্পট ও সাড়ে ৪ শতাধিক হোটেল-মোটেল, রিসোর্ট, গেস্ট হাউস এবং কটেজ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।

কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মোহাম্মদ আমিন আল পারভেজ সংবাদকে আরও জানান, সংক্রমণ রোধে ২৩ মে থেকে ৩০ মে পর্যন্ত উখিয়া উপজেলাকে লকডাউনের আওতায় আনা হয়েছে। আগের দিন লকডাউন দেয়া হয় টেকনাফ উপজেলাতেও। একই সময় উখিয়ার চারটি, টেকনাফের একটিসহ পাঁচ রোহিঙ্গা শিবিরে কঠোর লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছে। সুতরাং সবাইকে করোনার সংক্রমণ রোধে সহযোগিতা করার তিনি আহ্বান জানান।

এদিকে গত সোমবারও পুরো সৈকত ছিল ফাঁকা। সৈকতের সুগন্ধা, কবিতা চত্বর, কলাতলী পয়েন্টে প্রতিদিনের মতো কড়া পাহারায় রয়েছে ট্যুরিস্ট পুলিশ। আগত দর্শনার্থীদের প্রবেশে নিরুৎসাহিত করছে ট্যুরিস্ট পুলিশ আর লাবণী পয়েন্টে অবস্থানরত বিচ কর্মীরাও মাইকিং করছে সৈকতে প্রবেশ নিষেধ।

আর কলাতলীর হোটেল-মোটেল জোনে দেখা গেছে, কয়েকটি রেস্তোরাঁ খোলা রয়েছে। আবার অনেক রেস্তোরাঁ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে খোলার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

ট্যুরিস্ট পুলিশ কক্সবাজার জোনের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জিল্লুর রহমান বলেন, করোনা প্রতিরোধ কমিটির সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সবকিছু আগের নিয়মেই থাকছে। শুধু রেস্তোরাঁ খোলার বিষয়টি শিথিল করা হয়েছে। সৈকতে প্রবেশে দর্শনার্থীদের নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে। প্রবেশদ্বারে ট্যুরিস্ট পুলিশের পাহারা ও সৈকতের টহল আগের নিয়মেই চলছে।

এদিকে গেল বছরের মার্চে দেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ দেখা দিলে সরকার লকডাউনের ঘোষণার মধ্য দিয়ে বন্ধ করে দেয় কক্সবাজারের পর্যটন কেন্দ্রগুলো। পরে সংক্রমণ কমলে সরকার বিধিনিষেধ শিথিল করে খুলে দেয় কিন্তু সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউয়ে এপ্রিলের শুরুতে ফের লকডাউন আসে, আবার বন্ধ হয়ে যায় সমুদ্র সৈকতসহ কক্সবাজারের পর্যটন কেন্দ্রগুলো। যা এখনও বহাল।

এদিকে হোটেল-মোটেল, রিসোর্ট, গেস্ট হাউস ও কটেজ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্তে চরম হতাশ পর্যটন সংশ্লিষ্টরা। তবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে সীমিত আকারে হলেও সৈকতে পর্যটকদের আসার সুযোগ দেয়ার দাবি জানান তারা।

এদিকে কক্সবাজার সিভিল সার্জন ডাক্তার মাহবুবুর রহমান সংবাদকে জানান, ২৪ মে পর্যন্ত কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ ল্যাবে সর্বমোট করোনা কেইসের সংখ্যা দাঁড়ালো ৯৮৩২ জন। তার মধ্যে সুস্থ হয়েছেন ৮৫১৭ জন, এখন পর্যন্ত মৃত্যুবরণ করেছেন ১০৯ জন। এর মধ্যে রোহিঙ্গা রয়েছে ১৩ জন। হোম আইসোলেশনে আছেন ৭৫৯ জন, প্রাতিষ্ঠানিক আইসোলেশনে আছেন ৩৩৪ জন।