বিভিন্ন সমস্যায়ও আমে লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত

এখনও রাজশাহীর বাগানে ১৫ শতাংশ আম গাছে

করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় রাজশাহীতে টানা বিশেষ লকডাউন ও বিধিনিষেধের কারণে আমের বাজারজাতকারণ নিয়ে দুশ্চিতায় ছিল সংশ্লিষ্টরা। তবে লকডাউন ও বিধিনিষেধে আমের বাজার ছিল আওতামুক্ত। এজন্য আম বাজারজাতকরণে তেমন সমস্যা হয়নি। এত কিছু সমস্যার পরও কৃষি অধিদপ্তর যে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছিল, সেটা এবারও অর্জিত হয়েছে। এখনও রাজশাহীর বাগানে ১৫ শতাংশ আম গাছে ঝুলছে।

রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, রাজশাহীর বাগানগুলোতে মোট আমের ৮৫ শতাংশ গাছ থেকে পাড়া হয়ে গেছে। বাকি আছে মাত্র ১৫ শতাংশ। মূলত ফজলি, আশ্বিনা, আম্রপালি ও বারি-৪ জাতের আম এখন গাছে আছে। শেষ হয়েছে ল্যাংড়া, খিরসাপাতসহ অন্য জাতের আম। বর্তমানে ফজলি ও আম্রপালির ৫০ শতাংশ আম এখনও গাছে আছে। এছাড়া বারি-৪ এবং আশ্বিনার মাত্র ১ শতাংশ পাড়া হয়েছে।

রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক জেকেএম আবদুল আওয়াল জানান, রাজশাহীতে এবার আমে যে উৎপাদন ও বিক্রয় লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল তা প্রায় পূরণ হয়ে গেছে। এখনও কিছু আম আছে। কৃষি বিভাগ সব সময় লক্ষ্যমাত্রা কিছুটা কম করে নির্ধারণ করে। এতে লক্ষ্যমাত্রার পূরণ হয়ে বাড়তি থাকে। এবারও তার ব্যতিক্রম নয়।

রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক জেকেএম আবদুল আওয়াল আরও জানান, রাজশাহীতে আমের মোট লক্ষ্যমাত্রা ১৭ হাজার ৯৪৩ হেক্টর। এর প্রায় ৩৪ শতাংশ অর্থাৎ ৬ হাজার ৪৭০ হেক্টর লক্ষণভোগ। এই আমের দাম কম। এ কারণে রাজশাহীর বিক্রি লক্ষ্যমাত্রা ৬০০ থেকে ৮০০ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়ে থাকে। এবারও সেটা অর্জন হয়েছে।

তিনি আরও জানান, এখন গাছে আশ্বিনা আম আছে। রাজশাহীর অনেক আশি^না চাষিরা আমের যত্ম নেয় না। আশ্বিনা আমের প্রধান শত্রু হলো মাছি পোকা। এটা রোধ করতে আমের ব্যাগিং করতে হয়। চাঁপাইনবাবগঞ্জের প্রতিটি গাছে গাছে এখন ব্যাগিং করা হচ্ছে। যেখানে রাজশাহীর চাষিরা অনেকে উদাসীন।

জানা গেছে, বাজারে নিরাপদ ও পরিপক্ব আম নিশ্চিত করতে এবারও গাছ থেকে নামানোর সময় বেঁধে দিয়েছিল প্রশাসন। সেই অনুযায়ী ১৫ জুন থেকে ফজলি ও আম্রপালি আম গাছ থেকে নামানো শুরু হয়। অন্যদিকে গত ঈদের পর থেকে রাজশাহীতে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ বাড়তে থাকে। এ অবস্থায় গত ১১ জুন রাজশাহী সিটি করপোরেশন এলাকায় এক সপ্তাহের লকডাউন ঘোষণা করে প্রশাসন। পরে সেটি দুই দফা বাড়িয়ে ৩০ জুন পর্যন্ত করা হয়। এরপর ১ জুলাই থেকে নতুন করে সরকারি ঘোষিত দুই সপ্তাহের কঠোর লকডাউন শুরু হয়। কৃষিপণ্য হিসেবে আম বাজারজাতকরণে লকডাউনে আওতামুক্ত থাকলেও ক্রেতার অভাবে ফজলি ও আম্রপালি জাতের আম নিয়ে বিপাকে পড়েন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা।

নগরীর শালবাগান এলাকার ফল ব্যবসায়ী মোশাররফ হোসেন জানান, স্থানীয় পর্যায়ে যে লকডাউন দিয়েছিল, সেই সময় অন্য জাতের আমগুলো বিক্রি করতে পেরেছি। কিন্তু সারাদেশে যে লকডাউন দিল, তখন রাজশাহীতে ফজলি আম ভালোভাবে বাজারে উঠলো। আর বিক্রি হয় না। ঢাকা থেকে যেসব ব্যক্তিরা অর্ডার দিত। তারাও নেয়া বন্ধ করে দিল। তাদের ভাষ্য, এই আম আপনি রাজশাহী থেকে পাঠাবেন। আর সেই আম ঢাকায় যেখানে পাঠাবেন, সেখান থেকে নিতে গিয়ে অনেক নাজেহাল হতে হবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে। তাই নিচ্ছি না। আবার আমাদের শাল বাগান বাজারে যে ২০টা ফলের দোকান রয়েছে। সেখানে আম আছে। কিন্তু ক্রেতা নেই। এতে করে এই ফজলি আমে ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকা ক্ষতি হয়ে গেছে। গতবার ফজলিতে ভালো দাম পেয়েছিলাম। কিন্তু এবার ফজলি আমে ধরা খেলাম। সামনে দেখা যাক বাকি আমগুলো ভালোভাবে বাজারজাত করতে পারি কিনা?

মঙ্গলবার নগরীর শালবাগানে একেবাবে পরিষ্কার ফজলি আম বিক্রি হচ্ছে ১৪০০ টাকা মণ। আর একটু দাগ লাগা ৮০০ থেকে ৯০০ টাকা মণ বিক্রি হচ্ছে। আম্রপালি ২০০০ থেকে ২২০০ টাকা বিক্রি হচ্ছে।

রাজশাহী নগরীর সাহেব বাজারের খুচরা আম ব্যবসায়ী মো. সুমন বলেন, কাঁচা ফজলির কেজি ৩০ আর পাকাটা ২০-২৫ টাকা বিক্রি করছি।

রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক জেকেএম আবদুল আওয়াল জানান, সারাদেশের কঠোর লকডাউনে কৃষি পণ্য পরিবহনে কোন সমস্যা হচ্ছে না। সরকার এ বিষয়ে আন্তরিক। এখন পর্যন্ত কৃষিপণ্য বা আম পরিবহনে সমস্যা হয়েছে। এমন কোন অভিযোগ তারা পাননি। সুতরাং এটা বলার কোন সুযোগ নেই যে, লকডাউনের কারণে আম পরিবহনে সমস্যা হয়েছে। তবে ভোক্তা পর্যায়ে লকডাউনের কারণে ক্রেতা কমেছে এটা সত্য।

image
আরও খবর

বৃহস্পতিবার, ১৫ জুলাই ২০২১ , ৩১ আষাঢ় ১৪২৮ ৪ জিলহজ ১৪৪২

বিভিন্ন সমস্যায়ও আমে লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত

এখনও রাজশাহীর বাগানে ১৫ শতাংশ আম গাছে

image

করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় রাজশাহীতে টানা বিশেষ লকডাউন ও বিধিনিষেধের কারণে আমের বাজারজাতকারণ নিয়ে দুশ্চিতায় ছিল সংশ্লিষ্টরা। তবে লকডাউন ও বিধিনিষেধে আমের বাজার ছিল আওতামুক্ত। এজন্য আম বাজারজাতকরণে তেমন সমস্যা হয়নি। এত কিছু সমস্যার পরও কৃষি অধিদপ্তর যে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছিল, সেটা এবারও অর্জিত হয়েছে। এখনও রাজশাহীর বাগানে ১৫ শতাংশ আম গাছে ঝুলছে।

রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, রাজশাহীর বাগানগুলোতে মোট আমের ৮৫ শতাংশ গাছ থেকে পাড়া হয়ে গেছে। বাকি আছে মাত্র ১৫ শতাংশ। মূলত ফজলি, আশ্বিনা, আম্রপালি ও বারি-৪ জাতের আম এখন গাছে আছে। শেষ হয়েছে ল্যাংড়া, খিরসাপাতসহ অন্য জাতের আম। বর্তমানে ফজলি ও আম্রপালির ৫০ শতাংশ আম এখনও গাছে আছে। এছাড়া বারি-৪ এবং আশ্বিনার মাত্র ১ শতাংশ পাড়া হয়েছে।

রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক জেকেএম আবদুল আওয়াল জানান, রাজশাহীতে এবার আমে যে উৎপাদন ও বিক্রয় লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল তা প্রায় পূরণ হয়ে গেছে। এখনও কিছু আম আছে। কৃষি বিভাগ সব সময় লক্ষ্যমাত্রা কিছুটা কম করে নির্ধারণ করে। এতে লক্ষ্যমাত্রার পূরণ হয়ে বাড়তি থাকে। এবারও তার ব্যতিক্রম নয়।

রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক জেকেএম আবদুল আওয়াল আরও জানান, রাজশাহীতে আমের মোট লক্ষ্যমাত্রা ১৭ হাজার ৯৪৩ হেক্টর। এর প্রায় ৩৪ শতাংশ অর্থাৎ ৬ হাজার ৪৭০ হেক্টর লক্ষণভোগ। এই আমের দাম কম। এ কারণে রাজশাহীর বিক্রি লক্ষ্যমাত্রা ৬০০ থেকে ৮০০ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়ে থাকে। এবারও সেটা অর্জন হয়েছে।

তিনি আরও জানান, এখন গাছে আশ্বিনা আম আছে। রাজশাহীর অনেক আশি^না চাষিরা আমের যত্ম নেয় না। আশ্বিনা আমের প্রধান শত্রু হলো মাছি পোকা। এটা রোধ করতে আমের ব্যাগিং করতে হয়। চাঁপাইনবাবগঞ্জের প্রতিটি গাছে গাছে এখন ব্যাগিং করা হচ্ছে। যেখানে রাজশাহীর চাষিরা অনেকে উদাসীন।

জানা গেছে, বাজারে নিরাপদ ও পরিপক্ব আম নিশ্চিত করতে এবারও গাছ থেকে নামানোর সময় বেঁধে দিয়েছিল প্রশাসন। সেই অনুযায়ী ১৫ জুন থেকে ফজলি ও আম্রপালি আম গাছ থেকে নামানো শুরু হয়। অন্যদিকে গত ঈদের পর থেকে রাজশাহীতে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ বাড়তে থাকে। এ অবস্থায় গত ১১ জুন রাজশাহী সিটি করপোরেশন এলাকায় এক সপ্তাহের লকডাউন ঘোষণা করে প্রশাসন। পরে সেটি দুই দফা বাড়িয়ে ৩০ জুন পর্যন্ত করা হয়। এরপর ১ জুলাই থেকে নতুন করে সরকারি ঘোষিত দুই সপ্তাহের কঠোর লকডাউন শুরু হয়। কৃষিপণ্য হিসেবে আম বাজারজাতকরণে লকডাউনে আওতামুক্ত থাকলেও ক্রেতার অভাবে ফজলি ও আম্রপালি জাতের আম নিয়ে বিপাকে পড়েন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা।

নগরীর শালবাগান এলাকার ফল ব্যবসায়ী মোশাররফ হোসেন জানান, স্থানীয় পর্যায়ে যে লকডাউন দিয়েছিল, সেই সময় অন্য জাতের আমগুলো বিক্রি করতে পেরেছি। কিন্তু সারাদেশে যে লকডাউন দিল, তখন রাজশাহীতে ফজলি আম ভালোভাবে বাজারে উঠলো। আর বিক্রি হয় না। ঢাকা থেকে যেসব ব্যক্তিরা অর্ডার দিত। তারাও নেয়া বন্ধ করে দিল। তাদের ভাষ্য, এই আম আপনি রাজশাহী থেকে পাঠাবেন। আর সেই আম ঢাকায় যেখানে পাঠাবেন, সেখান থেকে নিতে গিয়ে অনেক নাজেহাল হতে হবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে। তাই নিচ্ছি না। আবার আমাদের শাল বাগান বাজারে যে ২০টা ফলের দোকান রয়েছে। সেখানে আম আছে। কিন্তু ক্রেতা নেই। এতে করে এই ফজলি আমে ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকা ক্ষতি হয়ে গেছে। গতবার ফজলিতে ভালো দাম পেয়েছিলাম। কিন্তু এবার ফজলি আমে ধরা খেলাম। সামনে দেখা যাক বাকি আমগুলো ভালোভাবে বাজারজাত করতে পারি কিনা?

মঙ্গলবার নগরীর শালবাগানে একেবাবে পরিষ্কার ফজলি আম বিক্রি হচ্ছে ১৪০০ টাকা মণ। আর একটু দাগ লাগা ৮০০ থেকে ৯০০ টাকা মণ বিক্রি হচ্ছে। আম্রপালি ২০০০ থেকে ২২০০ টাকা বিক্রি হচ্ছে।

রাজশাহী নগরীর সাহেব বাজারের খুচরা আম ব্যবসায়ী মো. সুমন বলেন, কাঁচা ফজলির কেজি ৩০ আর পাকাটা ২০-২৫ টাকা বিক্রি করছি।

রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক জেকেএম আবদুল আওয়াল জানান, সারাদেশের কঠোর লকডাউনে কৃষি পণ্য পরিবহনে কোন সমস্যা হচ্ছে না। সরকার এ বিষয়ে আন্তরিক। এখন পর্যন্ত কৃষিপণ্য বা আম পরিবহনে সমস্যা হয়েছে। এমন কোন অভিযোগ তারা পাননি। সুতরাং এটা বলার কোন সুযোগ নেই যে, লকডাউনের কারণে আম পরিবহনে সমস্যা হয়েছে। তবে ভোক্তা পর্যায়ে লকডাউনের কারণে ক্রেতা কমেছে এটা সত্য।