নির্মাণের ৭ দিন পরই সড়কের দু’পাশে ভাঙন

মাটি দিয়ে আড়াল করার চেষ্টা ঠিকাদারের

নওগাঁর বদলগাছীতে পাকা সড়ক নির্মাণ কাজ শেষের ৭ দিনের মধ্যে ভেঙ্গে পড়ল সড়কের দুপাড়। ভাঙ্গন স্থানটিতে মাটি দিয়ে ঢেকে রেখেছেন ঠিকাদার। অভিযোগ তুলেছেন এলাকায় জনগণ। আলোচিত এই সড়কটির নাম খাদাইল বাজার হতে ভেরেন্ডি বাজার।

এই ১ কিলো ৪শ মিটার সড়ক নির্মাণে ১ কোটি ৪ লাখ ৭৭ হাজার টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। মেসার্স স্বচ্ছ এন্টারপ্রাইজ এন্ড ব্রিক্স নামক এক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ করেছেন।

গ্রামবাসীরা জানান, গতবছরের ডিসেম্বর মাসে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠনটি এই সড়কের নির্মাণ কাজ শুরু করে নিম্নমানের ইট, খোয়া দিয়ে। ওই সময় গ্রামবাসীর বাধার মুখে নিম্নমানের ইট, খোয়া তুলে নেয়। নিম্নমানের ইট-খোয়া দিয়েই ওই সড়কে ১২টি ইউড্রেন নির্মাণ করে ঠিকাদার।

তথ্য সংগ্রহকালে কান্দা গ্রামের আহম্মদ আলী, সানোয়ার হোসেন, নজরুল ইসলামসহ প্রায় অর্ধশতাধিক গ্রামবাসী জানান, আ. সাত্তারের বাড়ির পাশে ১টি পুরাতন ভাঙ্গা কালভাটের ওপর রাস্তা নির্মাণ করায় রাস্তার দক্ষিণপাড় ভেঙ্গে পড়ে। এখানে রাস্তার মাপ সঠিক নেই। খালেকের বাড়ির নিকট রাস্তার পাশে ১টি ডোবা রয়েছে। ডোবায় কিছু অংশ পালাস্যাইটিং দেয়া থাকলেও রাস্তাটির কোন উপকারে আসেনি সেটি। এখানে পশ্চিম পার্শ্বে প্রায় দেড় ফিট সড়ক ভেঙ্গে পড়েছে। তার দক্ষিণে আরও খারাপ অবস্থা।

গত রমজানের ঈদের ১০ দিন আগে এ প্রকল্পের কার্পেটিং কাজ সমাপ্ত করা হয় এবং ঈদের আগেই ভেঙ্গে পড়ে এই রাস্তার দুই পাড়। ঠিকাদারের লোকজন এসে মাটি দিয়ে ঢেকে রাখে রাস্তার সেই ভাঙ্গন স্থানটি।

ঠিকাদার আ. সোবহান বলেন, নিম্নমানের কাজ হয়েছে কথাটা সঠিক নয়। তাছাড়া বৃষ্টিতে সড়ক ভাঙ্গতেই পারে। উপজেলা প্রকৌশলীসহ পর্যবেক্ষক দল রাস্তাটি পরিদর্শন করেছেন। তারা জানেন রাস্তার কাজ ভাল হয়েছে। এ বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী কার্যালয়ে প্রকল্পের বিস্তারিত তথ্য জানতে চাইলে অফিসের হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা আমজাদ হোসেন বলেন, এ প্রকল্পের ফাইলটি খুঁজে পাচ্ছি না।

এ বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী মো. মোখলেছুর রহমানের সঙ্গে কথা বললে তিনি জানান, রাস্তার সাইড ভেঙ্গে পড়েছে সে বিষয়টি আমি জানি। তবে এ বিষয়ে ঠিকাদারের সঙ্গে আমার কথা হয়েছে বর্ষা মৌসুম কেটে গেলে তা পুনরায় নতুন করে ওই ভাঙ্গন স্থানটি সংস্কার করে দেয়া হবে। তিনি আরও বলেন, ঠিকাদারের পার পাওয়ার কোন সুযোগ নেই কারণ ওই কাজের জামানতের টাকা আমাদের কাছে রয়েছে।

বৃহস্পতিবার, ১৭ জুন ২০২১ , ৩ আষাড় ১৪২৮ ৫ জিলকদ ১৪৪২

নির্মাণের ৭ দিন পরই সড়কের দু’পাশে ভাঙন

মাটি দিয়ে আড়াল করার চেষ্টা ঠিকাদারের
image

নওগাঁর বদলগাছীতে পাকা সড়ক নির্মাণ কাজ শেষের ৭ দিনের মধ্যে ভেঙ্গে পড়ল সড়কের দুপাড়। ভাঙ্গন স্থানটিতে মাটি দিয়ে ঢেকে রেখেছেন ঠিকাদার। অভিযোগ তুলেছেন এলাকায় জনগণ। আলোচিত এই সড়কটির নাম খাদাইল বাজার হতে ভেরেন্ডি বাজার।

এই ১ কিলো ৪শ মিটার সড়ক নির্মাণে ১ কোটি ৪ লাখ ৭৭ হাজার টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। মেসার্স স্বচ্ছ এন্টারপ্রাইজ এন্ড ব্রিক্স নামক এক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ করেছেন।

গ্রামবাসীরা জানান, গতবছরের ডিসেম্বর মাসে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠনটি এই সড়কের নির্মাণ কাজ শুরু করে নিম্নমানের ইট, খোয়া দিয়ে। ওই সময় গ্রামবাসীর বাধার মুখে নিম্নমানের ইট, খোয়া তুলে নেয়। নিম্নমানের ইট-খোয়া দিয়েই ওই সড়কে ১২টি ইউড্রেন নির্মাণ করে ঠিকাদার।

তথ্য সংগ্রহকালে কান্দা গ্রামের আহম্মদ আলী, সানোয়ার হোসেন, নজরুল ইসলামসহ প্রায় অর্ধশতাধিক গ্রামবাসী জানান, আ. সাত্তারের বাড়ির পাশে ১টি পুরাতন ভাঙ্গা কালভাটের ওপর রাস্তা নির্মাণ করায় রাস্তার দক্ষিণপাড় ভেঙ্গে পড়ে। এখানে রাস্তার মাপ সঠিক নেই। খালেকের বাড়ির নিকট রাস্তার পাশে ১টি ডোবা রয়েছে। ডোবায় কিছু অংশ পালাস্যাইটিং দেয়া থাকলেও রাস্তাটির কোন উপকারে আসেনি সেটি। এখানে পশ্চিম পার্শ্বে প্রায় দেড় ফিট সড়ক ভেঙ্গে পড়েছে। তার দক্ষিণে আরও খারাপ অবস্থা।

গত রমজানের ঈদের ১০ দিন আগে এ প্রকল্পের কার্পেটিং কাজ সমাপ্ত করা হয় এবং ঈদের আগেই ভেঙ্গে পড়ে এই রাস্তার দুই পাড়। ঠিকাদারের লোকজন এসে মাটি দিয়ে ঢেকে রাখে রাস্তার সেই ভাঙ্গন স্থানটি।

ঠিকাদার আ. সোবহান বলেন, নিম্নমানের কাজ হয়েছে কথাটা সঠিক নয়। তাছাড়া বৃষ্টিতে সড়ক ভাঙ্গতেই পারে। উপজেলা প্রকৌশলীসহ পর্যবেক্ষক দল রাস্তাটি পরিদর্শন করেছেন। তারা জানেন রাস্তার কাজ ভাল হয়েছে। এ বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী কার্যালয়ে প্রকল্পের বিস্তারিত তথ্য জানতে চাইলে অফিসের হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা আমজাদ হোসেন বলেন, এ প্রকল্পের ফাইলটি খুঁজে পাচ্ছি না।

এ বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী মো. মোখলেছুর রহমানের সঙ্গে কথা বললে তিনি জানান, রাস্তার সাইড ভেঙ্গে পড়েছে সে বিষয়টি আমি জানি। তবে এ বিষয়ে ঠিকাদারের সঙ্গে আমার কথা হয়েছে বর্ষা মৌসুম কেটে গেলে তা পুনরায় নতুন করে ওই ভাঙ্গন স্থানটি সংস্কার করে দেয়া হবে। তিনি আরও বলেন, ঠিকাদারের পার পাওয়ার কোন সুযোগ নেই কারণ ওই কাজের জামানতের টাকা আমাদের কাছে রয়েছে।