অর্থের অভাব, কাবুলে এতিমখানার শিশুদের খাবার নেই

গত আগস্ট মাসে কাবুলের ক্ষমতা দখলে নেয় তালেবান গোষ্ঠী। এরপর থেকেই প্রায় পুরো বিশ্ব থেকে কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় আফগানিস্তান। যেকোন সময় সৃষ্টি হতে পারে মানবিক সংকটের। এই পরিস্থিতিতে বিপর্যয়কর অবস্থার মধ্যে পড়েছে কাবুলের বিভিন্ন এতিমখানায় বসবাসকারী এতিম শিশুরা। টাকার অভাবে এসব শিশুদের খাবার কমিয়ে দিচ্ছে এতিমখানা কর্তৃপক্ষগুলো। এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে বার্তাসংস্থা রয়টার্স।

কাবুলের একটি বৃহৎ এতিমখানার প্রোগ্রাম ডিরেক্টর আহমেদ খলিল মায়ান রয়টার্সকে জানান, তাদের হাতে থাকা অর্থের পরিমাণ ক্রমেই কমছে। আর তাই প্রতি সপ্তাহে এতিম শিশুদের খাবার তালিকায় থাকা মাংস ও ফলের পরিমাণ তারা কমিয়ে দিতে বাধ্য হচ্ছেন।

আহমেদ খলিল মায়ানের এই এতিমখানাটির নাম শামসা চিলড্রেন’স ভিলেজ। আফগান রাজধানী কাবুলের উত্তরে বিস্তৃত জায়গায় এটি অবস্থিত।

গত ১৫ আগস্ট রাজধানী কাবুল দখলের মাধ্যমে প্রায় পুরো আফগানিস্তান দখলে নেয় তালেবান। এরপর সেপ্টেম্বর মাসের শুরুতে একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনের ঘোষণা দেয় গোষ্ঠীটি। কিন্তু তালেবান ক্ষমতায় আসায় বিশ্বের অধিকাংশ দেশ ও এর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বিভিন্ন দাতা সংস্থা আফগানিস্তানে মানবিক সহায়তাসহ অর্থ সাহায্য পাঠানো বন্ধ করে দেয়।

আহমেদ খলিল বলেছেন, হাতের অর্থ ফুরিয়ে আসায় গত প্রায় দুই মাস ধরে প্রয়োজনীয় তহবিল পাঠানোর জন্য স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থাগুলোর সঙ্গে বার বার যোগাযোগ করেছেন তিনি। এসব সংস্থার সবগুলোই আগে তার এতিমখানায় সহায়তা দিত।

৪০ বছর বয়সী মায়ান রয়টার্সকে বলেন, ‘দুর্ভাগ্যজনকভাবে আফগান দাতা সংস্থা, বিদেশি দাতা সংস্থা এবং দূতাবাসগুলো থেকে সবাই আমাদের দেশ ছেড়ে চলে গেছে। আমি যখন অর্থের জন্য বার বার তাদেরকে কল করছি বা ই-মেইল করছি, তখন তাদের কেউই আমার ফোন রিসিভ করেননি বা ই-মেইলের উত্তরও দেননি।’

তিনি আরও বলেন, ‘খুবই অল্প পরিমাণ টাকা ও খাদ্য নিয়ে এখন আমরা এই এতিমখানাটি চালানোর চেষ্টা করছি।’

রয়টার্স বলছে, তিন বছর থেকে শুরু করে এর বেশি বয়সী প্রায় ১৩০ জন শিশু এই এতিমখানায় বসবাস করে। দীর্ঘ এক দশকের বেশি সময় ধরে এতিমখানাটি চালু রয়েছে।

এদিকে, আফগানিস্তানে চলমান মানবিক সংকট নিরসনে তালেবানকে সহযোগিতা করতে প্রস্তুত তুরস্ক। তবে ক্ষমতাসীন তালেবান সরকারকে স্বীকৃতি দিতে রাজি নয় দেশটি। তালেবানের ভারপ্রাপ্ত পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমির খান মুত্তাকিকে এসব বার্তা দিয়েছেন তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মেভলুত কাভুসোগলু।

বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়, ক্ষমতা দখলের পর আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেতে মরিয়া তালেবান। সম্প্রতি কাতারের রাজধানী দোহায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের কর্মকর্তাদের সঙ্গে এ বিষয়ে বৈঠকও করে তালেবানের প্রতিনিধিদল।

এরই অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার তুরস্কে পৌঁছান তালেবান সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মুত্তাকি।

তালেবানের ওপর পশ্চিমা দেশের নিষেধাজ্ঞা আফগান পরিস্থিতি আরও নাজুক করতে পারে বলে বৈঠকে সতর্ক করেন মুত্তাকি।

আঙ্কারায় মুত্তাকির সঙ্গে রুদ্ধদ্বার বৈঠক শেষে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাভুসোগলু বলেন, ‘তালেবানের বর্তমান প্রশাসনের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপনের গুরুত্ব আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আমাদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে। স্বীকৃতি দেয়া ও সম্পর্ক স্থাপন সম্পূর্ণ ভিন্ন বিষয়।’

তিনি বলেন, ‘আফগান অর্থনীতি ভেঙে পড়তে দেয়া যাবে না। বাইরের দেশে থাকা আফগানিস্তানের অ্যাকাউন্ট যেসব পশ্চিমা দেশ জব্দ করেছে, তাদের আরও নমনীয় হতে হবে, যাতে করে আফগান জনগণ তাদের বেতন ঠিকমতো পায়।’

১৫ আগস্ট কাবুল পতনের মধ্য দিয়ে আফগানিস্তানের ক্ষমতা তালেবানের হাতে যায়। এরপরই দেশটিতে তহবিল প্রকল্প স্থগিত করে বিশ্বব্যাংক।

ন্যাটোভুক্ত দেশের মধ্যে একমাত্র মুসলমান সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ তুরস্ক। চলতি বছরে আগস্টের শেষে আফগানিস্তান থেকে বিদেশি সেনা চলে যাওয়ার পর দেশটি পুনর্গঠনে বিভিন্নভাবে সহায়তা করার উদ্যোগ নেয় আঙ্কারা। যুদ্ধবিধ্বস্ত আফগানিস্তানে মানবিক সহায়তা আসার প্রধান পথ কাবুল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করার প্রস্তাবও দিয়েছিল তুরস্ক। তবে ওই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন তালেবান নেতারা। এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত উভয়পক্ষ কোনও সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেনি।

বৈঠকে আফগানিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মুত্তাকিকে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফের জানান, নিয়মিত ফ্লাইট শুরু হওয়ার আগে কাবুল বিমানবন্দরে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি।

তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাভুসোগলু বলেন, ‘আজকে আমরা আরেকবার তালেবান সরকারকে বুঝিয়েছি, শুধু আমাদের জন্য নয়, আন্তর্জাতিক সংস্থার জন্যও কাবুল বিমানবন্দরে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কতটা জরুরি।’

কাভুসোগলু জানান, আফগান মেয়েদের স্কুলে ও নারীদের কর্মস্থলে ফিরে যাওয়ার অনুমতি দিতে তালেবানের প্রতি বৈঠকে আহ্বান জানানো হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘আমরা তালেবান সরকারকে বলেছি, আমাদের এই আহ্বানকে পূর্বশর্ত বা দাবি হিসেবে না দেখতে। এটি শুধু আমাদের নয়, বিশ্বের অন্যান্য মুসলমানপ্রধান দেশেরও চাওয়া। তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক শেষে তাৎক্ষণিক কোনও মন্তব্য করেননি তালেবানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মুত্তাকি।

image

আফগানিস্তানের বিভিন্ন এতিমখানায় টাকার অভাবে এসব শিশুদের খাবার কমিয়ে দিচ্ছে এতিমখানা কর্তৃপক্ষগুলো - এএফপি

আরও খবর
সৌন্দর্যে ঘেরা জার্মানির গুহা

শনিবার, ১৬ অক্টোবর ২০২১ , ৩১ আশ্বিন ১৪২৮ ০৮ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

অর্থের অভাব, কাবুলে এতিমখানার শিশুদের খাবার নেই

image

আফগানিস্তানের বিভিন্ন এতিমখানায় টাকার অভাবে এসব শিশুদের খাবার কমিয়ে দিচ্ছে এতিমখানা কর্তৃপক্ষগুলো - এএফপি

গত আগস্ট মাসে কাবুলের ক্ষমতা দখলে নেয় তালেবান গোষ্ঠী। এরপর থেকেই প্রায় পুরো বিশ্ব থেকে কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় আফগানিস্তান। যেকোন সময় সৃষ্টি হতে পারে মানবিক সংকটের। এই পরিস্থিতিতে বিপর্যয়কর অবস্থার মধ্যে পড়েছে কাবুলের বিভিন্ন এতিমখানায় বসবাসকারী এতিম শিশুরা। টাকার অভাবে এসব শিশুদের খাবার কমিয়ে দিচ্ছে এতিমখানা কর্তৃপক্ষগুলো। এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে বার্তাসংস্থা রয়টার্স।

কাবুলের একটি বৃহৎ এতিমখানার প্রোগ্রাম ডিরেক্টর আহমেদ খলিল মায়ান রয়টার্সকে জানান, তাদের হাতে থাকা অর্থের পরিমাণ ক্রমেই কমছে। আর তাই প্রতি সপ্তাহে এতিম শিশুদের খাবার তালিকায় থাকা মাংস ও ফলের পরিমাণ তারা কমিয়ে দিতে বাধ্য হচ্ছেন।

আহমেদ খলিল মায়ানের এই এতিমখানাটির নাম শামসা চিলড্রেন’স ভিলেজ। আফগান রাজধানী কাবুলের উত্তরে বিস্তৃত জায়গায় এটি অবস্থিত।

গত ১৫ আগস্ট রাজধানী কাবুল দখলের মাধ্যমে প্রায় পুরো আফগানিস্তান দখলে নেয় তালেবান। এরপর সেপ্টেম্বর মাসের শুরুতে একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনের ঘোষণা দেয় গোষ্ঠীটি। কিন্তু তালেবান ক্ষমতায় আসায় বিশ্বের অধিকাংশ দেশ ও এর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বিভিন্ন দাতা সংস্থা আফগানিস্তানে মানবিক সহায়তাসহ অর্থ সাহায্য পাঠানো বন্ধ করে দেয়।

আহমেদ খলিল বলেছেন, হাতের অর্থ ফুরিয়ে আসায় গত প্রায় দুই মাস ধরে প্রয়োজনীয় তহবিল পাঠানোর জন্য স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থাগুলোর সঙ্গে বার বার যোগাযোগ করেছেন তিনি। এসব সংস্থার সবগুলোই আগে তার এতিমখানায় সহায়তা দিত।

৪০ বছর বয়সী মায়ান রয়টার্সকে বলেন, ‘দুর্ভাগ্যজনকভাবে আফগান দাতা সংস্থা, বিদেশি দাতা সংস্থা এবং দূতাবাসগুলো থেকে সবাই আমাদের দেশ ছেড়ে চলে গেছে। আমি যখন অর্থের জন্য বার বার তাদেরকে কল করছি বা ই-মেইল করছি, তখন তাদের কেউই আমার ফোন রিসিভ করেননি বা ই-মেইলের উত্তরও দেননি।’

তিনি আরও বলেন, ‘খুবই অল্প পরিমাণ টাকা ও খাদ্য নিয়ে এখন আমরা এই এতিমখানাটি চালানোর চেষ্টা করছি।’

রয়টার্স বলছে, তিন বছর থেকে শুরু করে এর বেশি বয়সী প্রায় ১৩০ জন শিশু এই এতিমখানায় বসবাস করে। দীর্ঘ এক দশকের বেশি সময় ধরে এতিমখানাটি চালু রয়েছে।

এদিকে, আফগানিস্তানে চলমান মানবিক সংকট নিরসনে তালেবানকে সহযোগিতা করতে প্রস্তুত তুরস্ক। তবে ক্ষমতাসীন তালেবান সরকারকে স্বীকৃতি দিতে রাজি নয় দেশটি। তালেবানের ভারপ্রাপ্ত পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমির খান মুত্তাকিকে এসব বার্তা দিয়েছেন তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মেভলুত কাভুসোগলু।

বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়, ক্ষমতা দখলের পর আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেতে মরিয়া তালেবান। সম্প্রতি কাতারের রাজধানী দোহায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের কর্মকর্তাদের সঙ্গে এ বিষয়ে বৈঠকও করে তালেবানের প্রতিনিধিদল।

এরই অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার তুরস্কে পৌঁছান তালেবান সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মুত্তাকি।

তালেবানের ওপর পশ্চিমা দেশের নিষেধাজ্ঞা আফগান পরিস্থিতি আরও নাজুক করতে পারে বলে বৈঠকে সতর্ক করেন মুত্তাকি।

আঙ্কারায় মুত্তাকির সঙ্গে রুদ্ধদ্বার বৈঠক শেষে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাভুসোগলু বলেন, ‘তালেবানের বর্তমান প্রশাসনের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপনের গুরুত্ব আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আমাদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে। স্বীকৃতি দেয়া ও সম্পর্ক স্থাপন সম্পূর্ণ ভিন্ন বিষয়।’

তিনি বলেন, ‘আফগান অর্থনীতি ভেঙে পড়তে দেয়া যাবে না। বাইরের দেশে থাকা আফগানিস্তানের অ্যাকাউন্ট যেসব পশ্চিমা দেশ জব্দ করেছে, তাদের আরও নমনীয় হতে হবে, যাতে করে আফগান জনগণ তাদের বেতন ঠিকমতো পায়।’

১৫ আগস্ট কাবুল পতনের মধ্য দিয়ে আফগানিস্তানের ক্ষমতা তালেবানের হাতে যায়। এরপরই দেশটিতে তহবিল প্রকল্প স্থগিত করে বিশ্বব্যাংক।

ন্যাটোভুক্ত দেশের মধ্যে একমাত্র মুসলমান সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ তুরস্ক। চলতি বছরে আগস্টের শেষে আফগানিস্তান থেকে বিদেশি সেনা চলে যাওয়ার পর দেশটি পুনর্গঠনে বিভিন্নভাবে সহায়তা করার উদ্যোগ নেয় আঙ্কারা। যুদ্ধবিধ্বস্ত আফগানিস্তানে মানবিক সহায়তা আসার প্রধান পথ কাবুল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করার প্রস্তাবও দিয়েছিল তুরস্ক। তবে ওই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন তালেবান নেতারা। এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত উভয়পক্ষ কোনও সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেনি।

বৈঠকে আফগানিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মুত্তাকিকে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফের জানান, নিয়মিত ফ্লাইট শুরু হওয়ার আগে কাবুল বিমানবন্দরে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি।

তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাভুসোগলু বলেন, ‘আজকে আমরা আরেকবার তালেবান সরকারকে বুঝিয়েছি, শুধু আমাদের জন্য নয়, আন্তর্জাতিক সংস্থার জন্যও কাবুল বিমানবন্দরে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কতটা জরুরি।’

কাভুসোগলু জানান, আফগান মেয়েদের স্কুলে ও নারীদের কর্মস্থলে ফিরে যাওয়ার অনুমতি দিতে তালেবানের প্রতি বৈঠকে আহ্বান জানানো হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘আমরা তালেবান সরকারকে বলেছি, আমাদের এই আহ্বানকে পূর্বশর্ত বা দাবি হিসেবে না দেখতে। এটি শুধু আমাদের নয়, বিশ্বের অন্যান্য মুসলমানপ্রধান দেশেরও চাওয়া। তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক শেষে তাৎক্ষণিক কোনও মন্তব্য করেননি তালেবানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মুত্তাকি।