করোনাকালীন ঘোষিত প্রণোদনা প্যাকেজের বাস্তবায়ন ৮৩ শতাংশ

সরকার এ পর্যন্ত ১ লাখ ২৪ হাজার ৫৩ কোটি টাকার ২৩টি আর্থিক প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে। এখন পর্যন্ত প্রণোদনা প্যাকেজের মধ্যে ৮৩ হাজার ৫৩ কোটি টাকা বিতরণ হয়েছে। অর্থাৎ মোট প্যাকেজের প্রায় ৮৩ শতাংশ বাস্তবায়িত হয়েছে। আর এ প্যাকেজের আওতায় সুবিধাভোগীর সংখ্যা সর্বমোট দাঁড়িয়েছে প্রায় ১ কোটি ২৪ লাখ। এসব প্রণোদনা প্যাকেজের মধ্যে ৯টির কার্যক্রমের সঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংক সরাসরি যুক্ত। করোনাভাইরাসের ফলে অর্থনৈতিক প্রভাব মোকাবিলায় সরকার ঘোষিত প্রণোদনা প্যাকেজের ৮৩ শতাংশ ঋণ বিতরণ করা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

সরকার এ পর্যন্ত ১ লাখ ২৪ হাজার ৫৩ কোটি টাকার ২৩টি আর্থিক প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে। পরবর্তী সময়ে ইডিএফের মাধ্যমে প্যাকেজটি আরও ৪,২৫০ কোটি টাকা বাড়ানো হয়েছে। মোট প্রণোদনার আর্থিক মূল্য ১ লাখ ২৮ হাজার ৩০৩ কোটি টাকা। ২৩টি আর্থিক প্রণোদনা প্যাকেজের মধ্যে ৯টির কার্যক্রমের সঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংক সরাসরি যুক্ত। এখন পর্যন্ত প্রণোদনা প্যাকেজের মধ্যে ৮৩ হাজার ৫৩ কোটি টাকা বিতরণ হয়েছে। অর্থাৎ মোট প্যাকেজের প্রায় ৮৩ শতাংশ বাস্তবায়িত হয়েছে। আর এ প্যাকেজের আওতায় সুবিধাভোগীর সংখ্যা সর্বমোট দাঁড়িয়েছে প্রায় ১ কোটি ২৪ লাখ।

দেশের অর্থনৈতিক কর্মকান্ড পুনরুজ্জীবিতকরণ, শ্রমিক-কর্মচারীদের কাজে বহাল এবং উদ্যোক্তাদের প্রতিযোগিতার সক্ষমতা অক্ষুণ্ন রাখতে সরকারের দেয়া প্রণোদনা প্যাকেজের মধ্যে অন্যতম একটি খাত হলো এক্সপোর্ট ডেভেলপমেন্ট ফান্ড (ইডিএফ)। যার পরিমাণ ১৭ হাজার কোটি টাকা। এ প্যাকেজের বিপরীতে বিতরণ করা হয়েছে ১৬ হাজার ৯০১ কোটি টাকা। বাস্তবায়নের হার প্রায় ৯৯ দশমিক ৫০ ভাগ। এক্ষেত্রে প্রত্যক্ষ সুবিধাভোগীর সংখ্যা ৬ হাজার ৬৫০ জন।

বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, আমেরিকাসহ বিশ্বের ধনী দেশগুলোর সংগঠন ওইসিডিভুক্ত দেশগুলো যেখানে করোনা মহামারীতে শূন্যের কোঠায় প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে হিমশিম খাচ্ছে সেক্ষেত্রে বাংলাদেশের মতো উদীয়মান উন্নয়নশীল অর্থনীতিতে প্রবৃদ্ধির হার বর্তমানে ৫ শতাংশের ওপরে। এটা সরকার, বাংলাদেশ ব্যাংক ও অন্যান্য খাতের দক্ষতা, সামর্থ্য ও একান্ত কর্মনিষ্ঠার বহিঃপ্রকাশ।

দেশের ক্ষতিগ্রস্ত বৃহৎ শিল্প ও সার্ভিস সেক্টর, ক্ষুদ্র ও মাঝারি কুটির শিল্প, কৃষি খাতে পুনঃঅর্থায়ন স্কিম, নিম্নআয়ের পেশাজীবী, কৃষক ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য পুনঃঅর্থায়ন স্কিম, বিতরণকৃত শস্য ও ফসল খাতে ৪ শতাংশ রেয়াতি সুদ হারে কৃষিঋণ প্রদান, ৫ বছর মেয়াদি মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতে ঋণ বিতরণ, ‘বঙ্গবন্ধু যুব ঋণ’ কর্মসূচির আওতায় ঋণ বিতরণ, উৎপাদন বাড়ানো, দারিদ্র্য বিমোচন ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন নিশ্চিতকল্পে আনসার ও ভিডিপি ব্যাংকের অনুকূলে তহবিল বরাদ্দ ইত্যাদি মোট ১০টি প্যাকেজের আওতায় প্রত্যক্ষ সুবিধাভোগীর সংখ্যা প্রায় ১৩ লাখ।

প্রত্যক্ষ সুবিধাভোগীর সংখ্যা প্রায় ১৩ লাখ গ্রাহক হলেও পরোক্ষ সুবিধাভোগীর সংখ্যা প্রায় ২৪ লাখ। এর মধ্যে ক্ষুদ্র ও মাঝারি কুটির শিল্পে ২০ হাজার কোটি টাকার বিপরীতে ইতোমধ্যে বিতরণ করা হয়েছে ১৪ হাজার ৬৫৪ কোটি। এক্ষেত্রে প্রত্যক্ষ সুবিধাভোগীর সংখ্যা ৯৫ হাজার ৭৩৩ জন। আর পরোক্ষ সুবিধাভোগীর সংখ্যা ১১ লাখ। কৃষি খাতে পুনঃঅর্থায়ন স্কিমে বিতরণ করা হয়েছে ৫ হাজার কোটি টাকার প্যাকেজের বিপরীতে মোট বিতরণ করা হয়েছে ৩ হাজার ৯৫৪ কোটি টাকা। এক্ষেত্রে প্রত্যক্ষ সুবিধাভোগীর সংখ্যা প্রায় ২ লাখ।

নিম্নআয়ের পেশাজীবী কৃষক ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য পুনঃঅর্থায়ন স্কিমে ৩ হাজার কোটি টাকা প্যাকেজের বিপরীতে অনুমোদিত ঋণের পরিমাণ ২ হাজার ৪৪৫ কোটি টাকা। ইতোমধ্যে বিতরণ করা হয়েছে ১ হাজার ৮৩১ কোটি টাকা। এক্ষেত্রে প্রত্যক্ষ সুবিধাভোগীর সংখ্যা প্রায় ৩ লাখ ২০ হাজার গ্রাহক। শস্য ও ফসল খাতে ৪ শতাংশ রেয়াতি সুদহারের কৃষিঋণ প্রদান প্যাকেজ হবে চাহিদা অনুযায়ী। এক্ষেত্রে মোট বিতরণ করা হয়েছে ৪ হাজার ৫৬ কোটি টাকা আর প্রত্যক্ষ সুবিধাভোগীর সংখ্যা ৬ লাখ গ্রাহক। আনসার ও ভিডিপি ব্যাংকের অনুকূলে কৃষি উৎপাদন ও দারিদ্র্য বিমোচনের লক্ষ্যে কৃষি খাতে ৩০০ কোটি টাকার বিপরীতে বিতরণ করা হয়েছে প্রায় ১৫৪ কোটি টাকা।

অন্যদিকে, ক্ষুদ্রঋণে ২০০ কোটি টাকার বিপরীতে বিতরণ করা হয়েছে প্রায় ৭২ কোটি টাকা। উল্লেখ্য, এ উপখাতে মোট প্রত্যক্ষ সুবিধাভোগীর সংখ্যা প্রায় ৮৭ হাজার। গার্মেন্ট শ্রমিক কর্মচারীদের ৩ মাসের বেতন-ভাতা এবং এপ্রিল ও মে ২০২০ মাসের ঋণের বিপরীতে সুদ ভর্তুকি বাবদ মোট ৫ হাজার কোটি টাকা এবং ১ হাজার ৩৯০ কোটি টাকা বিতরণ করা হয়েছে। যেখানে প্রত্যক্ষ সুবিধাভোগীর সংখ্যা যথাক্রমে প্রায় ৩৮ লাখ ও ৭৩ লাখ।

বুধবার, ০২ জুন ২০২১ , ১৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮ ২০ শাওয়াল ১৪৪২

করোনাকালীন ঘোষিত প্রণোদনা প্যাকেজের বাস্তবায়ন ৮৩ শতাংশ

সরকার এ পর্যন্ত ১ লাখ ২৪ হাজার ৫৩ কোটি টাকার ২৩টি আর্থিক প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে। এখন পর্যন্ত প্রণোদনা প্যাকেজের মধ্যে ৮৩ হাজার ৫৩ কোটি টাকা বিতরণ হয়েছে। অর্থাৎ মোট প্যাকেজের প্রায় ৮৩ শতাংশ বাস্তবায়িত হয়েছে। আর এ প্যাকেজের আওতায় সুবিধাভোগীর সংখ্যা সর্বমোট দাঁড়িয়েছে প্রায় ১ কোটি ২৪ লাখ। এসব প্রণোদনা প্যাকেজের মধ্যে ৯টির কার্যক্রমের সঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংক সরাসরি যুক্ত। করোনাভাইরাসের ফলে অর্থনৈতিক প্রভাব মোকাবিলায় সরকার ঘোষিত প্রণোদনা প্যাকেজের ৮৩ শতাংশ ঋণ বিতরণ করা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

সরকার এ পর্যন্ত ১ লাখ ২৪ হাজার ৫৩ কোটি টাকার ২৩টি আর্থিক প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে। পরবর্তী সময়ে ইডিএফের মাধ্যমে প্যাকেজটি আরও ৪,২৫০ কোটি টাকা বাড়ানো হয়েছে। মোট প্রণোদনার আর্থিক মূল্য ১ লাখ ২৮ হাজার ৩০৩ কোটি টাকা। ২৩টি আর্থিক প্রণোদনা প্যাকেজের মধ্যে ৯টির কার্যক্রমের সঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংক সরাসরি যুক্ত। এখন পর্যন্ত প্রণোদনা প্যাকেজের মধ্যে ৮৩ হাজার ৫৩ কোটি টাকা বিতরণ হয়েছে। অর্থাৎ মোট প্যাকেজের প্রায় ৮৩ শতাংশ বাস্তবায়িত হয়েছে। আর এ প্যাকেজের আওতায় সুবিধাভোগীর সংখ্যা সর্বমোট দাঁড়িয়েছে প্রায় ১ কোটি ২৪ লাখ।

দেশের অর্থনৈতিক কর্মকান্ড পুনরুজ্জীবিতকরণ, শ্রমিক-কর্মচারীদের কাজে বহাল এবং উদ্যোক্তাদের প্রতিযোগিতার সক্ষমতা অক্ষুণ্ন রাখতে সরকারের দেয়া প্রণোদনা প্যাকেজের মধ্যে অন্যতম একটি খাত হলো এক্সপোর্ট ডেভেলপমেন্ট ফান্ড (ইডিএফ)। যার পরিমাণ ১৭ হাজার কোটি টাকা। এ প্যাকেজের বিপরীতে বিতরণ করা হয়েছে ১৬ হাজার ৯০১ কোটি টাকা। বাস্তবায়নের হার প্রায় ৯৯ দশমিক ৫০ ভাগ। এক্ষেত্রে প্রত্যক্ষ সুবিধাভোগীর সংখ্যা ৬ হাজার ৬৫০ জন।

বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, আমেরিকাসহ বিশ্বের ধনী দেশগুলোর সংগঠন ওইসিডিভুক্ত দেশগুলো যেখানে করোনা মহামারীতে শূন্যের কোঠায় প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে হিমশিম খাচ্ছে সেক্ষেত্রে বাংলাদেশের মতো উদীয়মান উন্নয়নশীল অর্থনীতিতে প্রবৃদ্ধির হার বর্তমানে ৫ শতাংশের ওপরে। এটা সরকার, বাংলাদেশ ব্যাংক ও অন্যান্য খাতের দক্ষতা, সামর্থ্য ও একান্ত কর্মনিষ্ঠার বহিঃপ্রকাশ।

দেশের ক্ষতিগ্রস্ত বৃহৎ শিল্প ও সার্ভিস সেক্টর, ক্ষুদ্র ও মাঝারি কুটির শিল্প, কৃষি খাতে পুনঃঅর্থায়ন স্কিম, নিম্নআয়ের পেশাজীবী, কৃষক ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য পুনঃঅর্থায়ন স্কিম, বিতরণকৃত শস্য ও ফসল খাতে ৪ শতাংশ রেয়াতি সুদ হারে কৃষিঋণ প্রদান, ৫ বছর মেয়াদি মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতে ঋণ বিতরণ, ‘বঙ্গবন্ধু যুব ঋণ’ কর্মসূচির আওতায় ঋণ বিতরণ, উৎপাদন বাড়ানো, দারিদ্র্য বিমোচন ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন নিশ্চিতকল্পে আনসার ও ভিডিপি ব্যাংকের অনুকূলে তহবিল বরাদ্দ ইত্যাদি মোট ১০টি প্যাকেজের আওতায় প্রত্যক্ষ সুবিধাভোগীর সংখ্যা প্রায় ১৩ লাখ।

প্রত্যক্ষ সুবিধাভোগীর সংখ্যা প্রায় ১৩ লাখ গ্রাহক হলেও পরোক্ষ সুবিধাভোগীর সংখ্যা প্রায় ২৪ লাখ। এর মধ্যে ক্ষুদ্র ও মাঝারি কুটির শিল্পে ২০ হাজার কোটি টাকার বিপরীতে ইতোমধ্যে বিতরণ করা হয়েছে ১৪ হাজার ৬৫৪ কোটি। এক্ষেত্রে প্রত্যক্ষ সুবিধাভোগীর সংখ্যা ৯৫ হাজার ৭৩৩ জন। আর পরোক্ষ সুবিধাভোগীর সংখ্যা ১১ লাখ। কৃষি খাতে পুনঃঅর্থায়ন স্কিমে বিতরণ করা হয়েছে ৫ হাজার কোটি টাকার প্যাকেজের বিপরীতে মোট বিতরণ করা হয়েছে ৩ হাজার ৯৫৪ কোটি টাকা। এক্ষেত্রে প্রত্যক্ষ সুবিধাভোগীর সংখ্যা প্রায় ২ লাখ।

নিম্নআয়ের পেশাজীবী কৃষক ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য পুনঃঅর্থায়ন স্কিমে ৩ হাজার কোটি টাকা প্যাকেজের বিপরীতে অনুমোদিত ঋণের পরিমাণ ২ হাজার ৪৪৫ কোটি টাকা। ইতোমধ্যে বিতরণ করা হয়েছে ১ হাজার ৮৩১ কোটি টাকা। এক্ষেত্রে প্রত্যক্ষ সুবিধাভোগীর সংখ্যা প্রায় ৩ লাখ ২০ হাজার গ্রাহক। শস্য ও ফসল খাতে ৪ শতাংশ রেয়াতি সুদহারের কৃষিঋণ প্রদান প্যাকেজ হবে চাহিদা অনুযায়ী। এক্ষেত্রে মোট বিতরণ করা হয়েছে ৪ হাজার ৫৬ কোটি টাকা আর প্রত্যক্ষ সুবিধাভোগীর সংখ্যা ৬ লাখ গ্রাহক। আনসার ও ভিডিপি ব্যাংকের অনুকূলে কৃষি উৎপাদন ও দারিদ্র্য বিমোচনের লক্ষ্যে কৃষি খাতে ৩০০ কোটি টাকার বিপরীতে বিতরণ করা হয়েছে প্রায় ১৫৪ কোটি টাকা।

অন্যদিকে, ক্ষুদ্রঋণে ২০০ কোটি টাকার বিপরীতে বিতরণ করা হয়েছে প্রায় ৭২ কোটি টাকা। উল্লেখ্য, এ উপখাতে মোট প্রত্যক্ষ সুবিধাভোগীর সংখ্যা প্রায় ৮৭ হাজার। গার্মেন্ট শ্রমিক কর্মচারীদের ৩ মাসের বেতন-ভাতা এবং এপ্রিল ও মে ২০২০ মাসের ঋণের বিপরীতে সুদ ভর্তুকি বাবদ মোট ৫ হাজার কোটি টাকা এবং ১ হাজার ৩৯০ কোটি টাকা বিতরণ করা হয়েছে। যেখানে প্রত্যক্ষ সুবিধাভোগীর সংখ্যা যথাক্রমে প্রায় ৩৮ লাখ ও ৭৩ লাখ।