ভারতে নতুন ভ্যারিয়েন্ট ডেল্টা প্লাস

যুক্তরাষ্ট্রসহ ছড়িয়েছে ৯ দেশে

করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের তা-বের মধ্যেই ভারতে এখন আরেক আতঙ্কের নাম ডেল্টা প্লাস ভ্যারিয়েন্ট। এ অবস্থায় করোনার তৃতীয় ঢেউয়ের আশঙ্কায় ভারতের বিশেষজ্ঞ মহল। এনডিটিভি

নতুন ভ্যারিয়েন্টটি ইতোমধ্যেই ভারতের ৭ রাজ্যে সংক্রমণ ছড়িয়েছে। এর মধ্যে ৩টি রাজ্য সতর্কতা জারি করা হয়েছে। মূল ভাইরাসের থেকে চরিত্র বদল করা ডেল্টা প্লাস ভ্যারিয়েন্টটি সংক্রমণ ক্ষমতার দিক থেকে প্রবল শক্তিশালী। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, একবার এ ভ্যারিয়েন্ট ছড়াতে শুরু করলে তাকে নিয়ন্ত্রণ করা দুঃসাধ্য হয়ে দাঁড়াবে। আশঙ্কার বিষয় হলো, এত দিন যে পদ্ধতিতে করোনা রোগীদের চিকিৎসা হয়ে এসেছে, ডেল্টা প্লাসে আক্রান্তদের ক্ষেত্রে তা কাজ করছে না। তাই ডেল্টা প্লাসের সংক্রমণ শুরুতেই নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে, দ্বিতীয় ঢেউয়ের চেয়েও বেশি মানুষ আক্রান্ত হতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ডেল্টা প্লাস ধরনটির সংক্রমণ বাড়তে থাকার প্রেক্ষাপটে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় রাজ্যগুলোকে পরীক্ষার আওতা বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছে।

মন্ত্রণালয়সূত্রে জানা গেছে, মহারাষ্ট্রে ২১ জন, মধ্য প্রদেশে ৬ জন, কেরালায় ৩ জন, তামিলনাড়–তে ৩ জন, কর্নাটকে ৩ জন এবং পাঞ্জাব, অন্ধ্র এবং জম্মু ও কাশ্মীর রাজ্যে ১ জন করে ডেল্টা প্লাসে আক্রান্ত হয়েছেন। করোনা প্রতিরোধে ভারতের কেন্দ্রীয় টাস্কফোর্সের উপদেষ্টা পরিষদের এক সদস্য দেশটির জানান, মহারাষ্ট্রের রতœগিরি ও জলগাঁও জেলা, কেরালার পালাক্কাড় ও পাথনামথিত্তা জেলা এবং মধ্য প্রদেশের ভোপাল ও শিবপুরি জেলায় ডেল্টা প্লাসে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছে। মহারাষ্ট্র রাজ্য সরকারের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা এনডিটিভি অনলাইনকে জানিয়েছেন, রাজ্যে আক্রান্ত রোগীদের সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহের কাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। গুরুত্ব সহকারে জানার চেষ্টা করা হচ্ছে যে, সর্বশেষ তারা কোথায় ঘুরতে গিয়েছিলেন এবং করোনা টিকার দুই ডোজ নিয়েছিলেন কিনা। পাশাপাশি রাজ্য সরকারকে ভিড় ও জনসমাগমে নিষেধাজ্ঞা আরোপ এবং ব্যাপকমাত্রায় টেস্টিং-ট্রেসিং ও টিকাদান বাড়ানোর পরামর্শও দিয়েছে মহারাষ্ট্রের রাজ্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। নতুন এই ধরন শনাক্তের প্রেক্ষিতে ভারতের গণটিকাদান কর্মসূচি প্রশাসনের কেন্দ্রীয় বিশেষজ্ঞ দলের প্রধান ভিকে পল কেন্দ্রীয় সরকারের নেয়া পদক্ষেপের বিষয়ে বলেন, এ আটটি রাজ্যে কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে একজন করে উপদেষ্টা ইতোমধ্যে পাঠানো হয়েছে। সংক্রমণ প্রতিরোধে পূর্বে যে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছিল, আপাতত সেগুলো আরও কার্যকরভাবে অনুসরণ করা হবে। আমাদের লক্ষ্য, আক্রান্তের সংখ্যা যেন এই পর্যন্তই থাকে। যদি এটি বাড়তে থাকে তাহলে মহাবিপর্যয় দেখা দেবে। তিনি আরও জানান, করোনার ডেল্টা প্লাস ধরন সম্পর্কে এখন পর্যন্ত খুব কমই জানা গেছে। তবে করোনাভাইরাস গবেষণাবিষয়ক ভারতীয় প্রতিষ্ঠান আইএনএসএসিওজি এর বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, এই ধরনটি উচ্চ সংক্রামক; পাশাপাশি, ফুসফুসের প্রতিরক্ষা কোষ ধ্বংস ও মানবদেহের অ্যান্টিবডি উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস করতেও সক্ষম ডেল্টা প্লাস। ভারতের জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, ভারতে শনাক্ত হওয়া করোনার নতুন অভিযোজিত ধরন ডেল্টা প্লাস নিয়ে যথেষ্ট উদ্বিগ্ন আছে দেশটির সরকার। উদ্বেগের প্রধান কারণ- প্রচলিত করোনা টিকা ডেল্টা প্লাসের বিরুদ্ধে কার্যকর হবে কি না। কেননা এর আগে গবেষণায় দেখা গেছে, করোনা টিকা কোভিশিল্ড ও কোভ্যাক্সিনের ডোজকে ফাঁকি দিতে সক্ষম ডেল্টা প্লাসের পূর্বসূরি ধরন ডেল্টা। ডেল্টা প্লাস ভ্যারিয়েন্টের নাম বি.১.৬১৭.২.১। এখন পর্যন্ত ভ্যারিয়েন্টটির বিস্তারিত অনেক কিছুই জানা যায়নি। কিন্তু যে উল্লেখযোগ্য তথ্য পাওয়া গেছে তা হলো, এই নতুন স্ট্রেইনটি মনোকলোনাল অ্যান্টিবডি ককটেল প্রতিরোধী। এদিকে, ভারতে প্রথম শনাক্ত হওয়া উচ্চ সংক্রমণশীল ডেল্টা প্লাস ভ্যারিয়েন্টের সংক্রমণ ঠেকানোর জন্য পদক্ষেপ নিলেও ইতোমধ্যে তা অন্তত ৯টি দেশে ছড়িয়ে পড়েছে। এসব দেশের মধ্যে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, পর্তুগাল, সুইজারল্যান্ড, জাপান, পোল্যান্ড, নেপাল, চীন ও রাশিয়া ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের এ তথ্য জানান।

ভারতীয় কর্মকর্তারা বলছেন, ডেল্টা প্লাস ভ্যারিয়েন্টের সংক্রমণ ক্ষমতা ও ভয়াবহতা সম্পর্কে এখনও জানা যায়নি। দেশটির নীতি আয়োগ সদস্য ভিকে পাল বলেন, ভ্যারিয়েন্ট অব ইন্টারেস্ট ডেল্টা প্লাসকে এখনও ভ্যারিয়েন্ট অব কনসার্ন হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়নি। সংক্রমণের ভয়াবহতা ও তীব্র ছোঁয়াচে ক্ষমতার কারণে মানবজাতির জন্য ভয়াবহ হতে পারে এমন ধরনকে ভ্যারিয়েন্ট অব কনসার্নের আওতাভুক্ত করা হয়। বিশেষজ্ঞদের বরাতে ডেল্টা প্লাস ভ্যারিয়েন্ট নিয়ে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, এই প্রজাতির সংক্রমণে করোনার চেনা উপসর্গ দেখা যাচ্ছে না মানব শরীরে। সংক্রমণের উপসর্গ জানতে না পারায় উদ্বিগ্ন ভারতের চিকিৎসকরা।

বৃহস্পতিবার, ২৪ জুন ২০২১ , ১০ আষাঢ় ১৪২৮ ১২ জিলকদ ১৪৪২

ভারতে নতুন ভ্যারিয়েন্ট ডেল্টা প্লাস

যুক্তরাষ্ট্রসহ ছড়িয়েছে ৯ দেশে

image

করোনার নতুন ভ্যারিয়েন্ট ডেল্টা প্লাসে আক্রান্ত রোগীর চিকিৎসা দিচ্ছেন কর্তব্যরত ডাক্তাররা -এনডিটিভি

করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের তা-বের মধ্যেই ভারতে এখন আরেক আতঙ্কের নাম ডেল্টা প্লাস ভ্যারিয়েন্ট। এ অবস্থায় করোনার তৃতীয় ঢেউয়ের আশঙ্কায় ভারতের বিশেষজ্ঞ মহল। এনডিটিভি

নতুন ভ্যারিয়েন্টটি ইতোমধ্যেই ভারতের ৭ রাজ্যে সংক্রমণ ছড়িয়েছে। এর মধ্যে ৩টি রাজ্য সতর্কতা জারি করা হয়েছে। মূল ভাইরাসের থেকে চরিত্র বদল করা ডেল্টা প্লাস ভ্যারিয়েন্টটি সংক্রমণ ক্ষমতার দিক থেকে প্রবল শক্তিশালী। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, একবার এ ভ্যারিয়েন্ট ছড়াতে শুরু করলে তাকে নিয়ন্ত্রণ করা দুঃসাধ্য হয়ে দাঁড়াবে। আশঙ্কার বিষয় হলো, এত দিন যে পদ্ধতিতে করোনা রোগীদের চিকিৎসা হয়ে এসেছে, ডেল্টা প্লাসে আক্রান্তদের ক্ষেত্রে তা কাজ করছে না। তাই ডেল্টা প্লাসের সংক্রমণ শুরুতেই নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে, দ্বিতীয় ঢেউয়ের চেয়েও বেশি মানুষ আক্রান্ত হতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ডেল্টা প্লাস ধরনটির সংক্রমণ বাড়তে থাকার প্রেক্ষাপটে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় রাজ্যগুলোকে পরীক্ষার আওতা বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছে।

মন্ত্রণালয়সূত্রে জানা গেছে, মহারাষ্ট্রে ২১ জন, মধ্য প্রদেশে ৬ জন, কেরালায় ৩ জন, তামিলনাড়–তে ৩ জন, কর্নাটকে ৩ জন এবং পাঞ্জাব, অন্ধ্র এবং জম্মু ও কাশ্মীর রাজ্যে ১ জন করে ডেল্টা প্লাসে আক্রান্ত হয়েছেন। করোনা প্রতিরোধে ভারতের কেন্দ্রীয় টাস্কফোর্সের উপদেষ্টা পরিষদের এক সদস্য দেশটির জানান, মহারাষ্ট্রের রতœগিরি ও জলগাঁও জেলা, কেরালার পালাক্কাড় ও পাথনামথিত্তা জেলা এবং মধ্য প্রদেশের ভোপাল ও শিবপুরি জেলায় ডেল্টা প্লাসে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছে। মহারাষ্ট্র রাজ্য সরকারের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা এনডিটিভি অনলাইনকে জানিয়েছেন, রাজ্যে আক্রান্ত রোগীদের সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহের কাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। গুরুত্ব সহকারে জানার চেষ্টা করা হচ্ছে যে, সর্বশেষ তারা কোথায় ঘুরতে গিয়েছিলেন এবং করোনা টিকার দুই ডোজ নিয়েছিলেন কিনা। পাশাপাশি রাজ্য সরকারকে ভিড় ও জনসমাগমে নিষেধাজ্ঞা আরোপ এবং ব্যাপকমাত্রায় টেস্টিং-ট্রেসিং ও টিকাদান বাড়ানোর পরামর্শও দিয়েছে মহারাষ্ট্রের রাজ্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। নতুন এই ধরন শনাক্তের প্রেক্ষিতে ভারতের গণটিকাদান কর্মসূচি প্রশাসনের কেন্দ্রীয় বিশেষজ্ঞ দলের প্রধান ভিকে পল কেন্দ্রীয় সরকারের নেয়া পদক্ষেপের বিষয়ে বলেন, এ আটটি রাজ্যে কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে একজন করে উপদেষ্টা ইতোমধ্যে পাঠানো হয়েছে। সংক্রমণ প্রতিরোধে পূর্বে যে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছিল, আপাতত সেগুলো আরও কার্যকরভাবে অনুসরণ করা হবে। আমাদের লক্ষ্য, আক্রান্তের সংখ্যা যেন এই পর্যন্তই থাকে। যদি এটি বাড়তে থাকে তাহলে মহাবিপর্যয় দেখা দেবে। তিনি আরও জানান, করোনার ডেল্টা প্লাস ধরন সম্পর্কে এখন পর্যন্ত খুব কমই জানা গেছে। তবে করোনাভাইরাস গবেষণাবিষয়ক ভারতীয় প্রতিষ্ঠান আইএনএসএসিওজি এর বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, এই ধরনটি উচ্চ সংক্রামক; পাশাপাশি, ফুসফুসের প্রতিরক্ষা কোষ ধ্বংস ও মানবদেহের অ্যান্টিবডি উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস করতেও সক্ষম ডেল্টা প্লাস। ভারতের জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, ভারতে শনাক্ত হওয়া করোনার নতুন অভিযোজিত ধরন ডেল্টা প্লাস নিয়ে যথেষ্ট উদ্বিগ্ন আছে দেশটির সরকার। উদ্বেগের প্রধান কারণ- প্রচলিত করোনা টিকা ডেল্টা প্লাসের বিরুদ্ধে কার্যকর হবে কি না। কেননা এর আগে গবেষণায় দেখা গেছে, করোনা টিকা কোভিশিল্ড ও কোভ্যাক্সিনের ডোজকে ফাঁকি দিতে সক্ষম ডেল্টা প্লাসের পূর্বসূরি ধরন ডেল্টা। ডেল্টা প্লাস ভ্যারিয়েন্টের নাম বি.১.৬১৭.২.১। এখন পর্যন্ত ভ্যারিয়েন্টটির বিস্তারিত অনেক কিছুই জানা যায়নি। কিন্তু যে উল্লেখযোগ্য তথ্য পাওয়া গেছে তা হলো, এই নতুন স্ট্রেইনটি মনোকলোনাল অ্যান্টিবডি ককটেল প্রতিরোধী। এদিকে, ভারতে প্রথম শনাক্ত হওয়া উচ্চ সংক্রমণশীল ডেল্টা প্লাস ভ্যারিয়েন্টের সংক্রমণ ঠেকানোর জন্য পদক্ষেপ নিলেও ইতোমধ্যে তা অন্তত ৯টি দেশে ছড়িয়ে পড়েছে। এসব দেশের মধ্যে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, পর্তুগাল, সুইজারল্যান্ড, জাপান, পোল্যান্ড, নেপাল, চীন ও রাশিয়া ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের এ তথ্য জানান।

ভারতীয় কর্মকর্তারা বলছেন, ডেল্টা প্লাস ভ্যারিয়েন্টের সংক্রমণ ক্ষমতা ও ভয়াবহতা সম্পর্কে এখনও জানা যায়নি। দেশটির নীতি আয়োগ সদস্য ভিকে পাল বলেন, ভ্যারিয়েন্ট অব ইন্টারেস্ট ডেল্টা প্লাসকে এখনও ভ্যারিয়েন্ট অব কনসার্ন হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়নি। সংক্রমণের ভয়াবহতা ও তীব্র ছোঁয়াচে ক্ষমতার কারণে মানবজাতির জন্য ভয়াবহ হতে পারে এমন ধরনকে ভ্যারিয়েন্ট অব কনসার্নের আওতাভুক্ত করা হয়। বিশেষজ্ঞদের বরাতে ডেল্টা প্লাস ভ্যারিয়েন্ট নিয়ে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, এই প্রজাতির সংক্রমণে করোনার চেনা উপসর্গ দেখা যাচ্ছে না মানব শরীরে। সংক্রমণের উপসর্গ জানতে না পারায় উদ্বিগ্ন ভারতের চিকিৎসকরা।