মাইক্রোবাস আমদানিতে সম্পূরক শুল্ক প্রত্যাহারের দাবি বারভিডার

২০২১-২০২২ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটে দেশের অর্থনীতি পুনরূদ্ধার ও গতি সঞ্চার, স্থানীয় শিল্প সুরক্ষা এবং গ্রামীণ অর্থনীতিকে উজ্জীবিত রাখতে যেসব সহায়তা প্রস্তাব করা হয়েছে বারভিডা (বাংলাদেশ রিকন্ডিশন্ড ভেহিক্যালস ইম্পোর্টার্স অ্যান্ড ডিলার্স অ্যাসোসিয়েশন) তাকে স্বাগত জানিয়েছে। তবে মাইক্রোবাস আমদানির ক্ষেত্রে সম্পূরক শুল্ক সম্পূর্র্ণ প্রত্যাহারের জন্য বারভিডা সরকারের কাছে আহ্বান জানিয়েছে।

গতকাল বারভিডা কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত বাজেট পরবর্তী এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের সেক্রেটারি জেনারেল মোহাম্মদ শহীদুল ইসলাম এসব আহ্বান জানান। অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট আবদুল হক সম্মেলনে স্বাগত বক্তব্য দেন। সংগঠনের কার্যনির্বাহী সদস্যরা এবং সাধারণ সদস্যরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, বাজেটে মাইক্রোবাস এবং হাইব্রিড কার ও জিপ (১৮০১ সিসি থেকে ২৫০০ সিসি পর্যন্ত) আমদানিতে শুল্ক পূণর্বিন্যাস/ হ্রাস করায় বারভিডা প্রধানমন্ত্রী এবং মাননীয় অর্থমন্ত্রীকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানিয়েছে। বারভিডার প্রস্তাবকে বিশেষ গুরুত্ব প্রদান করে নসিমন, লেগুনা ইত্যাদি অনিরাপদ যান চলাচল নিরুৎসাহিত করে গণপরিবহন হিসেবে মাইক্রোবাসকে স্বীকৃতি দেয়ায় বারভিডা অর্থমন্ত্রীকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছে।

বারভিডা সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, ‘রিকন্ডিশন্ড মোটরযান আমদানির ক্ষেত্রে তারা যে ৪৫ শতাংশ অবচয় সুবিধা এবং বছরভিত্তিক অবচয় সুবিধা চেয়েছিলেন তা প্রস্তাবিত বাজেটে অন্তর্ভূক্ত না হওয়ায় সুবিধাটি প্রদানের জন্য তারা সরকারের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছেন।

সংবাদ সম্মেলনে বারভিডা প্রস্তাবিত বাজেটকে উদ্যোক্তাবান্ধব, শিল্পবান্ধব ও ব্যবসাবান্ধব উল্লেখ করে বলেছেন, করোনা মহামারী মোকাবিলায় ভ্যাকসিনেশন এবং স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম শক্তিশালীকরণে প্রস্তাবিত বাজেটে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ বেশ ইতিবাচক। করোনা মহামারীর কারণে দারিদ্রসীমার নিচে চলে যাওয়া জনগোষ্ঠি এবং নতুন দরিদ্রদের জন্য সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনির আকার ও আওতা বৃদ্ধি অত্যন্ত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ। দেশীয় শিল্প সুরক্ষায় কর ছাড়সহ যেসব পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে তাতে বেসরকারি বিনিয়োগ বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা যায়। কৃষিখাতে প্রণোদনার পাশাপাশি কৃষিযন্ত্র আমদানিতে অগ্রিম কর এবং উৎপাদনে ভ্যাট তুলে দেয়ার প্রস্তাব সাধুবাদ পাবার যোগ্য। ক্ষুদ্র ও মাঝারি নারী উদ্যোক্তাদের বার্ষিক টার্ণওভার ৭০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি করা প্রশংসনীয় উদ্যোগ।

সংবাদ সম্মেলনে বারভিডার সেক্রেটারি জেনারেল আরও বলেন, ‘করোনা মহামারী মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রীর বিচক্ষণ দিক নির্দেশনা এবং সরকারের দক্ষ অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশ গত অর্থবছরে এশিয়ার সর্বোচ্চ ৫.২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে, যা একটি স্বস্তি এবং গর্বের বিষয়। তবে প্রস্তাবিত বাজেটের সঠিক বাস্তবায়নে বর্তমান মহামারী পরিস্থিতির চ্যালেঞ্জ মাথায় রেখে বিনিয়োগ, উৎপাদন, কর্মসংস্থান এবং কাঙ্খিত রাজস্ব আহরণের মাধ্যমে আর্থ-সামাজিক ব্যবস্থাপনায় সৃজনশীল পদক্ষেপ গ্রহণ বিশেষ জরুরি। পাশাপাশি বাজেট পরিকল্পনা বাস্তবায়নে দক্ষতা এবং যথাযথ মনিটরিং ব্যবস্থা রাখতে হবে।’

সংবাদ সম্মেলনে বারভিডা নেতারা উল্লেখ করেন, উন্নয়নশীল ও মধ্যম আয়ের দেশে গ্র্যাজুয়েশনের এই তাৎপর্যপূর্ণ সময়ে সরকারের রূপকল্প বাস্তবায়ন এবং দেশে নতুন গাড়ির শিল্প প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ বাস্তবায়নে গাড়ির বাজার সম্প্রসারণ প্রয়োজন। জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি’র (জাইকা) মতে গাড়ির অভ্যন্তরীণ বাজার ১ লাখ ইউনিট হলেই দেশে নতুন গাড়ির শিল্প প্রতিষ্ঠা যুক্তিযুক্ত হবে। মধ্যবিত্ত শ্রেণীর ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে এলে বাজার সম্প্রসারণের সঙ্গে সঙ্গে সরকারের রাজস্ব আয়ও বহুগুণে বৃদ্ধি পাবে।

বারভিডা নেতারা উল্লেখ করেন, নতুন ও রিকন্ডিশন্ড গাড়ির শুল্কায়ন মূল্যে চরম বৈষম্যের ফলে নতুন গাড়ির চেয়ে রিকন্ডিশন্ড গাড়ির দাম কোন কোন ক্ষেত্রে বেশি পরে যাচ্ছে। ফলে ক্রেতা কমে যাচ্ছে, আমদানি হ্রাস পাচ্ছে এবং এ খাতের ব্যবসায়ীরা মারাত্মক আর্থিক সংকটে পড়ছেন। আমদানি ক্রমাগত কমতে থাকায় যেখানে ২০১৬-২০১৭ অর্থবছরে ২০,১৪৯টি এবং ২০১৭-২০১৮ অর্থবছরে ২৩,০৭৫টি গাড়ি আমদানি হয় সেখানে ২০১৮-২০১৯ অর্থবছরে আমদানি কমে ১২,৫০২টিতে নেমে আসে। ২০১৯-২০২০ অর্থবছরেও আমদানি হ্রাসের ধারা অব্যহত রয়েছে। আমদানি কমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সরকারের রাজস্ব আয়ও লক্ষ্যনীয় হারে হ্রাস পেয়েছে।

এছাড়া বারভিডা সরকারের নতুন গাড়ি শিল্প প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ এ যেন সিকেডি আমদানির মাধ্যমে কোন ‘স্ক্রু ড্রাইভিং শিল্প’ প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা না নেয়া হয় সেদিকে বিশেষ লক্ষ্য রাখার আহবান জানিয়েছে। মুক্তবাজার অর্থনীতির আলোকে দেশে দীর্ঘদিনের প্রতিষ্ঠিত রিকন্ডিশন্ড গাড়ি আমদানি খাত যাতে কোনভাবে ক্ষতিগ্রস্ত না হয় সে বিষয়ে সরকারকে যতœবান হওয়ার জন্য তারা আহ্বান জানান।

বারভিডা নেতারা বলেন, ‘করোনা মহামারীর ফলে দেশের ক্ষতিগ্রস্ত অর্থনৈতিক অবস্থার মধ্যে স্বাভাবিক একটি বাজেট পেশ করা দুরূহ কাজ। তারপরও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও মাননীয় অর্থমন্ত্রী জনকল্যাণ, সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী সম্প্রসারণ, ব্যবসায়ী-উদ্যোক্তাদের প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান এবং সার্বিকভাবে দেশের অর্থনীতির গতিশীলতা ধরে রাখা ও জাতিকে আশান্বিত রাখার লক্ষ্যে যে ভারসাম্যপূর্ণ বাজেট পেশ করেছেন তাকে তারা সাধুবাদ জানান। দেশের ক্রমবর্ধমান উন্নয়ন কার্যক্রমের সঙ্গে সঙ্গে করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারের বিপুল ব্যয় পরিচালনা এবং দক্ষতা ও সফলতার সঙ্গে আগামী অর্থবছরের বাজেট বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে বারভিডা যথাযথ রাজস্ব প্রদানের মাধ্যমে সরকারের পাশে থেকে অবদান রেখে যেতে চায়।’

লিখিত বক্তব্য শেষে বারভিডা প্রেসিডেন্ট ও সংগঠনের অন্য নেতারা উপস্থিত সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন। সংবাদ সম্মেলনে অ্যাসোসিয়েশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট মো. সাইফুল ইসলাম (স¤্রাট) ও মো. জসিম উদ্দিন মিন্টু, ট্রেজারার মোহাম্মদ আনিছুর রহমান, জয়েন্ট সেক্রেটারি জেনারেল মোহাম্মদ মোখলেছুর রহমান, পাবলিকেশন ও পাবলিসিটি সেক্রেটারি ফরিদ আহমেদ এবং কার্যনির্বাহী সদস্য আবু হোসেন ভূঁইয়া (রানু), মো. জিয়াউল ইসলাম, মো. ইউনূছ আলী, মো. আসলাম সেরনিয়াবাত ও ডা. মো. আনিসুর রহমান খান উপস্থিত ছিলেন।

বৃহস্পতিবার, ১০ জুন ২০২১ , ২৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮ ২৮ শাওয়াল ১৪৪২

মাইক্রোবাস আমদানিতে সম্পূরক শুল্ক প্রত্যাহারের দাবি বারভিডার

image

২০২১-২০২২ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটে দেশের অর্থনীতি পুনরূদ্ধার ও গতি সঞ্চার, স্থানীয় শিল্প সুরক্ষা এবং গ্রামীণ অর্থনীতিকে উজ্জীবিত রাখতে যেসব সহায়তা প্রস্তাব করা হয়েছে বারভিডা (বাংলাদেশ রিকন্ডিশন্ড ভেহিক্যালস ইম্পোর্টার্স অ্যান্ড ডিলার্স অ্যাসোসিয়েশন) তাকে স্বাগত জানিয়েছে। তবে মাইক্রোবাস আমদানির ক্ষেত্রে সম্পূরক শুল্ক সম্পূর্র্ণ প্রত্যাহারের জন্য বারভিডা সরকারের কাছে আহ্বান জানিয়েছে।

গতকাল বারভিডা কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত বাজেট পরবর্তী এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের সেক্রেটারি জেনারেল মোহাম্মদ শহীদুল ইসলাম এসব আহ্বান জানান। অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট আবদুল হক সম্মেলনে স্বাগত বক্তব্য দেন। সংগঠনের কার্যনির্বাহী সদস্যরা এবং সাধারণ সদস্যরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, বাজেটে মাইক্রোবাস এবং হাইব্রিড কার ও জিপ (১৮০১ সিসি থেকে ২৫০০ সিসি পর্যন্ত) আমদানিতে শুল্ক পূণর্বিন্যাস/ হ্রাস করায় বারভিডা প্রধানমন্ত্রী এবং মাননীয় অর্থমন্ত্রীকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানিয়েছে। বারভিডার প্রস্তাবকে বিশেষ গুরুত্ব প্রদান করে নসিমন, লেগুনা ইত্যাদি অনিরাপদ যান চলাচল নিরুৎসাহিত করে গণপরিবহন হিসেবে মাইক্রোবাসকে স্বীকৃতি দেয়ায় বারভিডা অর্থমন্ত্রীকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছে।

বারভিডা সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, ‘রিকন্ডিশন্ড মোটরযান আমদানির ক্ষেত্রে তারা যে ৪৫ শতাংশ অবচয় সুবিধা এবং বছরভিত্তিক অবচয় সুবিধা চেয়েছিলেন তা প্রস্তাবিত বাজেটে অন্তর্ভূক্ত না হওয়ায় সুবিধাটি প্রদানের জন্য তারা সরকারের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছেন।

সংবাদ সম্মেলনে বারভিডা প্রস্তাবিত বাজেটকে উদ্যোক্তাবান্ধব, শিল্পবান্ধব ও ব্যবসাবান্ধব উল্লেখ করে বলেছেন, করোনা মহামারী মোকাবিলায় ভ্যাকসিনেশন এবং স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম শক্তিশালীকরণে প্রস্তাবিত বাজেটে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ বেশ ইতিবাচক। করোনা মহামারীর কারণে দারিদ্রসীমার নিচে চলে যাওয়া জনগোষ্ঠি এবং নতুন দরিদ্রদের জন্য সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনির আকার ও আওতা বৃদ্ধি অত্যন্ত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ। দেশীয় শিল্প সুরক্ষায় কর ছাড়সহ যেসব পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে তাতে বেসরকারি বিনিয়োগ বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা যায়। কৃষিখাতে প্রণোদনার পাশাপাশি কৃষিযন্ত্র আমদানিতে অগ্রিম কর এবং উৎপাদনে ভ্যাট তুলে দেয়ার প্রস্তাব সাধুবাদ পাবার যোগ্য। ক্ষুদ্র ও মাঝারি নারী উদ্যোক্তাদের বার্ষিক টার্ণওভার ৭০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি করা প্রশংসনীয় উদ্যোগ।

সংবাদ সম্মেলনে বারভিডার সেক্রেটারি জেনারেল আরও বলেন, ‘করোনা মহামারী মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রীর বিচক্ষণ দিক নির্দেশনা এবং সরকারের দক্ষ অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশ গত অর্থবছরে এশিয়ার সর্বোচ্চ ৫.২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে, যা একটি স্বস্তি এবং গর্বের বিষয়। তবে প্রস্তাবিত বাজেটের সঠিক বাস্তবায়নে বর্তমান মহামারী পরিস্থিতির চ্যালেঞ্জ মাথায় রেখে বিনিয়োগ, উৎপাদন, কর্মসংস্থান এবং কাঙ্খিত রাজস্ব আহরণের মাধ্যমে আর্থ-সামাজিক ব্যবস্থাপনায় সৃজনশীল পদক্ষেপ গ্রহণ বিশেষ জরুরি। পাশাপাশি বাজেট পরিকল্পনা বাস্তবায়নে দক্ষতা এবং যথাযথ মনিটরিং ব্যবস্থা রাখতে হবে।’

সংবাদ সম্মেলনে বারভিডা নেতারা উল্লেখ করেন, উন্নয়নশীল ও মধ্যম আয়ের দেশে গ্র্যাজুয়েশনের এই তাৎপর্যপূর্ণ সময়ে সরকারের রূপকল্প বাস্তবায়ন এবং দেশে নতুন গাড়ির শিল্প প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ বাস্তবায়নে গাড়ির বাজার সম্প্রসারণ প্রয়োজন। জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি’র (জাইকা) মতে গাড়ির অভ্যন্তরীণ বাজার ১ লাখ ইউনিট হলেই দেশে নতুন গাড়ির শিল্প প্রতিষ্ঠা যুক্তিযুক্ত হবে। মধ্যবিত্ত শ্রেণীর ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে এলে বাজার সম্প্রসারণের সঙ্গে সঙ্গে সরকারের রাজস্ব আয়ও বহুগুণে বৃদ্ধি পাবে।

বারভিডা নেতারা উল্লেখ করেন, নতুন ও রিকন্ডিশন্ড গাড়ির শুল্কায়ন মূল্যে চরম বৈষম্যের ফলে নতুন গাড়ির চেয়ে রিকন্ডিশন্ড গাড়ির দাম কোন কোন ক্ষেত্রে বেশি পরে যাচ্ছে। ফলে ক্রেতা কমে যাচ্ছে, আমদানি হ্রাস পাচ্ছে এবং এ খাতের ব্যবসায়ীরা মারাত্মক আর্থিক সংকটে পড়ছেন। আমদানি ক্রমাগত কমতে থাকায় যেখানে ২০১৬-২০১৭ অর্থবছরে ২০,১৪৯টি এবং ২০১৭-২০১৮ অর্থবছরে ২৩,০৭৫টি গাড়ি আমদানি হয় সেখানে ২০১৮-২০১৯ অর্থবছরে আমদানি কমে ১২,৫০২টিতে নেমে আসে। ২০১৯-২০২০ অর্থবছরেও আমদানি হ্রাসের ধারা অব্যহত রয়েছে। আমদানি কমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সরকারের রাজস্ব আয়ও লক্ষ্যনীয় হারে হ্রাস পেয়েছে।

এছাড়া বারভিডা সরকারের নতুন গাড়ি শিল্প প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ এ যেন সিকেডি আমদানির মাধ্যমে কোন ‘স্ক্রু ড্রাইভিং শিল্প’ প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা না নেয়া হয় সেদিকে বিশেষ লক্ষ্য রাখার আহবান জানিয়েছে। মুক্তবাজার অর্থনীতির আলোকে দেশে দীর্ঘদিনের প্রতিষ্ঠিত রিকন্ডিশন্ড গাড়ি আমদানি খাত যাতে কোনভাবে ক্ষতিগ্রস্ত না হয় সে বিষয়ে সরকারকে যতœবান হওয়ার জন্য তারা আহ্বান জানান।

বারভিডা নেতারা বলেন, ‘করোনা মহামারীর ফলে দেশের ক্ষতিগ্রস্ত অর্থনৈতিক অবস্থার মধ্যে স্বাভাবিক একটি বাজেট পেশ করা দুরূহ কাজ। তারপরও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও মাননীয় অর্থমন্ত্রী জনকল্যাণ, সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী সম্প্রসারণ, ব্যবসায়ী-উদ্যোক্তাদের প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান এবং সার্বিকভাবে দেশের অর্থনীতির গতিশীলতা ধরে রাখা ও জাতিকে আশান্বিত রাখার লক্ষ্যে যে ভারসাম্যপূর্ণ বাজেট পেশ করেছেন তাকে তারা সাধুবাদ জানান। দেশের ক্রমবর্ধমান উন্নয়ন কার্যক্রমের সঙ্গে সঙ্গে করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারের বিপুল ব্যয় পরিচালনা এবং দক্ষতা ও সফলতার সঙ্গে আগামী অর্থবছরের বাজেট বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে বারভিডা যথাযথ রাজস্ব প্রদানের মাধ্যমে সরকারের পাশে থেকে অবদান রেখে যেতে চায়।’

লিখিত বক্তব্য শেষে বারভিডা প্রেসিডেন্ট ও সংগঠনের অন্য নেতারা উপস্থিত সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন। সংবাদ সম্মেলনে অ্যাসোসিয়েশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট মো. সাইফুল ইসলাম (স¤্রাট) ও মো. জসিম উদ্দিন মিন্টু, ট্রেজারার মোহাম্মদ আনিছুর রহমান, জয়েন্ট সেক্রেটারি জেনারেল মোহাম্মদ মোখলেছুর রহমান, পাবলিকেশন ও পাবলিসিটি সেক্রেটারি ফরিদ আহমেদ এবং কার্যনির্বাহী সদস্য আবু হোসেন ভূঁইয়া (রানু), মো. জিয়াউল ইসলাম, মো. ইউনূছ আলী, মো. আসলাম সেরনিয়াবাত ও ডা. মো. আনিসুর রহমান খান উপস্থিত ছিলেন।