বিদ্যুতের ট্রান্সফরমার নিয়ে আতঙ্কে জুরাইনের ওয়ার্ডবাসী

রাজধানীর জুরাইন ৫২নং ওয়ার্ড মুরাদপুরের পোকার বাজারসংলগ্ন নোয়াখালী মহল্লার উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা আর আতঙ্কে দিন-রাত কাটছে একটি বিদ্যুতের ট্রান্সফরমারকে কেন্দ্র করে। ট্রান্সফরমারটি ঘনবসতিপূর্ণ নোয়াখালী মহল্লার কয়েকটি রাস্তার মোড়ে একটি বাড়ির গেটের উপরে অবস্থিত। গত মঙ্গলবার সকাল আটটায় ওই ট্রান্সফরমারটি হঠাৎ বিকট শব্দে বিস্ফোরিত হয়। এতে পুরো এলাকার মানুষ প্রায় ছয়ঘণ্টা বিদ্যুৎহীন থাকে। গরমে কষ্ট পায় বৃদ্ধ পুরুষ-নারী ও শিশুরা।

সরেজমিন দেখা গেছে, ট্রান্সফরমারটির নিচ দিয়ে একটি বাড়ির প্রবেশপথ, সামনের দিকে চলাচলের রাস্তা। ট্রান্সফরমারের কাছের সড়কে চারদিকে ছড়িয়ে আছে প্রায় ২০টি দোকান, জনবসতিপূর্ণ কয়েকটি বিল্ডিং, শিশুদের একটি স্কুল। সামান্য দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া হলেই শর্ট সার্কিটে ট্রান্সফরমার বিকট শব্দে বিস্ফোরিত হয়। এতে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় এলাকার বাসা-বাড়ি আর কারখানার বিদ্যুতের সংযোগ। ট্রান্সফরমারটি বসানোর সব প্রক্রিয়ায় যেন অসংখ্য ভুলে ভরা। স্থানীয় এলাকাবাসীর অভিযোগ, আমরা বহুবার কদমতলী এলাকার সংশ্লিষ্ট বিদ্যুৎ অফিসে অনুরোধ করেছি ওই ট্রান্সফরমারটি অন্যত্র সরিয়ে নেয়ার জন্য কিন্তু এখনও বিদ্যুৎ অফিস ট্রান্সফরমারটি সরিয়ে নেয়নি।

স্থানীয় হুমায়ূন কবির নামে এক বাড়িওয়ালা জানান, ট্রান্সফরমারটির দক্ষিণ পাশে আউটার সার্কুলার রোড জামে মসজিদ। এ মসজিদের বাইরে থেকে প্রতিদিন সকাল-বিকেল শত শত মানুষ খাবার পানি নেয়। স্বাভাবিকভাবে তখন ওই ট্রান্সফরমারটির নিচ দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে মানুষের যাতায়াত করতে হয়। এলাকাবাসী জানিয়েছে, প্রতিদিন ট্রান্সফরমারের নিচ দিয়ে এলাকার কয়েকটি বিদ্যালয়ের শিশু শিক্ষার্থী ও কর্মজীবী নারী-পুরুষরা যাতায়াত করছেন ভয় ও আতঙ্ক নিয়ে।

নোয়াখালী মহল্লার এক রেস্টুরেন্ট ব্যবসায়ী জানান, ট্রান্সফরমারের নিচে বাড়ির মালিক ভয়ে বাড়িটি বিক্রি করে দিচ্ছেন। উল্লেখিত জনদুর্ভোগ লাঘবে ভুক্তভোগী এলাকাবাসী বিদ্যুৎ বিভাগের উচ্চপর্যায়ের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

এ ব্যাপারে ঢাকা দক্ষিণ সিটির ৫২নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. রুহুল আমিন জানান, নোয়াখালী মহল্লার আতঙ্ক বিদ্যুতের ওই ট্রান্সফরমারটি সরিয়ে নেয়ার জন্য চারমাস আগে সংশ্লিষ্ট বিদ্যুৎ অফিসে জানিয়েছি কিন্তু বিদ্যুৎ অফিস থেকে ট্রান্সফরমারটি সরিয়ে নেয়ার ব্যাপারে এখনও কোন পদক্ষেপ নেয়নি।

বৃহস্পতিবার, ১৭ জুন ২০২১ , ৩ আষাড় ১৪২৮ ৫ জিলকদ ১৪৪২

বিদ্যুতের ট্রান্সফরমার নিয়ে আতঙ্কে জুরাইনের ওয়ার্ডবাসী

image

রাজধানীর জুরাইন ৫২নং ওয়ার্ড মুরাদপুরের পোকার বাজারসংলগ্ন নোয়াখালী মহল্লার উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা আর আতঙ্কে দিন-রাত কাটছে একটি বিদ্যুতের ট্রান্সফরমারকে কেন্দ্র করে। ট্রান্সফরমারটি ঘনবসতিপূর্ণ নোয়াখালী মহল্লার কয়েকটি রাস্তার মোড়ে একটি বাড়ির গেটের উপরে অবস্থিত। গত মঙ্গলবার সকাল আটটায় ওই ট্রান্সফরমারটি হঠাৎ বিকট শব্দে বিস্ফোরিত হয়। এতে পুরো এলাকার মানুষ প্রায় ছয়ঘণ্টা বিদ্যুৎহীন থাকে। গরমে কষ্ট পায় বৃদ্ধ পুরুষ-নারী ও শিশুরা।

সরেজমিন দেখা গেছে, ট্রান্সফরমারটির নিচ দিয়ে একটি বাড়ির প্রবেশপথ, সামনের দিকে চলাচলের রাস্তা। ট্রান্সফরমারের কাছের সড়কে চারদিকে ছড়িয়ে আছে প্রায় ২০টি দোকান, জনবসতিপূর্ণ কয়েকটি বিল্ডিং, শিশুদের একটি স্কুল। সামান্য দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া হলেই শর্ট সার্কিটে ট্রান্সফরমার বিকট শব্দে বিস্ফোরিত হয়। এতে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় এলাকার বাসা-বাড়ি আর কারখানার বিদ্যুতের সংযোগ। ট্রান্সফরমারটি বসানোর সব প্রক্রিয়ায় যেন অসংখ্য ভুলে ভরা। স্থানীয় এলাকাবাসীর অভিযোগ, আমরা বহুবার কদমতলী এলাকার সংশ্লিষ্ট বিদ্যুৎ অফিসে অনুরোধ করেছি ওই ট্রান্সফরমারটি অন্যত্র সরিয়ে নেয়ার জন্য কিন্তু এখনও বিদ্যুৎ অফিস ট্রান্সফরমারটি সরিয়ে নেয়নি।

স্থানীয় হুমায়ূন কবির নামে এক বাড়িওয়ালা জানান, ট্রান্সফরমারটির দক্ষিণ পাশে আউটার সার্কুলার রোড জামে মসজিদ। এ মসজিদের বাইরে থেকে প্রতিদিন সকাল-বিকেল শত শত মানুষ খাবার পানি নেয়। স্বাভাবিকভাবে তখন ওই ট্রান্সফরমারটির নিচ দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে মানুষের যাতায়াত করতে হয়। এলাকাবাসী জানিয়েছে, প্রতিদিন ট্রান্সফরমারের নিচ দিয়ে এলাকার কয়েকটি বিদ্যালয়ের শিশু শিক্ষার্থী ও কর্মজীবী নারী-পুরুষরা যাতায়াত করছেন ভয় ও আতঙ্ক নিয়ে।

নোয়াখালী মহল্লার এক রেস্টুরেন্ট ব্যবসায়ী জানান, ট্রান্সফরমারের নিচে বাড়ির মালিক ভয়ে বাড়িটি বিক্রি করে দিচ্ছেন। উল্লেখিত জনদুর্ভোগ লাঘবে ভুক্তভোগী এলাকাবাসী বিদ্যুৎ বিভাগের উচ্চপর্যায়ের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

এ ব্যাপারে ঢাকা দক্ষিণ সিটির ৫২নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. রুহুল আমিন জানান, নোয়াখালী মহল্লার আতঙ্ক বিদ্যুতের ওই ট্রান্সফরমারটি সরিয়ে নেয়ার জন্য চারমাস আগে সংশ্লিষ্ট বিদ্যুৎ অফিসে জানিয়েছি কিন্তু বিদ্যুৎ অফিস থেকে ট্রান্সফরমারটি সরিয়ে নেয়ার ব্যাপারে এখনও কোন পদক্ষেপ নেয়নি।