মানবপাচার রোধে ব্যবস্থা নিন

ইউরোপে মানবপাচারের সবচেয়ে বড় রুট এখন ভূমধ্যসাগর তীরের দেশ লিবিয়া। যুদ্ধবিধ্বস্ত এ দেশটি ইউরোপে মানবপাচারকারীদের স্বর্গরাজ্য হিসেবেই ব্যবহৃত হয়ে আসছে। এ রুটটিই মানবপাচারকারীদের মৃত্যু ফাঁদ হিসেবে সারাবিশ্বে ব্যাপক পরিচিত হয়ে উঠেছে। কিছুদিন পরপরই এ রুটে নৌকা ডুবে মৃত্যুর খবর দেশ-বিদেশের গণমাধ্যমে সংবাদ শিরোনাম হয়। তারপরও থামছে না এ বিপজ্জনক মৃত্যুর মিছিল ও মানবপাচারের জঘন্য খেলা। অনেকেই মরিয়া হয়ে ইউরোপ যাবার সোনালি স্বপ্ন দেখছে আর এ সুযোগটিই কাজে লাগাচ্ছে একদল সুযোগসন্ধানী মানবপাচারকারী।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তথ্যমতে, দেশজুড়ে থাকা পাচারকারী চক্রের সদস্যরা ইউরোপে যাওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে প্রথমে লোক সংগ্রহ করে। তারপর সেসব লোককে সড়ক-বিমানপথ মিলিয়ে তিনটি রুটে লিবিয়ায় পাঠায়। সর্বশেষ লিবিয়া থেকে নৌপথে তিউনিশিয়ার উপকূল হয়ে ইউরোপে পাঠায়। ৭ থকে ৮ লাখ টাকার বিনিময়ে পুরো প্রক্রিয়া শেষ করতে সময় লাগে দুই মাস থেকে এক বছর পর্যন্ত। ভিকটিমদের পাসপোর্ট তৈরি, ভিসা সংগ্রহ, টিকিট ক্রয় সবই এ সিন্ডিকেটের তত্ত্বাবধানে সম্পন্ন হয়।

মূলত বাংলাদেশের সিলেট, সুনামগঞ্জ, নোয়াখালী, মাদারীপুর, শরীয়তপুরসহ সুনির্দিষ্ট কিছু এলাকার লোকজন এভাবে ইউরোপে যায়। দীর্ঘদিন ধরে এই এলাকাগুলো ঘিরেই শক্তিশালী দালাল চক্র গড়ে উঠেছে। স্থানীয় দালাল চক্রের পাশাপাশি লিবিয়া বা অন্য দেশে আন্তর্জাতিক মানবপাচারকারী চক্রগুলো যোগসাজশ করে বাংলাদেশ থেকে লোভনীয় অফার দিয়ে ইউরোপ যাত্রায় শিক্ষিত যুবকদের লিবিয়া বা ভূমধ্যসাগর তীরের আশপাশের দেশে নিয়ে যায়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই তাদের সেখানে জিম্মি করে পরিবারের কাছ থেকে বড়মাপের মুক্তিপণ আদায় করে।

ব্র্যাকের মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের তথ্য মতে, বাংলাদেশ থেকে লিবিয়ায় কর্মী পাঠানো গত পাঁচ বছর ধরেই বন্ধ। তারপরেও কী করে এত লোক বাংলাদেশ থেকে লিবিয়া যাচ্ছে সেই ঘটনার তদন্ত করা উচিত। এ ব্যাপারে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়কে জোরালো ভূমিকা পালন করতে হবে।

মানব পাচারকারীরা দিনকে দিন বলগাহীন ঘোড়ার মতো বেপরোয়া হয়ে যাচ্ছে। এদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা খুবই জরুরি, অন্যথায় এরা মানুষের জীবন নিয়ে বিপজ্জনক খেলা খেলতেই থাকবে।

জিল্লুর রহমান

বুধবার, ০৬ অক্টোবর ২০২১ , ২১ আশ্বিন ১৪২৮ ২৭ সফর ১৪৪৩

মানবপাচার রোধে ব্যবস্থা নিন

ইউরোপে মানবপাচারের সবচেয়ে বড় রুট এখন ভূমধ্যসাগর তীরের দেশ লিবিয়া। যুদ্ধবিধ্বস্ত এ দেশটি ইউরোপে মানবপাচারকারীদের স্বর্গরাজ্য হিসেবেই ব্যবহৃত হয়ে আসছে। এ রুটটিই মানবপাচারকারীদের মৃত্যু ফাঁদ হিসেবে সারাবিশ্বে ব্যাপক পরিচিত হয়ে উঠেছে। কিছুদিন পরপরই এ রুটে নৌকা ডুবে মৃত্যুর খবর দেশ-বিদেশের গণমাধ্যমে সংবাদ শিরোনাম হয়। তারপরও থামছে না এ বিপজ্জনক মৃত্যুর মিছিল ও মানবপাচারের জঘন্য খেলা। অনেকেই মরিয়া হয়ে ইউরোপ যাবার সোনালি স্বপ্ন দেখছে আর এ সুযোগটিই কাজে লাগাচ্ছে একদল সুযোগসন্ধানী মানবপাচারকারী।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তথ্যমতে, দেশজুড়ে থাকা পাচারকারী চক্রের সদস্যরা ইউরোপে যাওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে প্রথমে লোক সংগ্রহ করে। তারপর সেসব লোককে সড়ক-বিমানপথ মিলিয়ে তিনটি রুটে লিবিয়ায় পাঠায়। সর্বশেষ লিবিয়া থেকে নৌপথে তিউনিশিয়ার উপকূল হয়ে ইউরোপে পাঠায়। ৭ থকে ৮ লাখ টাকার বিনিময়ে পুরো প্রক্রিয়া শেষ করতে সময় লাগে দুই মাস থেকে এক বছর পর্যন্ত। ভিকটিমদের পাসপোর্ট তৈরি, ভিসা সংগ্রহ, টিকিট ক্রয় সবই এ সিন্ডিকেটের তত্ত্বাবধানে সম্পন্ন হয়।

মূলত বাংলাদেশের সিলেট, সুনামগঞ্জ, নোয়াখালী, মাদারীপুর, শরীয়তপুরসহ সুনির্দিষ্ট কিছু এলাকার লোকজন এভাবে ইউরোপে যায়। দীর্ঘদিন ধরে এই এলাকাগুলো ঘিরেই শক্তিশালী দালাল চক্র গড়ে উঠেছে। স্থানীয় দালাল চক্রের পাশাপাশি লিবিয়া বা অন্য দেশে আন্তর্জাতিক মানবপাচারকারী চক্রগুলো যোগসাজশ করে বাংলাদেশ থেকে লোভনীয় অফার দিয়ে ইউরোপ যাত্রায় শিক্ষিত যুবকদের লিবিয়া বা ভূমধ্যসাগর তীরের আশপাশের দেশে নিয়ে যায়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই তাদের সেখানে জিম্মি করে পরিবারের কাছ থেকে বড়মাপের মুক্তিপণ আদায় করে।

ব্র্যাকের মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের তথ্য মতে, বাংলাদেশ থেকে লিবিয়ায় কর্মী পাঠানো গত পাঁচ বছর ধরেই বন্ধ। তারপরেও কী করে এত লোক বাংলাদেশ থেকে লিবিয়া যাচ্ছে সেই ঘটনার তদন্ত করা উচিত। এ ব্যাপারে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়কে জোরালো ভূমিকা পালন করতে হবে।

মানব পাচারকারীরা দিনকে দিন বলগাহীন ঘোড়ার মতো বেপরোয়া হয়ে যাচ্ছে। এদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা খুবই জরুরি, অন্যথায় এরা মানুষের জীবন নিয়ে বিপজ্জনক খেলা খেলতেই থাকবে।

জিল্লুর রহমান