ফাইন্যান্স কোম্পানি আইনের খসড়া অনুমোদন

আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ব্যবসা পরিচালনায় বাংলাদেশ ব্যাংকের লাইসেন্স নেয়ার বাধ্যবাধকতা রেখে নতুন একটি আইন করতে যাচ্ছে সরকার। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে গত সোমবার মন্ত্রিসভার বৈঠক ‘ফাইন্যান্স কোম্পানি আইন, ২০২১-এর খসড়ার নীতিগত অনুমোদন দেয়া হয়।

তবে কোন কোম্পানি দেনায় ডুবলে হাইকোর্টের মাধ্যমে দেউলিয়া ঘোষণার যে বিদ্যমান ব্যবস্থা রয়েছে, তার বদলে আদালতের বাইরে গিয়ে বিকল্পভাবে ফয়সালা করা যায় কিনা, তা খুঁজে দেখতে এবং আইনে তা সন্নিবেশিত করার পর্যবেক্ষণ দিয়েছে মন্ত্রিসভা।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘১৯৯৩ সালের ফাইন্যান্সিয়াল ইনস্টিটিউট অ্যাক্ট ছিল। সেটি পরিবর্তন করে নতুন এই আইন করা হচ্ছে। বাংলাদেশে ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো এ আইনে পরিচালিত হয়। নতুন এ আইনে ৭১টি ধারা আছে। এ আইনে কোন ব্যক্তি বাংলাদেশ ব্যাংকের ফাইন্যান্স কোম্পানির লাইসেন্স ছাড়া কোন অর্থায়ন ব্যবসা পরিচালনা করতে পারবে না।’

অর্থায়ন ব্যবসায় একটি সীমা নির্ধারণ করে দেয়ার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে জানিয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ‘নন-ব্যাংকিং ফাইন্যান্সিয়াল প্রতিষ্ঠানগুলো মানুষকে আকর্ষণ করতে ১৫/১৬ শতাংশ সুদ দেয়ার ঘোষণা দেয়। যুবকের কথা নিশ্চয় মনে আছে। সেখানে অনেকে সর্বস্ব হারায়। তাই ক্যাপ করে দেয়া যায় কিনা সর্বোচ্চ এতো টাকা জমা রাখতে পারবে। সুদের হারও নির্ধারণ করে দেয়া যায় কিনা। মানুষ যাতে বুঝে শুনে টাকা বিনিয়োগ করতে পারে। ইচ্ছাকৃতভাবে বা অবহেলাজনিত কারণে বা কারও সঙ্গে যোগসূত্র করে যেভাবেই হোক- ঋণখেলাপি হবে সেসব বলে দেয়া হয়েছে।’

আগের আইনে যে প্রতিষ্ঠানগুলো ফাইন্যান্সিয়াল ইনস্টিটিউশন হিসেবে বিবেচিত হতো, এখন তারা কোম্পানি হিসেবে বিবেচিত হবে। তবে সেজন্য নতুন করে রেজিস্ট্রেশন করতে হবে না। তাদের মেমরেন্ডাম অব অ্যাসেসিয়েশনেও কোন পরিবর্তন আনতে হবে না বলে জানান আনোয়ারুল ইসলাম।

অর্থায়ন ব্যবসা পরিচালনার জন্য সব ক্ষেত্রেই বাংলাদেশে ব্যাংক থেকে অনুমোদন নিতে হবে জানিয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ‘যারাই ব্যবসা করবে, সবক্ষেত্রে এটা বাংলাদেশে ব্যাংক থেকে অনুমোদন নিতে হবে। এখানে একটি প্রক্রিয়া করে দেয়া হয়েছে, যদি কেউ দেউলিয়া হয়ে যায় বাংলাদেশ ব্যাংক কীভাবে গ্রাহকদের পাওনা বুঝিয়ে দেবে সেজন্য বাংলাদেশ ব্যাংকে ডিপোজিটের ব্যবস্থা থাকবে। দেউলিয়া করার বিষয়টি বর্তমান আইন অনুযায়ী হাইকোর্টে যেতে হয়। মন্ত্রিসভা আজকে পর্যবেক্ষণ দিয়েছে দেউলিয়া করার বিষয়টি কোর্টের বাইরে এটি ফয়সালা করা যায় কিনা। সময় বা ভোগান্তি কমে যাবে। কোর্টে গেলে দীর্ঘদিন মামলা চলবে, এরপর হাইকোর্টে যেতে হয়, আপিল বিভাগে গেলে আবার রিভিউ করতে হবে।’

বাইরে ফয়সালা করার সুযোগ তৈরি করতে পারলে তা একটি ‘যুগান্তকারী’ বিষয় হবে বলে মন্তব্য করেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব।

তিনি বলেন, ‘এ আইন অমান্য করলে ব্যাপক জরিমানার কথা বলা হয়েছে। ১০ লাখ থেকে এক কোটি টাকা পর্যন্ত জরিমানা হবে। পাশাপাশি ফৌজদারি আইনেও বিচার চলবে।

সর্বোচ্চ সাত বছর পর্যন্ত জেল হবে।’

মন্ত্রিসভার বৈঠকে জাতীয় আর্থিক অন্তর্ভুক্তি কৌশল ও ইংরেজি সংস্করণের খসড়া অনুমোদন দেয়া হয়েছে।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ‘বাংলাদেশ ২০১৪ সালে এলায়েন্স ফর ফাইন্যান্সিয়াল ইনক্লুশনে সম্মুখসারির সদস্য হিসেবে যুক্ত হয়েছিল। ২০১৬ সালের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগকে খসড়া করার দায়িত্ব দেয়া হয়েছিল। রূপকল্প ২০২১ এবং চতুর্থ শিল্প বিপ্লব যে আসছে তার একটা মডেল হিসেবে জাতীয় আর্থিক অন্তর্ভুক্তি কৌশল প্রণয়ন করা প্রয়োজন। এর মাধ্যমে আর্থিক সেবাপ্রদানকারী ব্যাংক ও অব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, বীমা ও ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠান, পুঁজিবাজার মধ্যস্থতাকারী, মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সেবাদাতা এজেন্সিসহ যত প্রযুক্তি নির্ভর গ্রাহক সেবা দিয়ে থাকে তারা আর্থিক কার্যক্রম চালিয়ে দেশের অর্থনীতিকে ত্বরান্বিত করবে।’

মন্ত্রিসভা বৈঠকে ‘বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা শিক্ষা আইন, ২০২১’-এর খসড়ার নীতিগত অনুমোদন দেয়া হয়। মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, এ আইনে নতুন কিছু নেই, ১৯৮৩ সালের অধ্যাদেশকে বদলে নতুন আইন করা হবে। এছাড়া বাংলাদেশের সরকারি পাসপোর্টধারীরা যাতে ভিসা ছাড়া বতসোয়ানায় যেতে পারে, সে বিষয়ে একটি চুক্তির খসড়া অনুমোদন দেয়া হয়েছে মন্ত্রিসভায়।

বুধবার, ০২ জুন ২০২১ , ১৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮ ২০ শাওয়াল ১৪৪২

ফাইন্যান্স কোম্পানি আইনের খসড়া অনুমোদন

আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ব্যবসা পরিচালনায় বাংলাদেশ ব্যাংকের লাইসেন্স নেয়ার বাধ্যবাধকতা রেখে নতুন একটি আইন করতে যাচ্ছে সরকার। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে গত সোমবার মন্ত্রিসভার বৈঠক ‘ফাইন্যান্স কোম্পানি আইন, ২০২১-এর খসড়ার নীতিগত অনুমোদন দেয়া হয়।

তবে কোন কোম্পানি দেনায় ডুবলে হাইকোর্টের মাধ্যমে দেউলিয়া ঘোষণার যে বিদ্যমান ব্যবস্থা রয়েছে, তার বদলে আদালতের বাইরে গিয়ে বিকল্পভাবে ফয়সালা করা যায় কিনা, তা খুঁজে দেখতে এবং আইনে তা সন্নিবেশিত করার পর্যবেক্ষণ দিয়েছে মন্ত্রিসভা।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘১৯৯৩ সালের ফাইন্যান্সিয়াল ইনস্টিটিউট অ্যাক্ট ছিল। সেটি পরিবর্তন করে নতুন এই আইন করা হচ্ছে। বাংলাদেশে ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো এ আইনে পরিচালিত হয়। নতুন এ আইনে ৭১টি ধারা আছে। এ আইনে কোন ব্যক্তি বাংলাদেশ ব্যাংকের ফাইন্যান্স কোম্পানির লাইসেন্স ছাড়া কোন অর্থায়ন ব্যবসা পরিচালনা করতে পারবে না।’

অর্থায়ন ব্যবসায় একটি সীমা নির্ধারণ করে দেয়ার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে জানিয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ‘নন-ব্যাংকিং ফাইন্যান্সিয়াল প্রতিষ্ঠানগুলো মানুষকে আকর্ষণ করতে ১৫/১৬ শতাংশ সুদ দেয়ার ঘোষণা দেয়। যুবকের কথা নিশ্চয় মনে আছে। সেখানে অনেকে সর্বস্ব হারায়। তাই ক্যাপ করে দেয়া যায় কিনা সর্বোচ্চ এতো টাকা জমা রাখতে পারবে। সুদের হারও নির্ধারণ করে দেয়া যায় কিনা। মানুষ যাতে বুঝে শুনে টাকা বিনিয়োগ করতে পারে। ইচ্ছাকৃতভাবে বা অবহেলাজনিত কারণে বা কারও সঙ্গে যোগসূত্র করে যেভাবেই হোক- ঋণখেলাপি হবে সেসব বলে দেয়া হয়েছে।’

আগের আইনে যে প্রতিষ্ঠানগুলো ফাইন্যান্সিয়াল ইনস্টিটিউশন হিসেবে বিবেচিত হতো, এখন তারা কোম্পানি হিসেবে বিবেচিত হবে। তবে সেজন্য নতুন করে রেজিস্ট্রেশন করতে হবে না। তাদের মেমরেন্ডাম অব অ্যাসেসিয়েশনেও কোন পরিবর্তন আনতে হবে না বলে জানান আনোয়ারুল ইসলাম।

অর্থায়ন ব্যবসা পরিচালনার জন্য সব ক্ষেত্রেই বাংলাদেশে ব্যাংক থেকে অনুমোদন নিতে হবে জানিয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ‘যারাই ব্যবসা করবে, সবক্ষেত্রে এটা বাংলাদেশে ব্যাংক থেকে অনুমোদন নিতে হবে। এখানে একটি প্রক্রিয়া করে দেয়া হয়েছে, যদি কেউ দেউলিয়া হয়ে যায় বাংলাদেশ ব্যাংক কীভাবে গ্রাহকদের পাওনা বুঝিয়ে দেবে সেজন্য বাংলাদেশ ব্যাংকে ডিপোজিটের ব্যবস্থা থাকবে। দেউলিয়া করার বিষয়টি বর্তমান আইন অনুযায়ী হাইকোর্টে যেতে হয়। মন্ত্রিসভা আজকে পর্যবেক্ষণ দিয়েছে দেউলিয়া করার বিষয়টি কোর্টের বাইরে এটি ফয়সালা করা যায় কিনা। সময় বা ভোগান্তি কমে যাবে। কোর্টে গেলে দীর্ঘদিন মামলা চলবে, এরপর হাইকোর্টে যেতে হয়, আপিল বিভাগে গেলে আবার রিভিউ করতে হবে।’

বাইরে ফয়সালা করার সুযোগ তৈরি করতে পারলে তা একটি ‘যুগান্তকারী’ বিষয় হবে বলে মন্তব্য করেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব।

তিনি বলেন, ‘এ আইন অমান্য করলে ব্যাপক জরিমানার কথা বলা হয়েছে। ১০ লাখ থেকে এক কোটি টাকা পর্যন্ত জরিমানা হবে। পাশাপাশি ফৌজদারি আইনেও বিচার চলবে।

সর্বোচ্চ সাত বছর পর্যন্ত জেল হবে।’

মন্ত্রিসভার বৈঠকে জাতীয় আর্থিক অন্তর্ভুক্তি কৌশল ও ইংরেজি সংস্করণের খসড়া অনুমোদন দেয়া হয়েছে।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ‘বাংলাদেশ ২০১৪ সালে এলায়েন্স ফর ফাইন্যান্সিয়াল ইনক্লুশনে সম্মুখসারির সদস্য হিসেবে যুক্ত হয়েছিল। ২০১৬ সালের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগকে খসড়া করার দায়িত্ব দেয়া হয়েছিল। রূপকল্প ২০২১ এবং চতুর্থ শিল্প বিপ্লব যে আসছে তার একটা মডেল হিসেবে জাতীয় আর্থিক অন্তর্ভুক্তি কৌশল প্রণয়ন করা প্রয়োজন। এর মাধ্যমে আর্থিক সেবাপ্রদানকারী ব্যাংক ও অব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, বীমা ও ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠান, পুঁজিবাজার মধ্যস্থতাকারী, মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সেবাদাতা এজেন্সিসহ যত প্রযুক্তি নির্ভর গ্রাহক সেবা দিয়ে থাকে তারা আর্থিক কার্যক্রম চালিয়ে দেশের অর্থনীতিকে ত্বরান্বিত করবে।’

মন্ত্রিসভা বৈঠকে ‘বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা শিক্ষা আইন, ২০২১’-এর খসড়ার নীতিগত অনুমোদন দেয়া হয়। মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, এ আইনে নতুন কিছু নেই, ১৯৮৩ সালের অধ্যাদেশকে বদলে নতুন আইন করা হবে। এছাড়া বাংলাদেশের সরকারি পাসপোর্টধারীরা যাতে ভিসা ছাড়া বতসোয়ানায় যেতে পারে, সে বিষয়ে একটি চুক্তির খসড়া অনুমোদন দেয়া হয়েছে মন্ত্রিসভায়।