শিবচরে রাস্তায় পড়ে থাকা অশীতিপর বৃদ্ধের স্থান হলো সমাজসেবা কার্যালয়ের সামনে

দায়িত্ব নিতে হলো প্রশাসনকেই

মাদারীপুরের শিবচর উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের সামনে থেকে মুমূর্ষু অবস্থায় এক বৃদ্ধকে উদ্ধার করা হয়েছে। স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে উপজেলা প্রশাসন নিজ দায়িত্বে অসুস্থ অবস্থায় অজ্ঞাতনামা বৃদ্ধকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। চিকিৎসায় বৃদ্ধ শারীরিকভাবে কিছুটা সুস্থ হলেও এখনও নাম পরিচয়সহ কিছুই বলতে পারে না। কোন কিছু জিজ্ঞেস করলে শুধুমাত্র বাবা বাবা, ধর ধর এটকুুই বলছে বারবার। উপজেলা প্রশাসন ও হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, গত বুধবার সন্ধ্যায় শিবচর উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের সামনে সেবা গ্রহণকারী মানুষের বসার জন্য নির্মিত টিনসেডের গোলঘরে অজ্ঞাত এক বৃদ্ধকে পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামানকে জানান। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে খবর পেয়ে উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. শাহ আলম ওই বৃদ্ধের কাছে গিয়ে তাকে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখতে পান।

পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার পরামর্শে তিনি ওই বৃদ্ধকে উদ্ধার করে রাত আনুমানিক সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। তাকে কেউ এনে সমাজসেবা কার্যালয়ের সামনে ফেলে রেখে চলে যেতে পারে বলে স্থানীয়রা ধারণা করছেন। সরেজমিন হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা পেয়ে বৃদ্ধ লোকটি শারীরিকভাবে কিছুটা সুস্থ হলেও নিজের নাম, পরিচয়, ঠিকানা কিছুই বলতে পারছেন না। কোন কিছু জিজ্ঞেস করলে ‘বাবা বাবা, ধর ধর’ এই শব্দই বারবার উচ্চারণ করছেন। হাসপাতালের ১৬ নম্বর বেড়ে পরিচয়বিহীন এই অসহায় বৃদ্ধ মানুষটি পড়ে থাকলেও তার সন্ধানে এখনও কেউ আসেনি। দায়ীত্বরত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সিনিয়র স্টাফ নার্স উপমা দাস বলেন, যখন বৃদ্ধ মানুষটিকে হাসপাতালে আনা হয় তখন শারীরিকভাবে খুবই অসুস্থ ছিল। এখন খাবার খেতে পারছেন। নিজের নাম পরিচয় বলতে পারছেন না।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. মো. রকিবুল ইসলাম বলেন, বৃদ্ধ রোগীটিকে উপজেলা সমাজসেবা অফিসার নিজ দায়িত্বে বুধবার রাতে হাসপাতালে ভর্তি করেন। ভর্তির সময় রোগীর অবস্থা খুবই খারাপ ছিল। এখন যদিও শারীরিকভাবে কিছুটা সুস্থ মনে হচ্ছে তবুও ৭২ ঘণ্টা পার না হলে কিছুই বলা যাচ্ছে না। আমরা সার্বক্ষণিক তার প্রতি নজর রাখছি। তার চিকিৎসায় কোন ত্রুটি রাখছি না। উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. শাহ আলম বলেন, আমি বুধবার অফিসের কাজে মাদারীপুর গিয়েছিলাম। সেখান থেকে সন্ধ্যার দিক শিবচরে আসার পথে ইউএনও স্যার ওই বৃদ্ধের বিষয়টি আমাকে জানান। আমি বাসায় না গিয়ে সরাসরি আমার অফিসের সামনের গোলঘর থেকে অসুস্থ অবস্থায় ওই বৃদ্ধকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করি। আজও সকালে হাসপাতালে তাকে দেখতে গিয়েছি। ফোনে সার্বক্ষণিক চিকিৎসকদের সঙ্গে য়োগাযোগ করছি। তিনি সুস্থ হয়ে নাম পরিচয় বলতে পারলে তার ঠিকানায় পৌঁছে দেয়া হবে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ওই বৃদ্ধ মানুষটি কিভাবে এখানে আসল তা আমাদের জানা নেই। আমরা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেছি। তার সুস্থতার দিকে আমরা প্রথমত নজর দিচ্ছি। পরে বিষয়টি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

শনিবার, ১২ জুন ২০২১ , ২৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮ ৩০ শাওয়াল ১৪৪২

শিবচরে রাস্তায় পড়ে থাকা অশীতিপর বৃদ্ধের স্থান হলো সমাজসেবা কার্যালয়ের সামনে

দায়িত্ব নিতে হলো প্রশাসনকেই
image

মাদারীপুরের শিবচর উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের সামনে থেকে মুমূর্ষু অবস্থায় এক বৃদ্ধকে উদ্ধার করা হয়েছে। স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে উপজেলা প্রশাসন নিজ দায়িত্বে অসুস্থ অবস্থায় অজ্ঞাতনামা বৃদ্ধকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। চিকিৎসায় বৃদ্ধ শারীরিকভাবে কিছুটা সুস্থ হলেও এখনও নাম পরিচয়সহ কিছুই বলতে পারে না। কোন কিছু জিজ্ঞেস করলে শুধুমাত্র বাবা বাবা, ধর ধর এটকুুই বলছে বারবার। উপজেলা প্রশাসন ও হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, গত বুধবার সন্ধ্যায় শিবচর উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের সামনে সেবা গ্রহণকারী মানুষের বসার জন্য নির্মিত টিনসেডের গোলঘরে অজ্ঞাত এক বৃদ্ধকে পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামানকে জানান। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে খবর পেয়ে উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. শাহ আলম ওই বৃদ্ধের কাছে গিয়ে তাকে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখতে পান।

পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার পরামর্শে তিনি ওই বৃদ্ধকে উদ্ধার করে রাত আনুমানিক সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। তাকে কেউ এনে সমাজসেবা কার্যালয়ের সামনে ফেলে রেখে চলে যেতে পারে বলে স্থানীয়রা ধারণা করছেন। সরেজমিন হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা পেয়ে বৃদ্ধ লোকটি শারীরিকভাবে কিছুটা সুস্থ হলেও নিজের নাম, পরিচয়, ঠিকানা কিছুই বলতে পারছেন না। কোন কিছু জিজ্ঞেস করলে ‘বাবা বাবা, ধর ধর’ এই শব্দই বারবার উচ্চারণ করছেন। হাসপাতালের ১৬ নম্বর বেড়ে পরিচয়বিহীন এই অসহায় বৃদ্ধ মানুষটি পড়ে থাকলেও তার সন্ধানে এখনও কেউ আসেনি। দায়ীত্বরত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সিনিয়র স্টাফ নার্স উপমা দাস বলেন, যখন বৃদ্ধ মানুষটিকে হাসপাতালে আনা হয় তখন শারীরিকভাবে খুবই অসুস্থ ছিল। এখন খাবার খেতে পারছেন। নিজের নাম পরিচয় বলতে পারছেন না।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. মো. রকিবুল ইসলাম বলেন, বৃদ্ধ রোগীটিকে উপজেলা সমাজসেবা অফিসার নিজ দায়িত্বে বুধবার রাতে হাসপাতালে ভর্তি করেন। ভর্তির সময় রোগীর অবস্থা খুবই খারাপ ছিল। এখন যদিও শারীরিকভাবে কিছুটা সুস্থ মনে হচ্ছে তবুও ৭২ ঘণ্টা পার না হলে কিছুই বলা যাচ্ছে না। আমরা সার্বক্ষণিক তার প্রতি নজর রাখছি। তার চিকিৎসায় কোন ত্রুটি রাখছি না। উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. শাহ আলম বলেন, আমি বুধবার অফিসের কাজে মাদারীপুর গিয়েছিলাম। সেখান থেকে সন্ধ্যার দিক শিবচরে আসার পথে ইউএনও স্যার ওই বৃদ্ধের বিষয়টি আমাকে জানান। আমি বাসায় না গিয়ে সরাসরি আমার অফিসের সামনের গোলঘর থেকে অসুস্থ অবস্থায় ওই বৃদ্ধকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করি। আজও সকালে হাসপাতালে তাকে দেখতে গিয়েছি। ফোনে সার্বক্ষণিক চিকিৎসকদের সঙ্গে য়োগাযোগ করছি। তিনি সুস্থ হয়ে নাম পরিচয় বলতে পারলে তার ঠিকানায় পৌঁছে দেয়া হবে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ওই বৃদ্ধ মানুষটি কিভাবে এখানে আসল তা আমাদের জানা নেই। আমরা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেছি। তার সুস্থতার দিকে আমরা প্রথমত নজর দিচ্ছি। পরে বিষয়টি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেয়া হবে।