শেবাচিমের হৃদরোগ ইউনিটে ডাক্তার-নার্সসহ নানা সংকট বেহাল স্বাস্থ্যসেবা

সমগ্র দক্ষিণাঞ্চলের হৃদরোগ চিকিৎসার একমাত্র ভরসাস্থল বরিশাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ‘কার্ডিয়াক কেয়ার ইউনিট’ (সিসিইউ) ও ‘ইন্টেনসিভ কার্ডিয়াক কেয়ার ইউনিট’ (আইসিইউ) দীর্ঘদিন ধরেই অচলাচস্থা চলছে। পূর্ণ দায়িত্বপ্রাপ্ত বিভাগীয় প্রধানের সঙ্গে চিকিৎসা সহায়ক সামগ্রীর অভাবে ইতোমধ্যে মুখ থুবড়ে পড়েছে এই হাসপাতালটির সিসিইউ এবং আইসিসিইউ বিভাগ।

বরিশাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ২০ শয্যার কার্ডিয়াক কেয়ার ইউনিটে প্রতিনিয়ত ৫০Ñ৬০ জন রোগী চিকিৎসাধীন থাকলেও এখানে নূন্যতম কোন চিকিৎসা সহায়ক সরঞ্জাম নেই। আইসিসি ইউনিটটিতে অনুমোদিত বেড সংখ্যা ১০টিও কম হলেও সেখানেও প্রতিনিয়ত ২০-২৫ জন রোগী চিকিৎসাধীন থাকছে। এক হাজার শয্যার বিশাল এই হাসপাতাল ভবনের তৃতীয় তলায় ২০০২ সালে মেডিসিন ওয়ার্ডের সঙ্গে ২০ শয্যার কার্ডিয়াক কেয়ার ইউনিট চালু করা হয়। পরবর্তীতে হাসপাতাল ভবনের পূর্ব পাশে ২০০৫ থেকে ২০০৮ সালে ভিন্ন কার্ডিয়াক কেয়ার ইউনিট ও ইন্টেনসিভ কেয়ার ইউনিট ভবন নির্মাণ করা হলেও চালু হয় ২০১২ সালের দিকে। কিন্তু সেখানে অদ্যাবধি প্রয়োজনীয় চিকিৎসক ও নার্সসহ অন্যান্য পদসমূহ সৃষ্টি হয়নি।

একজন রেজিস্ট্রার ও ৩ জন মেডিকেল অফিসার দিয়ে বিপুল সংখ্যক রোগীর সার্বক্ষণিক চিকিৎসা দেয়া দুরূহ বলে জানিয়েছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক চিকিৎসকগণ। এরপরেও স্থানীয়ভাবে জোড়াতালি দিয়ে ইউনিটটি চালু রাখা হলেও সেখানে এখন সুষ্ঠু চিকিৎসা পাওয়া তো দূরের কথা সুস্থ মানুষও অসুস্থ হয়ে পড়েন বলে অভিযোগ রয়েছে। অর্ধশতাব্দিকাল আগে প্রতিষ্ঠিত এই হাসপাতালে ইসিজি মেশিনই হৃদরোগীদের একমাত্র ভরসা। ইউনিটটির একমাত্র এনজিওগ্রাম মেশিনটি বিকল হয়ে পড়ে আছে গত প্রায় ৭ মাস ধরে। সেখানে হৃদরোগীদের রিং বা পেসমেকার বসানো বা বাইপাস অপারেশন তো অকল্পনীয়।

দুটি ইউনিটের ৮টি এয়ারকুলারই বিকল আরও প্রায় বছর খানেক আগ থেকে।

এ ব্যাপারে চিকিৎসকগণ মুখে কিছু না বললেও মূলত চিকিৎসা সামগ্রীর অভাব এবং যথেষ্ট সংখ্যক অভিজ্ঞ চিকিৎসকের অভাব ও যে দুএকজন চিকিৎসক আছেন তারা প্রাইভেট প্রাকটিস নিয়ে ব্যস্ত থাকায় সাধারণ রোগীদেও এখানে রেখে অবস্থাপন্ন ও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের প্রাথমিক ঝুঁকি সামাল দিয়েই ঢাকায় পাঠান হয় বলে জানিয়েছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক চিকিৎসক। বিষয়টি নিয়ে শের এ বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. এইচ এম সাইফুল ইসলামের সঙ্গে আলাপ করা হলে তিনি হৃদরোগ ইউনিটের বিভিন্ন সমস্যার কথা স্বীকার করে বলেন, এসব সমস্যা সমাধানে চেষ্টা করা হচ্ছে। বিষয়গুলো স্বাস্থ্য অধিদপ্তরসহ বিভিন্ন পর্যায়ে অবহিত করার কথাও জানান তিনি। এনজিওগ্রাম মেশিন বিকল প্রশ্নেও তিনি বিষয়টি উর্ধতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করার কথা জানিয়ে যতদ্রুত সম্ভব তা মেরামতে চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও জানান। হৃদরোগ ইউনিটের এয়ারকুলারগুলো সাময়িক মেরামতের কথা জানিয়ে যত দ্রুত সম্ভব এর স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে গণপূর্ত বিভাগের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রক্ষা করা হচ্ছে বলেও জানান পরিচালক। এ ব্যাপারে বরিশাল গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলীর সাথে আলাপ করা হলে তিনি জানান, ওই ইউনিট দুটির বাতানুকল যন্ত্রসমূহ মেরমতের দায়িত্ব এই মুহূর্তে তাদের নয়। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাদের নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় সম্প্রতি তা মেরামত করেছে বলে তাকে অবহিত করেছে। এরপরেও কোন সমস্যার কথা জানালে তারা সে ব্যাপারে সম্ভব সবকিছু করবেন বলেও জানান।

মঙ্গলবার, ২৯ জুন ২০২১ , ১৫ আষাঢ় ১৪২৮ ১৭ জিলক্বদ ১৪৪২

শেবাচিমের হৃদরোগ ইউনিটে ডাক্তার-নার্সসহ নানা সংকট বেহাল স্বাস্থ্যসেবা

নিজস্ব বার্তা পরিবেশক, বরিশাল

সমগ্র দক্ষিণাঞ্চলের হৃদরোগ চিকিৎসার একমাত্র ভরসাস্থল বরিশাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ‘কার্ডিয়াক কেয়ার ইউনিট’ (সিসিইউ) ও ‘ইন্টেনসিভ কার্ডিয়াক কেয়ার ইউনিট’ (আইসিইউ) দীর্ঘদিন ধরেই অচলাচস্থা চলছে। পূর্ণ দায়িত্বপ্রাপ্ত বিভাগীয় প্রধানের সঙ্গে চিকিৎসা সহায়ক সামগ্রীর অভাবে ইতোমধ্যে মুখ থুবড়ে পড়েছে এই হাসপাতালটির সিসিইউ এবং আইসিসিইউ বিভাগ।

বরিশাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ২০ শয্যার কার্ডিয়াক কেয়ার ইউনিটে প্রতিনিয়ত ৫০Ñ৬০ জন রোগী চিকিৎসাধীন থাকলেও এখানে নূন্যতম কোন চিকিৎসা সহায়ক সরঞ্জাম নেই। আইসিসি ইউনিটটিতে অনুমোদিত বেড সংখ্যা ১০টিও কম হলেও সেখানেও প্রতিনিয়ত ২০-২৫ জন রোগী চিকিৎসাধীন থাকছে। এক হাজার শয্যার বিশাল এই হাসপাতাল ভবনের তৃতীয় তলায় ২০০২ সালে মেডিসিন ওয়ার্ডের সঙ্গে ২০ শয্যার কার্ডিয়াক কেয়ার ইউনিট চালু করা হয়। পরবর্তীতে হাসপাতাল ভবনের পূর্ব পাশে ২০০৫ থেকে ২০০৮ সালে ভিন্ন কার্ডিয়াক কেয়ার ইউনিট ও ইন্টেনসিভ কেয়ার ইউনিট ভবন নির্মাণ করা হলেও চালু হয় ২০১২ সালের দিকে। কিন্তু সেখানে অদ্যাবধি প্রয়োজনীয় চিকিৎসক ও নার্সসহ অন্যান্য পদসমূহ সৃষ্টি হয়নি।

একজন রেজিস্ট্রার ও ৩ জন মেডিকেল অফিসার দিয়ে বিপুল সংখ্যক রোগীর সার্বক্ষণিক চিকিৎসা দেয়া দুরূহ বলে জানিয়েছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক চিকিৎসকগণ। এরপরেও স্থানীয়ভাবে জোড়াতালি দিয়ে ইউনিটটি চালু রাখা হলেও সেখানে এখন সুষ্ঠু চিকিৎসা পাওয়া তো দূরের কথা সুস্থ মানুষও অসুস্থ হয়ে পড়েন বলে অভিযোগ রয়েছে। অর্ধশতাব্দিকাল আগে প্রতিষ্ঠিত এই হাসপাতালে ইসিজি মেশিনই হৃদরোগীদের একমাত্র ভরসা। ইউনিটটির একমাত্র এনজিওগ্রাম মেশিনটি বিকল হয়ে পড়ে আছে গত প্রায় ৭ মাস ধরে। সেখানে হৃদরোগীদের রিং বা পেসমেকার বসানো বা বাইপাস অপারেশন তো অকল্পনীয়।

দুটি ইউনিটের ৮টি এয়ারকুলারই বিকল আরও প্রায় বছর খানেক আগ থেকে।

এ ব্যাপারে চিকিৎসকগণ মুখে কিছু না বললেও মূলত চিকিৎসা সামগ্রীর অভাব এবং যথেষ্ট সংখ্যক অভিজ্ঞ চিকিৎসকের অভাব ও যে দুএকজন চিকিৎসক আছেন তারা প্রাইভেট প্রাকটিস নিয়ে ব্যস্ত থাকায় সাধারণ রোগীদেও এখানে রেখে অবস্থাপন্ন ও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের প্রাথমিক ঝুঁকি সামাল দিয়েই ঢাকায় পাঠান হয় বলে জানিয়েছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক চিকিৎসক। বিষয়টি নিয়ে শের এ বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. এইচ এম সাইফুল ইসলামের সঙ্গে আলাপ করা হলে তিনি হৃদরোগ ইউনিটের বিভিন্ন সমস্যার কথা স্বীকার করে বলেন, এসব সমস্যা সমাধানে চেষ্টা করা হচ্ছে। বিষয়গুলো স্বাস্থ্য অধিদপ্তরসহ বিভিন্ন পর্যায়ে অবহিত করার কথাও জানান তিনি। এনজিওগ্রাম মেশিন বিকল প্রশ্নেও তিনি বিষয়টি উর্ধতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করার কথা জানিয়ে যতদ্রুত সম্ভব তা মেরামতে চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও জানান। হৃদরোগ ইউনিটের এয়ারকুলারগুলো সাময়িক মেরামতের কথা জানিয়ে যত দ্রুত সম্ভব এর স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে গণপূর্ত বিভাগের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রক্ষা করা হচ্ছে বলেও জানান পরিচালক। এ ব্যাপারে বরিশাল গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলীর সাথে আলাপ করা হলে তিনি জানান, ওই ইউনিট দুটির বাতানুকল যন্ত্রসমূহ মেরমতের দায়িত্ব এই মুহূর্তে তাদের নয়। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাদের নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় সম্প্রতি তা মেরামত করেছে বলে তাকে অবহিত করেছে। এরপরেও কোন সমস্যার কথা জানালে তারা সে ব্যাপারে সম্ভব সবকিছু করবেন বলেও জানান।