বন্ধ হয়নি লোক চলাচল, ঢাকা ছেড়ে বের হচ্ছে ও ঢুকছে মানুষ

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে লকডাউনের কারণে সারাদেশের গণপরিবহন বন্ধ হলেও বন্ধ হয়নি মানুষের চলাচল। গতকালও ফেরিঘাটসহ ঢাকার বিভিন্ন প্রবেশ ও বের পথে ছিল মানুষের ঢল। স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষা করে গাদাগাদি করে বিভিন্ন পরিবহন ঢাকা ছাড়তে দেখা গেছে তাদের।

বিশেষ করে কয়েকগুণ বেশি ভাড়ায় মাইক্রোবাস, প্রাইভেটকার, সিএনজি অটোরিকশা ও মোটরসাইকেলে ভেঙে ভেঙে ঢাকা থেকে বিভিন্ন গন্তব্যে যেতে দেখা গেছে গ্রামমুখী মানুষদের। অনেকেই আবার বিভিন্ন জেলা থেকে ঢাকা প্রবেশ করেছেন। ভেঙে ভেঙে আসার কারণে যাত্রাপথে নানা দুর্ভোগ ও ভোগান্তি শিকার হতে হয়েছে বলে যাত্রীরা জানান।

রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর চৌরাস্তার মোড়ে আবির নামের এক যাত্রী বলেন, ‘কুমিল্লার যাওয়ার জন্য একটি মাইক্রোবাস ঠিক করেছি। জনপ্রতি ৫০০ টাকা ভাড়া দিতে হবে। তবে যাত্রাবাড়ী থেকে যাত্রী উঠানো হবে না। যেতে হবে কাঁচপুর ব্রিজে। তাই কাঁচপুর পিকআপ ভ্যানে কাঁচপুর যাব। সেজন্য অপেক্ষা করছি।’

যাত্রাবাড়ী মোড়ে এভাবে অনেক যাত্রীদের অপেক্ষা করতে দেখা গেছে। কেউ কেউ সিএনজি বা মোটরসাইকেলে মাওয়াঘাট ও কাঁচপুরে ব্রিজে যেতে দেখা গেছে। সিলেটের নয়ন নামের এক যাত্রী সংবাদকে বলেন, ‘লকডাউনের কারণে মাদ্রাসা বন্ধ হয়ে গেছে। তাই গ্রামের বাড়ি সিলেটে যাচ্ছি। কিন্তু বাস নেই। তাই মাইক্রোবাসের ভাড়া করে ১০ জন একসঙ্গে যাব। ভাড়া নেয়া হবে ১০০০ হাজার টাকা।’

বন্ধ হয়নি ফেরিঘাটে মানুষের স্রোত

মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি জানায়, লকডাউনের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে রাজধানীর কর্মস্থল ছেড়ে দেশের দক্ষিণবঙ্গগামী ২১ জেলার মানুষের যাওয়ার ঢল নেমেছে মুন্সীগঞ্জের শিমুলিয়া ঘাটে। গতকাল সকাল থেকে ঘাট এলাকায় হাজার হাজার যাত্রীর ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। যাত্রীর চাপে শিমুলিয়া থেকে বাংলাবাজারমুখী ফেরিগুলোতে পণ্যবাহী ও জরুরি যানবাহন পারাপারে বেগ পেতে হচ্ছে। পারাপারের অপেক্ষায় শিমুলিয়া ঘাট এলাকায় আটকা পড়েছে কয়েকশ’ গাড়ি। কোন আইন-কানুনই আটকাতে পারছে শিমুলিয়ার জনস্রোত। প্রশাসনের সব কৌশল টপকিয়ে যাত্রীদের উপড়েপড়া ভিড়।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, পুলিশের বসানো চেকপোস্ট উপেক্ষা করে বিভিন্ন পথে ছোট যানবাহনে যাত্রীরা ঘাট এলাকায় উপস্থিত হচ্ছেন। ঘাটে পণ্যবাহী ও ব্যক্তিগত গাড়ির দীর্ঘ সারি। শিমুলিয়া থেকে বাংলাবাজারগামী প্রতিটি ফেরিতে যাত্রীদের উপচেপড়া ভিড়। মানা হচ্ছে না স্বাস্থ্যবিধি ও সামাজিক দূরত্ব। অনেকের মুখে মাস্ক দেখা যায়নি। বিগত সময়েও লকডাউনের ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে মাওয়া শিমুলিয়া ঘাটে যাত্রীর ঢলের চিরচেনা একই দৃশ্য এখন আবার শুরু হয়েছে।

এ বিষয়ে অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশনের (বিআইডব্লিউটিসি) শিমুলিয়া ঘাটের ব্যবস্থাপক (বাণিজ্য) সাফায়েত আহমেদ বলেন, ‘নৌরুটে বর্তমানে ১৫টি ফেরি সচল রয়েছে। সকাল থেকে যাত্রীদের কিছুটা ভিড় রয়েছে। লকডাউনের আওতামুক্ত গাড়ি পারাপারের কথা থাকলেও যাত্রীরা ঘাটে আসছে। যাত্রী নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব আমাদের নয়। ঘাট এলাকায় সাড়ে চার শতাধিক গাড়ি পারাপারের অপেক্ষায় আটকা পড়েছে।’

মাওয়া ট্রাফিক পুলিশের ইনচার্জ জাকির হোসেন বলেন, ‘লকডাউনের কথা শুনে ঘাটে মানুষের খুব চাপ বেড়েছে। একইসঙ্গে গাড়ির চাপেও আছে। যাত্রীদের ও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের জন্য যথাসম্ভব চেষ্টা করা হচ্ছে।’

প্রতিনিধি, শিবচর (মাদারীপুর) : সোমবার সকাল থেকে শিমুলীয়া-বাংলাবাজার নৌরুটে ছিল দক্ষিণাঞ্চলমুখী যাত্রীদের চাপ। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে চাপ কিছুটা কমে আসে। কঠোর লকডাউন বাস্তবায়নে মহাসড়ক ও অভ্যন্তরীণ সড়কগুলোতে বেরিকেড দিয়ে প্রশাসনের কঠোর তৎপরতার কারণে ফেরিতে যাত্রী ও যানবাহনের চাপ গত কয়েকদিনের চেয়ে গতকাল কিছুটা কম ছিল।

দূরপাল্লার বাস সব ধরনের গণপরিবহন বন্ধ থাকলেও মোটরসাইকেল, থ্রি হুইলার, ইজিবাইকসহ বিভিন্ন হালকা যানবাহনে ৩-৪ গুণ ভাড়া দিয়ে গন্তব্যে যেতে দেখা গেয়ে যাত্রীদের। ফেরিতে গাদাগাদি করে পদ্মা পার হয়েছেন যাত্রীরা। বাংলাবাজার ঘাটে এসেও যাত্রীরা আবারও ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে বলে যাত্রীরা জানান।

দূরপাল্লার বাস বন্ধ থাকায় বাংলাবাজার ঘাট থেকে ইজিবাইক, সিএনজি, মোটরসাইকেলে বরিশালে ৫শ’ থেকে ৬শ’ টাকা, গোপালগঞ্জ ৫শ’ টাকা, খুলনা ৭শ’ টাকা, মাদারীপুর ২শ’ টাকা, বাগেরহাট ৬৫০ টাকাসহ প্রতিটি যানবাহনেই কয়েকগুণ ভাড়া আদায় করা হয় যাত্রীদের কাছ থেকে। এদিনও ঘাট এলাকা বা ফেরিতে স্বাস্থ্যবিধি মানার কোন লক্ষণই দেখা যায়নি। এ রুটে এদিন ১৫টি ফেরি দিয়ে যাত্রী ও যানবাহন পারাপার করা হচ্ছে।

বিআইডব্লিউটিসি কাঁঠালবাড়ি ঘাট ম্যানেজার মো. সালাউদ্দিন বলেন, আমাদের সব ফেরি চালু রয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী আমরা জরুরি ও পণ্যবাহী গাড়ি পারাপার করছি। যাত্রীদের সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে, মাস্ক পরিধান করে ফেরিতে পারাপার হতে অনুরোধ করা হচ্ছে।

মঙ্গলবার, ২৯ জুন ২০২১ , ১৫ আষাঢ় ১৪২৮ ১৭ জিলক্বদ ১৪৪২

বন্ধ হয়নি লোক চলাচল, ঢাকা ছেড়ে বের হচ্ছে ও ঢুকছে মানুষ

নিজস্ব বার্তা পরিবেশক

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে লকডাউনের কারণে সারাদেশের গণপরিবহন বন্ধ হলেও বন্ধ হয়নি মানুষের চলাচল। গতকালও ফেরিঘাটসহ ঢাকার বিভিন্ন প্রবেশ ও বের পথে ছিল মানুষের ঢল। স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষা করে গাদাগাদি করে বিভিন্ন পরিবহন ঢাকা ছাড়তে দেখা গেছে তাদের।

বিশেষ করে কয়েকগুণ বেশি ভাড়ায় মাইক্রোবাস, প্রাইভেটকার, সিএনজি অটোরিকশা ও মোটরসাইকেলে ভেঙে ভেঙে ঢাকা থেকে বিভিন্ন গন্তব্যে যেতে দেখা গেছে গ্রামমুখী মানুষদের। অনেকেই আবার বিভিন্ন জেলা থেকে ঢাকা প্রবেশ করেছেন। ভেঙে ভেঙে আসার কারণে যাত্রাপথে নানা দুর্ভোগ ও ভোগান্তি শিকার হতে হয়েছে বলে যাত্রীরা জানান।

রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর চৌরাস্তার মোড়ে আবির নামের এক যাত্রী বলেন, ‘কুমিল্লার যাওয়ার জন্য একটি মাইক্রোবাস ঠিক করেছি। জনপ্রতি ৫০০ টাকা ভাড়া দিতে হবে। তবে যাত্রাবাড়ী থেকে যাত্রী উঠানো হবে না। যেতে হবে কাঁচপুর ব্রিজে। তাই কাঁচপুর পিকআপ ভ্যানে কাঁচপুর যাব। সেজন্য অপেক্ষা করছি।’

যাত্রাবাড়ী মোড়ে এভাবে অনেক যাত্রীদের অপেক্ষা করতে দেখা গেছে। কেউ কেউ সিএনজি বা মোটরসাইকেলে মাওয়াঘাট ও কাঁচপুরে ব্রিজে যেতে দেখা গেছে। সিলেটের নয়ন নামের এক যাত্রী সংবাদকে বলেন, ‘লকডাউনের কারণে মাদ্রাসা বন্ধ হয়ে গেছে। তাই গ্রামের বাড়ি সিলেটে যাচ্ছি। কিন্তু বাস নেই। তাই মাইক্রোবাসের ভাড়া করে ১০ জন একসঙ্গে যাব। ভাড়া নেয়া হবে ১০০০ হাজার টাকা।’

বন্ধ হয়নি ফেরিঘাটে মানুষের স্রোত

মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি জানায়, লকডাউনের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে রাজধানীর কর্মস্থল ছেড়ে দেশের দক্ষিণবঙ্গগামী ২১ জেলার মানুষের যাওয়ার ঢল নেমেছে মুন্সীগঞ্জের শিমুলিয়া ঘাটে। গতকাল সকাল থেকে ঘাট এলাকায় হাজার হাজার যাত্রীর ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। যাত্রীর চাপে শিমুলিয়া থেকে বাংলাবাজারমুখী ফেরিগুলোতে পণ্যবাহী ও জরুরি যানবাহন পারাপারে বেগ পেতে হচ্ছে। পারাপারের অপেক্ষায় শিমুলিয়া ঘাট এলাকায় আটকা পড়েছে কয়েকশ’ গাড়ি। কোন আইন-কানুনই আটকাতে পারছে শিমুলিয়ার জনস্রোত। প্রশাসনের সব কৌশল টপকিয়ে যাত্রীদের উপড়েপড়া ভিড়।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, পুলিশের বসানো চেকপোস্ট উপেক্ষা করে বিভিন্ন পথে ছোট যানবাহনে যাত্রীরা ঘাট এলাকায় উপস্থিত হচ্ছেন। ঘাটে পণ্যবাহী ও ব্যক্তিগত গাড়ির দীর্ঘ সারি। শিমুলিয়া থেকে বাংলাবাজারগামী প্রতিটি ফেরিতে যাত্রীদের উপচেপড়া ভিড়। মানা হচ্ছে না স্বাস্থ্যবিধি ও সামাজিক দূরত্ব। অনেকের মুখে মাস্ক দেখা যায়নি। বিগত সময়েও লকডাউনের ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে মাওয়া শিমুলিয়া ঘাটে যাত্রীর ঢলের চিরচেনা একই দৃশ্য এখন আবার শুরু হয়েছে।

এ বিষয়ে অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশনের (বিআইডব্লিউটিসি) শিমুলিয়া ঘাটের ব্যবস্থাপক (বাণিজ্য) সাফায়েত আহমেদ বলেন, ‘নৌরুটে বর্তমানে ১৫টি ফেরি সচল রয়েছে। সকাল থেকে যাত্রীদের কিছুটা ভিড় রয়েছে। লকডাউনের আওতামুক্ত গাড়ি পারাপারের কথা থাকলেও যাত্রীরা ঘাটে আসছে। যাত্রী নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব আমাদের নয়। ঘাট এলাকায় সাড়ে চার শতাধিক গাড়ি পারাপারের অপেক্ষায় আটকা পড়েছে।’

মাওয়া ট্রাফিক পুলিশের ইনচার্জ জাকির হোসেন বলেন, ‘লকডাউনের কথা শুনে ঘাটে মানুষের খুব চাপ বেড়েছে। একইসঙ্গে গাড়ির চাপেও আছে। যাত্রীদের ও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের জন্য যথাসম্ভব চেষ্টা করা হচ্ছে।’

প্রতিনিধি, শিবচর (মাদারীপুর) : সোমবার সকাল থেকে শিমুলীয়া-বাংলাবাজার নৌরুটে ছিল দক্ষিণাঞ্চলমুখী যাত্রীদের চাপ। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে চাপ কিছুটা কমে আসে। কঠোর লকডাউন বাস্তবায়নে মহাসড়ক ও অভ্যন্তরীণ সড়কগুলোতে বেরিকেড দিয়ে প্রশাসনের কঠোর তৎপরতার কারণে ফেরিতে যাত্রী ও যানবাহনের চাপ গত কয়েকদিনের চেয়ে গতকাল কিছুটা কম ছিল।

দূরপাল্লার বাস সব ধরনের গণপরিবহন বন্ধ থাকলেও মোটরসাইকেল, থ্রি হুইলার, ইজিবাইকসহ বিভিন্ন হালকা যানবাহনে ৩-৪ গুণ ভাড়া দিয়ে গন্তব্যে যেতে দেখা গেয়ে যাত্রীদের। ফেরিতে গাদাগাদি করে পদ্মা পার হয়েছেন যাত্রীরা। বাংলাবাজার ঘাটে এসেও যাত্রীরা আবারও ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে বলে যাত্রীরা জানান।

দূরপাল্লার বাস বন্ধ থাকায় বাংলাবাজার ঘাট থেকে ইজিবাইক, সিএনজি, মোটরসাইকেলে বরিশালে ৫শ’ থেকে ৬শ’ টাকা, গোপালগঞ্জ ৫শ’ টাকা, খুলনা ৭শ’ টাকা, মাদারীপুর ২শ’ টাকা, বাগেরহাট ৬৫০ টাকাসহ প্রতিটি যানবাহনেই কয়েকগুণ ভাড়া আদায় করা হয় যাত্রীদের কাছ থেকে। এদিনও ঘাট এলাকা বা ফেরিতে স্বাস্থ্যবিধি মানার কোন লক্ষণই দেখা যায়নি। এ রুটে এদিন ১৫টি ফেরি দিয়ে যাত্রী ও যানবাহন পারাপার করা হচ্ছে।

বিআইডব্লিউটিসি কাঁঠালবাড়ি ঘাট ম্যানেজার মো. সালাউদ্দিন বলেন, আমাদের সব ফেরি চালু রয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী আমরা জরুরি ও পণ্যবাহী গাড়ি পারাপার করছি। যাত্রীদের সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে, মাস্ক পরিধান করে ফেরিতে পারাপার হতে অনুরোধ করা হচ্ছে।