চরফ্যাসনে ১০ কোটি টাকার সম্পদ আত্মসাতে মরিয়া প্রভাবশালীরা

চরফ্যাসন সদর থেকে ২কি.মি পশ্চিমে কলেজ সড়কের তালুকদার বাজারের দোকানভিটির ৮০ শতাংশ জমি জবরদখলে মরিয়া হয়ে উঠেছে স্থানীয় মেম্বার জামাল চৌকিদারসহ ৫ জনের একটি দুর্বৃত্তচক্র। জমির মালিক নিরীহ খালিদ আল হেলাল এবং আবদুল মাজেদের রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রভাব না থাকায় দুর্বৃত্তরা এই জমি দখল করতে নানা কৌশলে তাদের জিম্মি করে শেষ সম্বল হাতিয়ে নিতে হুমকি-ধমকিসহ নানা অপকৌশলের আশ্রয় নিয়েছে। নিরীহ জমির মালিক দুই ভাই খালিদ ও মাজেদ দুর্বৃত্তচক্রের কবল থেকে তাদের সম্পদ ও জীবন রক্ষার জন্য স্থানীয় সংসদ সদস্যের কাছে লিখিত আবেদন করেছেন। আবেদনে বলা হয়েছে, বিএনপির ক্ষমতাকালে কবির হোসেন ফরাজি এবং নীরব হোসেন এখানে তা-ব চালিয়েছিল। এখন তারাই ক্ষমতার মোড়কে নিজেদের ভিন্নরূপে জোটবদ্ধ হয়ে তাদের কয়েক কোটি টাকার সম্পদ জবরদখল করছে।

লিখিত অভিযোগে খালিদ আল হেলাল ও আবদুল মাজেদ জানান, কুলসুম বাগ মৌজার এসএ ১৯৮ এবং দিয়ারা ৩১৯ খতিয়ানের ৮০ শতাংশ জমির মালিক ছিলেন তাদের বাবা আবদুল জলিল মোল্লা। মৃত্যুর আগে তিনি এই জমি স্ত্রী ফজিলেতুন নেছাকে দলিল দেন। ফজিলেতুন নেছা জীবদ্দশায় ওই সম্পত্তি দুই ছেলে খালিদ আল হেলাল ও আবদুল মাজেদকে দলিল দেন। দলিল ও পৈত্রিক সূত্রে এই সম্পত্তির দুই মালিক এখন দুই ভাই খালিদ আল হেলাল ও আবদুল মাজেদ। নিরীহ ও শান্ত প্রকৃতির এই দুই ভাইয়ের ৮০ শতাংশ সম্পত্তির অবস্থান চরফ্যাসন সদর থেকে ২ কি.মি পশ্চিমে কলেজ রোডের ওপর প্রতিষ্ঠিত তালুকদার বাজারে। বাজারের সম্পত্তি হিসেবে এখানে প্রতি শতাংশ জমির মূল্য ১০ লাখ থেকে ৫ লাখ টাকা টাকা পর্যন্ত চলমান আছে। মূল্য বিবেচনায় সমুদয় সম্পদের বাজার দর আছে ১০ কোটি টাকার বেশি। মূল্যবান এই সম্পদের ওপর নজর পড়েছে এক সময়ের বিএনপির ক্যাডারখ্যাত কবির হোসেন ফরাজি ও নীরব হোসেনসহ একটি দুর্বৃত্তচক্রের। সময়ের ব্যবধানে এই দুর্বৃত্তদের জোটবদ্ধ করেছে স্থানীয় মেম্বার জামাল উদ্দিন চৌকিদার। ক্ষমতাবলয়ের লোক হিসেবে পরিচিত মেম্বার জামাল উদ্দিন চৌকিদার স্থানীয় কবির হোসেন ফরাজী, নীরব, আবদুর রব এবং ইমাম হোসেন রুপসাকে নিয়ে গড়ে তোলা দুর্বৃত্তচক্রকে নিয়ে এই জমি জবরদখলে নেমেছে। দুর্বৃত্তরা দুইভাই হেলাল ও মাজেদকে হামলা মামলার হুমকি দিয়ে ইতোমধ্যে কিছু জমি দখল করে প্রাচীর তুলেছে। দখলকৃত ওই জমি ফেরত দেয়ার কথা বলে দুই ভাইয়ের কাছ থেকে ৫ লাখ টাকার চাঁদা দাবি করে ২ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। বাকি ৩ লাখ টাকা না দিলে বাকি জমিও একইভাবে দখল করে নেয়ার হুমকি দিচ্ছেন। এতে ক্ষতিগ্রস্ত ও আতঙ্কিত হেলাল ও মাজেদ সম্পদ ও জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্যের কাছে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন। জানা গেছে, সংসদ সদস্য বিষয়টি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যানকে নির্দেশ দিয়েছেন। অভিযোগ প্রসঙ্গে জামাল মেম্বার বলেন, আমরা মাজেদ ও খালিদের জমির সঙ্গে ৮ শতাংশ জমি খাস থাকায় বাজার ব্যবসায়ীদের শৌচাগার নির্মাণের জন্য ৫০ পয়েন্ট জমি নিয়েছি। ২ লাখ টাকা চাদা বিষয় অস্বীকার করেছেন।

রবিবার, ২০ জুন ২০২১ , ৬ আষাঢ় ১৪২৮ ৮ জিলকদ ১৪৪২

চরফ্যাসনে ১০ কোটি টাকার সম্পদ আত্মসাতে মরিয়া প্রভাবশালীরা

চরফ্যাসন সদর থেকে ২কি.মি পশ্চিমে কলেজ সড়কের তালুকদার বাজারের দোকানভিটির ৮০ শতাংশ জমি জবরদখলে মরিয়া হয়ে উঠেছে স্থানীয় মেম্বার জামাল চৌকিদারসহ ৫ জনের একটি দুর্বৃত্তচক্র। জমির মালিক নিরীহ খালিদ আল হেলাল এবং আবদুল মাজেদের রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রভাব না থাকায় দুর্বৃত্তরা এই জমি দখল করতে নানা কৌশলে তাদের জিম্মি করে শেষ সম্বল হাতিয়ে নিতে হুমকি-ধমকিসহ নানা অপকৌশলের আশ্রয় নিয়েছে। নিরীহ জমির মালিক দুই ভাই খালিদ ও মাজেদ দুর্বৃত্তচক্রের কবল থেকে তাদের সম্পদ ও জীবন রক্ষার জন্য স্থানীয় সংসদ সদস্যের কাছে লিখিত আবেদন করেছেন। আবেদনে বলা হয়েছে, বিএনপির ক্ষমতাকালে কবির হোসেন ফরাজি এবং নীরব হোসেন এখানে তা-ব চালিয়েছিল। এখন তারাই ক্ষমতার মোড়কে নিজেদের ভিন্নরূপে জোটবদ্ধ হয়ে তাদের কয়েক কোটি টাকার সম্পদ জবরদখল করছে।

লিখিত অভিযোগে খালিদ আল হেলাল ও আবদুল মাজেদ জানান, কুলসুম বাগ মৌজার এসএ ১৯৮ এবং দিয়ারা ৩১৯ খতিয়ানের ৮০ শতাংশ জমির মালিক ছিলেন তাদের বাবা আবদুল জলিল মোল্লা। মৃত্যুর আগে তিনি এই জমি স্ত্রী ফজিলেতুন নেছাকে দলিল দেন। ফজিলেতুন নেছা জীবদ্দশায় ওই সম্পত্তি দুই ছেলে খালিদ আল হেলাল ও আবদুল মাজেদকে দলিল দেন। দলিল ও পৈত্রিক সূত্রে এই সম্পত্তির দুই মালিক এখন দুই ভাই খালিদ আল হেলাল ও আবদুল মাজেদ। নিরীহ ও শান্ত প্রকৃতির এই দুই ভাইয়ের ৮০ শতাংশ সম্পত্তির অবস্থান চরফ্যাসন সদর থেকে ২ কি.মি পশ্চিমে কলেজ রোডের ওপর প্রতিষ্ঠিত তালুকদার বাজারে। বাজারের সম্পত্তি হিসেবে এখানে প্রতি শতাংশ জমির মূল্য ১০ লাখ থেকে ৫ লাখ টাকা টাকা পর্যন্ত চলমান আছে। মূল্য বিবেচনায় সমুদয় সম্পদের বাজার দর আছে ১০ কোটি টাকার বেশি। মূল্যবান এই সম্পদের ওপর নজর পড়েছে এক সময়ের বিএনপির ক্যাডারখ্যাত কবির হোসেন ফরাজি ও নীরব হোসেনসহ একটি দুর্বৃত্তচক্রের। সময়ের ব্যবধানে এই দুর্বৃত্তদের জোটবদ্ধ করেছে স্থানীয় মেম্বার জামাল উদ্দিন চৌকিদার। ক্ষমতাবলয়ের লোক হিসেবে পরিচিত মেম্বার জামাল উদ্দিন চৌকিদার স্থানীয় কবির হোসেন ফরাজী, নীরব, আবদুর রব এবং ইমাম হোসেন রুপসাকে নিয়ে গড়ে তোলা দুর্বৃত্তচক্রকে নিয়ে এই জমি জবরদখলে নেমেছে। দুর্বৃত্তরা দুইভাই হেলাল ও মাজেদকে হামলা মামলার হুমকি দিয়ে ইতোমধ্যে কিছু জমি দখল করে প্রাচীর তুলেছে। দখলকৃত ওই জমি ফেরত দেয়ার কথা বলে দুই ভাইয়ের কাছ থেকে ৫ লাখ টাকার চাঁদা দাবি করে ২ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। বাকি ৩ লাখ টাকা না দিলে বাকি জমিও একইভাবে দখল করে নেয়ার হুমকি দিচ্ছেন। এতে ক্ষতিগ্রস্ত ও আতঙ্কিত হেলাল ও মাজেদ সম্পদ ও জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্যের কাছে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন। জানা গেছে, সংসদ সদস্য বিষয়টি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যানকে নির্দেশ দিয়েছেন। অভিযোগ প্রসঙ্গে জামাল মেম্বার বলেন, আমরা মাজেদ ও খালিদের জমির সঙ্গে ৮ শতাংশ জমি খাস থাকায় বাজার ব্যবসায়ীদের শৌচাগার নির্মাণের জন্য ৫০ পয়েন্ট জমি নিয়েছি। ২ লাখ টাকা চাদা বিষয় অস্বীকার করেছেন।