নদী-খাল-বিলে মাছ কম : কষ্টে জেলেরা

‘নদীগুলোতে আর আগের মতো মাছ নেই। এক সময় আমাদের বাড়িতে মাছের গন্ধে থাকা যেতো না। আর এখন নিজের পরিবারের প্রয়োজনীয় মাছ পাওয়া যাচ্ছে না’। গত শুক্রবার গজারিয়া উপজেলার বিকেলে মিরেরগাঁও সায়েদুল্লা খাল বর্তমানে মিরেরগাঁও খালে মাছ ধরতে আসা এলাকার মামুন মিয়া এভাবেই আফসোস করে কথাগুলো বলেন। মাছের জন্য নদীর পাড়ে অনেক জেলের বসবাস করেন। মাছ ধরে বিক্রি করেই তারা জীবিকা নির্বাহ করে। নদীর সঙ্গে যাদের বাড়ি তারা কোন না কোনভাবে নদী আর মাছের সঙ্গে যুক্ত আছেই। নদী যেন তাদের নাড়ির সঙ্গে এক সূত্রে গাঁথা। একই এলাকার জেলে আলম মিয়া বলেন, ‘আমরা গরিব মানুষ। মাছ ধরেই জীবিকা নির্বাহ করি। কিন্তু নদীতে মাছ না থাকায় অতিকষ্টে পরিবার নিয়ে বেঁচে আছি’। অতি সূক্ষ খরা জাল দিয়েও এখন দেশীয় নানা প্রজাতির মাছ এ অঞ্চলের নদ-নদী ও খাল-বিলগুলো থেকে হারিয়ে যাওয়ার পথে রয়েছে বলে জানিয়েছেন মৎস্যজীবীরা। এলাকাবাসী বলছেন, শিং, মাগুর, কৈ, মহাশৈল, গজার, বোয়াল, বাইন, টেংরা, পাবদাসহ এসব মাছ এখন আর গ্রামাঞ্চলের হাট-বাজারগুলোতে খুব একটা চোখে পড়ে না। বর্ষার শুরু ও শেষ সময়ে নদী, নালা, খাল-বিল, পুকুর ডোবা থেকে প্রচুর পরিমাণ দেশীয় জাতের ছোট বড় অনেক মাছ পাওয়া যেত। সে মাছ ধরার জন্য গ্রাম বাংলার সকল শ্রেণীর মানুষ মাছের জন্য নদীর তীর, খাল, ডোবার পাশে মাছ ধরায় কাজে ব্যস্ত থাকত।

এখন সে মাছ নেই বললেই চলে। অতিরিক্ত জনসংখ্যার চাপে পরে দ্রুত ফসল ফলাতে জমিতে কীটনাশক ব্যবহারে মাছের ক্ষতি হচ্ছে এবং অন্যদিঘে শিল্পকারখানা দ্রুতগতিতে ঘড়ে ওঠায় নদীনালা খাল-বিল ভরাট হওয়ায় কলকারখানার বর্জ্য ও অপরিকল্পিতভাবে গড়ে উঠা নগরায়ণের ফলে প্রকৃতির ওপর বিরূপ প্রভাব পড়ছে। বিষাক্তবর্জ্য দূষিত করছে পানি আর বিলুপ্ত হচ্ছে দেশীয় মাছ।

এর ফলে দিন দিন দেশীয় মাছ বিলুপ্ত হতে চলেছে। এছাড়া ও বিদেশী চাই (ম্যাজিক চাই) ও নিষিদ্ধ কারেন্ট জালে ছোট ছোট পোনা মাছ নিধন করার ফলেও মাছের উৎপাদন কমে গেছে তাই ডোবা নালায় দেশি প্রজাতির যেই পরিমাণ মাছ আগে পাওয়া যেত এখন সেই ডোবা নালা ভরাট করার ফলে ডোবা নালায় আর মাছ নেই। চাষের মাছের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে দেশের মাছের চাহিদা পূরণে। এ বিষয়ে গজারিয়া উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা ( অতিঃ দাঃ) মো. টিপু শুলতান বলেন, আমরা মাছের চাহিদা পুরণে মাছ চাষে জেলেদের ও এলাকার বেকার যুবকদের বিভিন্ন ধরনের প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে যার ফলে এখন বিভিন্ন প্রজাতির চাষের মাছ পাওয়া যায় বিধায় দেশে মাছের অভাব নেই তারপর নিষিদ্ধ জালে মাছ ধরার জন্য জেলেদের অনেক সময় আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাদের সচেতন করা হচ্ছে ।

সোমবার, ২১ জুন ২০২১ , ৭ আষাঢ় ১৪২৮ ৯ জিলকদ ১৪৪২

নদী-খাল-বিলে মাছ কম : কষ্টে জেলেরা

image

গজারিয়া (মুন্সীগঞ্জ) : উপজেলার মিরেরগাঁও খালে খরা পেতে মাছ ধরছেন এক জেলে -সংবাদ

‘নদীগুলোতে আর আগের মতো মাছ নেই। এক সময় আমাদের বাড়িতে মাছের গন্ধে থাকা যেতো না। আর এখন নিজের পরিবারের প্রয়োজনীয় মাছ পাওয়া যাচ্ছে না’। গত শুক্রবার গজারিয়া উপজেলার বিকেলে মিরেরগাঁও সায়েদুল্লা খাল বর্তমানে মিরেরগাঁও খালে মাছ ধরতে আসা এলাকার মামুন মিয়া এভাবেই আফসোস করে কথাগুলো বলেন। মাছের জন্য নদীর পাড়ে অনেক জেলের বসবাস করেন। মাছ ধরে বিক্রি করেই তারা জীবিকা নির্বাহ করে। নদীর সঙ্গে যাদের বাড়ি তারা কোন না কোনভাবে নদী আর মাছের সঙ্গে যুক্ত আছেই। নদী যেন তাদের নাড়ির সঙ্গে এক সূত্রে গাঁথা। একই এলাকার জেলে আলম মিয়া বলেন, ‘আমরা গরিব মানুষ। মাছ ধরেই জীবিকা নির্বাহ করি। কিন্তু নদীতে মাছ না থাকায় অতিকষ্টে পরিবার নিয়ে বেঁচে আছি’। অতি সূক্ষ খরা জাল দিয়েও এখন দেশীয় নানা প্রজাতির মাছ এ অঞ্চলের নদ-নদী ও খাল-বিলগুলো থেকে হারিয়ে যাওয়ার পথে রয়েছে বলে জানিয়েছেন মৎস্যজীবীরা। এলাকাবাসী বলছেন, শিং, মাগুর, কৈ, মহাশৈল, গজার, বোয়াল, বাইন, টেংরা, পাবদাসহ এসব মাছ এখন আর গ্রামাঞ্চলের হাট-বাজারগুলোতে খুব একটা চোখে পড়ে না। বর্ষার শুরু ও শেষ সময়ে নদী, নালা, খাল-বিল, পুকুর ডোবা থেকে প্রচুর পরিমাণ দেশীয় জাতের ছোট বড় অনেক মাছ পাওয়া যেত। সে মাছ ধরার জন্য গ্রাম বাংলার সকল শ্রেণীর মানুষ মাছের জন্য নদীর তীর, খাল, ডোবার পাশে মাছ ধরায় কাজে ব্যস্ত থাকত।

এখন সে মাছ নেই বললেই চলে। অতিরিক্ত জনসংখ্যার চাপে পরে দ্রুত ফসল ফলাতে জমিতে কীটনাশক ব্যবহারে মাছের ক্ষতি হচ্ছে এবং অন্যদিঘে শিল্পকারখানা দ্রুতগতিতে ঘড়ে ওঠায় নদীনালা খাল-বিল ভরাট হওয়ায় কলকারখানার বর্জ্য ও অপরিকল্পিতভাবে গড়ে উঠা নগরায়ণের ফলে প্রকৃতির ওপর বিরূপ প্রভাব পড়ছে। বিষাক্তবর্জ্য দূষিত করছে পানি আর বিলুপ্ত হচ্ছে দেশীয় মাছ।

এর ফলে দিন দিন দেশীয় মাছ বিলুপ্ত হতে চলেছে। এছাড়া ও বিদেশী চাই (ম্যাজিক চাই) ও নিষিদ্ধ কারেন্ট জালে ছোট ছোট পোনা মাছ নিধন করার ফলেও মাছের উৎপাদন কমে গেছে তাই ডোবা নালায় দেশি প্রজাতির যেই পরিমাণ মাছ আগে পাওয়া যেত এখন সেই ডোবা নালা ভরাট করার ফলে ডোবা নালায় আর মাছ নেই। চাষের মাছের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে দেশের মাছের চাহিদা পূরণে। এ বিষয়ে গজারিয়া উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা ( অতিঃ দাঃ) মো. টিপু শুলতান বলেন, আমরা মাছের চাহিদা পুরণে মাছ চাষে জেলেদের ও এলাকার বেকার যুবকদের বিভিন্ন ধরনের প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে যার ফলে এখন বিভিন্ন প্রজাতির চাষের মাছ পাওয়া যায় বিধায় দেশে মাছের অভাব নেই তারপর নিষিদ্ধ জালে মাছ ধরার জন্য জেলেদের অনেক সময় আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাদের সচেতন করা হচ্ছে ।