ইকোসিস্টেমের ইঞ্জিনিয়ার

হাতি স্থলচর প্রাণীর মধ্যে বৃহত্তম এবং নির্বিশেষ তৃণভোজী প্রাণী। প্রকৃতির জীববৈচিত্র্য ও বাস্তুতন্ত্র সুসংহত রাখতে নিরবধি কাজ করে যাচ্ছে এ প্রাণী। এটি বিলুপ্ত হলে জীববৈচিত্র্যের ব্যাপক ক্ষতিসাধন হবে। হাতি জীববৈচিত্র্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে যাচ্ছে প্রতিনিয়ত। হাতি নতুন স্থানে বনায়ন ও উদ্ভিদের বিস্তার করতে ভূমিকা রাখে। কারণ হাতি বীজ পরিবহনকারী হিসেবে কাজ করে।

গাছপালা ভক্ষণের ফলে অনেক সময় বীজসহ হাতি খেয়ে ফেলে। বীজগুলো তাদের অন্ত্রের মধ্যে পরিবহন করে বিষ্ঠার মাধ্যমে সেগুলোকে নতুন স্থানে ফেলে দেয়। এভাবে একটি উদ্ভিদের বীজ যেখানে প্রাথমিকভাবে খাওয়া হয়েছিল সেখান থেকে হাজার হাজার মিটার দূরে ফেলে দেয় হাতিরা। হাতি ৬০ কিলোমিটারের বেশি দূরত্বের মধ্যে বীজ ছড়িয়ে দিতে পারে। তাছাড়া হাতির গোবর হল নিখুঁত সার। এটি পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ যা বীজকে অঙ্কুরোদগম ও বৃদ্ধি করতে সাহায্যে করে। এভাবে বীজ পরিবহন করে হাতি বনায়ন তৈরির পাশাপাশি প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষায় কাজ করছে।

হাতির বিষ্ঠার মধ্যে গোবরি বিটল পোকা বসে এবং তারাও সেখান থেকে খাদ্য সংগ্রহ ও বংশবিস্তার করে এবং বিষ্ঠায় ডুবে থাকে বিটল লার্ভা যা গোবর থেকে খাদ্য সংগ্রহ করে। সেই লার্ভা আবার বিভিন্ন প্রাণীদের খাবারের উৎস হিসেবে কাজ করে যেমন মাঠের ইঁদুর। সুতরাং, হাতি অন্য প্রাণীদের বেঁচে থাকার সহায়ক হিসেবে কাজ করে এবং বাস্তুতন্ত্রের মধ্যে প্রজাতির জীববৈচিত্র্য ধরে রাখতে অবদান রাখে।

হাতি নিজের প্রয়োজনে পানির জন্য গর্ত খুঁড়ে; তাতে তাদের প্রয়োজনীয় পানির পাশাপাশি অন্য প্রাণীদেরও খাবার পানি মেলে। বনে আগুন লাগলে তা ছড়িয়ে পড়ায় বাধা সৃষ্টি করে হাতির নিয়মিত চলার পথে তৈরি হওয়া শূন্যস্থান। হাতি তার আশেপাশের পরিবেশ পরিবর্তন করে। হাতি খাদ্য গ্রহণ প্রক্রিয়ায় বড় গাছের নিচের অংশে বেড়ে ওঠা গাছপালা পরিচ্ছন্ন করে বনকে বদলে দেয়।

জীববৈচিত্র্য রক্ষায় হাতির এত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকার পরেও, এ অতিকায় প্রাণীটি আজকে বিলুপ্তির পথে। হাতির দাত মূল্যবান এবং ব্যয়বহুল হওয়ায় প্রতি বছর বন্যহাতি শিকার বাড়ছে। তাছাড়া ক্রমাগত বসতি নির্মাণ, বন এলাকায় মানুষের বসবাস, রাস্তা-ঘাট অবকাঠামো নির্মাণ, আইন লঙ্ঘন, দুর্নীতি এবং নিম্ন মানের প্রশাসনিক ব্যবস্থা এ প্রাণী বিলুপ্ত হওয়ার অন্যতম কারণ।

হাতি সংরক্ষণে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। একটি বাসযোগ্য সবুজ পৃথিবীর জন্য আমাদের কাজ করে যেতে হবে। তাই বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ কর্মসূচি কেবল হাতি সংরক্ষণের ওপর দৃষ্টি নিবদ্ধ করে তা নয়। বরং তাদের ওপর নির্ভরশীল সব উদ্ভিদ এবং প্রাণীদের জন্যও আশীর্বাদ হয়ে আসে।

আসাদুজ্জামান বুলবুল

বুধবার, ০৬ অক্টোবর ২০২১ , ২১ আশ্বিন ১৪২৮ ২৭ সফর ১৪৪৩

ইকোসিস্টেমের ইঞ্জিনিয়ার

image

হাতি স্থলচর প্রাণীর মধ্যে বৃহত্তম এবং নির্বিশেষ তৃণভোজী প্রাণী। প্রকৃতির জীববৈচিত্র্য ও বাস্তুতন্ত্র সুসংহত রাখতে নিরবধি কাজ করে যাচ্ছে এ প্রাণী। এটি বিলুপ্ত হলে জীববৈচিত্র্যের ব্যাপক ক্ষতিসাধন হবে। হাতি জীববৈচিত্র্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে যাচ্ছে প্রতিনিয়ত। হাতি নতুন স্থানে বনায়ন ও উদ্ভিদের বিস্তার করতে ভূমিকা রাখে। কারণ হাতি বীজ পরিবহনকারী হিসেবে কাজ করে।

গাছপালা ভক্ষণের ফলে অনেক সময় বীজসহ হাতি খেয়ে ফেলে। বীজগুলো তাদের অন্ত্রের মধ্যে পরিবহন করে বিষ্ঠার মাধ্যমে সেগুলোকে নতুন স্থানে ফেলে দেয়। এভাবে একটি উদ্ভিদের বীজ যেখানে প্রাথমিকভাবে খাওয়া হয়েছিল সেখান থেকে হাজার হাজার মিটার দূরে ফেলে দেয় হাতিরা। হাতি ৬০ কিলোমিটারের বেশি দূরত্বের মধ্যে বীজ ছড়িয়ে দিতে পারে। তাছাড়া হাতির গোবর হল নিখুঁত সার। এটি পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ যা বীজকে অঙ্কুরোদগম ও বৃদ্ধি করতে সাহায্যে করে। এভাবে বীজ পরিবহন করে হাতি বনায়ন তৈরির পাশাপাশি প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষায় কাজ করছে।

হাতির বিষ্ঠার মধ্যে গোবরি বিটল পোকা বসে এবং তারাও সেখান থেকে খাদ্য সংগ্রহ ও বংশবিস্তার করে এবং বিষ্ঠায় ডুবে থাকে বিটল লার্ভা যা গোবর থেকে খাদ্য সংগ্রহ করে। সেই লার্ভা আবার বিভিন্ন প্রাণীদের খাবারের উৎস হিসেবে কাজ করে যেমন মাঠের ইঁদুর। সুতরাং, হাতি অন্য প্রাণীদের বেঁচে থাকার সহায়ক হিসেবে কাজ করে এবং বাস্তুতন্ত্রের মধ্যে প্রজাতির জীববৈচিত্র্য ধরে রাখতে অবদান রাখে।

হাতি নিজের প্রয়োজনে পানির জন্য গর্ত খুঁড়ে; তাতে তাদের প্রয়োজনীয় পানির পাশাপাশি অন্য প্রাণীদেরও খাবার পানি মেলে। বনে আগুন লাগলে তা ছড়িয়ে পড়ায় বাধা সৃষ্টি করে হাতির নিয়মিত চলার পথে তৈরি হওয়া শূন্যস্থান। হাতি তার আশেপাশের পরিবেশ পরিবর্তন করে। হাতি খাদ্য গ্রহণ প্রক্রিয়ায় বড় গাছের নিচের অংশে বেড়ে ওঠা গাছপালা পরিচ্ছন্ন করে বনকে বদলে দেয়।

জীববৈচিত্র্য রক্ষায় হাতির এত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকার পরেও, এ অতিকায় প্রাণীটি আজকে বিলুপ্তির পথে। হাতির দাত মূল্যবান এবং ব্যয়বহুল হওয়ায় প্রতি বছর বন্যহাতি শিকার বাড়ছে। তাছাড়া ক্রমাগত বসতি নির্মাণ, বন এলাকায় মানুষের বসবাস, রাস্তা-ঘাট অবকাঠামো নির্মাণ, আইন লঙ্ঘন, দুর্নীতি এবং নিম্ন মানের প্রশাসনিক ব্যবস্থা এ প্রাণী বিলুপ্ত হওয়ার অন্যতম কারণ।

হাতি সংরক্ষণে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। একটি বাসযোগ্য সবুজ পৃথিবীর জন্য আমাদের কাজ করে যেতে হবে। তাই বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ কর্মসূচি কেবল হাতি সংরক্ষণের ওপর দৃষ্টি নিবদ্ধ করে তা নয়। বরং তাদের ওপর নির্ভরশীল সব উদ্ভিদ এবং প্রাণীদের জন্যও আশীর্বাদ হয়ে আসে।

আসাদুজ্জামান বুলবুল