সারের কৃত্রিম সংকট মুনাফা লুটছে ডিলাররা

বাগেরহাটের চিতলমারীতে সরকারের দেওয়া নির্ধারিত মূলের বেশি দামে সার বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। বাজারে সারের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির মাধ্যমে কৃষকদের জিম্মি করে হাতিয়ে নেওয়া হচেছ বাড়তি টাকা। জানা গেছে, ইউনিয়নভিত্তিক সার বিক্রর অনুমোদন নিয়ে অনেক ডিলার অধিক মুনাফার আশায় সদর বাজারে এসে সারা বছর ধরে সার বিক্রি করেছেন। সার বিক্রির সময় ক্যাশ রশিদ দেওয়ার নির্দেশনা খাকলেও খুচরা বা পাইকারী কোন ক্রেতাকেই তা দেওয়া হয়না। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোন তদারকি নেই। উপজেলার প্রায় ৩০ হাজারেরও অধিক চাষি পরিবার এসব ডিলারদের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছে। সরকারের নির্ধারিত মূল্য তালিকায় প্রতিকেজি টিএসপি ২২ টাকা, ডিএপি ১৫ টাকা, ইউরিয়া ১৬ টাকা,এমওপি ১৫ টাকা ধার্য করা হলেও চাষিদের কাছে প্রতিকেজি টিএসপি ৪০ টাকা , ইউরিয়া ২০ টাকা ও অন্যান্য সার অধিক মূল্যে বিক্রি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ চাষিদের। উপজেলার সদর ইউনিয়নের কুরমণি গ্রামের সবজি চাষি বুদ্ধদেব বসু জানান, সার ডিলার আবুল কালামের কাছ থেকে টিএসপি ৪০ টাকা ও ইউরিয়া ২০ টাকা দরে ক্রয় করেছেন। এলাকার অধিকাংশ ডিলারা ওই একই মূল্যে সার বিক্রি করছেন বলে অভিযোগ তার। ওই একই গ্রামের চাষি হৃদয় বসু জানান, টিএসপি ৩৫ টাকা ও ইউরিয়া ২০ টাকা দরে ক্রয় করেছেন ডিলারেদের কাছ থেকে। চলতি টমেটো মৌসুমে এসব ডিলাররা সারের মজুদ নেই এমন অজুহাতে অধিক মূল্য হাতিয়ে নিচ্ছে বলে অভিযোগ তার। এসব অনিয়মের সাথে জড়িত ডিলারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহনের দাবি জানান তিনি। চরবানীয়ারী ইউনিয়নের দূর্গাপুর গ্রামের চাষি উত্তম সোম জানান, চিতলমারী সদর বাজারের ডিলার জীবন কৃষ্ণ হাজরা তার কাছ থেকে এক বস্তা মরোক্কো টিএসপি সার ১হাজার ২ শ, ৫০ টাকা রেখেছে। যার নির্ধারিত মূল্য ১১শ’ টাকা। সদর বাজারের ডিলার জীবন কৃষ্ণ হাজরা জানান, তিনি নির্ধারিত দামের বাইরে কোন সার বিক্রি করছেন না। এ বিষয়ে ডিলার আবুল কালাম জানান, সরকারি নির্ধারিত মূল্যের বেশি দামে কোন সার বিক্রি করা হচ্ছে না। যদি কোন অভিযোগ কেউ দিয়ে থাকে সেটি সঠিক নয়। হিজলা ইউনিয়নের সার ডিলার মেসার্স শেখ ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী মো. সোহেল শেখ জানান, কর্তৃপক্ষের অনুমতিক্রমে চিতলমারী সদরে তিনি সার বিক্রি করছেন। এ বিষয়ে বাগেরহাট জেলা কৃষি অফিসের অতিরিক্ত উপপরিচালক মো. আব্দুল্লা আল মামুন জানান, বিষয়টি উপজেলা কৃষি অফিসার মোসা. রাজিয়া সুলতানাকে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

শুক্রবার, ১৫ অক্টোবর ২০২১ , ৩০ আশ্বিন ১৪২৮ ০৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

সারের কৃত্রিম সংকট মুনাফা লুটছে ডিলাররা

প্রতিনিধি, চিতলমারী (বাগেরহাট)

বাগেরহাটের চিতলমারীতে সরকারের দেওয়া নির্ধারিত মূলের বেশি দামে সার বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। বাজারে সারের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির মাধ্যমে কৃষকদের জিম্মি করে হাতিয়ে নেওয়া হচেছ বাড়তি টাকা। জানা গেছে, ইউনিয়নভিত্তিক সার বিক্রর অনুমোদন নিয়ে অনেক ডিলার অধিক মুনাফার আশায় সদর বাজারে এসে সারা বছর ধরে সার বিক্রি করেছেন। সার বিক্রির সময় ক্যাশ রশিদ দেওয়ার নির্দেশনা খাকলেও খুচরা বা পাইকারী কোন ক্রেতাকেই তা দেওয়া হয়না। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোন তদারকি নেই। উপজেলার প্রায় ৩০ হাজারেরও অধিক চাষি পরিবার এসব ডিলারদের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছে। সরকারের নির্ধারিত মূল্য তালিকায় প্রতিকেজি টিএসপি ২২ টাকা, ডিএপি ১৫ টাকা, ইউরিয়া ১৬ টাকা,এমওপি ১৫ টাকা ধার্য করা হলেও চাষিদের কাছে প্রতিকেজি টিএসপি ৪০ টাকা , ইউরিয়া ২০ টাকা ও অন্যান্য সার অধিক মূল্যে বিক্রি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ চাষিদের। উপজেলার সদর ইউনিয়নের কুরমণি গ্রামের সবজি চাষি বুদ্ধদেব বসু জানান, সার ডিলার আবুল কালামের কাছ থেকে টিএসপি ৪০ টাকা ও ইউরিয়া ২০ টাকা দরে ক্রয় করেছেন। এলাকার অধিকাংশ ডিলারা ওই একই মূল্যে সার বিক্রি করছেন বলে অভিযোগ তার। ওই একই গ্রামের চাষি হৃদয় বসু জানান, টিএসপি ৩৫ টাকা ও ইউরিয়া ২০ টাকা দরে ক্রয় করেছেন ডিলারেদের কাছ থেকে। চলতি টমেটো মৌসুমে এসব ডিলাররা সারের মজুদ নেই এমন অজুহাতে অধিক মূল্য হাতিয়ে নিচ্ছে বলে অভিযোগ তার। এসব অনিয়মের সাথে জড়িত ডিলারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহনের দাবি জানান তিনি। চরবানীয়ারী ইউনিয়নের দূর্গাপুর গ্রামের চাষি উত্তম সোম জানান, চিতলমারী সদর বাজারের ডিলার জীবন কৃষ্ণ হাজরা তার কাছ থেকে এক বস্তা মরোক্কো টিএসপি সার ১হাজার ২ শ, ৫০ টাকা রেখেছে। যার নির্ধারিত মূল্য ১১শ’ টাকা। সদর বাজারের ডিলার জীবন কৃষ্ণ হাজরা জানান, তিনি নির্ধারিত দামের বাইরে কোন সার বিক্রি করছেন না। এ বিষয়ে ডিলার আবুল কালাম জানান, সরকারি নির্ধারিত মূল্যের বেশি দামে কোন সার বিক্রি করা হচ্ছে না। যদি কোন অভিযোগ কেউ দিয়ে থাকে সেটি সঠিক নয়। হিজলা ইউনিয়নের সার ডিলার মেসার্স শেখ ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী মো. সোহেল শেখ জানান, কর্তৃপক্ষের অনুমতিক্রমে চিতলমারী সদরে তিনি সার বিক্রি করছেন। এ বিষয়ে বাগেরহাট জেলা কৃষি অফিসের অতিরিক্ত উপপরিচালক মো. আব্দুল্লা আল মামুন জানান, বিষয়টি উপজেলা কৃষি অফিসার মোসা. রাজিয়া সুলতানাকে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।