মারধরে আহত আশার ঋণ গ্রহীতার ক্ষতিপূরণের মূল্য ১৫ হাজার টাকা!

অবশেষে ১৫ হাজার টাকায় সমঝোতা হলো হতদরিদ্র কাঠমিস্ত্রি আবু সালেহ নির্যাতনের ঘটনা। ৫৮৭ টাকা বকেয়া কিস্তির না পেয়ে আবু সালেহকে গোপন কক্ষে আটকিয়ে মারধর করে গুরুতর আহত করার অভিযোগ উঠেছে বেসরকারি সংস্থা ‘আশা ’র ম্যানেজার ও তার কর্মীদের বিরুদ্ধে। গত বুধবার বেলা ১১টার দিকে রাঙ্গাবালী খালগোড়া বাজারে সংস্থার কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত আবু সালেহকে বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

জানা গেছে, রাঙ্গাবালী ইউনিয়নে কাছিয়াবুনিয়া গ্রামের হতদরিদ্র কাঠমিস্ত্রী আবু সালেহ আশা সংস্থার একজন নিয়মিত ঋণগ্রহিতা। প্রতি বছরের মতো গত বছরও রাঙ্গাবালী খালগোড়া বাজার শাখা থেকে ৫০ হাজার টাকা ঋত গ্রহন করেন। করোনা সংকটেও নিয়মিত কিস্তি পরিশোধ করেন তিনি। ঋন পরিশোধতও করার পরও ৫৮৭ টাকা দাবি করেন ম্যানেজার দেলোয়ার হোসেন। বারবার টাকার জন্য তাগিদ দেন তিনি। আবু সালেহ জানান, সে ম্যানেজারকে অনেক অনুনয় বিনয় করে বলেছেন, স্যার ৫০ হাজার টাকা দিতে পেরেছি ৫৮৭ টাকার জন্য মিথ্যা বলবোনা। সব টাকা দিয়া দিছি, হয়তো ভুলে খাতায় জমা করা হয়নি। কিন্তু তার কোন কথাই শুনতে রাজি নয় ম্যানেজার। গত বুধবার বেলা ১১ টার দিকে এই ম্যানেজার আবু সালেহকে চায়ের দোকান থেকে অন্য লোক দিয়ে ডেকে নেন তার কার্যালয়ে। ওখানে নিয়ে ৫৮৭ টাকার জন্য চাপ সৃষ্টি করেন। টাকা পরিশোধ করা হয়ে গেছে বলে আবু সালেহ ওখান থেকে বেরিয়ে আসতে চাইলে ম্যানেজার ও তিন কর্মী তার ওপর চড়াও হয়। টেনেহিঁচরে নিয়ে যায় পিছনের কক্ষে। সেখানে তাকে বেধড়ক মারপিট করা হয়। নির্জন কক্ষের ভিতরে এ ঘটনা প্রথমে কেউ টের না পেলেও আবু সালের চিৎকার শুনে আশপাশের লোক এসে তাকে উদ্ধার করে গুরুতর আহত অবস্থায় বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। বর্তমানে সে ওই হাসপাতালে চিকৎসাধীন। লাথি কিল-ঘুষি ছারাও তার হাত ভেঙ্গে দেয়া হয়েছে বলে স্বজনরা জানিয়েছেন।

এ ব্যাপারে আহতের বড়ভাই ফারুক হোসেন বাদি হয়ে রাঙ্গাবালী থানায় লিখিত অভিযোগ করলে থানা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ম্যানেজার ও তার তিন কর্মীকে থানায় নিয়ে যান। রাত ৮টার দিকে তাদের ছেড়ে দেয়া হয় বলে বাদীপক্ষ জানান। তারা এও জানান, আহতের চিকিৎসা বাবদ ১৫ হাজার টাকা দেয়ার শর্তে বিষয়টি মীমাংসা করা হয়েছে। এ বিষয়ে জানতে ম্যানেজার দেলোয়ারের মোবাইল ফোনে কয়েকবার কল করলেও তার ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। খোঁজ নিতে তার অফিসে গিয়েও তাকে পাওয়া যায়নি। আশপাশের দোকানদাররা জানান, গত বৃহস্পতিবার দুপুরে ম্যানেজারসহ চারজন গলাচিপা অথবা পটুয়াখালী গেছেন বলে মনে হয়।

জেলা ম্যানেজার গিয়াস উদ্দিন জানান, এ ব্যাপারে সে রাঙ্গাবালী এসেছিল। ওসি সাহেব দুই পক্ষকে ডেকেছেন। আবু সালেহর ভাইয়েরা বলেছে আবু সালেহ গরিব মানুষ। তাই চিকিৎসার জন্য তাকে ১৫ হাজার টাকা দেয়া হয়েছে। থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা দেওয়ান জগলুল হাসান জানান, বিষয়টি মীমাংসা হয়ে গেছে।

শনিবার, ১৯ জুন ২০২১ , ৫ আষাঢ় ১৪২৮ ৭ জিলকদ ১৪৪২

ম্যানেজারের গোপন কক্ষে আটকে

মারধরে আহত আশার ঋণ গ্রহীতার ক্ষতিপূরণের মূল্য ১৫ হাজার টাকা!

অবশেষে ১৫ হাজার টাকায় সমঝোতা হলো হতদরিদ্র কাঠমিস্ত্রি আবু সালেহ নির্যাতনের ঘটনা। ৫৮৭ টাকা বকেয়া কিস্তির না পেয়ে আবু সালেহকে গোপন কক্ষে আটকিয়ে মারধর করে গুরুতর আহত করার অভিযোগ উঠেছে বেসরকারি সংস্থা ‘আশা ’র ম্যানেজার ও তার কর্মীদের বিরুদ্ধে। গত বুধবার বেলা ১১টার দিকে রাঙ্গাবালী খালগোড়া বাজারে সংস্থার কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত আবু সালেহকে বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

জানা গেছে, রাঙ্গাবালী ইউনিয়নে কাছিয়াবুনিয়া গ্রামের হতদরিদ্র কাঠমিস্ত্রী আবু সালেহ আশা সংস্থার একজন নিয়মিত ঋণগ্রহিতা। প্রতি বছরের মতো গত বছরও রাঙ্গাবালী খালগোড়া বাজার শাখা থেকে ৫০ হাজার টাকা ঋত গ্রহন করেন। করোনা সংকটেও নিয়মিত কিস্তি পরিশোধ করেন তিনি। ঋন পরিশোধতও করার পরও ৫৮৭ টাকা দাবি করেন ম্যানেজার দেলোয়ার হোসেন। বারবার টাকার জন্য তাগিদ দেন তিনি। আবু সালেহ জানান, সে ম্যানেজারকে অনেক অনুনয় বিনয় করে বলেছেন, স্যার ৫০ হাজার টাকা দিতে পেরেছি ৫৮৭ টাকার জন্য মিথ্যা বলবোনা। সব টাকা দিয়া দিছি, হয়তো ভুলে খাতায় জমা করা হয়নি। কিন্তু তার কোন কথাই শুনতে রাজি নয় ম্যানেজার। গত বুধবার বেলা ১১ টার দিকে এই ম্যানেজার আবু সালেহকে চায়ের দোকান থেকে অন্য লোক দিয়ে ডেকে নেন তার কার্যালয়ে। ওখানে নিয়ে ৫৮৭ টাকার জন্য চাপ সৃষ্টি করেন। টাকা পরিশোধ করা হয়ে গেছে বলে আবু সালেহ ওখান থেকে বেরিয়ে আসতে চাইলে ম্যানেজার ও তিন কর্মী তার ওপর চড়াও হয়। টেনেহিঁচরে নিয়ে যায় পিছনের কক্ষে। সেখানে তাকে বেধড়ক মারপিট করা হয়। নির্জন কক্ষের ভিতরে এ ঘটনা প্রথমে কেউ টের না পেলেও আবু সালের চিৎকার শুনে আশপাশের লোক এসে তাকে উদ্ধার করে গুরুতর আহত অবস্থায় বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। বর্তমানে সে ওই হাসপাতালে চিকৎসাধীন। লাথি কিল-ঘুষি ছারাও তার হাত ভেঙ্গে দেয়া হয়েছে বলে স্বজনরা জানিয়েছেন।

এ ব্যাপারে আহতের বড়ভাই ফারুক হোসেন বাদি হয়ে রাঙ্গাবালী থানায় লিখিত অভিযোগ করলে থানা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ম্যানেজার ও তার তিন কর্মীকে থানায় নিয়ে যান। রাত ৮টার দিকে তাদের ছেড়ে দেয়া হয় বলে বাদীপক্ষ জানান। তারা এও জানান, আহতের চিকিৎসা বাবদ ১৫ হাজার টাকা দেয়ার শর্তে বিষয়টি মীমাংসা করা হয়েছে। এ বিষয়ে জানতে ম্যানেজার দেলোয়ারের মোবাইল ফোনে কয়েকবার কল করলেও তার ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। খোঁজ নিতে তার অফিসে গিয়েও তাকে পাওয়া যায়নি। আশপাশের দোকানদাররা জানান, গত বৃহস্পতিবার দুপুরে ম্যানেজারসহ চারজন গলাচিপা অথবা পটুয়াখালী গেছেন বলে মনে হয়।

জেলা ম্যানেজার গিয়াস উদ্দিন জানান, এ ব্যাপারে সে রাঙ্গাবালী এসেছিল। ওসি সাহেব দুই পক্ষকে ডেকেছেন। আবু সালেহর ভাইয়েরা বলেছে আবু সালেহ গরিব মানুষ। তাই চিকিৎসার জন্য তাকে ১৫ হাজার টাকা দেয়া হয়েছে। থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা দেওয়ান জগলুল হাসান জানান, বিষয়টি মীমাংসা হয়ে গেছে।