বেড়েছে জ্বর-সর্দি-কাশি-নিউমোনিয়া

ফরিদগঞ্জে রোগীর ভিড় হিমশিম চিকিৎসকরা

প্রতিনিধি, ফরিদগঞ্জ (চাঁদপুর)

৫০ শয্যা বিশিষ্ট ফরিদগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রতিদিন রোগীর ভিড় লেগেই আছে। উপজেলার ১৬ ইউনিয়নে ৩৯টি কমিউিনিটি ক্লিনিক, ৭টি প্রাইভেট হাসপাতাল থাকার পরও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ডাক্তাররা রোগীর ভিড় সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে। তবে রোগীদের বেশীরভাগই শিশু। প্রতিদিনিই আট থেকে ১০ জন শিশু রোগী ভর্তি হচ্ছে। ভর্তি হওয়া প্রায় ৯৫ শতাংশ শিশুই জ্বর, সর্দি, কাশি, ব্রঙ্কাইটিস রোগে আক্রান্ত। হাসপাতালের ৩য় তলায় শিশু ওয়ার্ডের সব গুলো শয্যা পরিপূর্ণ হয়ে ইতিমধ্যে মহিলা ওয়ার্ড, বারান্দা, করিডোরেও রোগীদের সীটের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

গত বুধবার দুপুরে হাসপাতালের সকল স্থানে রোগীর ভিড় ছিল লক্ষ্য করার মত। চিকিৎসক ও নার্সরা জানিয়েছেন, ক্রমেই শিশু রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। আবহাওয়ার পরিবর্তন ও মাত্রাতিরিক্ত গরমের কারনে প্রায় প্রতি ঘরেই সকল বয়সী মানুষ জ¦র, সর্দি, কাশিতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভিড় করছে। এ ১৩ শয্যার শিশু ওয়ার্ডে ভর্তি ছিল প্রায় ৩০ জন। এ ছাড়াও রয়েছে ডেঙ্গু, করোনা আক্রান্ত, প্রসূতিসহ বিভিন্ন অনুখে আক্রান্ত রোগী। প্রতিদিন বহিঃর্বিভাগে চারশত এবং করোনা ভ্যাকসিন প্রয়োগে আটশত জনকে সেবা প্রদান করা হচ্ছে। চলতি মাসের শুরু থেকে রোগী বাড়ছে। হাসপাতালে ডাক্তার ও সেবীকাসহ বিভিন্ন বিভাগে জনবল কম থাকায় রোগী সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে বলে জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। ফরিদগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আশরাফ আহাম্মেদ চৌধুরী জানান, রোগীর চাপ অনেকটা বেড়েছে। হাসপাতাল ৫০শয্যায় উন্নিত হয়েছে, বিদ্যুৎসহ নার্স, ওয়ার্ড বয়, পরিচ্ছন্নকর্মীর সংখ্যাও অনেক কম। বহুবার চাহিদাপত্র দিয়ে চেয়েছি, কিন্তু পাইনি।

ফেনীতে শয্যা সংকট বারান্দা-মেঝেতে চিকিৎসা

প্রতিনিধি, ফেনী,

ফেনীতে মৌসুমি আবহাওয়া পরিবর্তনের কারণে ঠান্ডাজনিত রোগের প্রকোপ বেড়েছে। ফেনী জেনারেল হাসপাতালে হঠাৎ করেই বেড়েছে রোগীর চাপ। বেশিরভাগ রোগীই ঠান্ডা-জ্বর, শ্বাসকষ্ট ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন। হাসপাতালে শয্যা না পেয়ে বারান্দা ও মেঝেতেই রোগীদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। বাড়তি রোগীর চাপ সামলাতে কিছুটা হিমশিম খেলেও সামর্থ্য অনুযায়ী সর্বোচ্চ সেবা দেওয়ার চেষ্টা চলছে বলে দাবি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের। জানা গেছে, গত বুধবার পর্যন্ত জেলার এ হাসপাতালের তিনটি ওয়ার্ডে ৭৮ জন রোগীর আসনে ভর্তি রয়েছেন ২০৫ জন। হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ইকবাল হোসেন ভূঞা জানান, গত বুধবার ফেনী জেনারেল হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে ২৬ জনের শয্যায় ৭৪ জন ভর্তি রয়েছেন। এছাড়াও পুরুষ ও মহিলা মেডিসিন ওয়ার্ডে ৫২ জনের শয্যায় ১৩১ জন চিকিৎসা নিচ্ছেন। এছাড়াও বহির্বিভাগে প্রতিদিন শত শত রোগী চিকিৎসা নিচ্ছেন। যাদের বেশির ভাগই ঠান্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত। তিনি আরও জানান, শিশু ও মেডিসিন ওয়ার্ডের বেশিরভাগ রোগী জ্বর, কাশি, নিউমোনিয়া ও শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত। আবহাওয়া পরিবর্তন, বৃষ্টি, গরম, ঠান্ডার কারণে মানুষ এসব রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। বিশেষ করে শিশুরা এ রোগে বেশি আক্রান্ত হচ্ছে বলে জানান তিনি।

চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, হঠাৎ ভ্যাপসা গরম, রাতের শেষ ভাগে শীত ও কুয়াশা পড়ার কারণে ঠান্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। মূলত মৌসুমি আবহাওয়া পরিবর্তনের কারণে এসব রোগের প্রকোপ বাড়ছে। হাসপাতালের নার্স ইনচার্জ নিলুফা সুলতানা জানান, বেশ কয়েকদিন ধরে হাসপাতালে শিশু ও মেডিসিন ওয়ার্ডে রোগী বেড়েছে। প্রতিদিনই ছাড়পত্রের তুলনায় নতুন ভর্তি রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। অতিরিক্ত রোগীর চাপে কষ্ট হলেও চিকিৎসক-নার্সরা সাধ্য অনুযায়ী তাদের সেবা দিয়ে আসছেন।

ফেনী জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক আবুল খায়ের মিয়াজী জানান, আবহাওয়া পরিবর্তন জনিত কারণে হাসপাতালে রোগীর চাপ বেড়েছে। জেলার সবচেয়ে বড় এ হাসপাতালে শয্যা না পেয়ে রোগীরা হাসপাতালের মেঝে ও বারান্দায় চিকিৎসা নিচ্ছেন। রোগীদের আন্তরিক সেবা নিশ্চিত করতে চিকিৎসক ও নার্সদের বিষয়ে মনিটরিং বাড়ানো হয়েছে।

শুক্রবার, ১৫ অক্টোবর ২০২১ , ৩০ আশ্বিন ১৪২৮ ০৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

বেড়েছে জ্বর-সর্দি-কাশি-নিউমোনিয়া

image

ফরিদগঞ্জ (চাঁদপুর) : উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন শিশুরা -সংবাদ

ফরিদগঞ্জে রোগীর ভিড় হিমশিম চিকিৎসকরা

প্রতিনিধি, ফরিদগঞ্জ (চাঁদপুর)

৫০ শয্যা বিশিষ্ট ফরিদগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রতিদিন রোগীর ভিড় লেগেই আছে। উপজেলার ১৬ ইউনিয়নে ৩৯টি কমিউিনিটি ক্লিনিক, ৭টি প্রাইভেট হাসপাতাল থাকার পরও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ডাক্তাররা রোগীর ভিড় সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে। তবে রোগীদের বেশীরভাগই শিশু। প্রতিদিনিই আট থেকে ১০ জন শিশু রোগী ভর্তি হচ্ছে। ভর্তি হওয়া প্রায় ৯৫ শতাংশ শিশুই জ্বর, সর্দি, কাশি, ব্রঙ্কাইটিস রোগে আক্রান্ত। হাসপাতালের ৩য় তলায় শিশু ওয়ার্ডের সব গুলো শয্যা পরিপূর্ণ হয়ে ইতিমধ্যে মহিলা ওয়ার্ড, বারান্দা, করিডোরেও রোগীদের সীটের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

গত বুধবার দুপুরে হাসপাতালের সকল স্থানে রোগীর ভিড় ছিল লক্ষ্য করার মত। চিকিৎসক ও নার্সরা জানিয়েছেন, ক্রমেই শিশু রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। আবহাওয়ার পরিবর্তন ও মাত্রাতিরিক্ত গরমের কারনে প্রায় প্রতি ঘরেই সকল বয়সী মানুষ জ¦র, সর্দি, কাশিতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভিড় করছে। এ ১৩ শয্যার শিশু ওয়ার্ডে ভর্তি ছিল প্রায় ৩০ জন। এ ছাড়াও রয়েছে ডেঙ্গু, করোনা আক্রান্ত, প্রসূতিসহ বিভিন্ন অনুখে আক্রান্ত রোগী। প্রতিদিন বহিঃর্বিভাগে চারশত এবং করোনা ভ্যাকসিন প্রয়োগে আটশত জনকে সেবা প্রদান করা হচ্ছে। চলতি মাসের শুরু থেকে রোগী বাড়ছে। হাসপাতালে ডাক্তার ও সেবীকাসহ বিভিন্ন বিভাগে জনবল কম থাকায় রোগী সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে বলে জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। ফরিদগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আশরাফ আহাম্মেদ চৌধুরী জানান, রোগীর চাপ অনেকটা বেড়েছে। হাসপাতাল ৫০শয্যায় উন্নিত হয়েছে, বিদ্যুৎসহ নার্স, ওয়ার্ড বয়, পরিচ্ছন্নকর্মীর সংখ্যাও অনেক কম। বহুবার চাহিদাপত্র দিয়ে চেয়েছি, কিন্তু পাইনি।

ফেনীতে শয্যা সংকট বারান্দা-মেঝেতে চিকিৎসা

প্রতিনিধি, ফেনী,

ফেনীতে মৌসুমি আবহাওয়া পরিবর্তনের কারণে ঠান্ডাজনিত রোগের প্রকোপ বেড়েছে। ফেনী জেনারেল হাসপাতালে হঠাৎ করেই বেড়েছে রোগীর চাপ। বেশিরভাগ রোগীই ঠান্ডা-জ্বর, শ্বাসকষ্ট ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন। হাসপাতালে শয্যা না পেয়ে বারান্দা ও মেঝেতেই রোগীদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। বাড়তি রোগীর চাপ সামলাতে কিছুটা হিমশিম খেলেও সামর্থ্য অনুযায়ী সর্বোচ্চ সেবা দেওয়ার চেষ্টা চলছে বলে দাবি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের। জানা গেছে, গত বুধবার পর্যন্ত জেলার এ হাসপাতালের তিনটি ওয়ার্ডে ৭৮ জন রোগীর আসনে ভর্তি রয়েছেন ২০৫ জন। হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ইকবাল হোসেন ভূঞা জানান, গত বুধবার ফেনী জেনারেল হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে ২৬ জনের শয্যায় ৭৪ জন ভর্তি রয়েছেন। এছাড়াও পুরুষ ও মহিলা মেডিসিন ওয়ার্ডে ৫২ জনের শয্যায় ১৩১ জন চিকিৎসা নিচ্ছেন। এছাড়াও বহির্বিভাগে প্রতিদিন শত শত রোগী চিকিৎসা নিচ্ছেন। যাদের বেশির ভাগই ঠান্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত। তিনি আরও জানান, শিশু ও মেডিসিন ওয়ার্ডের বেশিরভাগ রোগী জ্বর, কাশি, নিউমোনিয়া ও শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত। আবহাওয়া পরিবর্তন, বৃষ্টি, গরম, ঠান্ডার কারণে মানুষ এসব রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। বিশেষ করে শিশুরা এ রোগে বেশি আক্রান্ত হচ্ছে বলে জানান তিনি।

চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, হঠাৎ ভ্যাপসা গরম, রাতের শেষ ভাগে শীত ও কুয়াশা পড়ার কারণে ঠান্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। মূলত মৌসুমি আবহাওয়া পরিবর্তনের কারণে এসব রোগের প্রকোপ বাড়ছে। হাসপাতালের নার্স ইনচার্জ নিলুফা সুলতানা জানান, বেশ কয়েকদিন ধরে হাসপাতালে শিশু ও মেডিসিন ওয়ার্ডে রোগী বেড়েছে। প্রতিদিনই ছাড়পত্রের তুলনায় নতুন ভর্তি রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। অতিরিক্ত রোগীর চাপে কষ্ট হলেও চিকিৎসক-নার্সরা সাধ্য অনুযায়ী তাদের সেবা দিয়ে আসছেন।

ফেনী জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক আবুল খায়ের মিয়াজী জানান, আবহাওয়া পরিবর্তন জনিত কারণে হাসপাতালে রোগীর চাপ বেড়েছে। জেলার সবচেয়ে বড় এ হাসপাতালে শয্যা না পেয়ে রোগীরা হাসপাতালের মেঝে ও বারান্দায় চিকিৎসা নিচ্ছেন। রোগীদের আন্তরিক সেবা নিশ্চিত করতে চিকিৎসক ও নার্সদের বিষয়ে মনিটরিং বাড়ানো হয়েছে।