আফগানিস্তানে মসজিদে হামলায় নিহত বেড়ে ৪৭

আফগানিস্তানের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর কান্দাহারে একটি শিয়া মসজিদে বোমা হামলার ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে অন্তত ৪৭ জন। আহত হয়েছেন আরও ৭০ জন। তালেবানের সংস্কৃতি ও তথ্য বিভাগের কান্দাহার শাখার প্রধান হাফিজ সায়িদ হতাহতদের সংখ্যা নিশ্চিত করেছেন। মসজিদে হামলার দায় স্বীকার করে বিবৃতি দিয়েছে আইএস এর আফগান শাখা (আইএসকে)।

বিবৃতিতে জঙ্গিদের মুখপাত্র জানায়, মসজিদের দুই জায়গায় আত্মঘাতী বোমা বিস্ফোরণ ঘটানো হয়েছে। এদিকে প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন, চার আত্মঘাতী হামলাকারীকে দেখেছেন তারা। গত সপ্তাহের জুমার নামাজের সময় কুন্দুজ প্রদেশের একটি শিয়া মসজিদেও হামলার দায় স্বীকার করে আইএস।

হামলার ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছে তালেবানের মুখপাত্র জবিউল্লাহ মুজাহিদ। জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। আফগানিস্তানে তালেবান সরকার গঠনের পর এ নিয়ে দুই বার হামলার ঘটনা ঘটলো। এতে শতাধিক মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। কান্দাহারের বিবি ফাতিমা মসজিদে একাধিক বিস্ফোরণ ঘটে। এটি ওই এলাকায় শিয়া মুসলিমদের সবচেয়ে বড় মসজিদ।

আফগান স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র কারি সায়িদ খোসতি টুইটারে বলেছেন, কান্দাহারে শিয়াদের একটি মসজিদে বিস্ফোরণ ঘটেছে জেনে আমরা খুবই দুঃখিত। সেখানে আমাদের বেশ কয়েকজন স্বদেশী শহীদ ও আহত হয়েছেন।

তিনি আরও বলেছেন, তালেবানের বিশেখ বাহিনী ওই এলাকায় পৌঁছেছে। দুষ্কৃতিদের অবশ্যই বিচারের আওতায় আনা হবে।

হামলার এক প্রত্যক্ষদর্শী এএফপিকে জানিয়েছেন, তিনি তিনটি বিস্ফোরণের শব্দ শুনেছেন। একটি মসজিদের মূল দরজায়, একটি দক্ষিণ অংশে ও তৃতীয়টি অজুখানার দিকে। মুর্তজা নামে এক আরেক প্রত্যক্ষদর্শী অবশ্য বলেছেন, চারজন আত্মঘাতী হামলাকারী এ ঘটনায় অংশ নিয়েছিল। দুজন মসজিদের গেটে বিস্ফোরণ ঘটায়। এরপর বাকি দুজন দৌড়ে ভেতরে গিয়ে মুসল্লিদের ভিড়ের মধ্যে বিস্ফোরণ ঘটায়।

ওই প্রত্যক্ষদর্শী জানিয়েছেন, জুমার নামাজে মসজিদটিতে সাধারণত ৫০০ জনের মতো মুসল্লি হাজির থাকেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবিতে মসজিদের ভেতর অনেক লোককে আপাতদৃষ্টিতে মৃত অথবা রক্তাক্ত শরীরে পড়ে থাকতে দেখা যায়। হাসপাতাল সূত্রগুলো জানিয়েছে, বিস্ফোরণে বহু মানুষ আহত হয়েছেন। আহতদের অবস্থা দেখে আশঙ্কা করা হচ্ছে, মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।

এদিকে, আফগানিস্তানে তালেবান নতুন করে ক্ষমতায় আসার পর হিবাতুল্লা আখুন্দজাদার নাম বারবার সামনে এসেছে। তিনি বেঁচে আছেন কি না- তা নিয়ে আগে থেকেই সন্দেহের গুঞ্জন চলছিল। ব্রিটিশ ম্যাগাজিন দ্য স্পেকটেটর এই গুঞ্জন নিয়ে প্রতিবেদনও করেছিল।

অবশেখে সেই রহস্য ভাঙল তালেবানগোষ্ঠী। গোষ্ঠীর অন্যতম জ্যেষ্ঠ নতুন আমির আল মুমিনিন শেখ একটি সংবাদমাধ্যমকে বলেন, এক বছর আগে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর হামলায় শহীদ হয়েছেন হাইবাতুল্লাহ আখুন্দজাদা।

তালেবানগোষ্ঠীর অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নেতা মোল্লা ওমরের মৃত্যুর পর ২০১৬ সাল থেকে গোষ্ঠীটির সর্বোচ্চ নেতার পদে আসীন ছিলেন হাইবাতুল্লাহ আখুনন্দজাদা। তালেবানের ধর্মীয়, রাজনৈতিক, সামরিক- যে কোন বিষয়ে সর্বোচ্চ সিদ্ধান্ত আসত তার কাছ থেকেই।

২০০১ সালে মার্কিন-ন্যাটো অভিযানে ক্ষমতাচ্যুত তালেবানগোষ্ঠী ২০ বছর পর ২০২১ সালের ১৫ আগস্ট ফের আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুল দখল করতে সক্ষম হয়। দেশের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার প্রায় তিন সপ্তাহ পর, ৭ সেপ্টেম্বর সরকার গঠন করে তালেবান, যার শীর্ষপদে রাখা হয় আখুন্দজাদাকে। তবে তালেবান বাহিনীর আফগানিস্তান দখলের অনেক আগে থেকেই লোকচক্ষুর অন্তরালে ছিলেন তিনি।

তালেবানগোষ্ঠীর মধ্যে অবশ্য লোকচক্ষুর অন্তরালে থাকার দীর্ঘ ঐতিহ্য আছে, যে কারণে আখুন্দজাদার বিখয়টি নিয়ে বেশি কৌতূহল দেখা যায়নি কারও মধ্যে; কিন্তু আফগানিস্তান দখল এবং নতুন সরকার গঠনের পরও তার অনুপস্থিতি স্বাভাবিকভাবেই নানা প্রশ্ন ও সন্দেহের সৃষ্টি করে।

তালেবান বাহিনীর অন্যতম মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ গত ৩০ আগস্ট এবং তারপরও একাধিকবার দাবি করেছেন, আফগানিস্তানের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর কান্দাহারে অবস্থান করছেন তাদের শীর্খ নেতা এবং সেখান থেকেই বিভিন্ন নির্বাহী সিদ্ধান্ত সরকারকে অবহিত করছেন তিনি।

তার মধ্যেই তালেবান জ্যেষ্ঠ নেতা জানালেন, আখুন্দজাদার মৃত্যু সম্পর্কিত যেসব গুঞ্জন চলছিল- সেসব সঠিক।

image

কান্দাহারের মসজিদে বোমা হামলার ঘটনায় আহত এক ব্যক্তিকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে -রয়টার্স

আরও খবর
আসিয়ান সম্মেলনে আমন্ত্রণ পাচ্ছে না মায়ানমার জান্তাপ্রধান
বিল গেটস কন্যার বিয়ে ঘোড়ার খামারে

রবিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২১ , ০১ কার্তিক ১৪২৮ ০৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

আফগানিস্তানে মসজিদে হামলায় নিহত বেড়ে ৪৭

দায় স্বীকার আইএসের

image

কান্দাহারের মসজিদে বোমা হামলার ঘটনায় আহত এক ব্যক্তিকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে -রয়টার্স

আফগানিস্তানের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর কান্দাহারে একটি শিয়া মসজিদে বোমা হামলার ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে অন্তত ৪৭ জন। আহত হয়েছেন আরও ৭০ জন। তালেবানের সংস্কৃতি ও তথ্য বিভাগের কান্দাহার শাখার প্রধান হাফিজ সায়িদ হতাহতদের সংখ্যা নিশ্চিত করেছেন। মসজিদে হামলার দায় স্বীকার করে বিবৃতি দিয়েছে আইএস এর আফগান শাখা (আইএসকে)।

বিবৃতিতে জঙ্গিদের মুখপাত্র জানায়, মসজিদের দুই জায়গায় আত্মঘাতী বোমা বিস্ফোরণ ঘটানো হয়েছে। এদিকে প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন, চার আত্মঘাতী হামলাকারীকে দেখেছেন তারা। গত সপ্তাহের জুমার নামাজের সময় কুন্দুজ প্রদেশের একটি শিয়া মসজিদেও হামলার দায় স্বীকার করে আইএস।

হামলার ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছে তালেবানের মুখপাত্র জবিউল্লাহ মুজাহিদ। জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। আফগানিস্তানে তালেবান সরকার গঠনের পর এ নিয়ে দুই বার হামলার ঘটনা ঘটলো। এতে শতাধিক মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। কান্দাহারের বিবি ফাতিমা মসজিদে একাধিক বিস্ফোরণ ঘটে। এটি ওই এলাকায় শিয়া মুসলিমদের সবচেয়ে বড় মসজিদ।

আফগান স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র কারি সায়িদ খোসতি টুইটারে বলেছেন, কান্দাহারে শিয়াদের একটি মসজিদে বিস্ফোরণ ঘটেছে জেনে আমরা খুবই দুঃখিত। সেখানে আমাদের বেশ কয়েকজন স্বদেশী শহীদ ও আহত হয়েছেন।

তিনি আরও বলেছেন, তালেবানের বিশেখ বাহিনী ওই এলাকায় পৌঁছেছে। দুষ্কৃতিদের অবশ্যই বিচারের আওতায় আনা হবে।

হামলার এক প্রত্যক্ষদর্শী এএফপিকে জানিয়েছেন, তিনি তিনটি বিস্ফোরণের শব্দ শুনেছেন। একটি মসজিদের মূল দরজায়, একটি দক্ষিণ অংশে ও তৃতীয়টি অজুখানার দিকে। মুর্তজা নামে এক আরেক প্রত্যক্ষদর্শী অবশ্য বলেছেন, চারজন আত্মঘাতী হামলাকারী এ ঘটনায় অংশ নিয়েছিল। দুজন মসজিদের গেটে বিস্ফোরণ ঘটায়। এরপর বাকি দুজন দৌড়ে ভেতরে গিয়ে মুসল্লিদের ভিড়ের মধ্যে বিস্ফোরণ ঘটায়।

ওই প্রত্যক্ষদর্শী জানিয়েছেন, জুমার নামাজে মসজিদটিতে সাধারণত ৫০০ জনের মতো মুসল্লি হাজির থাকেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবিতে মসজিদের ভেতর অনেক লোককে আপাতদৃষ্টিতে মৃত অথবা রক্তাক্ত শরীরে পড়ে থাকতে দেখা যায়। হাসপাতাল সূত্রগুলো জানিয়েছে, বিস্ফোরণে বহু মানুষ আহত হয়েছেন। আহতদের অবস্থা দেখে আশঙ্কা করা হচ্ছে, মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।

এদিকে, আফগানিস্তানে তালেবান নতুন করে ক্ষমতায় আসার পর হিবাতুল্লা আখুন্দজাদার নাম বারবার সামনে এসেছে। তিনি বেঁচে আছেন কি না- তা নিয়ে আগে থেকেই সন্দেহের গুঞ্জন চলছিল। ব্রিটিশ ম্যাগাজিন দ্য স্পেকটেটর এই গুঞ্জন নিয়ে প্রতিবেদনও করেছিল।

অবশেখে সেই রহস্য ভাঙল তালেবানগোষ্ঠী। গোষ্ঠীর অন্যতম জ্যেষ্ঠ নতুন আমির আল মুমিনিন শেখ একটি সংবাদমাধ্যমকে বলেন, এক বছর আগে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর হামলায় শহীদ হয়েছেন হাইবাতুল্লাহ আখুন্দজাদা।

তালেবানগোষ্ঠীর অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নেতা মোল্লা ওমরের মৃত্যুর পর ২০১৬ সাল থেকে গোষ্ঠীটির সর্বোচ্চ নেতার পদে আসীন ছিলেন হাইবাতুল্লাহ আখুনন্দজাদা। তালেবানের ধর্মীয়, রাজনৈতিক, সামরিক- যে কোন বিষয়ে সর্বোচ্চ সিদ্ধান্ত আসত তার কাছ থেকেই।

২০০১ সালে মার্কিন-ন্যাটো অভিযানে ক্ষমতাচ্যুত তালেবানগোষ্ঠী ২০ বছর পর ২০২১ সালের ১৫ আগস্ট ফের আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুল দখল করতে সক্ষম হয়। দেশের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার প্রায় তিন সপ্তাহ পর, ৭ সেপ্টেম্বর সরকার গঠন করে তালেবান, যার শীর্ষপদে রাখা হয় আখুন্দজাদাকে। তবে তালেবান বাহিনীর আফগানিস্তান দখলের অনেক আগে থেকেই লোকচক্ষুর অন্তরালে ছিলেন তিনি।

তালেবানগোষ্ঠীর মধ্যে অবশ্য লোকচক্ষুর অন্তরালে থাকার দীর্ঘ ঐতিহ্য আছে, যে কারণে আখুন্দজাদার বিখয়টি নিয়ে বেশি কৌতূহল দেখা যায়নি কারও মধ্যে; কিন্তু আফগানিস্তান দখল এবং নতুন সরকার গঠনের পরও তার অনুপস্থিতি স্বাভাবিকভাবেই নানা প্রশ্ন ও সন্দেহের সৃষ্টি করে।

তালেবান বাহিনীর অন্যতম মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ গত ৩০ আগস্ট এবং তারপরও একাধিকবার দাবি করেছেন, আফগানিস্তানের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর কান্দাহারে অবস্থান করছেন তাদের শীর্খ নেতা এবং সেখান থেকেই বিভিন্ন নির্বাহী সিদ্ধান্ত সরকারকে অবহিত করছেন তিনি।

তার মধ্যেই তালেবান জ্যেষ্ঠ নেতা জানালেন, আখুন্দজাদার মৃত্যু সম্পর্কিত যেসব গুঞ্জন চলছিল- সেসব সঠিক।